https://www.prothomalony.com/

16896

literature

সাহিত্য

উত্তরের সাহিত‍্য

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৩২

মুকুন্দ 

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় 

বাজারে আনাজ বেচে মুকুন্দ 

মুকুন্দ শুনেছে, দূরের আনাজ হালকা হয়

হাঁটতে হাঁটতে মুকুন্দ অনেক দূর চলে যায় 

পা ব্যথা করে 

একটু বসে নিয়ে আবার হাঁটে 

বাজারে মুকুন্দর হালকা আনাজের চারপাশে 

খদ্দেররা মাছির মতো ওড়ে

মাথায় সূর্য আসার অনেক আগে

মুকুন্দও উড়ে যায় 

তবুও ঘরের চাল টালি থেকে পাকা হয় না 

মুকুন্দ জানে, কাঁচা আনাজ খাওয়া যায় না 

সঙ্গে আরও অনেক কিছু লাগে

বৃষ্টি 

দেওয়ান নাসের রাজা 

বৃষ্টি পড়ছে অঝোর ধারায় 

অপরিচিত গ্রাম 

বারান্দাতে শুয়ে আছি 

চায়ের কাপের ধোঁয়ার রঙের আকাশ 

ঘরের পাশে মেঘের পদধ্বনি। 

কাঁথার ভেতর শীতের কাঁপুনি 

কেওক্রাডং বৃষ্টি মেঘে ঢাকা 

রান্নাঘরে পায়ের ছোটাছুটি 

দৃষ্টি দেখে মেঘের অপরুপ। 

সমানে বিশাল বুরো খেতের ছবি 

বৃষ্টি পড়ে ধানের পাতা ছুঁয়ে 

নির্জনতায় নারকেল পাতার মতো 

একটি দোয়েল অবিশ্রান্ত ভিজে। 

দূরের পাহাড় ধূসর পর্দায় ঢাকা 

রান্নাঘরে পায়ের শব্দ শুনি 

কাঁথার ভেতর মেঘের স্পর্শ পাই 

আকাশ ভেঙে পড়ছে বারিধারা। 

অন্ধকারের অদৃশ্য গ্রাফিতি

আশরাফ চঞ্চল

সুইচ অফ করো। কোনো কোনো সময় আলো জ্বালতে নেই

আলোর চেয়ে অন্ধকারই ভালো

কিছু বিষয় অন্ধকারেই জমে বেশি

যা ইচ্ছে করা যায়, সংকোচ কিংবা লজ্জা থাকে না! 

কিছু শব্দ আছে। কিছু ভালোলাগা আছে। কিছু স্পর্শ আছে। কিছু গিরি উপত্যকা আলোতে খুঁজে পাওয়া যায় না!

কিছু ঘ্রাণ শরীরেই লুকিয়ে থাক। কিছু আদর পেট্রোলের চেয়ে বেশি দাহ্যতা ছড়ায়। কিছু আগুন দেহকে পুড়িয়ে খাঁটি সোনা বানায়!

কিছু চাওয়া মুখ দিয়ে চাইতে হয় না, ইশারায় ইঙ্গিতে  অনুভূতি দিয়ে বুঝে নিতে হয়। চাওয়ার আগেই দিয়ে 

দিতে পারাটাই চরম সৌখিনতা! 

কিছু সময় দেহের ভূগোল জুড়ে ঝড় তুলতে হয়। সম্মুখের সবকিছু তছনছ করে দিয়ে নিত্যনতুন নিজেদের গড়তে হয়। বৈশাখের আশায় কুইড়া মানুষের মত বসে থাকতে হয় না। সময়ে সময়ে বেডহা হতে হয়! বিধিনিষেধ ভুলে নিজেকে আলাদা করতে হয়।

অন্তর্হিত চৈত্রের বিলাপ 

সুশান্ত কুমার দে 

বিবর্ণ মুখ, ফ্যাকাশে আকাশ, চারিদিক 

নিঃসঙ্গতা; এই বুঝি চৈত্রের অবসান। 

সর্বত্রই ধ্বনিত, অনুরণিত নতুনত্বের স্বাদ;

হাতি, ঘোড়া সাজিয়ে শোভাযাত্রা-

 উৎসুক জনতার ভিড়! 

হালখাতার অনুষ্ঠান। চড়া দামে 

পান্তা ইলিশের আয়োজন। অথচ, 

চৈত্রের অন্তরে জমানো বিরহের যন্ত্রণার

অনুভব কেউ  বোঝেনি। আমি কিন্তু, 

চৈত্রের প্রচণ্ড উন্মত্ততায় ভীত-সন্ত্রস্ত 

 হয়ে পড়েছি। সর্বোচ্চ শিখরে রেখেছি;

তার স্মৃতিময় বিবর্ণ মলিন পাণ্ডুলিপি!

তার খুনসুটিতে প্রকৃতিও ভয় পায়! 

এখনো বুঝি তোমরা চৈত্রের শবদেহটি নিয়ে 

তামাশা করো ? আমি কিন্তু- চৈত্রের 

অনুভূতিটুকু; 

আমার বুক পকেটে ভরিয়ে রেখেছি?

খুব ভীতু আমি  

আহম্মদ হোসেন বাবু

খুব ভীতু আমি তখনো-এখনো, বলতে নেই লজ্জা 

তবু চোখে রেখে চোখ-কথা হোক, জেগে থাকুক সজ্জা। 

যতক্ষণ কথা হবে, ততক্ষণ ঘরে জ্বলবে আলো 

যৌবন আমার স্রোত-অভিশাপ আলকাতরার কালো! 

জ্যোতির্ময় চাঁদ ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায় অসহ্য দহন 

নিমিষে জীবন যেন গান্ধীপোকা দুর্গন্ধ ভীষণ।

ধূসর পৃথিবী থেমে গেছে গান, ভেঙে গেছে বীণ

ক্লান্ত হয়ে দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে থাকি, কথা হয় ক্ষীণ।

বৃত্তের পেছনে ছুটছি, বৃথা চেষ্টা সম্পূর্ণ সাধন 

ধ্রুবজ্যোতি প্রেম নয় বাগনিষ্ঠ, অদৃষ্ট বাঁধন। 

সবাই আমাকে মারলো, আমি কাউকে কখনো মারিনি

যেখানে ছিলাম সেখানেই আটকা, কিছুই পারিনি! 

যে ব্যথা আমার, বাবার বুকেও সে ব্যথা কি ছিল? 

শেকড়ে বিশ্বাস নেই, তাই ওরা সব কেড়ে নিল! 

সহ্য করতে করতে নিঃশেষ না হয়ে, জ্বলে ওঠা ভালো 

সোনার মতন স্বপ্ন দিয়ে, মুছে দাও সব কালো। 

সে সংগ্রাম ছিল- থাকবে, তা কখনোই ভোলার নয় 

আকাশসম আস্থা, ফিরিয়ে দেবে সে আত্মপরিচয়। 

তাই চোখে রেখে চোখ- কথা হোক, জেগে থাকুক সজ্জা 

খুব ভীতু আমি তখনো-এখনো, বলতে নেই লজ্জা।

ভেজা  অর্কিড 

অনিক খুরশীদ 

ঋদ্ধ পারমিতা চেয়ে দেখে সপ্তর্ষি চাঁদ 

উচ্ছৃঙ্খল ঢেউ থেমে যায়; স্তব্ধ দিনযাপন

যুগল হাতের ইশারা 

স্পর্শে নৈঃশব্দ্যে ফুল ফোঁটে।

অন্ধকারে উজ্জ্বল তুমি

আনত মুখ তুলে তাকালে

হিরণ্ময় সুর বাজে

নিশীথ প্রহরে দীর্ঘগল্প করে কানাকানি। 

বৃষ্টির ফোঁটায় ভিজে অর্কিড 

বুক শীতল হয়; 

বাড়ে আত্মতুষ্টি। 

স্বচ্ছ কাঁচে জলধারা 

জলছাপ আঁকে বাসনা

ফোঁটায় ফোঁটায় ভিজে মুখ। 

নির্বাসিত আলোর গহীনে

নাহিদ সর‎দার

‎‎বইয়ের কোনো প্রয়োজন আছে ‎কিনা 

ভাবতে -ভাবতে

‎লোকটা দেখলো, 

‎আসলেই বইয়ের তেমন কোনো 

‎প্রয়োজন নেই।

‎ঠিক তখনই 

‎জুতসই একটা আলোর দোকান

‎নির্বাসিত হলো অন্ধগলিতে।

‎লোকটা এখন অন্ধগলিতে 

‎হারিয়েছে ফেরার পথ।

‎নাকে পোড়া গন্ধ আসে-

‎সভ্যতা অথবা অবক্ষয় ।

কবির স্বপ্ন

আরিয়ান আহমেদ 

এক ছেলে ছোট, কবির স্বপ্ন আঁটে,

বন্ধুদের মাঝে চমক দেখাতে ছোটে।

কাগজে কলমে আঁকিবুঁকি কত,

শব্দের ফুল ফোটাতে মন যত।

লোকে হাসে, বলে "নজরুল তো নও",

ভাব দেখালে বড়ই অহং করো!

কিন্তু সে তো শোনে না কারো কথার জোর,

লিখে যায় দিনরাত, ভাবনায় ভোর।

কষ্টের পথে থামেনি এক পা-ও,

অটল থাকল স্বপ্নের শপথে।

দিন যায়, বছর যায়, লিখে সে লাগাতার,

একদিন সত্যি হলো সেই কবি তার।

আকাশতলে ছড়াল আলো নাম তার,

স্বপ্নের জয়গান গাইল সংসার।

ভক্তদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন আশা ভোঁসলে

জি বি এম রুবেল আহম্মেদ

ভারতের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে; যিনি হিন্দি ও বাংলা মিলিয়ে প্রায় হাজার হাজার গানের স্রষ্টা। তিনি ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভারতের সাঙ্গলি রাজ্যের গোয়ারে এক সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা দীনানাথ মঙ্গেশকর ছিলেন মারাঠি ভাষী গোমন্তক মারাঠা সমাজের সদস্য এবং মারাঠি সংগীত মঞ্চের একজন অভিনেতা ও শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী। ভোঁসলের যখন নয় বছর বয়স, তখন তাঁর পিতা মৃত্যুবরণ করেন। ফলে পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের কাঁধে।

সংগীতজগতে প্রবেশটা সহজ ছিল না। শুরুতে তিনি 'বি' ও 'সি' গ্রেড সিনেমায় গান গাইতেন। তখন মূলধারার গানগুলো প্রায় পুরোপুরি লতার দখলে ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজের স্বকীয়তা তৈরি করতে থাকেন আশা। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন গণপত রাও ভোঁসলেকে। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে তিন সন্তান— হেমন্ত ভোঁসলে, বর্ষা ভোঁসলে ও আনন্দ ভোঁসলে। কিন্তু এই বিয়ে সুখকর ছিল না। স্বামীর পরিবার থেকে অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হন তিনি। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের নিয়ে ফিরে আসেন মায়ের বাড়িতে। এই অধ্যায় তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেললেও তাঁকে আরও শক্ত করে তোলে।

পরবর্তী সময়ে সংগীত পরিচালক আর. ডি. বর্মনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুজনের সম্পর্ক শুধু ব্যক্তিগত নয়, সংগীতেও এক নতুন যুগের সূচনা করে। তাঁদের যৌথ কাজ ভারতীয় সিনেমার সুরের ধারাকে বদলে দেয়।

তিনি ও তাঁর বড় বোন পরিবারের ভরণপোষণের জন্য চলচ্চিত্রে গান গাওয়া ও অভিনয় শুরু করেন। তাঁর গাওয়া প্রথম গান হলো মারাঠি ভাষার 'মাঝা বল', যা ১৯৪৩ সালে 'চল চল নব বল' চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়। গানটির সুর দিয়েছিলেন দত্ত দবজেকর। ১৯৪৮ সালে হংসরাজ বেহলের 'চুনারিয়া' সিনেমায় 'সাবন আয়া' গানে কণ্ঠ প্রদানের মাধ্যমে তাঁর হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। তাঁর প্রথম একক হিন্দি গান ছিল 'রাত কি রানী' চলচ্চিত্রের জন্য।

তিনি সংগীতের পাশাপাশি একাধারে একজন ভারতীয় উদ্যোক্তা, অভিনেত্রী ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। প্রধানত হিন্দি চলচ্চিত্রে নেপথ্য সংগীত পরিবেশন করার জন্য তিনি জগদ্বিখ্যাত। বহুমুখী মেধার অধিকারী হওয়ার কারণে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী কণ্ঠের খ্যাতি অর্জন করেন। সংগীতে হাতেখড়ি হয়েছিল সেই ছোটবেলাতেই। ১৯৪৩ সাল থেকে আরম্ভ করে তিনি আট দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য গান গেয়েছেন।

তার গায়িকা জীবনকে খতিয়ে দেখলে চারটি সিনেমাকে চিহ্নিত করা যায়। এগুলো তার কেরিয়ারের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত। এ ছবিগুলো হলো: নয়া দৌড় (১৯৫৭), তিসরি মঞ্জিল (১৯৬৬), উমরাও জান (১৯৮১) এবং রঙ্গীলা (১৯৯৫) । তিনি বাংলা সিনেমার জন্য বহু ছায়াছবিতে নেপথ্য সংগীত গেয়েছেন। এছাড়া তিনি অনেক বাংলা আধুনিক গান ও রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং নজরুলগীতি গেয়েছেন। আশা ভোঁসলের সেরা বাংলা গানের মধ্যে অন্যতম– 'নাচ ময়ূরী নাচ রে (১৯৫৮)', 

'আকাশে আজ রঙের খেলা (১৯৫৮)', 'যে গান তোমায় আমি (১৯৬১)', 'আমি খাতার পাতায় (১৯৬২)', 'আহা ! পাতা কেটে চুল বেঁধে কে (১৯৬৬)', 

'মনের মানুষ ফিরলো ঘরে (১৯৬৬)', 'জীবন গান গাহি কি যে (১৯৬৭)', 'মন নিয়ে কি মরব নাকি (১৯৬৮)', 'মনের মানুষ খুঁজিতে এসে (১৯৬৮)', 'এই এদিকে এসো এসো বলছি (১৯৬৮)', 'যাব কি যাব না ভেবে ভেবে (১৯৬৮)'। তিনি বেশ কয়েকজন গুণী চলচ্চিত্র ও সংগীত পরিচালকদের সাথে কাজ করেছেন। ও. পি. নয়্যারের সাথে আশার প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯৫২ সালে "ছম ছম ছম" গানের রেকর্ডিঙে। ১৯৫৪ সালে নয়্যার প্রথম আশাকে মঙ্গু  চলচ্চিত্রের গানের জন্য ডাকেন এবং সিআইডি চলচ্চিত্রের গানের মাধ্যমে তাঁকে সুযোগ দেন। এরপর কাজ করেন প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক মোহাম্মদ জহুর খৈয়াম, রবি আশা, শচীন দেববর্মন, রাহুল দেববর্মন ও এ.আর রহমানের সাথে। 

আট দশক সংগীত জীবনে অর্জন করেছেন অনেক পুরস্কার ও পদক। ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার পেয়েছেন। এরপর তিনি জানান যে, তার নাম যেন আর ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের জন্য গণ্য করা না হয়। ২০০১ সালে তিনি 'ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার' পান। তিনি দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৮টি মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারটি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, আজীবন সম্মাননাসহ নয়টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং দুটি গ্র্যামি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেছেন। তিনি ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এ ভূষিত হন। ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মবিভূষণ পদকে ভূষিত করে। এছাড়াও তিনি ২০১৮ সালে বঙ্গবিভূষণ ও ২০২১ সালে মহারাষ্ট্র ভূষণ পদকে ভূষিত হন। সোপরানো কণ্ঠ ও বহুমুখী প্রতিভার জন্য খ্যাত ভোঁসলের রেকর্ডকৃত গানের তালিকায় রয়েছে চলচ্চিত্রের সঙ্গীত, পপ, গজল, ভজন, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, লোকসঙ্গীত, কাওয়ালি ও রবীন্দ্রসঙ্গীত। হিন্দি ভাষা ছাড়াও তিনি ২০টি ভারতীয় ও বিদেশি ভাষায় গান গেয়েছেন। ২০১৩ সালে মাই চলচ্চিত্র তিনি অভিনয়ের নাম লেখান এবং তার অভিনয় সমাদৃত হয়। ২০০৬ সালে ভোঁসলে বলেন– দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বার হাজারেরও অধিক গান গেয়েছেন। বিভিন্ন উৎসেও এই সংখ্যার উল্লেখ পাওয়া যায়। ২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাকে সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ডকারী হিসেবে ঘোষণা করে।

কিংবদন্তি এই গায়িকা এবং আট দশক ধরে বলিউডের কণ্ঠস্বর প্রখ্যাত শিল্পী আশা ভোঁসলে গত ১১ এপ্রিল হঠাৎ হৃদযন্ত্র ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ায় মুম্বাইয়ের ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ সালে ৯২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। আন্তর্জাতিক মানের এই প্রখ্যাত গুণী সংগীতশিল্পী আজ আমাদের মাঝে নেই। তাঁর সৃষ্টিশীল গান, সুর লক্ষ-কোটি ভক্তদের কানে ভাসতে থাকবে। আমৃত্যু তাঁর গান পৃথিবীর বুকে বাজতে থাকবে। প্রয়াত এই সংগীতশিল্পী আমাদের মাঝে চিরদিন অমর হয়ে থাকবেন।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন