https://www.prothomalony.com/
16788
bangladesh
বাংলাদেশের প্রিয়-শ্রদ্ধেয় নারীদের বলছি: শিক্ষাই আপনাদের মুক্তির একমাত্র পথ। শিক্ষা ছাড়া আর কোনো পথই আপনাদের সামনে খোলা নেই। কেবল শিক্ষা দিয়েই আপনারা পৃথিবী ছাড়িয়ে চাঁদও জয় করতে পারবেন। ক্রিস্টিনা কচ তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। তিনি চাঁদ জয় করেছেন, অর্জন করেছেন মাইলফলক। ক্রিস্টিনা নারী হিসেবে পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে পাড়ি দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। আর্টেমিস-২ ১৯৭২ সালের পর দীর্ঘ অর্ধশত বছর পর প্রথম চাঁদের বুকে সফল অভিযান। আর তার নেতৃত্বে ছিলেন ক্রিস্টিনা কচ।
নারীদের বিনীতভাবে বলছি: আপনারা পড়াশোনা করুন, নিজেকে শিক্ষিত ও সাবলম্বী করে গড়ে তুলুন। অনেক ঝড়-তুফান আসবে, এটা এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু আপনাদের স্বপ্নের পথে লেগে থাকতে হবে, লড়াই করে যেতে হবে। কারণ, এ পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা আপনাদের এখনও 'দাসী' কিংবা 'কনজ্যুমার প্রোডাক্ট' হিসেবেই বিবেচনা করে।
পড়াশোনা করে সেলফ-ডিফেনডেন্ট হতে পারলে আপনি অন্তত এই গ্যাঁড়াকল থেকে, আস্ফালন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। দেখছেন না—পৃথিবীর অন্য প্রান্তের নারীরা মহাকাশ, চাঁদ জয় করছেন আর আমাদের এখানে 'বাল্যবিবাহ কেন জরুরি' তা নিয়েই মাতামাতি হচ্ছে।
তাই শ্রদ্ধেয় নারীকুল, আপনারা এই সমাজব্যবস্থার তথাকথিত ফাঁদে পা না বাড়িয়ে নিজেদের অনিবার্য হিসেবে গড়ে তুলুন। নিজেকে ভালবাসুন, স্বপ্নের পথে দৌড়ান। আপনারাই জয় করতে পারবেন এই বিশ্বের আছে যত কিছু! আর আপনাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আপনাদের সামনে রোল মডেল হিসেবে অনন্ত অনুপ্রেরণার বাতিঘর হিসেবে আছেন: ম্যারি কুরি, ভ্যালেন্টিনা তেরেশকোভা, কল্পনা চাওলা, অ্যাডা লাভলেস, নিশাত মজুমদার, অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট, সিরিমাভো বন্দরনায়েকে, হাইপেশিয়া, সুনিতা উইলিয়ামস, ভার্জিনিয়া উলফ, মাদার তেরেসা, শিরিন এবাদি, বেগম রোকেয়া, তারামন বিবি, অরুন্ধতী রায়, নাদিয়া মুরাদ, হালা আলকারিব, রিক্তা আক্তার বানু, মালালা ইউসুফজাই, গ্রেটা থুনবার্গ ও ক্রিস্টিনা কচ।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন