https://www.prothomalony.com/

15873

literature

সাহিত্য

রজব মাসের মাহাত্ম্য

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩:০৪

আনোয়ার হোসাইন আশরাফী
মুহাদ্দিস, জামিয়া ইসলামিয়া মেহেরপুর

আরবী বর্ষপঞ্জিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানিত একটি মাসের নাম রজব মাস। আরবী বর্ষপরিক্রমার সপ্তম মাস এটি। রজব শব্দের অর্থ সম্মান করা। ইবনু ফারিস রহ. এ মাসকে রজব নামে নামকরণের কারণ উল্লেখ করে বলেন, কারণ আরবের লোকেরা এ মাসকে অনেক বেশি সম্মান করত, অবশ্য পরবর্তীতে শরীয়তেও সে সম্মান বহাল রাখা হয়। (মাকাইসুল লুগাহ, পৃ. ২৪৯৫) এ মাসকে মুযার গোত্রের দিকে সম্পৃক্ত করে রজাবু মুযার নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। কারণ মুযার গোত্র অন্যান্য সম্মানিত মাসের চেয়েও এ মাসকে বেশি সম্মান করত। (ফাতহুল বারী ১/১৩২)

রজব মাস সম্মানিত ৪ মাসের অন্তর্ভূক্ত: পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকেই সময়ের হিসাব ঠিক রাখার জন্য আল্লাহ তা’আলা ১২টি মাস নির্ধারণ করে রেখেছেন। তন্মধ্যে ৪টি মাসকে হারাম ও সম্মানিত মাস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে আল্লাহর কিতাবে তথা লাওহে মাহফুজে মাসের সংখ্যা ২টি, সেই দিন থেকে, যে দিন আল্লাহ তাআলা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাপূর্ণ। এটাই সহজ-সরল দ্বীন এর দাবি। সুতরাং তোমরা এ মাসসমূহের ব্যাপারে নিজেদের প্রতি জুলুম করো না এবং তোমরা সকলে মিলে মুশরিকদের সাথে লড়াই কর, যেমন তারা সকলে মিলে তোমাদের সাথে লড়াই করে। বিশ্বাস রেখো নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের সঙ্গে আছেন। (সূরা তাওবা, আয়াত: ৩৬)

নবীজী সা. সম্মানিত চার মাস নির্ণয় করে বলেন, আল্লাহ যে দিন আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, সে দিন হতে সময় যেভাবে আবর্তিত হচ্ছিল আজও তা সেভাবে আবর্তিত হচ্ছে। বারো মাসে এক বছর। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। যুল-কা’দাহ, যূল-হিজ্জাহ ও মুহাররাম। তিনটি মাস পরস্পর রয়েছে। আর একটি মাস হলো রজব-ই-মুযারা যা জুমাদা ও শা’বান মাসের মাঝে অবস্থিত। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩১৯৭)

মাসগুলো সম্মানিত হওয়ার কারণ ও হেকমত: ইমাম আবুবকর জাসসাস রহ. বলেন, এই চারটি মাসকে হারাম ও সম্মানিত ঘোষণা করার দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ হারাম, যা আরবের মুশরিকরাও মেনে চলত। আল্লাহ তা’আলা বলেন, লোকে আপনাকে মর্যাদাপূর্ণ মাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? আপনি বলে দিন, তাতে যুদ্ধ করা মহাপাপ। (সূরা বাকারা, আয়াত: ২১৭) দ্বিতীয়ত অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে গুনাহের পরিণতি অতি ভয়াবহ আর ইবাদতের প্রতিদান বড়। (আহকামুল কুরআন, পৃ.  ৩/১৪৩)
আল্লামা ইবনে কাছির রহ. নির্দিষ্ট এই চার মাসকে হারাম বা সম্মানিত ঘোষণা করার হেকমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যুল-কা’দাহ, যূল-হিজ্জাহ ও মুহাররাম এই তিন মাসকে হজ্জ পালনের সুবিধার্থে হারাম করা হয়েছে। যেন হজ্জের মাসের আগে ও পরে সবাই নিরাপত্তার সাথে মক্কা নগরীতে আগমন এবং সেখান থেকে প্রস্থান করতে পারে। আর রজব মাসকে হারাম করা হয়েছে উমরা পালনের সুবিধার্থে। (তাফসিরে ইবনে কাছির, পৃ. ৪/১৪৮)

রজব মাসের ইবাদত ও সালাফের গুরুত্বারোপ: সম্মানিত ৪ মাসের অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় রজব মাসের ফজিলত প্রমাণিত। তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে এ মাসে স্বতন্ত্র কোন ইবাদত নেই। বরং অন্যান্য মাসের ন্যায় ইবাদত বন্দেগীতে লিপ্ত থাকবে। গুরুত্বের সাথে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল ইবাদতগুলো আদায় করবে। যিকির, তাসবিহ, তাহলিল ও কুরআন তেলাওয়াতে সময় অতিবাহিত করবে। রজব মাসের অভ্যাস রমযান মাসে আমলের উন্নতির জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।

রজব মাসে যদিও সুনির্দিষ্ট ইবাদত প্রমাণিত নেই তথাপি সময়টা আমাদের জন্য বরকতময়। তাই গুরুত্বের সাথে আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। রজব মাসের ব্যাপারে সালাফের আমল ও উক্তিগুলো সামনে থাকলে আমাদের জন্য তা অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

১. ইবাদতের বীজ বপনের মাস: রজব মাস হলো ইবাদতের বীজ বপনের মাস। ইমাম ইবনে রজব রহ. বলেন, এ মাস বরকত ও কল্যাণময় মাস সমূহের মূল ও চাবিকাঠি। ইমাম আবুবকর বলখী রহ. বলেন, রজব হলো বীজ বপনের মাস। শাবান হলো পানি সিঞ্চনের (পরিচর্যার) মাস‌। আর রমযান হলো ফসল কেটে ঘরে তোলার মাস। (লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃ. ১২১)

২. এ মাসের ইবাদত অন্যান্য মাসের সহযোগী: সম্মানিত মাসগুলোর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এ সময়ে ইবাদতে মশগুল থাকলে অন্য মাসে ইবাদতে কাটানো সহজ হয়‌। আবার এ সময়গুলোতে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকলে অন্য মাসে গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়। (মাআরিফুল কুরআন, পৃ. ৪/৩৭২)

৩. রমযান মাসের প্রস্তুতি: রজব মাসের এক মাস পর রমযান মাস। তাই বিশেষভাবে এ মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি শুরু করা। যেন রমযান আসলে বিভিন্ন ব্যস্ততা চেপে না বসে। একইভাবে ইবাদত বন্দেগীর সাথে নিজেকে অভ্যস্ত করে তোলা, যেন রমজানে ইবাদতে লিপ্ত হতে অলসতা তৈরি না হয়। (লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃ. ১২১)

রজব মাসের করণীয় কিছু আমল: যদিও রজব মাসের সুনির্দিষ্ট কোনো ইবাদত নেই তবুও এ মাসের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা অনেক। তাই অন্যান্য মাসের ইবাদতগুলোই আরো বেশি গুরুত্বের সাথে সম্পাদন করার চেষ্টা করা। নিম্নে উল্লেখযোগ্য কিছু আমলের কথা তুলে ধরা হলো:

১. নেক আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়া: রজব মাসসহ অন্যান্য হারাম মাসে ইবাদত ও নেক আমলের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। কেননা এসময় প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বৃদ্ধি পায়। ইমাম ইবনে কাছির রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা হারাম মাসে গুনাহকে বড় করে দেখেন। আবার নেক আমলের সওয়াব ও প্রতিদানও বেশি করে দেন। (তাফসিরে ইবনে কাছির, পৃ. ৪/১৩০)

২. গুনাহ করে নিজের উপর জুলুম না করা: গুনাহ করা সবসময়ই হারাম ও নিষিদ্ধ। তবে সম্মানিত মাস সমূহে তা আরো কঠিনভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, সুতরাং তোমরা এ মাসসমূহের ব্যাপারে নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। (সূরা তাওবা, আয়াত: ৩৬)

আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে জারির তাবারি রহ. লেখেন, তোমরা নিজেদের উপর জুলুম করো না একথার অর্থ হলো, তোমরা এসময় আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়ো না। আল্লাহর নিষিদ্ধ কোন কাজকে হালাল করো না। অন্যথায় তোমরা আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তির সম্মুখীন হবে। (তাফসিরে তাবারি, পৃ. ১৪/২৩৭)

৩. রমযান লাভের জন্য দোয়া জারি রাখা: রজব মাস পর্যন্ত মহান আল্লাহ যেহেতু আমাদের হায়াত দান করেছেন তাই এখন বেশি বেশি দোয়া করা, যেন আল্লাহ আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। রমযানের খায়ের, বরকত ও কল্যাণ দিয়ে আমাদেরকে সিক্ত করেন। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রজব মাস এলে নবীজী সা. বলতেন, আল্লাহুম্মা বারিক-লা-না ফি রাজাবা ওয়া শা’বান, ওয়া বাললিগ-না রমাযান। অর্থ, হে আল্লাহ! রজব ও শাবানে আমাদের বরকত দান করেন এবং আমাদেরকে রমযানে পৌঁছে দেন। (মাযমাউয যাওয়ায়েদ)

৪. বেশি বেশি রোযা রাখা: রজব মাসে দিন তারিখ নির্ধারণ করা ব্যতীত বেশি বেশি নফল রোযা রাখা। নবীজী সা. রজব মাসে অনেক সময় রোযা রাখতেন।

৫. উমরা পালন করা: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা.সহ অনেক সাহাবায়ে কেরাম এ মাসে উমরা পালন করতেন। তাই সম্ভব হলে এই আমলটি করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে রজব মাসের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা ধারণ করে সময়গুলো কাজে লাগানোর তাওফীক দান করুন। আমীন।



ইলমের গুরুত্ব ও ফজিলত
আবদুল্লাহ আল মামুন ফুয়াদ
মুদাররীস,জামিআ রশিদিয়া আরাবিয়া,গাজীপুর, ঢাকা।

আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম যে শব্দ নাযিল করেছেন তা হল 'ইকরা',  যার অর্থ "পড়"। আরবীতে একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে ‘বই মানুষের বন্ধু’।  আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে অনেক মাখলূক সৃষ্টি করেছেন, তন্মধ্যে মানুষ হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ,  মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়ার অন্যতম মূল কারণ হচ্ছে তার ইলম তথা ভালোমন্দের জ্ঞান রয়েছে।
এবং কুরআনের শিক্ষা ছাড়া কেউ প্রকৃত মানুষ হতেই পারেনা। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, দয়াময় তিনি, কুরআন শিক্ষা দিয়ে মানুষ সৃষ্টি করেছেন যিনি" (সূরা রহমান ১-৩)। মুফাসসিরীনে কেরাম এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, সাধারণত বাহ্যিকভাবে দেখা যায় মানুষ জন্মলাভ করে, এরপর শিক্ষা লাভ করে,  কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আগে কুরআন শিক্ষার কথা বলেছেন, এরপর মানুষ সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন, এটা বুঝানোর জন্য যে, কুরআনের শিক্ষা ছাড়া কেউ প্রকৃত, পরিপূর্ণ মানুষ হতে পারেনা।  (আল বাহরুল মুহিত ১০/১৮৭, রূহুল মাআনী ২৭/৯৯)

আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম যে শব্দ নাযিল করেছেন তা হল 'ইকরা' যার অর্থঃ "পড়",  এর দ্বারাও পড়ার গুরুত্ব বুঝে আসে। এক হাদীসে রাসূলে কারীম সাঃ স্পষ্ট ইরশাদ করেছেন,  ধর্মীয় ইলম শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য আবশ্যক। (তবারানী-৮৫৬৭, বাইহাকী- ১৬৬৭)।

এখানে লক্ষণীয় ব্যাপার হল সবার জন্য সব শিক্ষা লাভ করা জরুরী নয় বরং মানুষের জীবনে চলার জন্য যতটুকু শিক্ষালাভ না করলেই নয়। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ধর্মীয় নির্দেশনা মানার জন্য যতটুকু ইলম দরকার ততটুকু ইলম অর্জন করা সবার জন্য  ফরজে আইন, এটা খেয়াল রাখা চাই।  আমরা অনেকে অনেক কিছু জানি, অনেকে অনেক শিক্ষিত, বড় বড় ডিগ্রিধারী অনেকেই আছি, কিন্তু মুসলমান হিসেবে অত্যন্ত আফসোস ও পরিতাপের বিষয় এটাই যে, একটা সূরা সঠিকভাবে পড়তে পারি না। নামাজ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় সূরা কেরাত ও দুয়া দরুদ জানিনা।

ইলমে দ্বীন অর্জনের গুরুত্বের পাশাপাশি এর ফযীলতও অপরিসীম। যাদেরকে ইলমে দ্বীন অর্জনের সৌভাগ্য দান করা হয়েছে তাদের মর্যাদা অনেক বেশি। আল্লাহ তায়ালা এক আয়াতে ইরশাদ করেন, “তিনি ঈমানদারদের মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, আর ইলমওয়ালাদের মর্যাদা অনেক বেশি” (সূরা মুজাদালা ১১) ।

এক হাদীসে রাসূলে কারীম সাঃ  ইরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি ইলম অর্জনের পথে চলে আল্লাহ পাক তার জন্য জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দেন, ফেরেশতাগণ ইলম অর্জনকারী ছাত্রদের  চলার পথে নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন, আসমান জমীনের সবকিছু এমনকি সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত  ইলম অর্জনকারীর জন্য দুয়া করতে থাকে, ইলমহীন ইবাদত কারীর তুলনায় ইলমওয়ালা ইবাদতকারীর শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক ততটাই,  যতটা চাদের মর্যাদা তারকারাজির তুলনায়,  আলেমগণ নবীর উত্তরাধিকারী, তবে নবীগণ টাকাপয়সা,ধনসম্পদ রেখে যাননি, তারা ইলমে দ্বীন রেখে গেছেন, আলেমগণ তার উত্তরাধিকারী, সুতরাং যারা তা অর্জন করে তারা বিরাট সৌভাগ্য লাভ করলো।  (আবূ দাঊদ-৩৬৪১)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে রাসূল সাঃ বলেন, কিয়ামতের দিন কিছু বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগ পর্যন্ত কোন মানুষ পা নাড়াতে পারবে না,
১. জীবনকে কি কাজে ব্যায় করেছে?
২. কতটুকু ইলম অর্জন করেছে এবং কতটুকু আমল করেছে??
৩. কতটুকু সম্পদ উপার্জন করেছে? কিভাবে কোত্থেকে করেছে?
কোথায় খরচ করেছে?
৪. জীবনকে কিভাবে অতিবাহিত করেছে?
(তিরমিজি-২৪১৭)

সাধারণত আমরা বাহ্যিক বড় বড় ডিগ্রিধারী হলে, উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারলেই নিজেদের সফল মনে করি,
কিন্তু মনে রাখতে হবে কুরআনের শিক্ষা ছাড়া, ধর্মীয় জ্ঞানার্জন ছাড়া এসবই বিফল হয়ে যাবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন , যে পরকালে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাত লাভ করলো সেই প্রকৃত সফলকাম (সূরা আলে ইমরান-১৮৫)।

হাদীসে পাকে রাসূলে আরাবী  সাঃ  ইরশাদ করেন,  প্রকৃত জ্ঞানী তো সেই লোক, যে নিজেকে চিনলো এবং মৃত্যু পরবর্তী সময়ের জন্য আমলের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিলো, আর মূর্খ/অক্ষম সেই ব্যক্তি যে নিজের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করলো এবং আল্লাহর কাছে নিষ্ফল আশা করলো  (তিরমিজি-২৪৫৯)।

তাই আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতকে সুন্দর করতে হলে  যে যেকোন পেশার হইনা কেন,  দলমত নির্বিশেষে,  সঠিক ধর্মীয় জ্ঞানার্জন করা সকলের জন্য আবশ্যক,  অন্তত যতটুকু শিক্ষালাভ করলে আমাদের দৈনন্দিন ধর্মীয় কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারবো ততটুকু শেখা অত্যাবশ্যক।

আর প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষালাভের প্রচলিত তিনটি পদ্ধতি রয়েছে ।

১. কওমী মাদরাসাসমূহ: যেগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট সিলেবাস পাঠদান করা হয়, এবং ধর্মের উপর চলার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ অভিজ্ঞ করে গড়ে তোলা হয়

২. দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত: যেখানে খুবই আন্তরিকতা ও দরদের সাথে অল্প সময়ে অতীব প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো হাতে কলমে শেখানো হয়।

৩. ব্যাক্তিগত সাহচর্যের মাধ্যমে: নির্দিষ্ট আলেমদের থেকে প্রয়োজনীয় মাসায়িল জানা ও সূরা কেরাত শেখার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলা যায়,

উদাহরণস্বরূপ একজনের কথা না বলে পারছি না, প্রফেসর হামীদুর রহমান ছাহেব রাহঃ (১৯৩৮-২০২৩) ছিলেন আপাদমস্তক আধুনিক শিক্ষায় স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত একজন, বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন একসময়, তিনি যুগ শ্রেষ্ঠ বুজুর্গ হাফিজ্জী হুজুর (১৮৯৫-১৯৮৭) রাহঃ এর সান্নিধ্যে এসে নিজেকে পরিণত করেছিলেন একজন পুরোদস্তুর বুযুর্গ ও আল্লাহওয়ালা হিসেবে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ধর্মীয় শিক্ষালাভ করে দুনিয়া ও আখেরাতে প্রকৃত সফলতা লাভ করার তাওফীক দান করুন, আমীন।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন