https://www.prothomalony.com/

16067

bangladesh

বাংলাদেশ

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা শিক্ষার নতুন ধারণা নিয়ে প্রেরণাদায়ী বক্তৃতা

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ০২:১৮

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা শিক্ষার নতুন ধারণা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ২৬ জানুয়ারি, সোমবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষকবৃন্দ ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তৃতায় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রেক্সেল মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের চিকিৎসক প্রফেসর ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ তাঁর ব্যক্তিগত জীবনপথের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি সামাজিক আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা পেশায় দীর্ঘ কর্মজীবন এবং সেখানে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা থেকে চিকিৎসা শিক্ষার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন। তাঁর বক্তব্যে মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্ব এবং সমাজের প্রতি চিকিৎসকদের দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে আলোচনায় অংশ নেন প্রফেসর ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদের কন্যা ডা. নাহরিন আহমেদ। তিনি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা তুলে ধরেন। বিশেষ করে চলমান গাজা যুদ্ধের সময় স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা শ্রোতাদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি তাঁর অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দাদা-দাদির কথা স্মরণ করেন এবং উপস্থিত নারী চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন—প্রতিটি পরিবারেই এমন কোনো অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ থাকেন, যাঁরা আমাদের পথচলায় প্রভাব ফেলেন। তিনি নারী চিকিৎসকদের নিজ নিজ অনুপ্রেরণার গল্প ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ডা. নাহরিন আহমেদের দাদা শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমেদ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনীর হাতে কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মাহুতি দেন। তাঁর দাদি অধ্যক্ষ হোসনে আরা আহমেদ ছিলেন সিলেট মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এবং নারী শিক্ষার একজন অগ্রদূত।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডা. ফাতেমা আহমেদ। তিনি নারীস্বাস্থ্য, নারীদের সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্ব, পাশাপাশি চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার গুরুত্ব নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

বক্তৃতা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। এই আলোচনা থেকে ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ, শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে পারস্পরিক সহায়তার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানান।

অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারীদের কাছে অত্যন্ত বিনয়ী, অনুপ্রেরণাদায়ী ও ফলপ্রসূ একটি আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন