https://www.prothomalony.com/

16189

literature

সাহিত্য

শিল্পঘর

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০৫:৩৭

ভাস্কর্য শুধু জড় উপাদানের শৈল্পিক বিন্যাস নয়, বরং এটি ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সমসাময়িক স্পন্দনের এক জীবন্ত দলিল। পাথর, মাটি কিংবা ধাতুর কঠোরতায় যখন দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর উচ্চতার ত্রিমাত্রিক রূপ ফুটে ওঠে, তখন তা হয়ে ওঠে আমাদের আবেগ আর চেতনার গভীর প্রতিচ্ছবি। প্রস্তর যুগ থেকে আজ অবধি সভ্যতার পরতে পরতে ভাস্কর্য মিশে আছে মানুষের যাপিত জীবন আর রাজনৈতিক বিবর্তনের সাক্ষী হয়ে। আজ 'শিল্পঘর'-এর আয়োজনে আমরা তুলে ধরব এমন একজন শিল্পীর গল্প, যার হাতের ছোঁয়ায় পাথর কথা বলে, যার ভাবনার অনুরণন আমাদের মুগ্ধ করে। প্রিয় সুহৃদ, আশা করি 'শিল্পঘর'-এর আজকের এই বিশেষ মূল্যায়ন আপনাদের ভালো লাগবে।

ধন‍্যবাদান্তে-রোকেয়া দীপা

ভাস্কর্য শিল্পী কাউসার পারভিন চৌধুরীর গল্প

কাউসার পারভিন চৌধুরী প্রবাসের যান্ত্রিক জীবনের মাঝেও আপন নিপুণ শৈলীতে ফুটিয়ে তোলেন বাংলার মাটি ও মানুষের অদম্য সংগ্রামের আখ্যান। তাঁর প্রতিটি ভাস্কর্য যেন বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং শিকড়ের টানে গড়ে তোলা এক একটি ত্রিমাত্রিক মহাকাব্য। কাদা-মাটি আর রেজিন এর কঠোরতায় তিনি সঞ্চার করেন প্রাণের স্পন্দন, যা বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের চেতনা ও সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতিনিধি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ভাস্কর্য শিল্পী কাউসার পারভিন চৌধুরীর শিল্পচর্চার সূচনা হয়েছিল খুব অল্প বয়সে। মায়ের রুমাল ও টেবিলক্লথে ফুল, পাখি, লতা-পাতা এঁকে দেওয়ার মধ্য দিয়েই ঘরের ভেতরে তাঁর শৈল্পিক যাত্রার প্রথম বীজ রোপিত হয়। শিল্পবোধ তাঁর কাছে কোনো বাহ্যিক অর্জন নয়, বরং চেতনা ও মস্তিষ্কে গড়ে ওঠা এক অন্তর্গত অনুভব। তবে, 

প্রবাসে আসার ফলে তাঁর শিল্পচেতনায় কোনো বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়নি। বরং দেশ ছাড়ার বেদনা, শিকড় থেকে বিচ্ছিন্নতার যন্ত্রণা, পরিচয়ের সংকট, এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁর শিল্পকে আরও তীক্ষ্ণ ও গভীর করেছে। প্রবাস তাঁর শিল্পবোধ বদলায়নি, বরং নতুন স্তর যোগ করেছে।

কাউসার পারভিন চৌধুরী জানান, মানুষ এবং মানুষের জীবনসংগ্রামই তাঁর কাজের মূল অনুপ্রেরণা। নতুন দেশ, নতুন সমাজ ও নতুন সংস্কৃতি তাঁকে ভাবনার ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। প্রবাসজীবনের সংগ্রাম, স্বাধীনতা, একাকিত্ব ও নতুন অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, ভাস্কর্য কেবল নান্দনিকতার বিষয় নয়; এর ভেতরে মানুষের যন্ত্রণা, আশা, সংগ্রাম ও অধিকারবোধ গভীরভাবে জায়গা করে নেয়। 

বিশেষ করে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে করা কাজগুলো প্রবাসে বসেই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। যদিও তিনি প্রবাসে অবস্থান করছেন, তাঁর শিকড় বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগ-সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বাংলাদেশের মাটি ও সংস্কৃতি তাঁর হৃদয়ে গেঁথে আছে এবং তাঁর শিল্পে তা স্পষ্টভাবে উপস্থিত।

বৈশ্বিক শিল্পচর্চার পথ কখনো সহজ নয়। একজন শিল্পীর জীবন ও অভিজ্ঞতা, তার চারপাশের সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি, প্রকৃতি এবং আত্মিক চেতনা-সব মিলিয়েই গঠিত হয় তার শিল্পভুবন। নতুন দেশের পরিবেশ, স্থাপত্য ও জীবনযাত্রা তাঁর শিল্পে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনেছে। আধুনিক স্থাপত্য, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং মুক্ত চিন্তার আবহ তাঁর কাজকে আরও সমকালীন করেছে, আরও সাহসী ও বিস্তৃত করেছে। 

আমেরিকার মতো উন্নত দেশে পৃথিবীর প্রায় সব ধরনের ম্যাটেরিয়াল সহজলভ্য। যে কোনো সময় পছন্দমতো উপকরণ ব্যবহার করার স্বাধীনতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ভিন্ন ভিন্ন ম্যাটেরিয়াল নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনাও আছে। তিনি জানান, বর্তমানে তিনি মাটি, প্লাস্টার অব প্যারিস, সিলিকন ও রেজিন ব্যবহার করে কাজ করছেন।

তবে তিনি বলেন, "কাঁচামাল বা সরঞ্জাম সংগ্রহের দিক থেকে তেমন সমস্যা না থাকলেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জায়গার অভাব। স্টুডিও ভাড়া করতে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ৭০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হয় এবং সেখানে দৈনিক মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ মেলে। এই সময় ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা কাজের জন্য বড় প্রতিবন্ধক।" 

তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, যদি পর্যাপ্ত জায়গা ও সময় পেতেন, তবে আমেরিকা এমন কিছু শিল্পকর্ম পেত যা হয়তো শত বছর না হলেও অন্তত দশ বছর মানুষের স্মৃতিতে থাকত।

তিনি কোনো মডেলের অনুকরণ করেন না। তাঁর কাজের প্রস্তুতি কাগজে নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও অন্তর্দৃষ্টির ভেতরেই তৈরি হয়। একটি চরিত্র বা গল্পকে জীবন্ত করে তোলাই তাঁর উদ্দেশ্য বলে জানান। 

কাউসার পারভিন চৌধুরীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি কখনো বিমূর্ত কাজ করেন না। শুধু নিজের অনুভূতি প্রকাশেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, নিজের অনুভূতিকে গণমানুষের অনুভূতিতে রূপান্তর করেন। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ভাষাভাষী নির্বিশেষে সবাই যেন তাঁর কাজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে, এটাই তাঁর লক্ষ্য। তাঁর বিশ্বাস, পৃথিবীর মানুষের ভাষা আলাদা হলেও হাসি আর কান্নার কোনো ভিন্নতা নেই। তাই তাঁর কাজ দেখেও মানুষ হাসবে, কাঁদবে।

তিনি জানান, আমেরিকার গ্যালারি, প্রদর্শনী ও ওয়ার্কশপে তাঁর কাজগুলো শিল্পী ও দর্শকরা গভীর মনোযোগ ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করেন। তাঁরা শুধু ভাস্কর্যের আকার বা কারিগরি দক্ষতা নয়, বরং কাজের ভেতরের মানবিক অনুভূতি, ইতিহাস ও সামাজিক বার্তাকেও গুরুত্ব দেন। অনেকে তাঁর কাজের গল্প জানতে চান, প্রশ্ন করেন। তাঁর কাজ দর্শকদের হৃদয় আন্দোলিত করে। এই গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে আরও দায়িত্বশীল ও সাহসী করে তুলেছে।

একজন প্রবাসী শিল্পী হিসেবে তিনি সাংস্কৃতিক দূরত্বের মুখোমুখি হয়েছেন, তবে তা কখনো তাঁকে সীমাবদ্ধ করেনি। বরং নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। 

তিনি বলেন, "ভাষা, ইতিহাস ও সামাজিক অভিজ্ঞতার পার্থক্য শুরুতে কিছু দূরত্ব তৈরি করলেও শিল্পের ভাষা সেই ব্যবধান দ্রুত ভেঙে দিয়েছে।" 

নিজ দেশের স্মৃতি ও সংগ্রাম ও মানবিক অভিজ্ঞতা 

তাঁর কাজের ভেতরে থাকলেও সেগুলো সার্বজনীন অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ভিন্ন সংস্কৃতির দর্শকরাও তা নিজেদের গল্প হিসেবে গ্রহণ করেন। এই সাংস্কৃতিক সংযোগে তাঁর শিল্পকে আরও বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে এবং 

এতে করে তিনি একাধিক সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধনের সুযোগ পেয়েছেন।

কাউসার পারভিন চৌধুরী শিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবিক চেতনা, প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চান। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু নদী-ধান -সবুজের দেশ নয়; এটি একই সঙ্গে সংগ্রাম, সাহস, আত্মমর্যাদা ও শিল্প সংস্কৃতির গভীর ঐতিহ্যের দেশ-এই বার্তা ই তার শিল্পের মূল কথা। এবং তিনি তার ভাস্কর্যে তা তুলে ধরতে চান। 

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষের দৃঢ়তা, নারী, শিশুও প্রান্তিক মানুষের নীরব কিন্তু শক্তিশালী প্রতিবাদ ইতিহাসের সেই ক্ষতগুলো-যা ভুলে গেলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়। 

ধর্ম-মানবতা ও নৈতিকতার সম্মিলিত সৌন্দর্য তিনি চান বিশ্ব জানুক। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষ শুধু বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে না, তারা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে ও জানে। তাঁর শিল্প তাই ব্যাক্তিগত নয়; এটি এক ধরনের সাক্ষ্য, দায় ও ভালোবাসার ভাষা-নিজের দেশের প্রতি, মানুষের প্রতি আর মানবতার প্রতি। 

তিনি বলেন, "বাংলাদেশ যে একটি সাহসী জাতি, যারা মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিতে পারে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন তার প্রমাণ। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত বিরল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মানুষ ঘরে ঘরে অস্ত্র তুলে নিয়েছে। ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে মা সন্তানের হাত ধরে রাস্তায় নেমেছে। এই গুলো বাঙালির আত্ম পরিচয়। অস্তিত্ব এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক।" এসব ইতিহাস তিনি শিল্পের মাধ্যমে বিশ্বে তুলে ধরতে চান। 

২৪ শের গণআন্দোলন নিয়ে তার ৬ ফিট উচ্চতার দুটি সংযুক্ত ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন। সেখানে তাঁর গল্পটা ছিল-

"একজন ছাত্রকে গুলি করলে হাজারজন ছাত্র বুক পেতে দেয়/ একজনকে গুলি করলে অন্যজন তাকে ছেড়ে পালায় না।" দেশের জন্য প্রাণ দেওয়ার শেষ মুহূর্তের বাণীটি ছিল-"আমার দেশটা তোদের দিয়ে গেলাম, দেখিস!" 

এই অনুভূতি, এই উপলব্ধি, এই ইতিহাস ও চেতনাই তিনি তাঁর শিল্পের মাধ্যমে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চান

শিকড় ছেড়ে অচেনা মাটিতে যখন একজন শিল্পী দাঁড়ান, তখন তাঁর শিল্পকর্মের আগে লড়তে হয় নিজের অস্তিত্ব ও পরিচয়ের সংকট নিয়ে; একজন শিল্পী হিসেবে কাউসার পারভিন চৌধুরীর প্রবাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁর নিজের পরিচয় ও কাজের মূল্যকে নতুন সমাজে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। নিজের দেশ, ভাষা ও পরিচিত পরিসর ছেড়ে এসে সবকিছু যেন শূন্য থেকে আবার প্রমাণ করতে হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক দূরত্ব, শিল্পবাজার ও নেটওয়ার্কিংয়ের জটিলতা এবং বড় আকারের ভাস্কর্যের জন্য জায়গা, উপকরণ ও স্টুডিওর ব্যয়বহুল বাস্তবতা।

তিনি মনে করেন, প্রবাসে শিল্পচর্চা কোনো শর্টকাট বিষয় নয়। এটি দীর্ঘ সাধনার পথ। যারা ধৈর্য ধরে নিয়মিত কাজ করে এবং নিজের গল্প সততার সঙ্গে তুলে ধরে, তারাই শেষ পর্যন্ত জায়গা করে নেয়।

কাউসার পারভিন চৌধুরী জানান, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি' তাঁর ৪০টি ভাস্কর্য নিয়ে লাইভ ভিডিও প্রচার করে। এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের মানুষ তাঁর কাজের গল্পের সঙ্গে পরিচিত হয়। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে তাঁর ৫০টি ভাস্কর্য নিয়ে একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যার উদ্বোধন করেন তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী ডা. মোজাম্মেল হোসেন। এছাড়াও ভাষা আন্দোলনের স্মরণে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের  বইমেলাতেও তাঁর উপস্থিতি ছিল। মানুষের গল্প নিয়েই তিনি ভাস্কর্যের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছেছেন।

তাঁর লক্ষ্য কেবল নান্দনিক সৌন্দর্য উপস্থাপন নয়। তিনি চান ভাস্কর্য সংগ্রাম, ইতিহাস, প্রতিবাদ ও মানবিক মর্যাদার কথা বলুক এবং সময়ের সাক্ষী হয়ে থাকুক।

ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করা এবং বিশেষ করে পাবলিক স্পেসে বড় আকারের ভাস্কর্য স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর, যেখানে মানুষের অন্তর্গত অনুভূতির প্রকাশ ঘটবে।

যারা প্রবাসে এসে শিল্পচর্চা, বিশেষ করে ভাস্কর্য নিয়ে কাজ করতে চান, তাঁদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ- "নিজের শিকড় ভুলে যাওয়া যাবেন না। কিন্তু চোখ রাখতে হবে বর্তমানের দিকে। প্রবাসে কাজ করতে গেলে নিজের দেশ, ইতিহাস, স্মৃতি এইসবই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে কাজের ভাষা, উপকরণ, কনসেপ্ট আন্তর্জাতিক দর্শক -এই সমস্ত মাথায় রাখতে হবে। শিকড় আর সমকালের মেলা বন্ধনটাই সবচেয়ে অবশ্যম্ভাবী। শিক্ষা ও ওয়ার্কশপকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। ডিগ্রি থাকুক বা না থাকুক, নিয়মিত ক্লাস, ওয়ার্কশপ ও ওপেন স্টুডিও অত্যন্ত জরুরি।

ছোট কাজ ও মডেল দিয়ে ধীরে ধীরে শুরু করতে হবে। 

উপকরণ ও নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। 

স্টুডিও রুলস ও গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অনুশীলন। শিল্পী কেউ তৈরি করে দিতে পারে না। শিল্পীকে নিজেকেই নিজেকে তৈরি করতে হয়।" 

তাঁর মতে, "শিল্পের কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা নেই। শিল্প মানুষের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও চেতনার প্রকাশ। অনুভূতির কোনো মানচিত্র হয় না। একজন শিল্পী যে দেশ জন্মান, যে ভাষায় ভাবেন -সেটা তাঁর শিল্পকে একটি শিকড় দেয়, কিন্ত সীমানা দেয় না। শিল্প সেই শিকড় নিয়েই অন্য ভূখণ্ডে গিয়ে নতুন আলো, নতুন বাতাসে নতুন অর্থ খুঁজে নেয়। ইতিহাসে দেখা যায়, বাংলার রবীন্দ্রনাথ আজ বিশ্বকবি, ভ্যান গগ নেদারল্যান্ডে জন্মেও ফ্রান্সে শিল্পের ভাষা বদলেছেন, পিকাসো স্পেনে জন্মে ফরাসি শিল্পধারার কেন্দ্র হয়ে উঠেছেন। অর্থাৎ শিল্প সেই শিকড় নিয়েই নতুন ভূখণ্ডে গিয়ে নতুন আলো ও নতুন অর্থ খুঁজে নেয়।" 

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন