https://www.prothomalony.com/
16026
literature
আমিও ওসমান হাদি হতে চাই
রুদ্র সাহাদাৎ
নতুন দিনের মিছিলে এসো বন্ধু
গাই জীবনের জয়গান -মানুষ মানুষের জন্য
জানুক পৃথিবী - সবুজে আছি সবুজে বাঁচি
ভালোবাসায় হোক ভালোবাসা
আমিও ওসমান হাদি হতে চাই
রাজপথ মেঠোপথ জুড়ে স্লোগান
বাচাঁর মতো বাচঁতে চাই
মৌলিক অধিকার নিয়ে প্রাণ খুলে হাসতে চাই
আর নয় স্বার্থে দৌড়- এবার বসি সমাধান হোক
সম্পর্কের গল্প ছড়িয়ে যাক
ভূমণ্ডল থেকে নভোমণ্ডল
অন্তরালের হাহাকার
আহমেদ মোস্তফা ফয়সাল
আড়ালেই সব দুঃখ ধূপের মতো জ্বলতে থাকুক
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আমি বরং খুঁজেফিরি
আকাশের অনাবিল একটুকরো শান্তি।
বিষাদের স্তব্ধতা হঠাৎই যখন জমে ওঠে বুকে
সময়ের ধূলোমাখা প্রান্তর থেকে উঠে আসে
নিঃশব্দ স্রোতের আঁছড়ে পড়া হাহাকার!
চোখের জল নিজস্বতায় গড়ে তোলে মহাকাব্য
কিন্তু কেউ শুনতে চায় না সে যাপিত ইতিহাস।
ঝড়ে উড়ে যাওয়া মানুষের জন্ম-মৃত্যুর ক্ষণ
ফিরে ফিরে মনে করায় জীবন কতটা অনিশ্চিত!
কীট-পতঙ্গের ছোট্ট পৃথিবীটা কী গভীর ঐক্যে বাঁধা-
কোনো ঈশ্বর নেই, আছে শুধু বহমান প্রাণচেতনা!
বৃক্ষেরা দাঁড়িয়ে থাকে নীরবে ধৈর্যের সারিবদ্ধতায়
আর বোকা মানুষ ছুটে অন্তহীন অস্থিরতায়!
পাহাড়, মাটি, অরণ্য ফিসফিস করে বলে -
স্থিরতার গভীরেই লুকিয়ে থাকে অচেনা চলন।
শুধু মানুষই সকল প্রশ্নের ঝুলি নিয়ে খুঁজে
মনের গভীরে জন্ম নেওয়া সেই দুর্লভ আলো!
পৃথিবী দেখছি, তোমাকে দেখছি না"
শাখাওয়াত তানভীর
পরপর দুটি পাসপোর্টই এক্সপায়ার্ড
ছিল অব্যবহৃত; নবায়ন করা হয়নি এখনো
আমার বুঝি আর পৃথিবী দেখা হলো না
তবুও খেদ ছিল না এতটুকু
তোমাকে তো দেখছি....
পৃথিবী নিশ্চয়ই তোমার চেয়েও বড় না!
অনেক দিন হলো তোমাকে দেখি না
বুঝলাম- তোমাকে দেখার জন্যেও
অলিখিত এক পাসপোর্ট আছে,
হয়তো মেয়াদ ফুরিয়েছে তার!
ভাবছি- দু-একদিনের মধ্যেই অনলাইনে
পাসপোর্ট নবায়নের আবেদনটা করেই ফেলবো!
আচ্ছা- তোমাকে দেখার পাসপোর্টটা
কোথায় নবায়ন করি, বলতো? কোন অফিসে?
পৃথিবী দেখব! আর তোমাকে দেখব না?
এ.. হয় নাকি? হয় না...!
তবুও এইই হয়ে যাচ্ছে....
পৃথিবী দেখছি, তোমাকে দেখছি না!
এই মাঘ
আহাম্মদ উল্লাহ
এই মাঘ
এই পত্রঝরা শীতের বন
খুন করে ফেলে রাখে সহস্র হলুদ পাতা।
এই মাঘ
মাঠের হৃদয় শূন্য করে।
এই মাঘ
ফুল ফোঁটায়, ভ্রমর আনে– কানন বানায়।
এই মাঘ
আশা দেখায় বসন্তের
বাহারী স্বরের।
হিমায়িত করে মানুষের আশা
গৃহ সংকল্পে।
কাছে টানে প্রাণ
সংসারে
বিবাহ আসরে
এই মাঘ।
আয়নাতন্ত্র
সারওয়াৎ জাবীন লুবনা
মানুষের বাহ্যিক রূপ মাত্রই একটুকরো আয়না!
আয়নাতন্ত্রের সাঁচে মানুষ নিজেকে নিমজ্জিত রাখে
অন্তর্নিহিত রূপালি প্রলেপের অন্তরালে -
সময়ে যার বিতাড়নে বিবর্তিত স্বচ্ছকাঁচে
প্রকাশ্যে চলে আসে তার অদেখা প্রকৃত রূপ
লোকারণ্যে মুহূর্তেই উন্মুক্ত হওয়া এক কপট মুখোশ!
বোধ আর দৃষ্টির আলোকে সমুখের মানুষটিকে
যে যেভাবে দেখতে চায়, সে ঠিক সেভাবেই দেখে।
ভুল হলেও সে গাছকে ভালোবেসে বানায় প্রিয়মানুষ
পাথরকে ভালবেসে বানায় প্রকাণ্ড আশ্রয়।
শত্রুকেও মিত্র ভেবে সাজায় কামনার কল্প-বাসর।
দিনান্তরে নিজেই পরিণত হয় এক স্তব্ধ পাথরে।
প্রতিটি মানুষই আয়নাধারী, কেউ কষ্ট লুকোতে
কেউ কষ্ট বিলোতে, কেউ বা পাশ ফিরে কষ্ট চাপাতে!
আজ যে মানুষটা ঠকে প্রতারণায় কষ্ট পাচ্ছে
দিনান্তে কষ্ট দিয়ে সে-ই হচ্ছে বেসাতির মূল অধিনায়ক
চূড়ান্ত হঠকারী সিংহাসনের একছত্র আয়নাধারী মালিক!
নির্লজ্জে রূপালি আচ্ছাদন খুলে পরিণত হচ্ছে
আরেক গৌরবান্বিত প্রলেপণের সুশীল আয়নায়!
রূপালি কুয়াশা
এম আব্দুল হালীম বাচ্চু
ভোরের বুক জুড়ে নেমে এসেছে রূপালি কুয়াশা।
কোথাও কোনো শব্দ নেই, তবু সে কথা বলে খোলা চোখের ভেতরে। গাছেরাও দাঁড়িয়ে থাকে অর্ধেক সত্যে অর্ধেক স্বপ্নে! পথ হারায় যতপ্রকার দাগ, দূরত্ব মেপে চলে ধৈর্যের সাথে!
সূর্য তখন উঠে আসে লাজুক একটি প্রশ্নের মতো,
আলো কি আগে জন্মায়; না কি অন্ধকারের ভেতরেই তার অনুশীলন চলে?
রূপালি কুয়াশা জানে, সব ঢেকে রাখাই ঢাকা নয়, কিছু
কিছু আড়াল মানুষকে শেখায় নিজের দিকে তাকাতে।
ভেজা বাতাসে ঝুলে থাকে অকথিত নাম, স্মৃতিরা হাত বাড়ায় কিন্তু ছুঁতে পারে না অস্বচ্ছতার দূরত্বের কারণে!
ভোর ভাঙলে কুয়াশা সরে যায়, থেকে যায় একটুখানি নীরবতা, যা সারাদিন ধরে আমাদের চোখে চোখ রেখে
নিজেকে মনে করিয়ে দেয়!
প্রতীক্ষার প্রহর
খ্রীষ্টফার পিউরীফিকেশন
গত বড়দিনের আগেই বাদলের আসার কথা ছিল। অর্থাৎ হিসেব মতো নভেম্বরেই তার তিন বৎসর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু মিনা যখন প্রতীক্ষার সিঁড়িগুলো ধাপে ধাপে পেরিয়ে প্রায় শেষ পর্যায় এসে গেছে, ঠিক তখনই একটি চিঠি তার অনুভূতিমাখা স্বপ্নের ফুলদানিটি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিলো। মিনার আশা ছিল, এবার তারা পরিবারের সকলে মিলে অনেকদিন পর একসাথে বড়দিন উদযাপন করবে। কতো জায়গায় বেড়াতে যাবে তারা। সেই কবে সে বাদলের সাথে বেড়াতে গিয়েছিল, সেকথা মিনা ভুলেই গেছে। বড় সন্তান টিনা এবার মেট্রিক পরীক্ষা লিখবে। আর বিপু ক্লাস সিক্সে উঠেছে।
বাদল সেই প্রথম যখন মধ্যপ্রাচ্যে যায়, তখন টিনার বয়স কতইবা ছিল। তখন সে বোধ হয় ক্লাস ওয়ানে ছিল। আর বিপু ছোট্ট শিশু। বুড়ো মা আর একমাত্র বোন সবিতা, তারাও বাড়িতে ছিল তখন। আর এখন এত বৎসরের ব্যবধানে কত পরিবর্তন এসেছে তাদের সংসারে!
ননদী সবিতার বিয়ে হয়ে গেছে। তারপর তার কোলে পুত্র-সন্তান এসেছে। আর শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন বৎসর চলছে।
বাড়িতে ছোট দুটো ঘর ছিল। একটি টিনের চৌচালা আর অন্যটি ছাপড়া-ঘর। ওগুলো ভেঙ্গে এখন বড় দুটো ঘর করা হয়েছে। গ্রিলঘেরা বারান্দা, আরসিসি পিলার, ইটের ওয়াল। বাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগও দেওয়া হয়েছে। টিভি, ভিসিআর হয়েছে। কয়েকটি ধানী-জমিও কেনা হয়েছে।
বিদেশ করার, বাদলেরও আর ইচ্ছে নেই। মিনা গত সফরে ওকে বলেছিল, 'আর কতো? মানুষ বাঁচেই বা কয় বৎসর? যথেষ্ট হয়েছে। তুমি একবারেই চলে এসো। যা আছে, তাতে আমাদের দিন কোনমতে চলেই যাবে।'
তো বাদল ঠাট্টা করে বলেছিল, 'কেন? এখন যে বারবার চইলা আসো, চইলা আসো বলতাছো! অথচ তখন তোমার যন্ত্রণায় দেশে টিকতে না পাইরা আমি বিদেশে পাড়ি দিছিলাম। তখন তো আমার বয়সও কম ছিলো। ... সাতপাঁচ চিন্তা না কইরা, তুমিই আমারে বিদেশে যাইতে বাধ্য করেছিলা! এখন দেশে আইসা করবোটা কী? তা ছাড়া আমাদের যে পেশা। ঢাকায় এমনকি দেশের সবখানেই নো ভেকেন্সি। থাকলেও পয়সাপাতি কম। আগের সেই কাজের বাজার এখন আর নাই!'
মিনা ভাবে, তার নিজের উচিত শিক্ষাই হয়েছে। দেখতে দেখতে তার গায়ে ভাঁজ পড়েছে। কপালে বলিরেখা। মাথায় রূপালি চুলের ঝিলিক। গাল দুটোও ঝুলে পড়েছে! মানুষ তাকে কপালে চোখ তুলে দেখে! আহা, কী সৌন্দর্য!
আর বাদল? সেই বাদল এখন আর সে নেই। মোটার মোটা তো হয়েছেই। ওজনও বেড়ে গিয়ে আড়াই-মণ ছুঁই ছুঁই করছে। মানুষ এমন মোটা হয়? গায়ের চামড়াও কালো হয়ে গেছে। শরীরটা আস্ত এক ফুটবল বানিয়েছে। পেট-পিঠ-গর্দানে এক হয়ে গেছে। মদও গিলে। দেশে আসলে, পারে তো মদের গামলায় চব্বিশ ঘণ্টা উপুড় হয়ে ডুবে থাকে! ওখানেও নাকি লুকিয়ে ছাপিয়ে গিলে। মিনা কতবার বলেছে, 'ওসব ছাই মাথা আর খেয়ো না। হার্টের অসুখ আর বাঁধিও না। কবে আবার ঠাস করে মরে যাবে! আমাদের তিন মায়ে-ছায়েদের নদীতে ফেলে যেয়ো না। আমরা তখন না পারবো ভাসতে। না পারবো বাঁচতে। সমূলে ডুবে মরা ছাড়া তখন আর কোন গতিই থাকবে না! ওসব ছাড়তে না পারলে, মরো!'
ছিঃ ছিঃ অমন অলুক্ষণে কথা মিনা বলতে পারলো তার স্বামী বাদলকে? অবশ্য বাদল কিছুই মনে করেনি। হো হো শব্দ করে হাসলো কেবল। তাছাড়া মনে করবেই বা কী? ওর মন বলে কি কোন জিনিস আছে, ওই জাহাজ মার্কা বপুটার ভিতর? মিনার কোন কথায় পাত্তা দেয় না বাদল। সে এক গণ্ডার! মনে যা আসে, তাই করে। মিনার দুঃখ এখানেই। কখনো তার কথা শোনে না সে।
টিনা আর বিপু কীভাবে যে এতোটুকু থেকে এত্তো বড় হয়ে গিয়েছে, বাদল তার কিছুই দেখেনি! শুধু চিঠিতে, ক্যাসেটে একই ধাচের কতোগুলো উপদেশ, '... ওদেরকে সাবধানে রাইখো। অসুখ বিসুখ বাঁধাইও না। টাকা পয়সা যা পাঠাইলাম হিসাব কইরা খরচা কইরো ...' ইত্যাদি ইত্যাদি।
বিপুটা বখাটেদের দলে ভিড়ে গেছে। তাদের সাথে মিশে মিশে যা হয়েছে না আজকাল! নামেই শুধু স্কুলে যায়। সেদিন নারায়ণ স্যার বলেছিলেন, 'টিনার মা, এই বয়সের ছেলেদের বাবা কাছে থাকতে হয়।' বিপুটা মদ, সিগারেট কিছু আর বাকী রাখেনি। তার ঠোঁট দুটো ও হয়েছে বেশ চকলেট রঙের! কেউ কিছু বললে খ্যাঁ খ্যাঁ ক'রে তেড়ে আসে।
গত চিঠিতে তার কিছু আভাস দিয়ে লিখেছে মিনা। 'বাপ হয়ে শুধু টাকার পিছনে ছুটলে! ছেলে কি আর মানুষ হবে? মা হয়ে মেয়েকে আগলে রাখা যায়। কিন্তু ছেলেকে তো আর রাখা যায় না ...!'
এবার বাদল এসে ছেলেকে আচ্ছা মতো শাসিয়ে বুঝিয়ে গেলে, নিশ্চয় সে বুঝবে এবং ভালো হবে। কচি বয়সের ছেলে। বাজে নেশার আর বাদ রাখলো না কিছু। গত বড়দিনে গির্জায়, ফাদার সুব্রতও উপদেশে অনেক কিছু বলেছিলেন। ছেলেমেয়েরা কেন বিপথে যায়। কেন মদ-বিড়ির নেশা করে। তারা তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে দেখে-শুনে অনেক কিছুই শিখে। তাঁদের অনুসরণ করে। আর তাঁদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠে ...।
বিপু কি জানে না যে, তার বাবা মদ সিগারেট আচ্ছা খোর? এবার বড়দিনে বাদলের উচিত ছিল বাড়ি থাকা। এই ভেবে মাঝে মাঝে মিনা চাপা ক্ষোভে গুমরে গুমরে মরে। এই মরার দৃশ্যটা অন্য কেউ দেখেও না। বোঝেও না। বাদল আগামীতে বাড়ি এলে আচ্ছা করে মনের ঝাল ঝাড়বে সে। এইবার আসুক!
গতকাল তুমিলিয়ার সেন্টু এসে চিঠি আর কিছু জিনিস দিয়ে গেছে। বাদল লিখেছে, সে ইস্টারের পর আসবে। তবে কবে আসবে, সেই তারিখটা এখনও ঠিক করে উঠতে পারেনি।
গত সপ্তায় নবাবগঞ্জ এলাকার, কার নাকি লাশ এসেছে কুয়েত থেকে। লোকটা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। অজানা এক ভয়ে মিনার শরীর শিরশির করে ওঠে। এ রকম ঘটনা যে কতো ঘটছে তার ইয়ত্তা নেই! ঠিক এমন, কতোজনের খবর মিনা জানে! প্রায় সারাটা জীবন গাধার খাটুনি খেটে শেষ বয়সে যেই বাড়িতে এসে বসেছে, বাস অমনি তাদের পরোয়ানা এসে গেছে। উহ্! কী কষ্টের আর বেদনার সেই কাহিনি! কেন যে মানুষ বিদেশ করে! দেশের মায়া, স্ত্রী-সন্তান, পিতামাতা-আত্মীয়, বন্ধু-স্বজন সবার আদর স্নেহ দূরে ঠেলে একমাত্র টাকার পিছনে তারা হন্যে হয়ে ছুটে চলে। শেষমেশ তারা কী পায়? কিচ্ছু না। একেবারে কিচ্ছুই না! মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবনটাকে অর্থের মাপকাঠিতে সব সময় মাপা যায় না। উচিতও না! গত বড়দিনে না, এই ইস্টারেও না! তো, আর কতো? আর কতো এই কষ্টের বোঝা বয়ে চলা? দেহ-মনের চাহিদার উজানে, জীবনকে ঠেলে নিয়ে চলা? মিনা খাতা কলম নিয়ে বসে। বাদলকে সে লিখবে। মনের ঝাল ঝাড়বে!
আচ্ছা। সেই সেন্টু ছোট্ট করে কী যেন বলেছিল, টিনার বাবা দিন আট-দশ দিন ওখানকার হাসপাতালে ছিলো। পায়ে তার কিসের নাকি ব্যথা ছিল। কথাটা কি পুরোপুরি ঠিক? নাকি সাজানো? ব্যথাটা কি পায়ে? নাকি বুকে?
অভিমান আর দুঃখে মিনার চোখ ফেটে পানি আসে। দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে চিঠি লেখার কাগজটি। ক্যাসেট-রেকর্ডারটি সামনেই ছিল। প্লে বাটনটিতে আঙ্গুল রাখে মিনা।
'... তুমি রবে নীরবে
অন্তরে মম ...!'
বন্যার কণ্ঠ দ্যুতি খেলে যায় মিনার মেঘাচ্ছন্ন আকাশে। কী ভেবে সে রেকর্ড বাটনটিও চেপে ধরে আরেক আঙ্গুল দিয়ে। বন্যা থেমে যান। রেকর্ডারের টেপ ঘুরতে থাকে। এবার শব্দ করে কতক্ষণ কাঁদে মিনা। দু'চোখের ধারা গড়িয়ে পড়ে গাল বেয়ে। কিছু এবার বলবে সে বাদলকে। বলতেই হবে। অন্তরের খুপরিতে অনেক কথা জমে পাথর হয়ে আছে! কিন্তু কী বলবে সে?
'... শোনো টিনার বাবা! আমার কথা শোনো। এখন তোমাকে চিঠি লিখতে বসেছিলাম। কিন্তু আমি স্থির করেছি, লিখবো না আর তোমাকে। ক্যাসেটেই মনের কথা খুলে বললাম। তুমি তাড়াতাড়ি চলে এসো বাড়িতে। একেবারেই সবকিছু চুকিয়ে চলে এসো। হ্যাঁ। আমার আর ভালো লাগে না! যদি আমাকে তুমি পেতে চাও, সবকিছু পেতে চাও, চলেই এসো ...! ঠিক আছে। আমার জন্য না চাইলেও, তোমার সন্তানদের মঙ্গলের জন্যই চলে এসো। আমি আবার কী? আমি তো তোমার কিছুই না! তবে হ্যাঁ, সময় গেলে সবই কিন্তু হারাবে। এই আমার শেষ কথা ...!'
এমন সময় দরজার কাছে এসে টিনা দাঁড়ায়। তার চোখে-মুখে বিষণ্ণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সে নিচু গলায় বলে, 'মা! তুমি যে কী!' মেয়ের কথা শুনে থেমে যায় মিনা। অতি কষ্টে নিজেকে সংবরণ করে নেয় সে। স্বর পাল্টে যায় তার।
-তুই চুপ থাক!
টিনা নিজেকে সামলে নেয়। মিনা আবার ধমকে ওঠে, 'এখানে কী? যা! পড়তে যা ...!'
সে তাকিয়ে দেখে, রেকর্ডারের টেপ ঘুরেই চলছে।।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন