https://www.prothomalony.com/

15699

literature

সাহিত্য

ইসলামিক পাতা

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ০২:০৪

সময় বদলায়, মুমিনের দায়িত্ব বদলায় না

 

মোঃ ইমতিয়াজ মাহমুদ আনাস

শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।

 

একটি বছরের আগমন মানেই আরেকটি বছরের নিঃশব্দ প্রস্থান। বিদায়ী বছর কোনো শব্দ না করেই আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেয়, অথচ রেখে যায় অসংখ্য বার্তা কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা, কিছু সুখময় স্মৃতি, কিছু না বলা দীর্ঘশ্বাস। এই সবকিছু নিয়েই সে আমাদের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় একটি আয়না, যেখানে আমরা নিজেদের জীবনকে নতুন করে দেখতে বাধ্য হই।

বছরের এই সমাপ্তি যেন আমাদের নীরবে বলে যায়এখনই সময় নিজের জীবনের হিসাব কষার। কারণ বছরের পরিসমাপ্তি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি পাতা উল্টে যাওয়ার নাম নয়; এটি ক্ষণস্থায়ী জীবনের আরেকটি অধ্যায় শেষ হওয়ার ঘোষণা। মানুষ ধীরে ধীরে, কিন্তু অনিবার্যভাবে এগিয়ে চলে তার চূড়ান্ত গন্তব্যের দিকে। কবির ভাষায়—

দেখো হে গাফেল! সময় বয়ে  যায়,
কেমনে, কিভাবে তোমার জীবন গড়ায়।

সময় যে কত দ্রুত ফুরিয়ে যায়, তা সালাফে সালেহিন গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহ.) তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ কিমাতুয যামান ইনদাল উলামা- তে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর একটি হৃদয়স্পর্শী উক্তি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন,
“আমি কোনো কিছুর জন্য এতটা লজ্জিত ও অনুতপ্ত হই না, যতটা প্রতিটি দিনের সমাপ্তিতে হই। কারণ একটি দিন চলে যাওয়া মানে আমার আয়ু এক দিন কমে যাওয়া, অথচ সেই দিনে আমার আমল বাড়েনি।” (পৃষ্ঠা ২৭)

হাসান বসরি (রহ.) তো আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, “হে আদম সন্তান! তোমরা তো মূলত সময়ের সমষ্টি। যখন একটি দিন চলে যায়, তখন মনে করো তোমাদের শরীরের একটি অংশও চলে গেল।”

আল্লাহ তাআলা আমাদের যে সময় দান করেছেন, তা বিনোদন কিংবা অর্থহীন ব্যস্ততার জন্য নয়। এই সময় মূলত আখিরাতের প্রস্তুতির পুঁজি। যাতে আমরা নিজেদের আমল শুদ্ধ করতে পারি, আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারি। আলী (রা.) সুন্দরভাবে বলেছেন, “সময় হলো তোমাদের জীবনের পাণ্ডুলিপি। তোমরা একে সৎকর্ম দিয়ে পূর্ণ করো।”

আর রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের জীবনদর্শনের একটি মৌলিক নীতি শিক্ষা দিয়েছেন
“মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য হলো অনর্থক কথা ও কাজ বর্জন করা।” (তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৭)

নববর্ষে আমাদের করণীয়

হাদিসের কিতাবে নতুন মাস কিংবা নতুন বছরের সূচনায় কিছু দোয়ার কথা পাওয়া যায়। সাহাবায়ে কেরাম নতুন বছর বা নতুন মাসের শুরুতে এই দোয়াটি পাঠ করতেন
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মাঝে এ মাস বা বছরের আগমন ঘটান শান্তি ও নিরাপত্তা, ঈমান ও ইসলামের ওপর অবিচলতা, শয়তান থেকে সুরক্ষা এবং দয়াময় আল্লাহর সন্তুষ্টিসহ।

এই দোয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বছর আমাদের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে আহ্বান জানায়—
এক. অতীতের হিসাব-নিকাশ, দুই. ভবিষ্যৎ জীবনের প্রস্তুতি

অতীতের হিসাব-নিকাশ

একটি বছর পেরিয়ে যাওয়া মানে আমাদের জীবন থেকে একটি অধ্যায় হারিয়ে যাওয়া। প্রশ্ন হলো এই সময়ে আমরা কী অর্জন করেছি? আখিরাতের জন্য কী জমা করেছি? নতুন বছরের আগমন আসলে আমাদের জানিয়ে দেয় পরকালের সফর আরও কাছাকাছি চলে এসেছে।

তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত নিজের জীবনের খতিয়ান খুলে বসা। ইবাদত-বন্দেগি, চরিত্র, লেনদেন, হালাল-হারাম, আল্লাহর হক ও বান্দার হক সবকিছুর হিসাব নিজেই নিজের কাছে নেওয়া। আমরা হয়তো মানুষের চোখ থেকে নিজের দোষ ঢেকে রাখতে পারি, কিন্তু নিজের বিবেকের চোখ থেকে কখনো পারি না। মৃত্যুর ডাক আসার আগেই আমাদের হিসাব পরিষ্কার করা দরকার।

আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেন— “আমি তোমাদের যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করো তোমাদের কারো মৃত্যু আসার আগে। নতুবা মৃত্যু এসে গেলে সে বলবে, ‘হে আমার রব! আমাকে যদি সামান্য অবকাশ দিতেন, তবে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’”
(সুরা মুনাফিকুন, আয়াত: ১০)

পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতি

হিসাব নেওয়ার পর পরবর্তী ধাপ হলো নিজের ত্রুটি চিহ্নিত করে সেগুলো সংশোধনের বাস্তব পরিকল্পনা করা। শুধু অনুশোচনা নয়, বরং পরিবর্তনের দৃঢ় সিদ্ধান্ত। কারণ আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে বলেছেন—“মানুষ তাই পায়, যা সে নিজে করে।” (সুরা নাজম, আয়াত: ৩৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সময় ব্যবহারের এক অসাধারণ সূত্র দিয়েছেন “পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটির আগে গনিমত মনে করো: বার্ধক্যের আগে যৌবন, অসুস্থতার আগে সুস্থতা, দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতা, ব্যস্ততার আগে অবসর এবং মৃত্যুর আগে জীবন।” (বাইহাকি, শুআবুল ঈমান)

নতুন বছর প্রকৃত মানুষকে উল্লাসের নয়, বরং গভীর চিন্তার দাওয়াত দেয়। তাকে মনে করিয়ে দেয় জীবনের সূর্য প্রতিদিন একটু একটু করে পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ছে। গলিত বরফের মতো আয়ু ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাহলে এত আয়োজন, এত উৎসব কিসের? যদি হঠাৎ করেই জীবনের প্রদীপ নিভে যায়?

এই ভাবনাই নতুন বছরের আসল বার্তা। যে বার্তা আমাদের অস্থির করে, ব্যাকুল করে, আত্মসমালোচনায় দাঁড় করায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এই বার্তার প্রতিই সবচেয়ে বেশি উদাসীন।

 

 

রজব মাসের মাহাত্ম্য

আনোয়ার হোসাইন আশরাফী

মুহাদ্দিস, জামিয়া ইসলামিয়া মেহেরপুর

 

রজব মাস পরিচিতি: আরবী বর্ষপঞ্জিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানিত একটি মাসের নাম রজব মাস। আরবী বর্ষপরিক্রমার সপ্তম মাস এটি। রজব শব্দের অর্থ সম্মান করা। ইবনু ফারিস রহ. এ মাসকে রজব নামে নামকরণের কারণ উল্লেখ করে বলেন, কারণ আরবের লোকেরা এ মাসকে অনেক বেশি সম্মান করত, অবশ্য পরবর্তীতে শরীয়তেও সে সম্মান বহাল রাখা হয়। (মাকাইসুল লুগাহ, পৃ. ২৪৯৫) এ মাসকে মুযার গোত্রের দিকে সম্পৃক্ত করে রজাবু মুযার নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। কারণ মুযার গোত্র অন্যান্য সম্মানিত মাসের চেয়েও এ মাসকে বেশি সম্মান করত। (ফাতহুল বারী ১/১৩২)

রজব মাস সম্মানিত চার মাসের অন্তর্ভূক্ত: পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকেই সময়ের হিসাব ঠিক রাখার জন্য আল্লাহ তাআলা বারোটি মাস নির্ধারণ করে রেখেছেন। তন্মধ্যে চারটি মাসকে হারাম বা সম্মানিত মাস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে আল্লাহর কিতাবে তথা লাওহে মাহফুজে মাসের সংখ্যা বারটি, সেই দিন থেকে, যে দিন আল্লাহ তাআলা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাপূর্ণ। এটাই সহজ-সরল দ্বীন এর দাবী। সুতরাং তোমরা এ মাসসমূহের ব্যাপারে নিজেদের প্রতি জুলুম করো না এবং তোমরা সকলে মিলে মুশরিকদের সাথে লড়াই কর, যেমন তারা সকলে মিলে তোমাদের সাথে লড়াই করে। বিশ্বাস রেখো নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের সঙ্গে আছেন। (সূরা তাওবা, আয়াত: ৩৬)

নবীজী সা. সম্মানিত চার মাস নির্ণয় করে বলেন, আল্লাহ যে দিন আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, সে দিন হতে সময় যেভাবে আবর্তিত হচ্ছিল আজও তা সেভাবে আবর্তিত হচ্ছে। বারো মাসে এক বছর। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। যুল-কা’দাহ, যূল-হিজ্জাহ ও মুহাররাম। তিনটি মাস পরস্পর রয়েছে। আর একটি মাস হলো রজব-ই-মুযারা যা জুমাদা ও শা’বান মাসের মাঝে অবস্থিত। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩১৯৭)

মাসগুলো সম্মানিত হওয়ার কারণ ও হেকমত:

ইমাম আবুবকর জাসসাস রহ. বলেন, এই চারটি মাসকে হারাম বা সম্মানিত ঘোষণা করার দুটি কারণ রয়েছে। ০১- এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ হারাম, যা আরবের মুশরিকরাও মেনে চলত। আল্লাহ তাআলা বলেন, লোকে আপনাকে মর্যাদাপূর্ণ মাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? আপনি বলে দিন, তাতে যুদ্ধ করা মহাপাপ। (সূরা বাকারা, আয়াত: ২১৭) ০২- অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে গুনাহের পরিণতি অতি ভয়াবহ আর ইবাদতের প্রতিদান বড়। (আহকামুল কুরআন, পৃ.  ৩/১৪৩)

আল্লামা ইবনে কাছির রহ. নির্দিষ্ট এই চার মাসকে হারাম বা সম্মানিত ঘোষণা করার হেকমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যুল-কা’দাহ, যূল-হিজ্জাহ ও মুহাররাম এই তিন মাসকে হজ্জ পালনের সুবিধার্থে হারাম করা হয়েছে। যেন হজ্জের মাসের আগে ও পরে সবাই নিরাপত্তার সাথে মক্কা নগরীতে আগমন এবং সেখান থেকে প্রস্থান করতে পারে। আর রজব মাসকে হারাম করা হয়েছে উমরা পালনের সুবিধার্থে। (তাফসিরে ইবনে কাছির, পৃ. ৪/১৪৮)

রজব মাসের ইবাদত ও সালাফের গুরুত্বারোপ:

সম্মানিত চার মাসের অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় রজব মাসের ফযিলত প্রমাণিত। তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে এ মাসে স্বতন্ত্র কোন ইবাদত নেই। বরং অন্যান্য মাসের ন্যায় ইবাদত বন্দেগীতে লিপ্ত থাকবে। গুরুত্বের সাথে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল ইবাদতগুলো আদায় করবে। যিকির, তাসবিহ, তাহলিল ও কুরআন তেলাওয়াতে সময় অতিবাহিত করবে। রজব মাসের অভ্যাস রমযান মাসে আমলের উন্নতির জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।

রজব মাসে যদিও সুনির্দিষ্ট ইবাদত প্রমাণিত নেই তথাপি সময়টা আমাদের জন্য বরকতময়। তাই গুরুত্বের সাথে আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। রজব মাসের ব্যাপারে সালাফের আমল ও উক্তিগুলো সামনে থাকলে আমাদের জন্য তা অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

০১- ইবাদতের বীজ বপনের মাস: রজব মাস হলো ইবাদতের বীজ বপনের মাস। ইমাম ইবনে রজব রহ. বলেন, এ মাস বরকত ও কল্যাণময় মাস সমূহের মূল ও চাবিকাঠি। ইমাম আবুবকর বলখী রহ. বলেন, রজব হলো বীজ বপনের মাস। শাবান হলো পানি সিঞ্চনের (পরিচর্যার) মাস‌। আর রমযান হলো ফসল কেটে ঘরে তোলার মাস। (লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃ. ১২১)

০২- এ মাসের ইবাদত অন্যান্য মাসের সহযোগী: সম্মানিত মাসগুলোর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এ সময়ে ইবাদতে মশগুল থাকলে অন্য মাসে ইবাদতে কাটানো সহজ হয়‌। আবার এ সময়গুলোতে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকলে অন্য মাসে গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়। (মাআরিফুল কুরআন, পৃ. ৪/৩৭২)

০৩- রমযান মাসের প্রস্তুতি: রজব মাসের এক মাস পর রমযান মাস। তাই বিশেষভাবে এ মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি শুরু করা। যেন রমযান আসলে বিভিন্ন ব্যস্ততা চেপে না বসে। একইভাবে ইবাদত বন্দেগীর সাথে নিজেকে অভ্যস্ত করে তোলা, যেন রমজানে ইবাদতে লিপ্ত হতে অলসতা তৈরি না হয়। (লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃ. ১২১)

রজব মাসের করণীয় কিছু আমল:

যদিও রজব মাসের সুনির্দিষ্ট কোনো ইবাদত নেই তবুও এ মাসের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা অনেক। তাই অন্যান্য মাসের ইবাদতগুলোই আরো বেশি গুরুত্বের সাথে সম্পাদন করার চেষ্টা করা। নিম্নে উল্লেখযোগ্য কিছু আমলের কথা তুলে ধরা হলো,

০১- নেক আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়া: রজব মাসসহ অন্যান্য হারাম মাসে ইবাদত ও নেক আমলের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। কেননা এসময় প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বৃদ্ধি পায়। ইমাম ইবনে কাছির রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা হারাম মাসে গুনাহকে বড় করে দেখেন। আবার নেক আমলের সওয়াব ও প্রতিদানও বেশি করে দেন। (তাফসিরে ইবনে কাছির, পৃ. ৪/১৩০)

০২- গুনাহ করে নিজের উপর জুলুম না করা: গুনাহ করা সবসময়ই হারাম ও নিষিদ্ধ। তবে সম্মানিত মাস সমূহে তা আরো কঠিনভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, সুতরাং তোমরা এ মাসসমূহের ব্যাপারে নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। (সূরা তাওবা, আয়াত: ৩৬)

আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে জারির তাবারি রহ. লেখেন, তোমরা নিজেদের উপর জুলুম করো না একথার অর্থ হলো, তোমরা এসময় আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়ো না। আল্লাহর নিষিদ্ধ কোন কাজকে হালাল করো না। অন্যথায় তোমরা আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তির সম্মুখীন হবে। (তাফসিরে তাবারি, পৃ. ১৪/২৩৭)

০৩- রমযান লাভের জন্য দোয়া জারি রাখা: রজব মাস পর্যন্ত মহান আল্লাহ যেহেতু আমাদের হায়াত দান করেছেন তাই এখন বেশি বেশি দোয়া করা, যেন আল্লাহ আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। রমযানের খায়ের, বরকত ও কল্যাণ দিয়ে আমাদেরকে সিক্ত করেন। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রজব মাস এলে নবীজী সা. বলতেন, আল্লাহুম্মা বারিক-লা-না ফি রাজাবা ওয়া শা’বান, ওয়া বাললিগ-না রমাযান। অর্থ, হে আল্লাহ! রজব ও শাবানে আমাদের বরকত দান করেন এবং আমাদেরকে রমযানে পৌঁছে দেন। (মাযমাউয যাওয়ায়েদ)

০৪- বেশি বেশি রোযা রাখা: রজব মাসে দিন তারিখ নির্ধারণ করা ব্যতীত বেশি বেশি নফল রোযা রাখা। নবীজী সা. রজব মাসে অনেক সময় রোযা রাখতেন।

০৫- উমরা পালন করা: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা.সহ অনেক সাহাবায়ে কেরাম এ মাসে উমরা পালন করতেন। তাই সম্ভব হলে এই আমলটি করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে রজব মাসের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা ধারণ করে সময়গুলো কাজে লাগানোর তাওফীক দান করুন। আমীন।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন