https://www.prothomalony.com/

16522

bangladesh

বাংলাদেশ

ঢাকায় শিল্পকলা অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী রোকেয়া সুলতানাকে সম্মাননা

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ ০৩:০২

ঢাকায় একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিল্পী অধ্যাপক ড. রোকেয়া সুলতানাকে সম্মান জানাতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শিল্প–সংস্কৃতির দৃঢ় সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। শনিবার রাজধানীর বারিধারার গার্ডেন গ্যালারিতে গ্যালারি কসমস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডিন ডাও।

গ্যালারি কসমস এবং হাউস অব সোলিসের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে কসমস এটেলিয়ের৭১–এ আয়োজিত একটি কর্মশালায় তৈরি শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়। এতে শিল্পী, আয়োজক এবং শিল্পপ্রেমীরা অংশ নিয়ে কর্মশালার অভিজ্ঞতা ও শিল্পচর্চার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের শিল্প ও শিল্পীদের সৃজনশীলতাকে গভীরভাবে প্রশংসা করে আসছেন। ঢাকায় একটি আর্ট গ্যালারিতে প্রথম সফরের সময় ড. রোকেয়া সুলতানার কাজ তাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, ড. সুলতানা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ফুলব্রাইট কর্মসূচির একজন সাবেক ফেলো এবং তিনি নেব্রাস্কা-লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি সম্পন্ন করেছিলেন, যা রাষ্ট্রদূতের কাছে বিশেষ আনন্দের বিষয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের প্রাণবন্ত শিল্পাঙ্গন এবং শিল্পীদের মধ্যে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি মনে করেন, ফুলব্রাইটের মতো সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি দুই দেশের শিল্পী ও সৃজনশীল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক।

অনুষ্ঠানে হাউস অব সোলিসের প্রতিষ্ঠাতা নাহার খান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে কসমস এটেলিয়ের৭১–এ অধ্যাপক রোকেয়া সুলতানার নেতৃত্বে প্রিন্টমেকিং ও কোলোগ্রাফি বিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে তিনি শুধু কারিগরি দক্ষতাই নয়, শিল্পচর্চার সাহস ও পরীক্ষামূলক মানসিকতার দিকটিও তরুণ শিল্পীদের সামনে তুলে ধরেছেন। প্রদর্শনীতে যে শিল্পকর্মগুলো রাখা হয়েছে সেগুলো মূলত শিল্পী ও শিক্ষকের মধ্যে ধারণা ও কৌশল বিনিময়ের ফল।

গ্যালারি কসমসের পরিচালক তেহমিনা এনায়েত বলেন, তাদের গ্যালারি এবং কসমস এটেলিয়ের৭১ দীর্ঘদিন ধরে শিল্পীদের জন্য একটি সক্রিয় কাজের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার চেষ্টা করছে। প্রায় দুই দশক ধরে সক্রিয় এই স্টুডিওটি এখন প্রিন্টমেকিং চর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে নিয়মিত কর্মশালা, শিল্প শিবির ও প্রদর্শনীর আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ শিল্পীদের উৎসাহিত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, কসমসের উদ্যোগ দেশের সীমানা ছাড়িয়েও বিস্তৃত হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবাসিক কর্মসূচি ও শিল্পবিনিময় প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বের নানা দেশের শিল্পী ও গবেষকেরা এখানে যুক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পীরা ভেনিস, নিউইয়র্ক, মায়ামি, সিঙ্গাপুর, টরন্টো, কাঠমান্ডু ও মুম্বাইসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও শিল্পমেলায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের শিল্পকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরেছেন।

নিজের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রোকেয়া সুলতানা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর শিল্পজীবনের শুরু থেকেই তিনি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। কর্মশালা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিল্পমঞ্চে তিনি এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, শিল্পের কোনো নির্দিষ্ট ভাষা নেই এবং এর কোনো সীমানাও নেই; শিল্প মানুষকে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক সীমা অতিক্রম করে একত্রিত করে।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন অধ্যাপক ড. রোকেয়া সুলতানার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, বিশিষ্ট কূটনীতিক ফারুক সোবহানসহ শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকেই।
 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন