https://www.prothomalony.com/
17093
literature
ভূমিকা: লোকসংগীত বা ফোক গান হলো একটি জনপদের সমষ্টিগত প্রাণের প্রতিচ্ছবি। প্রাচীনকালে মানুষের প্রাত্যহিক শ্রম আর উৎসবের আনন্দ থেকে জন্ম নেওয়া এই সুর কোনো একক রচয়িতার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বংশপরম্পরায় টিকে থাকে মানুষের মুখে মুখে। ১৩শ শতকের ইংরেজি লোকগান "Sumer is icumen in" থেকে শুরু করে ২০শ শতকে বব ডিলানের প্রতিবাদী সুর—ফোক গান বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছে তার নিজস্ব স্বকীয়তায়। বাংলার লোকসংগীতের ভাণ্ডারও একইভাবে সমৃদ্ধ। ১৮শ শতক থেকে লালন শাহ্, হাসন রাজা ও শাহ আব্দুল করিমের মরমী দর্শনে এই ধারা পেয়েছে এক অনন্য উচ্চতা। ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ও সারি গান আমাদের আঞ্চলিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমানে 'ফোক ফিউশন' এবং 'কোক স্টুডিও বাংলা'-র মতো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই প্রাচীন সুরগুলো আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের মেলবন্ধনে বিশ্ব দরবারে নতুন আঙ্গিকে পরিচিতি পাচ্ছে।

একটি সার্থক লোকগীতির মূল শক্তি হলো তার গায়কী এবং আবেগ। লোকজ সুর আর মাটির গন্ধে দর্শক মাতাতে শিল্পী রেশমী মির্জার জুড়ি নেই। তিনি সেই গায়কীর জাদুতেই জয় করে নিয়েছেন অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়। ফোক গানের চিরায়ত সুরকে নিজের কণ্ঠে ধারণ করে তিনি পৌঁছে দিচ্ছেন আধুনিক প্রজন্মের কাছে। তাঁর দরাজ কণ্ঠের গানগুলো যেমন আমাদের শেকড়ের কথা বলে, তেমনি মঞ্চের পরিবেশনাকে করে তোলে অনন্য ও উৎসবমুখর। লোকসংগীতের ঐতিহ্য রক্ষা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে রেশমী মির্জার মতো শিল্পীদের নিষ্ঠা সত্যিই প্রশংসনীয়।
আজ 'শিল্পঘর' পাতায় আমরা পরিচিত হব বাংলাদেশের এই গুণী লোকসংগীত শিল্পী রেশমী মির্জার সৃষ্টির জগৎ এবং তাঁর সঙ্গীত-যাত্রার গল্পের সঙ্গে। মাটির সুরের প্রতি তাঁর টান এবং কণ্ঠের জাদু কীভাবে বাংলা গানকে নতুন এক প্রাণশক্তি দিয়েছে, সেই কথাই বলবে 'শিল্পঘর'-এর আজকের বিশেষ উপস্থাপনা।
ধন্যবাদান্তে-রোকেয়া দীপা।
মাটির সুর ও শেকড়ের স্পন্দন: শিল্পী রেশমী মির্জা
খুলনা ও কুষ্টিয়ার লোকজ ঐতিহ্যে বেড়ে ওঠা শিল্পী রেশমী মির্জার সংগীতের মূল ভিত্তি হলো তাঁর বাবা ওস্তাদ মির্জা গোলাম রসূলের কাছে পাওয়া শুদ্ধ সংগীতের শিক্ষা। বড় বোন শামীমা সুলতানা রশ্নি এবং বাবার কাছেই তাঁর সংগীতে হাতেখড়ি। লালন শাহ, শাহ আব্দুল করিম কিংবা রাধারমণের গানের আদি সুর ও কথা অবিকল রেখে তা আধুনিক বাদ্যযন্ত্রে বিশ্বময় পৌঁছে দেওয়াই রেশমী মির্জার সংগীত দর্শন।
সংগীত জগতের শুরুটা নিয়ে তিনি জানান, বাড়িতে বাবার কাছে তালিম নেওয়ার মাধ্যমেই সুরের জগতে তার পদার্পণ ঘটে। সংগীতের আবহে বেড়ে ওঠার কারণে খুব ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি তার ঝোঁক তৈরি হয়। বাবার কাছে প্রাথমিক শিক্ষা পাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন ওস্তাদ ও শিক্ষকের কাছে উচ্চতর সংগীতের তালিম নেন এবং দীর্ঘ সাধনার মাধ্যমে সংগীতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
রেশমী মির্জার ক্যারিয়ারে সংগীত কম্পোজার মীর মাসুমের অবদান অনবদ্য। তিনি বলেন, "পাওয়ার ভয়েজ থেকে শুরু হওয়া এই চমৎকার মিউজিক্যাল বণ্ডিংয়ের ফলেই 'নিন্দুকের মুখে পড়ুক ছাই' বা 'রেশমি ও মাটি'-র মতো কাজগুলো সম্ভব হয়েছে। মাসুম ভাইয়ের মতো অমায়িক মানুষ ও গুণী কম্পোজারের সাথে কাজ করাটা সবসময়ই আনন্দের ছিল তার কাছে।" শীঘ্রই তাদের বেশ কিছু নতুন গানও আসছে।

বর্তমান সময়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যকে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন "তাপস ভাই, তাশফিয়া আপু কিংবা ফুয়াদ ভাইয়ের মতো অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের যারা শিল্পীর সামর্থ্য বোঝেন, তাদের সবার সাথেই কাজ করতে আমি দারুণ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।"
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশেই নিয়মিত গান চালিয়ে যাচ্ছেন রেশমী। তিনি বলেন, "উভয় দেশে নিয়মিত গান চালিয়ে যাওয়া কঠিন কোনো কাজ নয়। বরং আমি যখন যুক্তরাষ্ট্রে থাকি, তখন বাংলাদেশের মাটিকে মিস করি; আবার যখন বাংলাদেশে থাকি, তখন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রোতাদের অভাব অনুভব করি।"
স্টেজে তিনি নিজের পরিচয় ভুলে দর্শকদের একজন হয়ে যান। তাদের পছন্দ বুঝে নিজের সবটুকু আবেগ দিয়ে গান করেন। তিনি বলেন, "দর্শক যখন আমার গানের সাথে নাচে বা গায়, তখন আমাদের মধ্যে এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই আমার শক্তিশালী পারফরম্যান্সের আসল রহস্য।"
সংগীতের সুরেই মানবাধিকারের জয়গান গাইতে চান 'ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ইউএসএ' ইনক-এর নবনিযুক্ত সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেশমী মির্জা। তার কাছে এই পদটি যেমন সম্মানের, তেমনি এক বিশাল দায়িত্ব।
তার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের প্রতিভাবান শিল্পীদের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করা। তিনি কাজ করছেন যাতে দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা শিল্পীরা কেবল নিজেদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরতে পারেন। ইতোমধ্যে তিনি বেশ কিছু কোলাবরেশনের কাজ শুরু করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সংস্কৃতির সঠিক উপস্থাপনা ও শিল্পীদের বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে পারাই হবে মানবাধিকার রক্ষায় তার অন্যতম বড় অবদান।
দেশের ও প্রবাসের দর্শকদের মধ্যে পার্থক্য এবং গানের চাহিদাও ভিন্ন বলে মনে করেন রেশমী মির্জা। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের কনসার্ট আর প্রবাসের কনসার্টের দর্শকদের মধ্যে রুচি ও চাহিদার বেশ কিছুটা ভিন্নতা আছে। দেশে কনসার্ট করা মানেই ছিল হাজার হাজার মানুষের সমুদ্র। বাংলাদেশের দর্শকরা পারফরম্যান্স দেখার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে আসতেন। এমনকি ইউটিউবে আমার গানগুলো দেখে নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক এবং জনপ্রিয় কাভার গানের জন্য তারা বারবার অনুরোধ করতেন। তখন 'রেশমী ও মাটি' ব্যান্ডের হয়ে আমার পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই অন্যরকম, যার জনপ্রিয়তায় মাসে ৩০ দিনে ৩৫-৪০টি শো করার রেকর্ডও রয়েছে আমাদের। অন্যদিকে, প্রবাসের দর্শকদের চাহিদা কিছুটা ভিন্ন। সেখানে মূলত উইকেন্ডে অনুষ্ঠান হয় বলে প্রবাসীরা একটু বিনোদন বা 'ফান' করার মানসিকতা নিয়ে আসেন। এই কারণে তাদের মাঝে চটুল এবং নাচের গানের চাহিদা বেশি থাকে।"
দর্শকদের এই চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে রেশমীও তাঁর পরিবেশনায় কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন বলে জানান।
তবে কেবল চটুল গানেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না তিনি। রেশমী প্রবাসের মঞ্চেও তাঁর মিউজিশিয়ানদের নিয়ে মৌলিক গানগুলো নিয়মিত পরিবেশন করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, চটুল গানের পাশাপাশি মানুষ তার অর্থবহ মৌলিক গানগুলোকেও সমাদর করবে। শিল্পী হিসেবে তাঁর প্রচেষ্টা ও প্রত্যাশা হলো—দেশের দর্শকদের মতো প্রবাসীরাও একদিন তার মৌলিক গানের জন্য আলাদাভাবে অনুরোধ জানাবেন।
প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে নিয়মিত হারমোনিয়াম নিয়ে বসার সুযোগ সবসময় হয় না তার। তাই কণ্ঠের ফিটনেস ও সুরের দখল বজায় রাখতে তিনি 'শোনা' এবং 'গুনগুন করা'র ওপর জোর দেন। সারাদিন পছন্দের গান শোনা এবং তার সাথে গুনগুন করে গাওয়ার চেষ্টা করেন, যা এক প্রকার নিরবচ্ছিন্ন রেওয়াজ। একজন শিল্পী যখন সারাক্ষণ সুরের মাঝে থাকেন, তখন তিনি কখনোই বেসুরা হন না।
রেশমি মির্জা বলে "প্রবাসে যারা প্রথাগত রেওয়াজের সময় পাচ্ছেন না, তাদের প্রতি আমার পরামর্শ -সবসময় গান শুনুন এবং সুরের সাথে থাকুন।"
সংগীত ক্যারিয়ারে বড় একটি অপূর্ণতা বা স্বপ্নের কথাও তিনি বলেন-সেটি হলো ফরিদা পারভীন এর সাথে তার কাজ করতে না পারা। তিনি খুলনা-কুষ্টিয়ার মেয়ে হওয়ায় লালনগীতি তার রক্তে মিশে আছে, তিনি লালনগীতিকে মনেপ্রাণে ধারণ করেন। তিনি বলেন, "খুব ইচ্ছা ছিল উনার সান্নিধ্যে কাজ করার, কিন্তু উনি আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ায় সেই স্বপ্নটি আর পূরণ হলো না।"
সমসাময়িকদের মধ্যে তার খুব প্রিয় একজন শিল্পী হলেন আনুশেহ আনাদিল। উনার গায়কী এবং কাজ তিনি ভীষণ পছন্দ করেন। তার বড় একটি স্বপ্ন হলো -আনুশেহ আনাদিল এর সাথে কোনো একটি প্রজেক্টে কণ্ঠ দেওয়া বা একসঙ্গে কাজ করা।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার পদচারণা প্রশংসনীয়।
বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সাথে কাজ করার বিরল অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বিশেষ করে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে মিউজিক ডিরেক্টর কৌশিক হোসেন তাপসের পরিচালনায় 'উইন্ড অফ চেইঞ্জ' প্রজেক্টে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন। এই সময়ে আমেরিকান কিংবদন্তি ড্রামার মার্কো মিনেম্যানসহ (কার্গো মার্কো) রাশিয়া, ভারত এবং তুরস্কের প্রায় ৪০ জন বিশ্বসেরা মিউজিশিয়ানের সাথে একই মঞ্চে সৃজনশীল অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ হয়েছে তার।
রেশমী বলেন, "দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাগুলো আমাকে শিখিয়েছে যে, শিল্পের সার্থকতা নিহিত থাকে ধৈর্য এবং নিখুঁত নির্মাণে। তাই আমি কাজের সংখ্যার চেয়ে মানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিই এবং তাড়াহুড়ো না করে শ্রোতাদের জন্য সবসময় মানসম্মত কিছু উপহার দিতে সচেষ্ট থাকি।"
একজন শিল্পী হিসেবে তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে অডিওর পাশাপাশি ভিডিও গানের একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা শিল্পীর উপস্থিতিকে শ্রোতাদের কাছে দৃশ্যমান করে তোলে। তবে তার কাছে গানের শৈল্পিক মানই সর্বদা অগ্রাধিকার পায়; ভিডিও সেখানে কেবল একটি পরিপূরক অনুষঙ্গ মাত্র। তার মতে, গানের সুর, ছন্দ ও কথা যদি মানসম্মত না হয়, তবে কেবল ভিডিওর চাকচিক্য দিয়ে স্থায়ীভাবে শ্রোতাদের মন জয় করা সম্ভব নয়। তাই গানকে প্রথম সারিতে রেখে ভিডিওর সাথে তার একটি সঠিক সমন্বয় করাকেই তিনি জরুরি বলে মনে করেন।
পাওয়ার ভয়েস প্রতিযোগিতার টপ ১০-এর 'ফেস অফ রাউন্ড' ছিল রেশমীর জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। সেদিন অতিথি বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী বারী সিদ্দিকী, যাঁর বাঁশি আর ফোক গানের তিনি আজন্ম ভক্ত। লালন ব্যান্ডের 'আমার এক চোখেতে হাসন কান্দে' গানটি পরিবেশন করার পর মুগ্ধ হয়ে গুণী এই শিল্পী মন্তব্য করেছিলেন— 'মেইন পাওয়ার তো তোমার ভয়েসেই আছে, পাওয়ার ভয়েস হলে তোমারই হওয়া উচিত।'
তিনি বলেন, "কিংবদন্তি এই মানুষের মুখ থেকে পাওয়া এমন অকুণ্ঠ প্রশংসা আমার সংগীত জীবনের এক অমূল্য প্রাপ্তি এবং চিরন্তন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।"
সংগীতাঙ্গনে নিজেকে কেবল কভার শিল্পী হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে, নিজস্ব একটি পরিচয় বিনির্মাণে কাজ করছেন এই শিল্পী। বর্তমানে তিনি 'কি ব্লুজ' ফরম্যাট নিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টির প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো, লোকসংগীত বা ফোক ঘরানার সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে ব্লুজ জনরার শ্রোতাদের মাঝেও নিজের মৌলিক সৃষ্টির আমেজ পৌঁছে দেওয়া।
তিনি মনে করেন, একজন প্রকৃত শিল্পীর সার্থকতা তার নিজস্ব সৃষ্টিতে। তাই নতুন এই ফরম্যাট নিয়ে কাজের ফলাফল কী হবে তা নিয়ে শঙ্কিত না হয়ে, তিনি বরং নিজের সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম বিনিয়োগ করছেন। আগামী দিনের একজন কিংবদন্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হতে মৌলিক গানের কোনো বিকল্প নেই—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি তার নতুন এই সংগীত যাত্রায় অবিচল রয়েছেন।
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রেশমি মির্জা বর্তমানে বড় কোনো ব্যানারের অপেক্ষায় না থেকে নিজের অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মগুলো থেকেই নিয়মিত গান প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শ্রোতাদের সরাসরি গান পৌঁছে দিতে তিনি তার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল 'রেশমি মির্জা অফিশিয়াল'-কে ঢেলে সাজাচ্ছেন।
গানের বিষয়ে বরাবরই খুঁতখুঁতে রেশমি এবার ফোক বা লোকসংগীতের চিরচেনা গণ্ডি পেরিয়ে কিছুটা ভিন্ন পথে হাঁটছেন। খুব শীঘ্রই তার অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মগুলোতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে একগুচ্ছ নতুন গান। এই তালিকায় চিরাচরিত ফোক গানের পাশাপাশি থাকছে সমসাময়িক হিপহপ ঘরানার বেশ কিছু বৈচিত্র্যময় ও মজার মৌলিক গান। মূলত শ্রোতাদের নতুন কিছু উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এই ভিন্নধর্মী নিরীক্ষা চালাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে রেশমি মির্জার 'রেশমি ও মাটি' অ্যালবামের "পাগল কি কেউ হয় প্রেমো দোষে" গানটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায় এবং সংগীত মহলে প্রশংসিত হয়। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিজের মৌলিক সৃজনশীলতাকে আরও স্বাধীনভাবে প্রকাশের জন্যই তিনি এখন থেকে নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার বেশ কিছু বড় প্রজেক্টের কাজ চলমান রয়েছে, যা শিগগিরই সঙ্গীত প্রেমীদের সামনে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের ফলে রেশমী মির্জার প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায় অনেক পরিবর্তন এলেও, তার সংগীত ভাবনার মূল জায়গাটা আগের মতোই অটুট আছে। তিনি আগেও আন্তর্জাতিক মিউজিশিয়ানদের সাথে বিভিন্ন কোলাবরেশনে কাজ করেছেন, তাই এখানকার কাজের পরিবেশ তার জন্য একেবারেই নতুন কিছু নয়। তবে এই প্রবাস জীবন তাকে লোকসংগীত নিয়ে নতুন ভাবে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে।
আগে তিনি অনেক লোকগানকে ফিউশন করে শ্রোতাদের সামনে এনেছিল। এখন তিনি চেষ্টা করছেন এমন সব জনপ্রিয় ফোক গানগুলো নিয়ে কাজ করতে, যেগুলো এর আগে তার করা হয়নি। এই কাজগুলোতে তিনি এখানকার প্রতিভাবান আন্তর্জাতিক মিউজিশিয়ানদের সাথে সমন্বয় করছেন যাতে দেশীয় মাটির গানের সাথে গ্লোবাল মিউজিকের একটি চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি হয়।
রেশমী মির্জা বিশ্বাস করেন, এই ফিউশন ফোক-রক গানগুলো শ্রোতাদের কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে। খুব শীঘ্রই এই প্রজেক্টগুলো সবার সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন