https://www.prothomalony.com/
16987
bangladesh
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ ০৪:২১
বাংলাদেশের জাতীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আজ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন করেছে। মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং-এর সাথে মোট ১৪টি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ কেনার এই ঐতিহাসিক চুক্তি ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে বোয়িং এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
নতুন চুক্তির আওতায় বিমান কিনবে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮। এর মধ্যে ৭৮৭-১০ এবং ৭৩৭ ম্যাক্স — দুটিই বিমানের জন্য সম্পূর্ণ নতুন সংযোজন, যা এর আগে কখনো কেনা হয়নি। আটটি ৭৮৭-১০ মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ-চাহিদার রুটে ব্যবহৃত হবে, দুটি ৭৮৭-৯ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দূরপাল্লার রুটে সেবা দেবে এবং চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক রুট পরিচালনায় কাজে আসবে।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, নতুন জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এই উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহর আধুনিক করবে, পরিচালনগত দক্ষতা বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করবে, যা বৈশ্বিক বিমান বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘিও এই অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ৭৮৭-১০ বিদ্যমান বহরের সাথে নির্বিঘ্নে সমন্বিত হবে এবং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ আঞ্চলিক চাহিদা মেটাতে আদর্শ একটি বিমান। এই উড়োজাহাজগুলো পূর্ববর্তী মডেলের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম জ্বালানি ব্যবহার করে এবং ৭৮৭-১০ যেকোনো ওয়াইডবডি বিমানের মধ্যে প্রতি আসনে সর্বনিম্ন পরিচালন ব্যয় নিশ্চিত করে। যাত্রীদের জন্যও থাকছে উন্নত অভিজ্ঞতা — বৃহত্তর জানালা, কম শুষ্ক কেবিন বায়ু এবং টার্বুলেন্স প্রতিরোধী অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, বিমানের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বিমান বর্তমানে ঢাকা থেকে ২২টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে এবং দীর্ঘতম রুটটি হলো ইস্তাম্বুল হয়ে টরন্টো, যা ৭৮৭-৯ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক বাজার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০ বছরে দক্ষিণ এশিয়ার ওয়াইডবডি বিমান বহর তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে এবং এই প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা এই চুক্তিকে বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন