https://www.prothomalony.com/
17700
bangladesh
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ ০৩:০০
আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডিয়েনে কেইতা বাংলাদেশের জনমিতিক সহনশীলতা, নারীর ক্ষমতায়ন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে এই প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
.jpeg)
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) নিউইয়র্কে ইউএনএফপিএ সদরদপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. মনজুর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
(1).jpeg)
বৈঠকে ড. তিতুমীর সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচিগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নারীকে কেন্দ্র করে জীবনচক্রভিত্তিক সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিতকরণ, নির্ভরযোগ্য জনমিতিক তথ্যব্যবস্থা এবং শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বিপুলসংখ্যক এই শরণার্থীর কারণে দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে ইউএনএফপিএর আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে তারা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের অধিকার নিয়ে টেকসই জীবিকার সুযোগ পায়। ড. তিতুমীর আরও যোগ করেন, বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের জন্য জনমিতিক সুফল বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ অর্জনের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ—বিশেষ করে মা, শিশু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সহজেই মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করা এবং ইউএনএফপিএর আগামী কান্ট্রি প্রোগ্রামকে সরকারের পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতাকে বৈশ্বিক সেরা অনুশীলনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার তাগিদ দেন তিনি।
ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ডিয়েনে কেইতা বাংলাদেশের সঙ্গে জনমিতিক সহনশীলতা, প্রজনন স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন, সুস্থ বার্ধক্য, জনসংখ্যা তথ্যব্যবস্থা এবং উদ্ভাবনী অর্থায়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশ্বাস দেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের অসাধারণ উন্নয়ন অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জাতীয় মালিকানাবোধ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের গতিকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এই সাফল্যগাথা ও ধারাবাহিক অগ্রগতি প্রচারে ইউএনএফপিএ সবসময় পাশে থাকবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন