https://www.prothomalony.com/
17883
bangladesh
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে কে বসছেন—এই প্রশ্ন এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হয়ে যাওয়া পদে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আর এর মধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দলটির ভেতরে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে মনোনয়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা হিসেবে তাঁর নামকে এখনই নিশ্চিত করে দেখার সুযোগ নেই।
তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, মির্জা ফখরুলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ারও সুযোগ নেই।
কেন আলোচনার কেন্দ্রে মির্জা ফখরুল?
বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক মাঠে বিএনপির দৃশ্যমান নেতৃত্বের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি।
বিএনপির নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে দলটির ওপর রাজনৈতিক চাপ, মামলা, গ্রেপ্তার ও সাংগঠনিক সংকটের মধ্যেও মির্জা ফখরুল দলীয় কর্মসূচি পরিচালনা, নেতা-কর্মীদের সংগঠিত রাখা এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক ও আইনি সংকটের মধ্যে ছিলেন। অন্যদিকে তারেক রহমান দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মির্জা ফখরুল ছিলেন অন্যতম প্রধান মুখ।
দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতা এবং জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতির কারণে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে বিবেচনা করা হলে তা দলের জন্য একটি রাজনৈতিক স্বীকৃতিও হবে।
শুধু রাজনৈতিক পুরস্কার নয়, আরও কিছু হিসাব
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনায় আসার পেছনে শুধু তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাই কাজ করছে না। তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, রাজনৈতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সংলাপের অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদটি বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র নয়। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে মূল নির্বাহী ক্ষমতা থাকে। তারপরও রাজনৈতিক সংকট, সাংবিধানিক জটিলতা কিংবা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে ভবিষ্যতে নির্বাচনকালীন বা সাংবিধানিক কোনো সংকট তৈরি হলে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে বিএনপি এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি পদে দেখতে চাইছে, যিনি একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম—এমন আলোচনা রয়েছে দলটির ভেতরে।
তবে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে রয়েছে ভিন্ন মতও
বিএনপির ভেতরে মির্জা ফখরুলের নাম জোরালো হলেও তাঁকে রাষ্ট্রপতি করা নিয়ে দলের মধ্যে এক ধরনের দ্বিমত রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
একটি অংশ মনে করছে, দীর্ঘ সময় ধরে দলের জন্য কাজ করা মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানো হলে এটি তাঁর রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হবে।
অন্য অংশের যুক্তি, সরকার পরিচালনায় মির্জা ফখরুলের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। তাঁকে বঙ্গভবনে পাঠানো হলে সরকারে একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতার ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
এই দ্বিমতই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মনোনয়নকে প্রভাবিত করবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আলোচনায় আরও যাঁদের নাম
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি বিএনপির আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খান। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সেলিমা রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মতো বিএনপি নেতাদের নামও সম্ভাব্য তালিকায় থাকার কথা বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে থেকেও কয়েকজন ব্যক্তির নাম আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এবং মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানের মতো ব্যক্তিদের নাম বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে এসব নামের কোনোটিকেই এখন পর্যন্ত বিএনপির আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
ড. ইউনূসকে ঘিরে জল্পনা, কিন্তু প্রস্তাবের নিশ্চিত খবর নেই
রাষ্ট্রপতি পদে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়েও সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইত্তেফাকের ৭ আগস্টের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার যে আলোচনা চলছে, তার কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি নেই। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নামই বেশি আলোচনায় রয়েছে।
অর্থাৎ ড. ইউনূসের নামটি রাজনৈতিক আলোচনায় থাকলেও সেটিকে এখন পর্যন্ত বিএনপির সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তারেক রহমানের হাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কে হবেন—এই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তারেক রহমানকে দেওয়ার খবর এসেছে।
ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা যতই বড় হোক, শেষ পর্যন্ত একজনের নামই চূড়ান্ত হবে তাঁর সিদ্ধান্তে।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩ আগস্টের মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থীর নাম স্পষ্ট হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সময়সূচি বা সম্ভাব্য নামকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
কেন বিএনপির প্রার্থীই এগিয়ে?
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকা এবং অন্তত ৩৫ বছর বয়সী হওয়াসহ সাংবিধানিক শর্ত পূরণ করতে হয়।
এই বাস্তবতায় সংসদে যে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বেশি, সেই দলের প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই স্বাভাবিকভাবে সবচেয়ে বেশি।
জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী না দেওয়ার অবস্থানের কথা জানিয়েছে—যদিও দলটির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভাষ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অবস্থানও পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।
ফলে শেষ পর্যন্ত বিএনপি একজন প্রার্থী দিলে এবং অন্য কোনো প্রার্থী না থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজনও হবে না।
নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে ভোট ছাড়াই নির্বাচিত ঘোষণা করা যায়। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রও রয়েছে। ২০২৩ সালে মো. সাহাবুদ্দিন একমাত্র বৈধ প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে ভোট ছাড়াই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন।
সাহাবুদ্দিনের পর বঙ্গভবনে শূন্যতা
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা দ্রুত তীব্র হয়েছে।
কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির পদ কখনো কখনো শুধু আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় পদ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। রাজনৈতিক পরিবর্তন, সরকার পরিবর্তন এবং সাংবিধানিক সংকটের বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রপতির অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে কী বদলাবে?
মির্জা ফখরুল যদি শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে বিএনপির রাজনীতিতে এটি হবে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন।
প্রথমত, বিএনপির মহাসচিবের পদে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন হবে। দ্বিতীয়ত, সরকারে তাঁর বর্তমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন আসতে পারে। তৃতীয়ত, দীর্ঘদিনের সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে তিনি সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকায় চলে যাবেন।
এর ফলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
অন্যদিকে বিএনপি যদি তাঁকে রাষ্ট্রপতি না করে দলের অন্য কোনো নেতাকে বেছে নেয়, তাহলে মির্জা ফখরুলকে সরকার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্বে রাখার পথ খোলা থাকবে।
অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা নির্ধারণ করবে না; এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে?
সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলোর একটি। দলটির ভেতরের আলোচনা, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতির কারণে তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এখনও বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেনি।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে। এরপর নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন জমা, যাচাই-বাছাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ধাপ পার হতে হবে।
তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে নির্ভুল প্রশ্নটি হলো—‘মির্জা ফখরুল কি রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন?’ এর উত্তর এখনো নিশ্চিত নয়।
তবে রাজনৈতিক হিসাব, দলীয় আলোচনা এবং বর্তমান সংসদীয় সমীকরণ—তিনটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করলে মির্জা ফখরুলের নাম যে রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে সামনের সারিতে রয়েছে, তা স্পষ্ট।
আগামী কয়েক দিনেই সেই জল্পনার অবসান ঘটতে পারে। ১৩ আগস্ট মনোনয়ন জমার সময়সীমা পার হওয়ার পরই পরিষ্কার হয়ে যাবে—বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম সত্যিই লেখা হচ্ছে, নাকি শেষ মুহূর্তে বিএনপির সিদ্ধান্তে আসছে অন্য কোনো চমক।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন