https://www.prothomalony.com/

17598

literature

সাহিত্য

উত্তরের সাহিত‍্য

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ ০১:৩৪

রক্তঋণের উত্তরাধিকার

হাসান মাহমুদ

 

মিটিংয়ে, মিছিলে, পিচ্ছিল রাজপথে

জনতার সমুদ্রস্রোত,

পিচঢালা পথে মুক্তির রথে

তাজা খুনে রাঙা শহরের পথ।

অবরুদ্ধ পথে, আঁধারের রাতে,

বুলেটের মুখে যে বুক পাতে,

এসেছে সেই ভয়হীন যুবক,

এসেছে মশাল হাতে।

ফেলানী, বিশ্বজিৎ থেকে আবরার—

হৃদয় হয়েছে দগ্ধ,

জ্বলে জ্বলে ওঠে আগুন,

তাজা রক্ত ঢালে ইয়ামিন আর মুগ্ধ।

আবারও যদি পড়ে শকুনের চোখ,

তরুণের রক্ত লাগে যদি,

আমরাও জাগ্রত সদা—

হতে পারি আবু সাঈদ কিংবা শহীদ হাদী।

 

দক্ষিণের মানুষ

রুদ্র সাহাদাৎ

আমি দক্ষিণের মানুষ খুঁজি হারিয়ে যাওয়া

হরিকেল জনপদ

কাহ্নপা লুইপা ভূসুকুপার মতো পাগলামন

পঙক্তি সাজায় কারণ-অকারণ

স্বপ্নে ঝুলে থাকে স্বপ্ন আমার অসহায় হরিণচোখ

শুধুই লাফায়

সোনাদিয়া কাঁদে সবুজ প্রকৃতি শোকে

মহেশখালী বাঁকে উড়ে যায় সাদা গাঙচিল

ছোট ডিঙি নৌকায় হাসে জলপুত্র

সি-ট্রাক চলে যায় গন্তব্যে যাত্রী বোঝাই ডান-বাম

আমি দক্ষিণের মানুষ পাহাড় নদী সাগর ঝর্ণাধারা

দেখে সময় কাটাই

জানা নেই জীবনের সঠিক সংজ্ঞা—যাযাবর যৌবন

 

একাত্তর ও চব্বিশ 

এম. আবু বকর সিদ্দিক 

একাত্তর, তুমি স্বাধীনতার সূতিকাগার

তোমার ললাটে চুমি বারংবার।

তুমি সুবহে কাযিব, নহে প্রকৃত ভোর,

চুয়ান্নটি বছর ধরে তুমি ছিলে আঁধার ঘোর।

জুলাই চব্বিশ, সে তো প্রত্যুষের পালকি,

তাকে হাজারো সালাম, তাকে রেখেছি হৃদয়ে

ভালোবাসার সুতোয় গেঁথে।

রাখব সযত্নে আজীবন গলায় পরে।

পাঁচ আগস্ট চব্বিশ, এক আলো-ঝলমল প্রত্যুষ।

কাঙ্ক্ষিত সুবহে সাদিক, যা ছিলে অস্বচ্ছ পুরু 

পর্দায় আবৃত—ছিল কঠিন দুর্দান্ত তালায় আবদ্ধ।

সহস্রাধিক তরুণের জীবনের বিনিময়ে

খুলেছি সেই নিষ্ঠুর নির্মম তালা।

প্রশ্ন জাগে,

সেই প্রত্যুষ কি আবারও পর্দার আড়ালে চলে যাচ্ছে?

আবারও কি গড়তে হবে রক্তঝরা ইতিহাস?

কে জানে, কী আছে বিধির বিধানে!

 

রক্তাক্ত জুলাই ২৪

ইমদাদুল হক মিলন

জুলাই, তোমার নাম উচ্চারিত হলেই

শোনা যায় রাজপথের দীর্ঘশ্বাস।

ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ, তবু স্লোগান থামে না—

কারণ স্বপ্ন কখনো ভয়কে মানে না।

কাঁধে কাঁধ রেখে দাঁড়িয়েছিল যে অসংখ্য তরুণের

অদম্য প্রত্যয়-

তারা কেউ ফিরেছে; কেউ ফেরেনি 

কত মায়ের কোল হলো শূন্য, কত বাবার অপেক্ষা

রয়ে গেল—খোলা দরজার সামনে।

কত ভাই আর ফিরল না, কত বন্ধুর নাম

নীরবতা হয়ে ভাসে বাতাসে।

রক্তে রাঙা সেই রাজপথ আজও যেন প্রশ্ন করে—

কত ত্যাগে লেখা হয় ইতিহাস?

কত অশ্রু ঝরলে জন্ম নেয় নতুন ভোর?

জুলাই, তুমি কেবল একটি মাস নও—

তুমি সেই প্রতিজ্ঞা, যেখানে মানুষ স্বপ্ন দেখে

আর অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করার শপথ নেয়।

তাই তোমার গল্প শেষ হয়নি—

তুমি বেঁচে থাকবে প্রতিটি ন্যায়ের আহ্বানে,

সাহসী হৃদস্পন্দনে, প্রতিটি স্বাধীন স্বপ্নের ভোরে।

 

দাও আওয়াজ

সৌমেন্দু লাহিড়ী

দাও আওয়াজ বন্ধু আজ, স্তব্ধ হোক এই গুন্ডারাজ।

শাসন নামে চলছে এখানে শোষণের কারসাজ।

বাক-স্বাধীনতা ওরা নিয়েছে কেড়ে,

প্রতিবাদী ভাষা পথে কেঁদে ফেরে।

মনে শান্তি নাই, মন তাই—চাইছে আজ স্বরাজ।

দাও আওয়াজ সাথী আজ,

বন্ধ হোক নৈরাজ্য-রাজ।

মানবতাবাদকে তারা হত্যা করে,

তাজা তাজা প্রাণ আজ নিচ্ছে কেড়ে,

আর সহ্য নয়, যুদ্ধ চাই—জাগো গো বন্ধু আজ।

দাও আওয়াজ বন্ধু আজ,

নিস্তেজ হোক এই ঘৃণ্যরাজ।

যেখানে-সেখানে শত শত লাশ আছে পড়ে,

স্বজন হারানো স্বজনরা সব হাহাকার করে।

আজ সবাই জবাব চাই, তাই এই যুদ্ধসাজ।

দাও আওয়াজ সাথী আজ,

স্তব্ধ হোক এই জঙ্গিরাজ।

করবি কত হত্যা? মোরা রক্তবীজের ঝাড়,

মোদের রক্তে জন্ম নেবে বিপ্লবী আবার।

মোরা অব্যয়, চির অক্ষয়—আনব সাম্যরাজ।

দাও আওয়াজ বন্ধু আজ,

প্রতিবাদী স্বর হোক দরাজ।

 

দুটো নদী

নয়ন মণি মিশ্র

দুটো নদী

বুকপকেটে কথা বলছিল।

ওরা আর নদী

হয়ে বাঁচতে চায় না,

মরুভূমি হবার আর্জি জানিয়ে

ওরা প্রবাহদের ছুঁড়ে দিয়েছে

স্মৃতির শহরে...

ওরা এত কিছু তো পেয়েছে!

একথা শুনে

নদীগুলো হঠাৎ যেন

বৃষ্টি হয়ে গেল!

 

সময়ের লাশ

আয়াজ আহমদ বাঙালি 

মানুষ এখন আর যুদ্ধ দেখে না,

সংবাদ দেখে;

শিশুর কান্না এখন পরিসংখ্যান—

মৃত্যুসংখ্যার খেলা!

ধর্ম কাঁদে,

রাজনীতি হাসে।

কাঁটাতার বেড়েছে

মানুষের হৃদয়ে।

সভ্যতা আজও বেঁচে আছে,

শুধু একটু একটু করে মরছে মানুষ।

 

নৈঃশব্দের রোদন

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক রঞ্জু

আদিম অরণ্যে নাচে এ যুগের প্রাণ,

বিষাক্ত থাবায় আজও পুষ্পেরা ম্লান।

বিক্ষুব্ধ ঠোঁটের স্রোতে উন্মত্ত গর্জন,

কামাতুর ক্লেদাক্ত প্রাণে সভ্যতার ধর্ষণ।

বোধহীন মানুষেরা যেন জ্যান্ত লাশ,

বুকের গহীনে জমে বোবা দীর্ঘশ্বাস।

বেদনার হাহাকারে এ কোন ক্রন্দন?

শব্দের মাঝে যেন নৈঃশব্দ্যের রোদন!

 

যেখানে মাটির সঙ্গে মিশে থাকে মন 

রাজিয়া নাজমী

আজকাল দেশ-বিদেশে লোকসংস্কৃতি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে—সম্ভবত সমৃদ্ধ কিছু বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই। আলোচনা-সমালোচনায় মনে হয়, লোকসংস্কৃতি যেন ফ্যাশনের মতো ওঠানামার মধ্য দিয়ে যায়; কখনো হারিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়, আবার কোনো এক সময় পুনর্জাগরণের পর্যায়ে ফিরে আসে।

কিন্তু আসলে কি তা হারায়? না—প্রাচীন অথচ চিরনবীন এই ধারা সুপ্ত থাকলেও কখনো নিঃশেষ হয় না। কারণ শিল্পী, সংগীতশিল্পী, লেখক—সৃজনশীল মানুষের ভেতরে লোকগান, গল্প, আচার ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া সবসময়ই জীবন্ত থাকে। সময়ের স্রোতে লোকসংস্কৃতি কখনো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, আবার কখনো আড়ালে সরে যায়—কিন্তু পুরোপুরি হারিয়ে যায় না কখনোই। ফিরে ফিরে আসে; প্রয়োজন শুধু কারো উদ্যোগ।

নিউ ইয়র্কের একটি পারফর্মিং আর্টস উৎসব 'সেলিব্রেট ব্রুকলিন!' প্রতি গ্রীষ্মে প্রোসপেক্ট পার্কের খোলা আকাশের নিচে মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

'দ‍্য ফান্ড ফর দ‍্য ব্যুরো অব ব্রুকলিন' -এর প্রতিষ্ঠাতা ন্যানেট রেইনোন ১৯৭৯ সালে 'সেলিব্রেট ব্রুকলিন ' উৎসবটির সূচনা করেন। এর প্রথম প্রযোজক ছিলেন বার্ল হ্যাশ। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে আবার প্রোসপেক্ট পার্কে ফিরিয়ে আনা, ব্রুকলিনের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এবং মানুষের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলা।

উৎসবের উদ্দেশ্য বৃথা যায়নি—আমিও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সেখানে যাই। মাঠভর্তি নানা বর্ণের, নানা ভাষার মানুষের সঙ্গে সবুজ ঘাসে বসে যেমন র‍্যাপ ও জ্যাজ শুনি, তেমনি ক্যারিবীয় সংগীত আর নাচও উপভোগ করি।

লোকসংস্কৃতি আমার কাছে শুধু একাডেমিক কোনো বিষয় নয়; বরং হৃদয়ের খুব কাছের কিছু—একান্ত ব্যক্তিগত অনুভব। শুধু লোককথাই নয়, গান, নাচ, উৎসব, আচার-অনুষ্ঠান, ঋতুভিত্তিক ঐতিহ্য—সবকিছুর মধ্য দিয়েই যে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির গভীর সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়।

'লোকসংস্কৃতি' শব্দটি শুনতে যেমন ভারী, তেমনি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। একসময় এই শব্দটি মনে করিয়ে দিত ছোট, প্রায় একরকম মানুষের সমাজ—যারা শহর থেকে দূরে, গ্রামাঞ্চলে নিজেদের ঐতিহ্যের ভেতরে বসবাস করে। ছোট বলছি, কারণ লোকসংস্কৃতি সাধারণত ঘনিষ্ঠ সমাজের মানুষের জীবনযাপন, বিশ্বাস ও অভ্যাসের প্রতিফলন—যা প্রকাশ পায় গান, নাচ, গল্প, পুরাণ, বাড়িঘরের নকশা, পোশাক-আশাক, আহার-বিহার, দৈনন্দিন কাজ, ক্ষেতখামার, কারুশিল্প, ধর্ম ও দৃষ্টিভঙ্গিতে।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের গবেষকেরা 'লোক' শব্দটিকে এমন এক গোষ্ঠী হিসেবে দেখেছিলেন, যারা আধুনিকতার ছোঁয়া পায়নি—যেন তারা অতীতের এক অমূল্য নিদর্শন, যা মুখে মুখে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকে আছে। সেই দৃষ্টিতে লোকসংস্কৃতি ছিল অনেকটা সময়ের কাচে বন্দি এক অতীতের স্মৃতি।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণাও বদলেছে—এবং বদলের চিরায়ত নিয়মে তা আরও বদলাবে। বদলে যাওয়া লোকসংস্কৃতির মায়াজাল গ্রামের রাঙামাটির সরল, বাঁকা পথ পেরিয়ে এখন আধুনিক সমাজের ভেতরেও প্রবাহিত।

পুরোনো ও নতুন, ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক, স্থানীয় ও বৈশ্বিক—সব উপাদান মিলিয়ে যে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, তা শুধু অঞ্চল বা ভূখণ্ডের গল্প নয়; বরং পরিচয়, অভ্যাস, আদিবাসী জ্ঞান, প্রবাস, ঐতিহ্য, সত্যতা ও সাংস্কৃতিক মিশ্রণের কথাও বলে। এই নতুন দৃষ্টিতে লোকসংস্কৃতি আর কোনো স্থির বা অতীতের বিষয় নয়; এটি বেঁচে থাকা, বদলে যাওয়া, মিশে যাওয়া এক চলমান প্রবাহ।

আমার কাছে লোকসংস্কৃতি মানে এমন কিছু, যার শিকড় বর্তমান জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু যার মধ্যে আছে এক উন্মুক্ততা ও কৌতূহল—যা আমাদের জন্মভূমির ঐতিহ্য ও পূর্বপুরুষের গল্প বলতে দেয়, তা ভিন্ন হলেও। লোকসংস্কৃতি কখনোই স্থির নয়; এর সৌন্দর্যই সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া, বেড়ে ওঠা, নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ।

যেমন একটি পুরোনো গান নতুন সুরে গাওয়া যায়, তেমনি লোকসংস্কৃতি প্রতিবারই নতুন কণ্ঠে, নতুন ভাষায়, নতুন জীবন পায়।

আজকের যুগে, যখন আমরা একদিকে প্রযুক্তির জগতে বাস করছি, অন্যদিকে ধীরে ধীরে হারাচ্ছি শিকড়ের অনুভূতি—ঠিক তখনই লোকসংস্কৃতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা কোথা থেকে এসেছি।

এটি শুধু অতীতের স্মৃতি নয়; বরং বর্তমানের মাটিতে বেঁচে থাকা এক জীবন্ত স্রোত। যা আমাকে মনে করিয়ে দেয়—আধা শহর আধা গ্রাম হরিণহাটির পুরনো জমিদারবাড়িতে সকাল শুরু হতো কাঁসার ঘণ্টার ধ্বনিতে, তারও আগে মসজিদের আজানের সুরে। সদর দরজা পেরিয়ে মেঠোপথের সীমানা ছাড়িয়ে ছোট নদীর বাঁকে পালতোলা নৌকার মাঝি গাইত ভাটিয়ালি গান।

ভিন্ন সংস্কৃতির ভেতরেও আমার অনুভূতিতে বেঁচে থাকে বসন্তের প্রথম কোকিলের ডাক, ফাগুনের মিষ্টি হাওয়া, বাদল দিনের কদমফুল, নবান্ন উৎসবে বাঁশির সুর, বেদেনির মায়াবী হরিণ-চোখ, গলায় লতানো চিকন সাপ, আর হাতে রঙিন রেশমি চুড়ির ঝংকার।

নিউ ইয়র্কে মেট্রোপলিটন অপেরা দেখে স্মৃতিতে ভেসে ওঠে যাত্রাপালা—লোকনাট্যের সেই একই ধারার ছবি, যা মানুষকে শুধু আনন্দই দেয় না, ভাবনার নতুন দিগন্তও খুলে দেয়। 

'সেলিব্রেট ব্রুকলিন!' আমাকে মনে করিয়ে দেয় বাংলার লোকগান ও নাচ—বাউল, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি—যা আমার অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। এখানে ভিন্ন সংস্কৃতি মিলেমিশে এক নতুন বন্ধন তৈরি করে, কিন্তু শিকড়ের টান অটুট থাকে।

তুষারপাতের দেশে শীতের রাতে গরম চুল্লির পাশে বসে মনে পড়ে দাদীর লেপের উষ্ণতা, তাঁর দরদভরা লোকবিশ্বাস, কোরআন তেলাওয়াতের সুর। একই সঙ্গে ভেসে আসে খেজুরগাছের রস বিক্রেতার হাঁক, রান্নাঘর ভরে ওঠে পিঠার মিষ্টি গন্ধে।

হ্যারিকেনের আলোয় বসে মুখে মুখে শোনা রূপকথা—মায়ের সেই মৌখিক সাহিত্য। কিংবা অজানা কারো রাতভর বলা পুঁথির মহাকাব্যিক কাহিনি—সবই গভীর ছাপ রেখে যায়। যেখানে ধর্ম, প্রকৃতি ও জীবনের সহজ দর্শন একসঙ্গে মিশে থাকে।

আমেরিকার 'সিটি ফর স্ট্রিট আর্ট' ফিলাডেলফিয়া আমাকে মনে করিয়ে দেয় আমাদের রিকশা আর্ট—এক বহমান ঐতিহ্য। সারা শহর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা নামহীন শিল্পীদের কাজ, যা কোনো অভিজাত বা গ্রামীণ পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মধ্যবিত্ত নগরজীবনের লোকজ সংস্কৃতির অংশ হয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকে আছে।

মনে পড়ে—রিকশায় আব্বার কোলে বসে কীর্তনখোলা নদীর তীরে ছোট শহরের পথে ঘুরে বেড়ানো। আকাশে অদৃশ্য এক শিল্পীর রঙতুলির খেলা, আর নিচে রিকশার গায়ে মানুষের আঁকা পৃথিবী—সব মিলিয়ে যেন মায়াময় সুঁইসুতায় বোনা নকশিকাঁথা।

আমার শৈশবের এই স্নেহশীতল স্মৃতিগুলোই আমার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলো আমাকে শেখায়—ঐতিহ্য মানে শুধু আঁকড়ে ধরা নয়; ঐতিহ্য মানে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সাহস—যেখানে মাটির সঙ্গে মিশে থাকে মন।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন