https://www.prothomalony.com/
16980
bangladesh
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৪৩
পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের চিত্র জাতিসংঘের সদর দপ্তরে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে চলমান ‘আদিবাসীসংক্রান্ত জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরাম’ এর ২৫তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এসব তথ্য জানায়।
অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, পার্বত্য শান্তিচুক্তির মোট ৭২টি ধারার মধ্যে ইতোমধ্যে ৬৫টি ধারা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ধারাগুলোর মধ্যে তিনটি আংশিক এবং চারটি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সচিব তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের অধিকার সুরক্ষায় বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক একজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনে সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন।
পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে সচিব ফোরামকে অবহিত করেন যে, ওই এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ রক্ষা এবং ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমি জরিপ ও ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বৃদ্ধি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সংযোগ স্থাপনে সরকার কাজ করছে।
ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের বিষয়ে জানানো হয়, নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের জন্য বিশেষ বৃত্তি, বহুভাষিক শিক্ষা ও ই-লার্নিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি কাজ করছে কমিউনিটি ক্লিনিক ও মোবাইল মেডিকেল টিম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পার্বত্য জেলাগুলোতে ২০ লাখ বৃক্ষরোপণের বিশাল পরিকল্পনার কথাও অধিবেশনে জানানো হয়।
২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশন চলবে ১ মে পর্যন্ত। এতে সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমাসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া পার্বত্য ও সমতল অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও এই দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন