https://www.prothomalony.com/

17280

bangladesh

বাংলাদেশ

 বিয়ের আড়াই মাসের মাথায় ঝুলন্ত মরদেহ, আত্মহত্যা নাকি হত্যা?

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ ০৩:১৯

সিলেটের গোলাপগঞ্জের হেতিমগঞ্জে ২৯ বছর বয়সী গৃহবধূ ঝুমকি দেবের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ মে রোববার সন্ধ্যায় ফুলবাড়ী ইউনিয়নের হেতিমগঞ্জ পূর্বপাড়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাত্র আড়াই মাস আগে বিয়ে হয়েছিল তার। নতুন সংসার, নতুন স্বপ্ন আর নতুন জীবনের আশা নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে পা রাখা তরুণীর জীবন এত দ্রুত কেন শেষ হয়ে গেল— সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পরিবার ও এলাকাবাসীর মনে।

নিহত ঝুমকি দেব গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের অধিরের দোকান এলাকার সনৎ দেবের মেয়ে। তার বিয়ে হয় একই উপজেলার হেতিমগঞ্জ পূর্বপাড়ার চঞ্চল দাসের সঙ্গে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই ঝুমকির জীবন সুখের ছিল না। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে।

ঝুমকির স্বজনদের দাবি, এটি কোনো আত্মহত্যা নয়। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হওয়া ঝুমকির মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মেয়েটি বারবার কষ্টের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযোগের কোনো সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত তার জীবনই নিভে গেল।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলছেন, বিয়ের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে একজন সুস্থ তরুণীর এমন মৃত্যু কীভাবে ঘটে? মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল? ঘটনার সময় বাড়িতে কারা উপস্থিত ছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা এখন তদন্ত সংস্থার দায়িত্ব।

বাংলাদেশে বিয়ের পর গৃহবধূ নির্যাতন, যৌতুকের চাপ এবং রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। সংবাদপত্রের পাতা খুললেই এমন অসংখ্য ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবারের অভিযোগ থাকে নির্যাতনের, আর অভিযুক্তদের দাবি থাকে আত্মহত্যার। অনেক ঘটনা সময়ের সঙ্গে চাপা পড়ে যায়, অনেক পরিবার বছরের পর বছর বিচারহীনতার বেদনা বয়ে বেড়ায়।

ঝুমকি দেবের মৃত্যুর ক্ষেত্রেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরপেক্ষ তদন্ত। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে কী আসে, মৃত্যুর আগে নির্যাতনের কোনো আলামত ছিল কি না, মোবাইল ফোন বা পারিবারিক যোগাযোগে কোনো তথ্য রয়েছে কি না— সবকিছুই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা জরুরি। এ নিয়ে পুলিশ মামলা গ্রহণ করছে না এবং তদন্তে গড়িমসি করছে বলে পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছেন।

আইন বলছে, বিয়ের পর নির্যাতনের ফলে কোনো নারীর মৃত্যু হলে এবং তা হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনের চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, ঝুমকি দেবের পরিবারের জন্য আদৌ ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কি না।

একটি তরুণ প্রাণ চলে গেছে। একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এখন গোলাপগঞ্জের মানুষ, ঝুমকির স্বজন এবং সচেতন মহলের একটাই দাবি— ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হোক, সত্য সামনে আসুক এবং কেউ দোষী হলে তাকে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি করা হোক। অবিলম্বে অপমৃত্যুর মামলা গ্রহণ করে বিষয়টির সুষ্টু তদন্তের দাবী জানানো হয়েছে। 
 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন