https://www.prothomalony.com/

16260

bangladesh

বাংলাদেশ

দুর্নীতির দায়ে বদলি হওয়া সেই জামাল ফের চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনে

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০৩:৫৭

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নাজির পদে টানা ছয় বছর দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দুর্নীতির অভিযোগে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বদলি হওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই তাকে আবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে—যা নিয়ে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনা চলছে।

জানা গেছে, ১৪তম গ্রেডের এই কর্মচারীর মাসিক বেতন প্রায় ৩০ হাজার টাকা হলেও তিনি নগরের কোর্ট রোড এলাকায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ডাবল ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। দুদকের একাধিক তদন্তে তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরকারি চাকরিবিধি উপেক্ষা করে জেলা প্রশাসনে তিনি দীর্ঘদিন ‘অলিখিত ডিসি’ হিসেবে প্রভাব বিস্তার করেছেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের আদেশে জেলা প্রশাসনের তিন কর্মচারীকে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বদলি করা হয়। এর মধ্যে নাজির মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনকে নোয়াখালীর কবিরহাটে পাঠানো হয়। একই আদেশে সার্টিফিকেট শাখার উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাশ ও অফিস সহকারী মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরীকেও পৃথক জেলায় বদলি করা হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের আমলে দুই মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় জামাল উদ্দিন দাপটের সঙ্গে নানা অনিয়ম চালান। ভূমি অধিগ্রহণ, নিয়োগ-বদলি, ইজারা-লিজ ও তহসিলদার বদলিতে ঘুষ বাণিজ্য ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। জুলাই আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ কর্মীদের আর্থিক সহায়তা ও খাবার সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

দুদকে জমা দেওয়া এক অভিযোগে বলা হয়েছে, জামাল উদ্দিন ও তার পরিবারের নামে-বেনামে বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। কর রিটার্নে তিনি সীমিত সম্পদের তথ্য দিলেও বাস্তবে সম্পদের পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি বলে অভিযোগ। সম্প্রতি আটজন আইনজীবী দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, ব্যাংক হিসাব জব্দ, বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে সহকর্মীদের অভিযোগ, কর্মকর্তা না হয়েও জামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন কর্মকর্তা সুলভ আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন। নতুন সরকার আসার পরও তার পুনর্বহাল প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন