https://www.prothomalony.com/

17702

bangladesh

বাংলাদেশ

বাংলাদেশের মসৃণ এলডিসি উত্তরণে ইইউ ও জি-৭৭-এর সমর্থন

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ ০৩:০৪

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিতে নিজেদের জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়না (জি-৭৭)।  

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস এবং জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ার ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের পৃথক পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এই আশ্বাসের কথা জানানো হয়।  

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি হিসেবে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফএলইএবি) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান অংশ নেন।  

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতের নানা চ্যালেঞ্জ এবং চলমান কাঠামোগত সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। বাণিজ্যমন্ত্রী সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাত শক্তিশালীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথাও বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন।  

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, প্রস্তাবিত প্রস্তুতিকাল বাড়ানো হলে তা সংস্কার কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করতে, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে এবং দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে, যা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় করবে।  

বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বাংলাদেশের মসৃণ এলডিসি উত্তরণে ইইউর অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি এই প্রক্রিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার তাগিদ দেন।  

অন্যদিকে, জি-৭৭-এর চেয়ার রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তিকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন। সরকারের বাস্তবমুখী সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করে তিনি বাংলাদেশের প্রতি জি-৭৭-এর পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। এলডিসি উত্তরণ কৌশল বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি, যা বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সানন্দে স্বাগত জানায়।  

বৈঠক শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনাটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক উত্তরণকে সফল করতে ইইউ সব ধরনের সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে।  

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন