https://www.prothomalony.com/

16328

literature

সাহিত্য

যাকাত: দারিদ্র্য দূরীকরণে ইসলামের ব্যবস্থা

খতিব, নূরে মদীনা জামে মসজিদ, সীতাকুণ্ড,চট্টগ্রাম।

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৩:২২

ইসলামের আর্থসামাজিক দর্শনের মেরুদণ্ড হলো যাকাত। এটি কেবল একটি আর্থিক লেনদেন নয়, কেবল দান-খয়রাতও নয়; বরং এটি এমন একটি ফরয ইবাদত, যার মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র তিনটি স্তরেই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। যাকাত মানুষের সম্পদকে পবিত্র করে, হৃদয়কে কৃপণতা থেকে মুক্ত করে এবং সমাজের ভাঙন রোধ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলে।

“যাকাত” শব্দের অর্থ বৃদ্ধি, পবিত্রতা ও বরকত। ইসলামী পরিভাষায় নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ এক বছর অতিক্রম করার পর, নির্ধারিত হারে, নির্দিষ্ট খাতে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রদান করাই যাকাত। এটি ঐচ্ছিক নয়; বরং সামর্থ্যবান মুসলিমের উপর ফরয।

আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, অর্থ: “আপনি তাদের সম্পদ থেকে দান গ্রহণ করুন, যা তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে।”, সূরা তওবা: ১০৩

এই আয়াতে যাকাতকে এমন এক ব্যবস্থারূপে তুলে ধরা হয়েছে, যা মানুষের অন্তর ও সম্পদ দুইটিকেই পরিশুদ্ধ করে। অর্থাৎ যাকাত কেবল অর্থের স্থানান্তর নয়; এটি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধির মাধ্যম।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো যাকাত। ঈমানের পর সালাত ও যাকাত এই দুই ইবাদতকে কুরআনে বহুবার পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ব্যক্তিগত ইবাদত (সালাত) এবং সামাজিক দায়িত্ব (যাকাত) একে অপরের পরিপূরক। একজন ব্যক্তি যতই নামাজ পড়ুক, যদি সে যাকাত আদায় না করে, তবে তার দ্বীনের সামাজিক দিকটি অপূর্ণ থেকে যায়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামানে প্রেরণ করেন, তখন নির্দেশ দেন মানুষকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাদের উপর এমন দান ফরয করেছেন, যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে নেওয়া হবে এবং তাদের গরিবদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৯৫

এই বক্তব্য যাকাতের অর্থনৈতিক দর্শনকে অত্যন্ত স্পষ্ট করে: সম্পদ একমুখীভাবে জমা থাকবে না; সমাজে তা প্রবাহিত হবে। ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান চিরস্থায়ী নয়; বরং যাকাতের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রিত হবে।

যাকাতের নিসাব নির্ধারিত। স্বর্ণের ক্ষেত্রে প্রায় ৮৫ গ্রাম সমপরিমাণ সম্পদ থাকলে, এক বছর অতিক্রমের পর ২.৫ শতাংশ যাকাত দিতে হয়। ব্যবসায়িক পণ্য, নগদ অর্থ ও সঞ্চয় সবই এর অন্তর্ভুক্ত। কৃষিজ ফসলের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত হার রয়েছে। অর্থাৎ যাকাত একটি সংগঠিত, পরিমিত ও ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা আবেগনির্ভর অনিয়ন্ত্রিত দান নয়।

কুরআনে যাকাত ব্যয়ের আটটি নির্দিষ্ট খাত উল্লেখ করা হয়েছে ফকির, মিসকিন, যাকাত সংগ্রহকারী, যাদের অন্তর অনুকূল করা প্রয়োজন, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর পথে সংগ্রাম এবং মুসাফির। সূরা তওবা: ৬০

এই নির্ধারণ প্রমাণ করে, যাকাত ইচ্ছামতো খাতে ব্যয় করার সুযোগ নেই। এটি একটি সুনির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো।

যাকাত কেবল গরিবের প্রয়োজন পূরণ করে না; এটি ধনীর হৃদয়ও পরিশুদ্ধ করে। মানুষ স্বভাবতই সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট। সম্পদ জমাতে জমাতে সে অনেক সময় ভুলে যায় এই সম্পদ তার চূড়ান্ত মালিকানায় নয়। যাকাত সেই ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে দেয়। মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় সে কেবল আমানতদার।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সতর্ক করে বলেন, অর্থ: “যে ব্যক্তি যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার সম্পদ বিষধর সাপে রূপান্তরিত হয়ে তাকে দংশন করবে।”  সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৮৭

আরও বর্ণিত হয়েছে যাদের উট, গরু বা ছাগল আছে অথচ তারা যাকাত দেয় না, কিয়ামতের দিন সেই পশুগুলো তাদেরকে পদদলিত করবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৯০

এই কঠোর সতর্কবাণী বোঝায়, যাকাত পরিত্যাগ করা কেবল আর্থিক অবহেলা নয়; এটি গুরুতর পাপ।

যাকাতুল ফিতরও ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  ঈদের নামাজের পূর্বে প্রত্যেক মুসলিমের উপর নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য প্রদানকে বাধ্যতামূলক করেন যাতে দরিদ্ররাও ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারে।  সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫০৩

যাকাতের অর্থনৈতিক তাৎপর্য আজকের বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আরও গভীর। বৈষম্য, সম্পদকেন্দ্রিক পুঁজিকরণ, দারিদ্র্যের বিস্তার এসব সমস্যার সমাধানে যাকাত একটি বাস্তবসম্মত মডেল। যদি সঠিকভাবে সংগঠিত ও ব্যবস্থাপিত হয়, তাহলে একটি সমাজে চরম দারিদ্র্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। ইতিহাসে বহু সময় এমন উদাহরণ রয়েছে, যখন যাকাতের অর্থ গ্রহণের মতো দরিদ্র মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়েছিল।

যাকাত আমাদের শেখায় সম্পদ জমিয়ে রাখা নয়, প্রবাহিত করাই বরকতের পথ। সুদভিত্তিক অর্থনীতি যেখানে সম্পদকে কেন্দ্রীভূত করে, সেখানে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি সম্পদকে বণ্টিত করে। কুরআনে বলা হয়েছে, অর্থ: “আল্লাহ সুদ ধ্বংস করেন এবং দান বৃদ্ধি করেন।” সূরা বাকারা: ২৭৬

এই আয়াতের বার্তা স্পষ্ট যা বাহ্যত কমে যায় (দান), বাস্তবে তা বৃদ্ধি পায়; আর যা বাহ্যত বাড়ে (সুদ), তা শেষ পর্যন্ত ধ্বংসের দিকে যায়।

সবশেষে বলা যায়, যাকাত কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি গরিবের অধিকার। এটি ইসলামী সভ্যতার সামাজিক চুক্তি। ব্যক্তি যদি নিষ্ঠার সঙ্গে যাকাত আদায় করে এবং সমাজ যদি তা সুশৃঙ্খলভাবে বণ্টন করে, তবে দারিদ্র্য, হিংসা ও বৈষম্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।

যাকাত আমাদের মনে করিয়ে দেয় সম্পদের প্রকৃত নিরাপত্তা ব্যাংকের ভল্টে নয়; আল্লাহর পথে ব্যয়ে। ব্যক্তি পরিশুদ্ধ হয়, সমাজ শক্তিশালী হয়, আর অর্থনীতি পায় ন্যায়ভিত্তিক ভিত্তি।


পারিবারিক অপরাধ: কারণ, সংকট ও সমাধান

হাফেজ ফয়সাল আহমাদ

পেশ ইমাম, মুহুরীপাড়া জামে মসজিদ, পশ্চিম সৈয়দপুর, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।

পরিবার মানবসমাজের প্রাথমিক ও মৌলিক প্রতিষ্ঠান। মানুষ জন্মের পর যে প্রথম পরিবেশে ভালোবাসা, নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা পায়, তা পরিবার থেকেই। একটি শিশুর ভাষা, চরিত্র, বিশ্বাস, আত্মপরিচয় সবকিছুর ভিত গড়ে ওঠে পারিবারিক পরিমণ্ডলে। তাই পরিবার সুস্থ থাকলে সমাজ সুস্থ থাকে; পরিবারে ভাঙন ধরলে তার অভিঘাত ছড়িয়ে পড়ে রাষ্ট্রজীবনের গভীর পর্যন্ত। বর্তমান সময়ে পারিবারিক অপরাধের বিস্তার আমাদের সেই মৌলিক কাঠামোকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

পারিবারিক অপরাধ বলতে শুধু শারীরিক সহিংসতাকে বোঝালে ভুল হবে। এর মধ্যে রয়েছে মানসিক নির্যাতন, দাম্পত্য কলহ, পরকীয়া, যৌতুকজনিত নির্যাতন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, সন্তানের প্রতি অবহেলা, বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ, মাদকাসক্তির প্রভাবে সহিংসতা, এমনকি পরিকল্পিত হত্যা পর্যন্ত। যে ঘর একসময় আশ্রয় ও আস্থার প্রতীক ছিল, সেই ঘরই কখনো হয়ে উঠছে অনিরাপত্তা ও আতঙ্কের স্থান। এই বাস্তবতা কেবল সামাজিক সমস্যা নয়; এটি নৈতিক অবক্ষয়ের গভীর সংকেত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, অর্থ: “শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পর তোমরা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না।”
সূরা আ‘রাফ: ৫৬

এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা কেবল রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়; ব্যক্তি ও পরিবার থেকেই তা শুরু হয়। পরিবারে যখন ন্যায়, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়া অবশ্যম্ভাবী।

দাম্পত্য সম্পর্ক পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও বিশ্বাস না থাকলে পরিবারের ভিত নড়ে যায়। সন্দেহ, অবিশ্বাস ও আত্মকেন্দ্রিকতা সম্পর্ককে ভেঙে দেয়। পরকীয়া এই ভাঙনকে ত্বরান্বিত করে। এটি কেবল একটি অবৈধ সম্পর্ক নয়; এটি বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক আঘাত এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তোলার একটি পথ। অনেক সময় পরকীয়া দাম্পত্য সহিংসতা, আত্মহত্যা বা হত্যার মতো চরম পরিণতির জন্ম দেয়।

আল্লাহ বলেন, অর্থ: “তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না; নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট পথ।” কুরআনুল কারীম, সূরা বনী ইসরাঈল: ৩২

এই নির্দেশের গভীরতা হলো অপরাধের দিকে নিয়ে যায় এমন সব পথও পরিহার করতে হবে। অর্থাৎ নৈতিক নিয়ন্ত্রণের শুরু হতে হবে অন্তর ও চিন্তার স্তর থেকেই।

যৌতুকপ্রথা পারিবারিক অপরাধের এক নির্মম রূপ। অর্থের লোভে কত নারী নির্যাতিত হচ্ছে, কত সংসার ভেঙে যাচ্ছে তার সঠিক পরিসংখ্যানও অনেক সময় অজানা থেকে যায়। একইভাবে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ বহু পরিবারে বিভাজন ও সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে। ভাইয়ে ভাইয়ে, সন্তান ও পিতা-মাতার মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে সামান্য সম্পদের জন্য। অর্থ যখন মানবিকতার ওপর প্রাধান্য পায়, তখন পরিবারে শান্তি টেকে না।

মাদকাসক্তি পারিবারিক সহিংসতার আরেকটি বড় কারণ। নেশা মানুষের বিবেককে দুর্বল করে, আত্মসংযম নষ্ট করে এবং ক্রোধকে উসকে দেয়। ফলে সামান্য বিরোধও বড় সহিংসতায় রূপ নেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বলেছেন, “যে বস্তু জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ করে তা নিষিদ্ধ।” সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৬৮১

এই নির্দেশনা শুধু ধর্মীয় বিধান নয়; এটি সামাজিক স্থিতিশীলতার এক মৌলিক নীতি। যে জিনিস মানুষকে বিবেকহীন করে তোলে, তা পরিবার ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর।

পারিবারিক অপরাধের পেছনে নৈতিক শিক্ষার ঘাটতিও বড় কারণ। আধুনিক শিক্ষা মানুষকে দক্ষ করছে, কিন্তু সবসময় নৈতিকভাবে পরিপক্ব করছে না। সন্তানরা প্রযুক্তিতে দক্ষ হলেও সহনশীলতা, দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধাবোধে দুর্বল হয়ে পড়ছে। পরিবারে যদি নিয়মিত নৈতিক চর্চা না থাকে, তবে বাহ্যিক প্রলোভন সহজেই তাদের প্রভাবিত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারও অনেক সময় অবৈধ সম্পর্ক, মানসিক নির্যাতন ও পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিচারহীনতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। যখন অপরাধ করে পার পাওয়া যায়, তখন অপরাধের সাহস বাড়ে। আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ, সামাজিক প্রতিবাদ ও নৈতিক জবাবদিহিতা না থাকলে পারিবারিক অপরাধ প্রতিরোধ কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। প্রতিকার সম্ভব যদি পরিবার থেকেই পরিবর্তন শুরু হয়। দাম্পত্য জীবনে সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ জোরদার করতে হবে। সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। যৌতুক ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অপরাধী শাস্তি পায় এবং নির্যাতিত ব্যক্তি নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পায়।

সবচেয়ে বড় কথা, পরিবারে আল্লাহভীতি ও জবাবদিহিতার চেতনা জাগ্রত করতে হবে। মানুষ যদি বিশ্বাস করে যে তার প্রতিটি কাজের হিসাব একদিন দিতে হবে, তবে সে অন্যায়ের আগে থেমে যায়। এই আত্মসংযমই পরিবারকে রক্ষা করতে পারে।

পরিবার কোনো সাধারণ সামাজিক কাঠামো নয়; এটি মানবসভ্যতার ভিত্তি। এই ভিত্তি দুর্বল হলে সমাজে অস্থিরতা বাড়বে, সহিংসতা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানসিক ক্ষতের বোঝা বহন করবে। তাই পারিবারিক অপরাধ প্রতিরোধ কেবল আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি নৈতিক পুনর্জাগরণ, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতার সম্মিলিত প্রয়াস। পরিবারকে রক্ষা করা মানে ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা এ সত্য আমাদের গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন