https://www.prothomalony.com/
17085
bangladesh
সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন রাতারগুল রক্ষায় সেটিকে অনতিবিলম্বে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। তাদের অভিযোগ, বনের কোল ঘেঁষে প্রবাহিত চেঙ্গেরখাল নদী থেকে রাতে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বনটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বিপন্ন হচ্ছে বনের বৈচিত্র্যময় বাস্তুতন্ত্র।
রোববার বিকেলে রাতারগুল গ্রামের মাঝেরঘাটে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) সিলেট শাখা আয়োজিত এক গ্রামীণ নাগরিক সভায় এই দাবি জানানো হয়। এর আগে সংগঠনের পক্ষ থেকে বনের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন পরিবেশকর্মীরা।
.jpg)
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে ধরার কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল করিম কিম বলেন, “একটি বালুখেকো চক্র গভীর রাতে মেশিন লাগিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বনের পাড়ে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ৫০৪ একরের এই বন রক্ষায় বালু উত্তোলন বন্ধ এবং দ্রুত এটিকে ইসিএ ঘোষণা করা জরুরি।”
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মোস্তফা শাহাজামান চৌধুরী বলেন, রাতারগুলের মতো সংবেদনশীল এলাকায় বালু উত্তোলনের ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতা হতাশাজনক। সরকারিভাবে সাদাপাথর বা বিছনাকান্দির মতো এলাকাগুলোকে ইসিএ ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাতারগুলকে কেন বাইরে রাখা হয়েছে, সেই প্রশ্ন তোলেন বক্তারা।

পরিবেশ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী সভায় বলেন, “সরকার সম্প্রতি বেশ কিছু এলাকাকে ইসিএ ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু সেখানে রাতারগুলের নাম নেই। রাতারগুলকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত না করা হলে প্রয়োজনে আমরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হব।”
সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফখরুদ্দিন চৌধুরী, পরিবেশকর্মী নাহিদ পারভেজ বাবু এবং রাতারগুল সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি আল-আমিন। স্থানীয় গ্রামবাসী ও রাতারগুল সমাজকল্যাণ পরিষদের প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত থেকে বনের অস্তিত্ব রক্ষায় বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন