https://www.prothomalony.com/
16205
literature
বিদায় রাজনীতি
খ্রীষ্টফার পিউরীফিকেশন
রাজনীতির দুর্বোধ্যপাঠ জট বেঁধে আছে আমার পাঠকক্ষের
আটপৌরে ঘেরাটোপে। কী এক জটিল আবর্তে নিমজ্জিত হয়ে আছি!
স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়েই আমি একজন সচেতন, রাজনীতির নিবিষ্ট পাঠক হতে চেয়েছি। কিন্তু তা পারিনি। রাজনীতির ওই লেবাসটা, বড্ড অস্বস্তিকরই মনে হয়েছে আমার মননে।
এই যেমন খাঁটি সুতাছাড়া, অন্য কিছু গায়ে জড়াতে পারি
না আমি। বুঝে নিয়েছি, ওসব আর হবে না আমাকে দিয়ে!
মহামতি এরিস্টটল কী অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেছিলেন, 'মানুষ মাত্রই রাজনীতিক।'
বুঝি না। হয়তো তাই। হয়তো আমিই একমাত্র ব্যতিক্রম।
আমি একা ঝুলে রয়েছি, রাজনীতির মহাশূন্যে! আমিতো কোনো রাজনীতিই বুঝি না। একেবারেই না! এত জটিল বিষয়, মাথায় ঢোকেই না আমার।
যতবারই ভাবি, এবার নির্বাচন করবো। করবোই। কিন্তু তা হয়নি। সাধনা করেও পারিনি। পারবো না এই এক জীবনে, এটাই পরীক্ষিত সত্য। তাই ইচ্ছে আমার, ওপারে এরিস্টটলের দ্বারস্থ হবো।
পরিশেষে স্থির করেছি, কার্যত নিজেকে ঝেড়ে এবার এই ঝঞ্ঝাটে আবহ থেকে চিরদিনের জন্যই সরে যাবো আমি। আর নয় বৃথা চেষ্টা! এত অধ্যয়ন!
রাজনীতি করে যারা মানুষ, দেশ, তাবৎ দুনিয়ার সেবা করে যারা, করুক তারা। তা আমাকে দিয়ে হবে না। কখনো না! হায় আমার রাজনৈতিক-মানবজীবন! বিদায়!
জীবন দৃশ্যত ধাঁধা
মুহাম্মদ রফিক ইসলাম
পুতুল নাচের ঘটনায় আগ্রহ নেই।
সার্কাস দেখায় অভ্যস্ত যার, তার পালানো স্বভাব;
একাকিত্বের কোলাহল মুছে দিতে পারে না কেউ।
জীবন দৃশ্যত ধাঁধা উত্তর পত্রের শাদা বুক।
গলা অবধি টেকানো মুখস্ত সংলাপ গিলে খাওয়া
অথবা বদহজমের বমিতেও ধৈর্য নেই;
যদি আঙুল ভুল করে সমীকরণ, হিসেব-নিকেশ
তবে লিপিবদ্ধ খতিয়ানেও ভুল থেকে যায়!
পৃষ্ঠা উল্টানো থেকে উঠে যাওয়া মনোযোগ
ঘরে ফেরে না আর...
না-দেখা পর্যন্তই মানুষ সুন্দর,
আমি না-হয় প্রশ্নবোধক বিস্ময় রয়ে গেলাম!
আলোক রশ্মি হেঁটে যায়
আ ই না ল হ ক
একমুঠো আলো নিঃশব্দে হেঁটে যায় বুকের ভেতর
চেতনায় ঢিল ছুড়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিবেক
তবুও হাভাতের মতো সে পথেই তাকিয়ে থাকি
মিষ্টি রোদ দৃষ্টি কেড়ে নেয়
মেরুন ভালোবাসা দু'হাত ভরে অবহেলা দেয়
রক্তজবার রঙিন স্বপ্ন আর
আকাশ সমান সজীব প্রত্যাশার সরল রাস্তা দেখিয়ে
হারিয়ে গেল যে মানবী, সে রাস্তায় আশীর্বাদ নামুক
হৃদয়ের কুঞ্জবনে গড়ে উঠুক মানুষের প্রতি ভালোবাসা।
শব্দের ভেতর শব্দ
জাকির সেতু
অবসর বিকেলে হাতের ভেতর বন্দি শব্দেরা হঠাৎ নড়ে উঠল, যেন দীর্ঘ নীরবতার পর তাদের অস্তিত্ব দাবি করল নিজের ভাষায়।
কেউ দিগন্তজোড়া আকাশ হতে চাইল-অসীমের ভার
বয়ে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষায়-কেউবা ধানক্ষেত নিঃশব্দে!
আমি তাদের ভাঙা উচ্চারণ শুনতে পেলাম অরণ্যের
গহনে, নদীর গভীর স্মৃতিস্তরে,
যেখানে শব্দেরাও নিজের মানে খুঁজে ফেরে।
প্রতিটি শব্দ তখন স্বীকারোক্তিতে ব্যস্ত। আর আমি অক্ষম এক শ্রোতা শুধুমাত্র নিবারণ করতে পারিনি সেই ভাষার স্তব্ধতা-দীর্ঘকাল ধরে অসংখ্য শব্দের দ্বন্দ্বে।
আমি গড়ে তুলেছি যৌবনের রসদ একাকিত্ব থেকে, পরিত্রাণের আশায় বিরহের সঙ্গে করেছি গোপন সন্ধি তবুও যেন শব্দেরা নিশ্চুপ থাকে-
আমার হাহাকার বুকে শব্দেরা চুমুক দেয় নিঃশব্দে;
অজস্র বছর নিরবতা নিয়ে।

যে মানুষটি সুরে প্রাণ ঢেলে দিতেন—ওস্তাদ পি. সি. গোমেজ
রকি গৌড়ি
বাংলা সংগীতের ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যাদের পরিচয় মহানদের মতো নীরব, তবু গভীর; সহজ, তবু বিরল। ওস্তাদ পি. সি.গোমেজ ঠিক তেমনই এক বিস্ময়—যিনি সুরকে কেবল নোটের সমাহার হিসেবে দেখেননি। তিনি দেখেছেন মানুষ, আবেগ, যন্ত্রণা, মুক্তি এবং আলো। শাস্ত্রীয় সংগীতের কঠিন নিয়মাবলি তিনি আত্মস্থ করেছিলেন ঠোঁটের ভঙ্গিমায় নয়, ধ্যানে। তাঁর রাগের আলাপ হতো ধীর নদীর মতো—প্রথমে নীরব, তারপর ধাপে ধাপে হাজারো তরঙ্গের উল্লাসে পরিপূর্ণ। প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সংগীতশিল্পী ওস্তাদ পি. সি. গোমেজ বাংলাদেশের উচ্চাঙ্গ সংগীতের এক অভিভাবকতুল্য শিক্ষক ছিলেন। শুদ্ধ সংগীতকলা চর্চার লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে তাঁর রচিত 'রাগ রঙ্গ বিলাসিনী' নামের একটি বই প্রকাশিত হয়। তৎকালীন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, সুরকার ও সংগীতশিল্পী আজাদ রহমান বইটি সম্পর্কে লিখেছিলেন—
"সম্প্রতি ওস্তাদ গোমেজ দেশীয় শুদ্ধ সংগীতের ওপর তাঁর সারা জীবনের অভিজ্ঞতার সার-সংকলন করে এই বইটি রচনা করেছেন। এতে রচিত অধ্যায়গুলো যেমন সংগীত শিক্ষার্থীকে সহজভাবে রাগ-সংগীতের বিচিত্র পটভূমিতে বিচরণ করার অনুপ্রেরণা যোগাবে, তেমনি পরিণত শিল্পীকেও শুদ্ধ সংগীতের তাত্ত্বিক দিকগুলো উপলব্ধি করার আনন্দ দান করবে।"
বইটি সংগীতচর্চায় ব্যাপক সাড়া ফেলে। ওস্তাদের অনেক শিষ্য সংগীতচর্চা ধরে রেখেছেন, অনেকেই হয়েছেন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী। এভাবেই বাংলাদেশের সংগীতের দৃঢ় ভিত্তি স্থাপনে ওস্তাদ পি. সি. গোমেজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওস্তাদ পি. সি. গোমেজ (পাস্কাল চার্লস গোমেজ) নামটি বর্তমানে উচ্চাঙ্গ সংগীতের বয়োজ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কাছে সুপরিচিত। উচ্চাঙ্গ সংগীতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র ১৯০৪ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত বক্সনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা যোসেফ গোমেজ ও মা আন্তানিয়া গোমেজ—উভয়ই ছিলেন সংগীত অনুরাগী। তিনি ছিলেন তাঁদের একমাত্র সন্তান। তাঁর ঠাকুরদাদা ভিনসেন্ট গোমেজ দেহতাত্ত্বিক গান গাইতেন।
ওস্তাদ পি. সি. গোমেজের পূর্বপুরুষ একসময় দোহার উপজেলার মালিকান্দা, পদ্মার পাড়ে বসবাস করতেন। প্রায় ২০০ বছর আগে তাঁর ঠাকুরদাদা আঠারো গ্রামে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেই ঠাকুরদাদার তিন ছেলের একজন যোসেফ গোমেজের ঘরেই জন্ম নেন পি.সি. গোমেজ।
'The Oxford Encyclopedia of the Music of India'-তে তাঁকে সংক্ষেপে পি. সি. গোমেজ নামে একজন প্রখ্যাত ওস্তাদ ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি শুধু ওস্তাদই নন, ছিলেন এক অনুপম শিক্ষকও। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন,
"ওস্তাদ ছিলেন আমার আপনজনের চেয়েও বেশি। সংগীত সাধনায় তিনি ছিলেন এক নিষ্ঠাবান সাধক এবং একজন মাটির মানুষ।"
কিংবদন্তি শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী তাঁর 'জীবনের গান' বইতে লিখেছেন—
"ওস্তাদের কাছ থেকে কিছু নিতে হলে যে ধৈর্য ও অধ্যবসায় প্রয়োজন, তা হয়তো আমার ছিল না। শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে ওস্তাদ পি. সি. গোমেজ ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক ও নিবেদিতপ্রাণ। নিলুফার ইয়াসমিন, সাবিনা ইয়াসমিনসহ বহু শিল্পী তাঁর কাছে তালিম নিয়েছেন। আমিও তাঁর কাছে কিছুদিন তালিম নিয়েছি। তিনি নিজে বাসায় এসে আমাকে শেখাতেন। কোনো দিন সময়ের অভাবে শিখতে না চাইলে অন্তত দশ মিনিট হলেও তিনি জোর করে বসিয়ে শেখাতেন। এমন নিষ্ঠাবান সংগীত শিক্ষক সত্যিই বিরল।"
জীবনের শেষ দিনগুলো এই ধীর-স্থির ও স্বল্পভাষী সুরসাধকের জন্য সুখকর ছিল না। আঠারো গ্রাম অঞ্চলে মানুষ কখনোই তাঁর যথাযথ সম্মান বা মূল্যায়ন করেনি, অথচ সে সময় তিনি ছিলেন সংগীতজগতের এক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। মৃত্যুর আগে তিনি অসহায়ের মতো জীবন কাটিয়েছেন।
সংগীতে জীবন উৎসর্গ করা এই মহান ব্যক্তি যেন নিজেকে খুঁজে পেয়েছিলেন ধু-ধু মরুপ্রান্তরে চিরপিপাসিত এক বৃদ্ধ পাখির মতো। কোথাও যেন তাঁর কেউ ছিল না-ভালোবাসা ছিল না, যত্ন ছিল না; এমনকি আজীবন সাধনার ন্যূনতম স্বীকৃতিও নয়। তবু তাঁর সুরসাধনায় তিনি সিদ্ধিলাভ করেছিলেন—তার প্রমাণ তাঁর শিষ্যরাই।
তাঁর শিষ্যদের মধ্যে রয়েছেন—সাবিনা ইয়াসমিন, ফরিদা ইয়াসমিন, সৈয়দ আব্দুল হাদী, নিলুফার ইয়াসমিন, রথীন্দ্রনাথ রায়, সুবীর নন্দী, যোসেফ কমল রড্রিক্স, নাশিদ কামাল, ইলা মজুমদার, পাপিয়া সারোয়ার, শাহনাজ রহমতুল্লাহ, শম্পা রেজা, স্বপ্না রায়, বাসন্তী গোমেজ, নায়করাজ রাজ্জাকসহ আরও অনেকে। যাঁরা সংগীতচর্চা ধরে রেখেছেন, তাঁদের প্রায় সবাই জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত ও কিংবদন্তি শিল্পী হিসেবে স্বীকৃত।
ওস্তাদ পি. সি. গোমেজ রয়ে গেলেন পর্দার আড়ালেই। জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে শয্যাশায়ী অবস্থায় কাটান। এই মহান সুরসাধক ১৯৮৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন।
স্মৃতির বারান্দা: যেখানে শৈশব আজও নিশ্বাস নেয়
মাহমুদ হাসান সজীব
শৈশব কোনো নির্দিষ্ট বয়সের নাম নয়। শৈশব হলো সেই এক টুকরো আলো—যা জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার রাতেও হঠাৎ করে জ্বলে ওঠে।চোখ বন্ধ করলেই যার গন্ধ পাওয়া যায়, যার শব্দ শোনা যায়, অথচ ছুঁতে গেলে ধরা দেয় না।
স্মৃতির ধূসর পাতাগুলো উল্টালে আজও ভেসে ওঠে টিনের চালের ঘর, কিংবা পুরোনো দালানের সেই চেনা বারান্দা—যেখানে বিকেলের রোদ আর ছায়া লুকোচুরি খেলত। তখন আমরা জানতাম না 'নস্টালজিয়া' শব্দটার মানে কী, কিন্তু অনুভব করতাম—এই মুহূর্তগুলো কোনোদিন হারিয়ে যাবে না। অথচ আজ বুঝি, সেগুলিই সবচেয়ে বেশি হারিয়ে গেছে।
আমাদের শৈশবটা ছিল আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে একটু দূরে, মাটির খুব কাছাকাছি। সেখানে ছিল ঘাম, ধুলো, রোদ—আর ছিল অফুরন্ত কল্পনা। দুপুরবেলার সেই নিষিদ্ধ অভিযান, দুপুর মানেই ছিল আমাদের গোপন রাজ্য।
মা যখন ভাত খেয়ে গভীর ঘুমে, তখন শুরু হতো আমাদের আসল জীবন। নিঃশব্দে খিল ঘোরানো, পা টিপে বেরিয়ে পড়া—এই ছিল প্রথম অ্যাডভেঞ্চার। রোদের তেজ তখন আর গায়ে লাগত না, কারণ বয়সের চোখে রোদও ছিল বন্ধু। পাড়ার সেই বড় পুকুর, পুরোনো জামগাছ, কিংবা মাঠের এক কোণ—সবকিছুই ছিল আমাদের নিজস্ব রাজ্য। পকেটে থাকত দু'একটা তেঁতুলের বিচি, কখনো ভাঙা কাঁচের টুকরো। আজ হাস্যকর লাগলেও তখন ওগুলো ছিল গুপ্তধনের মতো দামী।
আজ যখন এসির ঠাণ্ডায় শুয়ে ঘামে ভেজা সেই দুপুরগুলোর কথা ভাবি, বুকের ভেতর কোথাও যেন হাহাকার করে ওঠে। তখন তো ক্লান্তি ছিল, কিন্তু বিরক্তি ছিল না। আজ আরাম আছে, কিন্তু শান্তি নেই। বৃষ্টির গান ও কাগজের নৌবহর শৈশবের বৃষ্টি ছিল আলাদা। মেঘ জমলেই মনটা কেমন জানি উড়তে চাইত। জানলার ধারে বসে বৃষ্টির শব্দ শোনা—সে এক আলাদা সুখ। পড়াশোনা তখন হঠাৎ করেই গুরুত্ব হারাত, আর খাতার পাতা হয়ে উঠত নৌকা। একটার পর একটা কাগজের নৌকা বানিয়ে উঠোনের জলে ভাসানো... মনে হতো আমরা কোনো অভিযানে বেরিয়েছি। প্রতিটা নৌকাই যেন একেকটা স্বপ্ন। জল থেমে গেলে নৌকাগুলো ডুবে যেত—আর আমাদের মনটাও একটু করে ভারী হয়ে উঠত।
বৃষ্টির দিনে খিচুড়ির গন্ধ, ইলিশ ভাজার আওয়াজ, আর মা, দাদি, জেঠিদের মুখে শোনা গল্প—এসব মিলেই তো ছিল আমাদের আসল বিলাসিতা।
তখন বন্ধুত্বের কোনো সংজ্ঞা ছিল না। ছিল শুধু ডাক দিলেই ছুটে আসা কয়েকটা মুখ। কোনো ফোন ছিল না, কোনো নোটিফিকেশনও না। বিকেলের রোদে দাঁড়িয়ে জোরে নাম ধরলেই বন্ধুরা হাজির। লুকোচুরি, গোল্লাছুট, মার্বেল—এই খেলাগুলোতে হার-জিতের চেয়ে বড় ছিল একসাথে থাকার আনন্দ।
সূর্য যখন লাল হয়ে পশ্চিমে ডুবত, তখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাড়ি ফেরার সেই পথ—আজও মনে পড়লে বুকের ভেতর কেমন একটা উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধুদের সাথে ঝগড়া, অভিমান, আবার ঠিক হয়ে যাওয়া—সবই ছিল খুব সহজ, খুব সত্যি।
আজ আমরা সবাই 'বড়' হয়ে গেছি। হাতে দামি ঘড়ি, পায়ে দামী জুতো, মাথায় হাজারো দায়িত্ব। কিন্তু সময় নেই।
শৈশবে ঘড়ি ছিল না, তবু সময় ফুরাত না। অভাব ছিল, কিন্তু অভিযোগ ছিল না। এক টাকার আইসক্রিম, মেলার বাঁশি, কিংবা নতুন রঙের মার্বেল—এই ছিল আমাদের সুখের সংজ্ঞা।
আজ শিশুরা হাতে ট্যাব, চোখে স্ক্রিন নিয়ে বড় হচ্ছে। ওরা কি জানবে মাটির গন্ধ? ওরা কি বুঝবে বৃষ্টির প্রথম ফোঁটার শিহরণ? ওরা কি কখনো বিকেলের আলো ফুরিয়ে যাওয়ার কষ্টটা অনুভব করবে? শৈশব আসলে হারায় না। ওটা আমাদের ভেতরের কোথাও জমে থাকে—ধুলো পড়া এক স্মৃতির বারান্দায়। মাঝেমধ্যে খুব নিঃশব্দ কোনো সন্ধ্যায়, যখন জীবন হঠাৎ থেমে যায়—তখন সেই বারান্দা থেকে কেউ একজন ডেকে ওঠে, "এই... খেলতে আসবি না?"
আর আমরা বুঝে যাই—শৈশব আজও আমাদের ভেতরেই বেঁচে আছে।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন