https://www.prothomalony.com/
16068
literature
প্রতিশোধ
কাকন রেজা
ক্লান্ত করো না হে খোদা, জেগে থাকি
বিশ্বাসে অনন্তকাল;
ষড়যন্ত্র বুনে যায় অদৃশ্য মাকড়শা এক
ছিঁড়ি যেন সেই জাল।
মাকড়শা দেখিনা চোখে, তাহলে কি অন্ধ আমি
চোখ খুলে দাও হে মাবুদ, অন্তর্যামী
বিশ্বাসে বেঁধেছি বুক, নেমেছি রাজপথে
বিপ্লব বিপ্লব বলে গেছে রোদ;
লাল হয়ে যাওয়া কালো পিচ ধরে রাখে
রক্ত জবানে দারুণ প্রতিরোধ!
প্রতিরোধ নয় প্রতিশোধ, লাল চোখ রাগে
জানি না শাহাদত পড়েছে কার ভাগে
ক্লান্ত করো না খোদা, হে মাবুদ আমার
স্লোগানে জেগে ওঠে কবর খোদ;
তরুণ হাঁকে কাঁপে দিল্লির সালতানাত
শহিদেরা ডেকে যায়, প্রতিশোধ প্রতিশোধ।
গোপন বীণ
সুমন শামসুদ্দিন
উড়ছে পাখি ভাসছে হিম,
শূন্য-গগন কি নিঃসীম;
জলের বাণী খুব গোপন,
নিঃশব্দ আজ এই ভূবন।
তোমার আশায় দিন গুনি,
প্রেম পরাগের গান শুনি।
আপন হৃদয় অপেক্ষায়,
হৃদয়ে তার কি গান গায়?
সে গান শুনে আজ হারাই,
তার কেশেরই ছোঁয়া পাই!
অন্তরে তার ফুল ফোটে,
দিগন্তে আজ চিল ছোটে।
জলজফুলের সম্ভ্রমে,
হংসমিথুন সঙ্গমে,
নিঝুম বিকেল পড়ন্ত,
অরণ্যে চাঁদ দূরন্ত।
দূর আকাশে উড়ছে বক,
বাতাস কাঁপে কি তার শখ?
তার ছোঁয়াতে আকুল মন,
কাটে না রাত, দিন বা ক্ষণ!
দৃষ্টিতে তার কি মায়া!
প্রাণে আমার তার ছায়া।
তার আঁখিতে সব ভুলি,
ক্যানভাসে নীল রঙতুলি!
হিম-রাতে আজ ঘুমায় দিন,
গোপন আশায় বাজাই বীণ!
তুষারঝড়ে তুমি
ড. আব্দুস সাত্তার
ঝড় উঠেছে, সাদা স্বপ্নে ঢেকে গেছে পথ,
তুষারের ভিড়ে আমি শুধু খুঁজি তোমার হাত।
বাতাস কাঁপে, রাত কাঁদে নীরব ব্যথায়,
তবু তোমার উষ্ণতা আমাকে আগলে রাখে।
চুলে জমে তুষার, ঠোঁটে জমে নীরবতা,
তোমার চোখে আগুন—শীত হেরে যায় তাতে।
এই ঝড় যদি পৃথিবী ভুলিয়ে দেয় সব,
আমি রাজি, যদি তুমি থাকো আমার সাথে।
তুষার ঝড় থামুক বা না থামুক আজ রাতে,
আমার সব ঋতু শুরু আর শেষ তোমাতেই।
সাদা এই অন্ধকারে একটাই আলো জ্বলে—
তুমি, শুধু তুমি, আমার ভালোবাসাতেই।
বৈপরিত্য
কুলসুম আক্তার সুমী
তুমি দূরের নদী, পাহাড়, দেশ ভালোবাসো
প্রকৃতির অপার মহিমা দেখে আনমনে হাসো।
আমি ভালোবাসি ঘরের কোণ
ভালোবাসি মানুষের মন।
তোমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে ফ্রান্স, ইটালি, গ্রিস...
গহীনে স্পর্শ করে যায় রূপের রানী ভেনিস।
আমাকে ভরদুপুরে চোখ ইশারায় ডাকে পুকুর পাড়ের
আম, জাম, কদবেল, জামরুল; নিরন্তর অন্তর ছুঁয়ে যায় মেঠোপথের নাম গোত্রহীন ঘাসফুল।
তোমাকে বিস্মিত করে মমি বানাবার কৌশল—
কৌতুহলে খোঁজো পেত্রা, ইলেরার ধৈর্য-মনোবল।
আমায় অভিভূত করে সব লণ্ডভণ্ড করে যাওয়া ঝড়ের
পর জেগে উঠা জনজীবন,
সবিস্ময়ে দেখি প্রান্তিক মানুষের আনন্দযাপন!
তোমাকে ভাবায় স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী একক পরাশক্তির কুফল...
চাঁদ-মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব, পৃথিবী গ্রহের মঙ্গলামঙ্গল।
আমি আহত হই যখন দেখি নব্য জোতদার আসে তেড়ে,
কিস্তিমামা ফুলবানুর গাভীটা নেয় কেড়ে।
তুমি পাথর খোদাই করে মূর্তি বানাও, কঠিনেই মশগুল;
বিজ্ঞান, বিশ্ব, ব্রহ্মাণ্ড...
তোমার জীবন অভিধানে সহজ অপ্রতুল।
আমি কাদাজলে মানুষ কাদামাটির পুতুল গড়ি,
মহাকাব্য, মহাগ্রন্থ পড়ি না; মানুষ পড়ি।
বিষাদমগ্নতা
মুকুল রাজ
জীবন বড়ই দুর্বিপাক—
তীব্র দহনে পুড়ছে হৃদয়, বাষ্পে জমছে খাক।
আত্মসন্ধানী দৃষ্টি মেপে বিলোতে চেয়েছি আভা,
আজ একাকিত্বের ঘোর অমানিশায় আমি নিস্প্রভ একা।
পুলক জাগাতে গিয়েও নিজেই অভিশপ্ত হয়েছি!
লালিত্য খুঁজতে গিয়ে ইন্দ্রজালে আটকা পড়ে
অঙ্গগ্লানির বেদনে নিজেকে কতবার খুঁজেছি!
আর্তনাতে আক্ষেপে নিজেকে কতবার নিধন করেছি
নিরালোকে কতবার যে ঝরেছে অশ্রুবারি !
অপূর্ণতায়, মোহতার আঁখিপাতে পারিনি যেতে ছাড়ি!
তবু নেই আক্ষেপ এ জীবন কাটুক নিরবতায়,
বিধুর প্রণয়ে না হয় আসুক পরাজয়!
স্পর্শহীনতায় রিক্ততায় আমার এ অধিবাস,
দেখি দাহনে নিস্তব্ধতায় কতকাল কাটে এ শ্বাস!
তবুও বলি ভালো থাকুক তারা, ভালো থাকুক বসুন্ধরা,
যেদিন হৃদয় ভরা সুখচাঁদ হবো, সেদিন না হয় দিব ধরা।
চাপা পড়া ইতিহাস
শাহীন সুলতানা
হাতির পায়ের নিচে যখন পিষে যায় পিঁপড়ের পাখনা-
তখন তার ঘর, তার ঘাম, তার নিঃশ্বাস একই সাথে
বন্দি হয় জগদ্দল শরীরের নিচে।
দিন যায়, পিঁপড়ের আর্তনাদে বাতাস ভারী হতে
থাকে; সে লিখে রাখে তার যন্ত্রণার বৃত্তান্ত।
তার শহর, তার স্বপ্ন ও শস্যক্ষেত ধ্বংস হওয়ার
পুরো ইতিহাস সে লিপিবদ্ধ করে।
অথচ কেউ শোনে না পিঁপড়ের আর্তনাদ; সবার
চোখে রঙিন চশমা। শহরের দেওয়াল জুড়ে লেখা
হয়- পিঁপড়ে ধৃষ্ট, রাষ্ট্রদ্রোহী।
চলে যাচ্ছি
এম. আব্দুল হালীম বাচ্চু
চলে যাচ্ছি,
জানালার কাচে আটকে থাকা বিষণ্ণ বিকেলের মতো
ফেলে যাচ্ছি, নীরব ট্রেনের সিটে নিজের নাম, চিহ্ন।
ফেলে যাচ্ছি, ভেজাচোখ, কুঁচকানো আলো,
অপ্রকাশ্য কিছু কথা!
চলে যাচ্ছি,
পায়ের নিচে কাঁপা সময়, খিতখিতে অন্ধকারের
এই দেশ ছেড়ে
চলে যাচ্ছি,
বেলুনের মতো হালকা হয়ে
যদিও বুকের ভেতর কীসের যেন ভার!
হ্যাঁ, চলে যাচ্ছি--
শুধু দুঃখটুকু নিয়ে! ফেলে যাচ্ছি,
একবিন্দু ভালোবাসা -তোমাদের কাছে ফেলে!
কুয়াশার ভাঁজে স্মৃতির রোমন্থন
জসীম উদ্দীন মুহম্মদ
শহরটার ওপর যখন গোধূলির আলো মিলিয়ে যায়, তখন এক বিষণ্ণ ধূসরতা চারিদিক গ্রাস করে নেয়। জানুয়ারির এই হাড়কাঁপানো শীতে প্রকৃতি যেন মৌনব্রত ধারণ করেছে। রঞ্জন সাহেবের জানালার কাঁচটা কুয়াশার বাষ্পে ঝাপসা হয়ে আছে। তিনি তর্জনী দিয়ে সেই কাঁচের ওপর আঁকিবুঁকি কাটলেন, ঠিক যেমনটা শৈশবে গ্রামের বাড়িতে টিনের চালের নিচে বসে করতেন।
রঞ্জন সাহেবের বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই। এই বয়সে শীত কেবল ঋতু পরিবর্তন নয়, বরং হাড়ের ভেতরে এক অদ্ভুত শিরশিরানি আর মনের ভেতরে ফেলে আসা স্মৃতির কোলাহল। তাঁর গায়ের বাদামী সোয়েটারটা সময়ের পরিক্রমায় কিছুটা জীর্ণ হয়েছে, কিন্তু এর প্রতিটি সুতোর ভাঁজে আজও মালতীর হাতের স্পর্শ লেগে আছে। মালতী বলতেন, "শীতকাল হলো মানুষকে কাছে টানার সময়, দূরে ঠেলার নয়।" আজ মালতী নেই, কিন্তু তাঁর সেই কথাগুলো এই নিঃসঙ্গ ফ্ল্যাটের দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়।
বাইরে তাকালে দেখা যায়, রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোটা কুয়াশার গোলকধাঁধায় আটকে গেছে। নিচে ফুটপাতে কয়েকটা ছিন্নমূল মানুষ ছেঁড়া প্লাস্টিক আর খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বেলেছে। আগুনের শিখাগুলো যখন লকলক করে ওপরে উঠছে, তখন তাদের অভাবী মুখগুলোতে এক অদ্ভুত তৃপ্তির ছায়া। রঞ্জন সাহেব ভাবেন, এই আগুনের তাপটুকু হয়তো এই মরণপণ শীতের বিরুদ্ধে তাদের একমাত্র হাতিয়ার।
শীতের গভীরতা আরও বাড়ে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়। রঞ্জন সাহেব আলমারি খুলে একটি পশমি শাল বের করলেন। এটা দামী কাশ্মীরি শাল, গত কয়েক বছর ধরে আলমারির অন্ধকারেই পড়ে ছিল। তিনি ভাবলেন, এই আভিজাত্যের বন্ধনে আটকে থেকে লাভ কী, যদি তা কারোর হাড়কাঁপানো শরীরে উষ্ণতা দিতে না পারে? তিনি নিচে নেমে এলেন। নিঝুম রাস্তায় কুয়াশা এখন এতোটাই ঘন যে হাত বাড়ালেই যেন তাকে ছোঁয়া যায়। তিনি ধীর পায়ে সেই আগুনের পাশে বসা মানুষগুলোর কাছে গিয়ে শালটি একজনের কাঁধে তুলে দিলেন। লোকটির চোখের সেই বিস্ময় আর কৃতজ্ঞতা রঞ্জন সাহেবের বুকের ভেতরের জমে থাকা হিমকে এক নিমেষে গলিয়ে দিল।
ফ্ল্যাটে ফিরে এসে তিনি যখন আবার জানালার পাশে বসলেন, তখন বাইরের পৃথিবীটা আর আগের মতো ধূসর মনে হলো না। ডালিয়া আর গাঁদা ফুলগুলো অন্ধকারের মাঝেও যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বসন্তের প্রতীক্ষায়। রঞ্জন সাহেব বুঝতে পারলেন, শীত মানে কেবল পাতা ঝরা বা জড়তা নয়; শীত মানে নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মমতাটুকুকে নতুন করে আবিষ্কার করা।
রাত আরও বাড়ে। কুয়াশার চাদরে শহরটা আরও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়। রঞ্জন সাহেব তাঁর ডায়েরিতে কলম রাখলেন। আজ রাতের পাতায় তিনি লিখলেন, "শীত কেবল ঠান্ডা বাতাস নয়, শীত হলো অন্যের জন্য উষ্ণতা হওয়ার এক দুর্লভ সুযোগ।" জানালার বাইরে হিমেল হাওয়া বইছে ঠিকই, কিন্তু তাঁর হৃদয়ে এখন এক প্রশান্ত বসন্তের আবহ।
রৌদ্রময়ী ও গ্লাসবন্ধী হিমসন্ধ্যা
সবুজ মণ্ডল
একজীবনে মানুষের কয়টা নাম থাকতে পারে সেটা প্রায়শই ভেবে কূল পায় না মেয়েটা! জন্মকুণ্ডলীতে দেয়া রুক্মিনী নামটা তো রীতিমতো তার মনেই থাকে না। প্রতিষ্ঠানিক নামের ভিড়ে এ নামটার জৌলুশ ফিকে প্রায় বলা যায়।ঈদ-পূজোর ছুটিতে অনাদরে একেলা ক্যাম্পাসের হলজীবন ছেড়ে সপ্তাহখানেকের জন্য মেয়েটা যখন ঘরে ফিরতো, মনে হত যেন নীড়হারা পাখি খুঁজে পেয়েছে প্রশান্তির শেষ আশ্রয়স্থল। এ সময়টুকুতে মা ঘেঁষা মেয়েটা মায়ের মুখে 'মণি',বাবার মুখে 'বাপ্পী' -এহেন নাম শুনে মাঝেমধ্যে খেই হারিয়ে ফেলতো আদতে তার মূল নামটাই বা কি!
পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে চাকরি নামক নাগরিক বেড়াজালে মেয়েটা জড়াতে না জড়াতেই মা-বাবা কেমন যেন উঠে পড়ে লাগলো কন্যাদায় এড়াতে! এমন তো না যে সে সাবলম্বী না কিন্তু তাও এহেন বিমাতা সুলভ আচরণে মেয়েটার ভীষণ রাগ হতো বৈকি!
দক্ষিণায়নের দিন তখনো ফুরোয় নি, মকরসংক্রান্তি এলো এলো বলে। পৌষের এমনি এক হিমসন্ধ্যায় মা-বাবা মেয়েটাকে নিয়ে গেল পরিচিত এক রেস্টুরেন্টে অচেনা-অজানা এক যুবকের সামনে! বুঝতে বাকি রইলো না মা-বাবার মনে চাপা ইচ্ছেটা কি। অফিস ফেরত মেয়েটার চোখমুখে তখনো হিমকুয়াশার মতোই ঘোরলাগা ক্লান্তি।কিন্তু একি! এ কেমনতর পাত্র, যে কিনা একা একাই চলে এলো বিয়ের পাত্রী দেখতে-মনের ভেতর শত শঙ্কার ঘোর কুয়াশার মেঘ কেটে অদ্ভুত এক বিস্ময়চিহ্ন মেয়েটার মনে দাগ কাটলো! খানিকপর মা বাবাও উঠে অন্যত্র চলে গেলেন পাত্র-পাত্রী দুজনের মধ্যে কথা বলার সুযোগ করে দিয়ে। শীতকাল মেয়েটার বরাবরই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কাঁপা ঠোঁটে ভাঙ্গা গলায় তাও সাহস করে অচেনা মানুষটাকে জিজ্ঞেস করে বসলো-কেমন আছেন?
কুশলাদি বিনিময়, খুচরো কিছু কথাবার্তা শেষ হতে না হতেই মা-বাবা এসে আবার পাশে বসলেন মেয়েটার।
এতক্ষণে বোধকরি মেয়েটা কিছুটা স্বস্তি বোধ করলো।
বাসায় ফিরে মেয়েটা ভাবতে লাগলো, অচেনা মানুষের সামনে এমন অভিজ্ঞতার চেয়ে চাকুরির মৌখিক পরীক্ষার-ই ঢের ভালো বৈকি!
দেখা হবার পর ছেলেটা নিজের অজান্তে মেয়েটার একটা নাম ঠিক করে-'রৌদ্রময়ী'। অর্থ-মর্মার্থ না জেনেই হয়ত আবেগের খেয়ালে দেয়া নাম। প্রথমদিনের দেখা শেষে বাসায় ফিরে, ছেলেটা রৌদ্রময়ী'র ইনবক্সে মেসেজ দেয়- বাসায় পৌঁছালাম, ঠিকঠাকভাবে পৌঁছিয়েছেন তো?
একটা দিন দেখা হতে না হতেই ছেলেটার এমন আধিখ্যেতায় মেয়েটা আধো বিরক্ত আধো কৌতুহলী। দিন গড়াতে গড়াতে অচেনা মানুষটার সাথে টুকিটাকি চ্যাটিং এ কথাবার্তার সুবাদে লোকটার প্রতি কেমন যেন একটা অদৃশ্য টান অনুভব করতে শুরু করে রৌদ্রময়ী। ইনবক্সটাই যেন হয়ে উঠল দুজনের অলিখিত সংসার। মাত্র একসপ্তাহের পরিচয়ে রৌদ্রময়ীকে ফোন দেয়ার মতো সাহস করে উঠতে পারে না ছেলেটা। কি আর করা বাধ্য হয়ে রৌদ্রময়ী-ই ফোন দিয়ে বসে সাতপাঁচ না ভেবে। ফোনে কথা হতে না হতেই ছেলেটা বেহায়ার মতো রৌদ্রময়ী'কে এক বিকেলে ঘুরতে বের হবার প্রস্তাব দিয়ে বসে! ইতিউতি না ভেবে মেয়েটাও সম্মতি জানিয়ে বসলো।
হালকা হিমবাতাসে পড়ন্তি সন্ধ্যায় রৌদ্রময়ী ছেলেটাকে নিয়ে যায় পছন্দের একটা ক্যাফেতে। ছোটখাটো কথার ভিড়ে ছেলেটা তার পড়ে থাকা জ্যাকেটের ভেতর থেকে জাদুকরের মতোই একগুচ্ছ হলুদ গোলাপ বের করে দিয়ে বসে রৌদ্রময়ীর হাতে। ছেলেটার এমন আকস্মিকতায় রৌদ্রময়ী খানিকটা তব্দা খেয়ে গেলো বৈকি! একথা ওকথার ভিড়ে খাবারের প্লেটের খাবার শেষ হয়ে যায় কিন্তু কথা ফুরোয় না দুজনের।
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত তখন নয়টা ছেলেটাকে উঠতে হবে, বেশ খানিকটা দূর যেতে হবে লোকাল বাসে চড়ে। বিদায় নিয়ে ছেলেটা রওনা দিবে, এমন সময় রৌদ্রময়ী শান্ত গলায় বলে -আমাদের কথা যেন একজীবনেও না ফুরোয়!
আমি থেকে আমাদের হওয়ার ছোট্ট এ স্বপ্নের কথা বুকপকেট ভর্তি করে বিদায় নেয় ছেলেটা। আর কানে বাজতে থাকে- " মনে পড়ে আজ সে কোন জনমে বিদায় সন্ধ্যাবেলা –আমি দাঁড়ায়ে রহিনু এপারে তুমি ওপারে ভাসালে ভেলা।"
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন