https://www.prothomalony.com/

16140

bangladesh

বাংলাদেশ

জরিপে এগিয়ে বিএনপি, সমীকরণ বলছে জামায়াত

জনতার রায় কোনদিকে?

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০২:১৩

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে চলছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত দেশের শহর থেকে গ্রাম। সর্বত্র এখন একটি প্রশ্ন—কে হচ্ছেন দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী? বিপ্লব পরবর্তী সংসদে কোন দলের ওপর আস্থা রাখছেন সাধারণ মানুষ? এছাড়া মানুষের আরও নানা রকম প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টায় এখন চলছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা, জনমত জরিপ। তবে এসব জরিপের ফলাফল যাই আসুক না কেন এবারের নির্বাচন নিয়ে কোনভাবেই আগাম আভাস দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ ১৭ বছরের ব্যবধানে যেমন পাল্টেছে রাজনৈতিক বাস্তবতা, তেমনি পাল্টেছে ভোটারদের প্যাটার্ন।

সম্প্রতি বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং একটি জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালিত ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস) বলছে, ৫২ দশমিক ৮০ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে ভোট দিতে চান। আর জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোটকে ভোট দিতে আগ্রহী ৩১ শতাংশ ভোটার। ইসলামী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন রয়েছে ১ শতাংশ মানুষের। গণভোটে ৬০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে রয়েছেন। এছাড়া ৪৭ শতাংশ মানুষ তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান এমনটাই উঠে এসেছে জরিপে। জানুয়ারি মাসের ১৬ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ৫ হাজার ১৪৭টি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই জরিপের প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে।

তবে অনেক ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, কেবল ৫ হাজারের কিছু বেশি মানুষের মতামত প্রায় ১৩ কোটি মানুষের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে না। জরিপে বিএনপি জোট এগিয়ে থাকলেও বাস্তবিক পক্ষে নির্বাচনে অনেক কিছুই প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সারাদেশের ৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবিরের প্যানেলের একচেটিয়া জয় জরিপের এমন ফলাফলকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। সেইসাথে এবারের নির্বাচনে ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন নারী ভোটার রয়েছেন। যাদের ভোট জামায়াত জোটের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া ইসলামিক দল ও গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল এনসিপিকে নিয়ে জামায়াতের জোট, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জামায়াতের ওপর ভরসা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের জামায়াতপ্রীতি বেশ অনিশ্চিত করে তুলেছে ভোটের মাঠ। সেইসাথে গত প্রায় ১৭ বছর ধরে বড় হওয়া একটা প্রজন্মকে ‘রিড করা’ খুবই দুর্ভেদ্য হয়ে উঠেছে। যাদের সংখ্যা প্রায় চার কোটি ৩২ লাখ। এমন পরিস্থিতিতে পেপস বা অন্য কোন জরিপের ফলাফলের ওপর আপাদত তেমন আস্থা রাখছেন না ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনের প্রতিটি মোড় যেন এক একটি নতুন রহস্যে ঘেরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, জামায়াতের জন্য ক্ষমতায় যাওয়ার একটা সম্ভাবনা অলরেডি তৈরি হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিবের বিজয় তো সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারা তো পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে। কিন্তু ক্ষমতায় না গেলেও জামায়াত যদি এবার শক্তিশালী বিরোধী দলও হয় সেটাও তো তাদের জন্য হবে বড় অর্জন।

ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, এবারের নির্বাচনে তরুণদের একটা বড় ভূমিকা থাকবে। তারা প্রায় ৪০ শতাংশ৷ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায় তাদের প্রতি তরুণদের একটা ঝোঁক আছে। আমার ধারণা, নির্বাচনে জামায়াত বেশ ভালো করবে। কিন্ত সম্ভবত ক্ষমতায় যেতে পারবে না। তা না হলেও তাদের খুব বড় ধরনের উত্থান হবে বলে মনে হচ্ছে।

আসন্ন নির্বাচনে সার্বিকভাবে ইসলামী দলগুলোর সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা (জামায়াত) নিজেদের মডারেট ইসলামী দল হিসাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে৷ এটা তাদের সুবিধা দিচ্ছে৷ কিন্তু কিছু কিছু ইসলামী দল ডগমেটিক। ফলে এটাকে ইসলামপন্থার ঠিক উত্থান বলা যাবে না। জামায়াত সুনির্দিষ্ট কিছু ইস্যু সামনে এনে অবস্থান শক্ত করছে। তারা সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বলছে, সব দলকে তো দেখা হয়েছে, তাদের একবার সুযোগ দেয়া হোক। তারা কিন্তু ইসলামী আইন ও শাসন ব্যবস্থার কথা সামনে আনছে না। তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কথাই বলছে।

তবে জামায়াতের বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার বিশ্লেষণ একেবারেই অন্যরকম। তিনি মনে করেন, জামায়াত কোনো মডারেট দল নয়৷ তারা এখন কৌশলগত কারণে তাদের মূল চরিত্র লুকিয়ে রাখছে৷ ১৯৭১ সালে তাদের আসল রূপ এ দেশের মানুষ দেখেছে৷ তারা যদি কখনো ক্ষমতায় যেতে পারে, তাহলে তাদের আসল রূপ আবার দেখা যাবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুডবুকে’ রয়েছে জামায়াত- এ ধারণা সম্পর্কে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বিভিন্ন উপায়ে মুসলিম দেশে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশেও তারা একটি অনুগত সরকার চায়। আর সেই সরকারটি দুর্বল ও বিতর্কিত হলে তাদের সুবিধা।
 

বিএনপিতে ঝোঁক আওয়ামী লীগের, শিক্ষিতদের সমর্থন জামায়াতে

জানা গেছে, চলতি জানুয়ারি মাসের ১৬ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ৫ হাজার ১৪৭টি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জরিপের প্রতিবেদন তৈরি করে ইনোভেশন কনসাল্টিং। সাক্ষাৎকারদাতাদের বাছাই করা হয় দেশের ৬৪ জেলার গ্রাম ও শহর এলাকা থেকে। ভোটার উপস্থিতি, গণভোট সম্পর্কে জনমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পর্কে ধারণা, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও দলীয় পছন্দ—এই ছয় বিষয়ে নেওয়া হয় মতামত।

এর আগে, প্রথম রাউন্ডে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি যেমন-নির্বাচনের সময়কাল, নির্বাচনী পরিবেশ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যসম্পাদন সম্পর্কিত বিষয়ে তুলে ধরা হয় এবং দ্বিতীয় পর্বটি প্রথম পর্বের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ। প্রথম রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশিত হয় চলতি বছরের ৮ মার্চ। এতে দেখা গেছে, আগামী নির্বাচনে ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চান আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে চান ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ। ৫৮ শতাংশ ভোটার চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন চান। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে চান ১০ শতাংশ মানুষ।

দ্বিতীয় রাউন্ডে গত ২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পালস পয়েন্টস, ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক, ভবিষ্যৎ সরকারের প্রতি প্রত্যাশা, দলীয় পছন্দ, দলের অনুমোদন ও ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত বিষয়ে তুলে ধরা হয়। ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কম শিক্ষাগত যোগ্যতার ভোটারদের মধ্যে বেশি পছন্দে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি এবং উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার ভোটারদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে জামায়াত। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের নমুনা ভোটারদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জামায়াত। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানের রয়েছে বিএনপি। দ্বিতীয় পর্বের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীকে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি সমর্থন দিতে দেখা গেছে। তবে প্রবীণ ভোটারদের মধ্যে দলটির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিলো।

দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে আসে, আগামী নির্বাচনে ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ মানুষ বিএনপি ভোট দিতে চান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে চান ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ মানুষ। পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে চান ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ মানুষ। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেওয়া নাগরিকদের নিয়ে টেলিফোনে তৃতীয় রাউন্ডের জরিপ চালানো হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডের থেকে তৃতীয় রাউন্ডে এসে বিএনপির প্রতি ঝুঁকেছে বেশি মানুষ। দ্বিতীয় রাউন্ডের তুলনায় তৃতীয় রাউন্ডে বিএনপির সমর্থন ৭.৫ শতাংশ বেড়েছে। জামায়াতের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ১.১ শতাংশ। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি মানুষকে প্রভাবিত করেছে।

পেপসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। আগের রাউন্ডে জামায়াত বা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলা কিছু ভোটারদের সমর্থনও বিএনপির দিকে ঘুরছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। আবার সিদ্ধান্তহীন মানুষেরাও এখন বিএনপিকে বেছে নিচ্ছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

জরিপে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দের তালিকায় শীর্ষ রয়েছেন তারেক রহমান (৪৭.৬%)। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান (২২.৫%)। এছাড়া ২ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ নাহিদ ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। তবে প্রায় ২২.২ শতাংশ উত্তরদাতা এই বিষয়ে নিশ্চিত কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
 

বিএনপিকে ডুবাতে পারে বিদ্রোহীরা, প্রভাব থাকবে নারীদের

সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৭৯টি আসনে বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দলটির নেতারা স্বতন্ত্র বা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। এর মধ্যে অন্তত ৪৬টি আসনে শক্ত অবস্থানে আছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। তাদের কারণে ভোটের মাঠে বাড়তি চাপে পড়েছেন বিএনপির ধানের শীষ বা সমঝোতার প্রার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ এম. শাহান বলেন, এবারের নির্বাচন প্রথাগত বিএনপি-আওয়ামী লীগ নির্বাচন নয়, বরং এটি বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনের রূপ নিয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া তিনটি পর্বেই ৩০ শতাংশ ভোটার এখনও কাকে ভোট দেবেন, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। এই বৃহৎ অংশটিই মূলত শেষ মুহূর্তের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতার হার অনেক বেশি।

তিনি বলেন, প্রায় ৭৯টি আসনে ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি বিএনপির ভোটব্যাংকে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি করতে পারে। এর ফলে অনেক আসনে বিএনপি জোটের মোট ভোট বেশি হওয়া সত্ত্বেও ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সুযোগে জামায়াত প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসতে পারেন।

ভয়েস ফর রিফর্মের ফাহিম মাশরুর বলেন, এবারের নির্বাচন কেবল দুটি বড় দলের লড়াই নয়। আসনভেদে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীদের পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তার পার্থক্যের কারণে ভোটের মার্জিন বা ব্যবধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। অতীতের নির্বাচনে ৫ শতাংশ ফ্লোটিং ভোটে সরকারি দল ২৫০টি আসন, বিরোধী দল ৫০টি আসন পেত। তবে এবারের নির্বাচনে আসনে এত বড় ব্যবধান হবে না।

ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের পোর্টফোলিও ডিরেক্টর তাসমিয়া রহমান বলেন, সম্প্রতি নারীদের সাইবার বুলিং ও শারীরিক নির্যাতনে ভোটের মাঠে বড় প্রভাব রাখতে পারে। কারণ নারী ভোটার প্রায় অর্ধেক ও তাদের অনেকেই এখন পর্যন্ত কোথায় ভোট দেবেন সিদ্ধান্ত নেননি।
 

নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সরকারের ওপর আস্থা রাখছেন ভোটাররা

পেপস জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, তারা মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে। দ্বিতীয় রাউন্ডের জরিপে সরকারের ওপর এই আস্থা রাখার হার ছিল ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

পুলিশ ও প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে এমন আস্থাও বেড়েছে তৃতীয় রাউন্ডে এসে। ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন পুলিশ ও প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন, এমন বিশ্বাস বেড়েছে বলে তৃতীয় রাউন্ডের জরিপে দেখা যাচ্ছে। এই রাউন্ডে ৮২ দশমিক ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন যে তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন। আগের রাউন্ডে এই হার ছিল ৭৮ শতাংশ।

জরিপের ফলাফলে বলা হচ্ছে, গণভোটে ‘হ্যা’তে ভোট দেবেন বলেছেন ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা। ‘না’ ভোটের পক্ষে ছিলেন মোটে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২২ শতাংশ ভোটার বলেছেন তারা গণভোট সম্পর্কে জানেন না। আর ১১ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় থাকার কথা জানিয়েছেন। উত্তরদাতাদের ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট দিতে যাবেন বলেছেন।

বয়সভিত্তিক অন্যান্য গোষ্ঠীর তুলনায় জেন-জি দের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ কম থাকার কথা বলা হয়েছে জরিপের ফলাফলে। জেন-জিদের ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট দিতে যাওয়ার কথা বলেছেন।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আছেন ১ হাজার ৭৩২ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ২৪৯ জন।

এদিকে পাবনা-১ (সাঁথিয়া) ও পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়া) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনি জটিলতা কাটানোর পর নির্বাচনে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ২ আসনে দুই আসনে প্রার্থী হয়েছেন ৯ জন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫ জন নাগরিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। এছাড়া তালিকায় ১ হাজার ১২০ জন হিজড়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন