https://www.prothomalony.com/
15623
literature
অহংকার পতনের মূল
মোঃ ইমতিয়াজ মাহমুদ আনাস। খতীব, নূরে মদীনা জামে মসজিদ, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।
অহংকার মানুষের অন্তরে এমন এক অদৃশ্য আগুন, যা বাইরে থেকে কখনো রাজসিক, কখনো আত্মবিশ্বাস বলে মনে হতে পারে; কিন্তু ভিতরে ধীরে ধীরে বিশ্বাস, বিবেক, নম্রতা এবং আল্লাহর ভয়, সব কিছুকে পোড়াতে থাকে। অহংকার শুধু একটি গুনাহ নয় এটি আধ্যাত্মিক অন্ধত্বের সূচনা। মানুষ যখন নিজের অবস্থান, ক্ষমতা, যোগ্যতা বা সাফল্যকে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে না দেখে নিজের কৃতিত্ব বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে, তখনই পতনের দরজা নিঃশব্দে খুলে যায়।
ইসলামের দৃষ্টিতে অহংকার বা কিবর মূলত এমন একটি মানসিক বিকৃতি, যেখানে মানুষ নিজেকে অন্যের চেয়ে উচ্চে দেখতে চায়, আল্লাহর নির্দেশনা ও মানুষের অধিকারকে তুচ্ছ মনে করে, এবং নিজের ভেতরকার দুর্বলতা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে। এই ব্যাধি আত্মার স্বাভাবিক বিনয়কে ধ্বংস করে দেয়, যা একজন মুমিনের ঈমান, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভিত্তি।
কুরআন অহংকারকে শুধু নিষিদ্ধ করেনি, বরং এটি এমন একটি নৈতিক বিকৃতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে যা মানুষকে আল্লাহর দয়া ও হিদায়াত থেকে বঞ্চিত করে। কুরআন অহংকারকে সরাসরি হৃদয়ের রোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। সূরা আন-নাহলের ব্যাখ্যায় আমরা দেখি, আল্লাহ কখনও অহংকারীদের ভালোবাসেন না, কারণ অহংকার মানুষের হৃদয়কে এমনভাবে কঠিন করে তোলে যে তা আর আল্লাহর নৈকট্যের যোগ্য থাকে না। (সূরা আন-নাহল, ১৬:২৩)
রাসূলুল্লাহ (সঃ) অহংকারকে জাহান্নামের অন্যতম দরজা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না (সহীহ মুসলিম, ১৪৭)। এই বাণীর মধ্যে মানবচরিত্রের গভীরতম সত্য লুকিয়ে আছে: সত্য গ্রহণে অনীহাই অহংকারের মূল। আর অন্য মানুষকে ছোট ভাবার প্রবণতা, এটাই কিবরের আচরণগত প্রকাশ। রাসূল (সঃ) –এর সংজ্ঞা অত্যন্ত সূক্ষ্ম, সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছ করা। অর্থাৎ অহংকারের স্থান অন্তরে, কিন্তু এর প্রভাব প্রকাশ পায় আচরণে, কথায়, সিদ্ধান্তে, সম্পর্কগুলোতে।
অহংকারের বাস্তব রূপ আমাদের সমাজে নানাভাবে দেখা যায়। মাঝেমধ্যে কথার ভঙ্গিতে, কখনো আচার-ব্যবহারে, কখনো নিজের জ্ঞান, যোগ্যতা বা পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে গর্বে। এটি এমন একটি অন্তর্নিহিত মানসিক প্রবণতা, যা মানুষকে সত্যের প্রতি অন্ধ করে তোলে। যার মধ্যে অহংকার প্রবেশ করে, সে আর সত্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করতে চায় না; নিজের ভুল স্বীকার করাকে পরাজয় মনে করে। অন্যের মতামত, অধিকার বা সম্মানকে গুরুত্ব না দেওয়া, এগুলো অহংকারের স্বাভাবিক ফল।
এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সর্বপ্রথম যে ক্ষতিটি ঘটে তা হলো, মানুষ আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে যায়। কারণ, আল্লাহর দয়ার দরজা সবসময় তাদের জন্য খোলা থাকে যারা বিনয়ী। অহংকার অন্ধ করে দেয় অন্তরকে; হিদায়াতের আলো তার মধ্যে প্রবেশ করে না। বিনয়ের পরিবর্তে অস্থিরতা, রাগ, স্বার্থপরতা এবং আত্মমর্যাদার ভ্রান্ত ধারণা তার জীবনের অংশ হয়ে যায়। সমাজেও অহংকারী মানুষ কখনো প্রিয় হয় না। তারা সম্মান দাবি করে, কিন্তু সম্মান পায় না। মানুষ তাদের সংশোধন করতে চায় না, দূরে সরে যায়। ফলে অহংকারী ব্যক্তি ধীরে ধীরে নিজেই নিজের তৈরি দেয়ালের ভেতর বন্দী হয়ে পড়ে।
অহংকারের প্রতিকার তাই আত্মার গভীর স্তরে কাজ করা ছাড়া সম্ভব নয়। সর্বপ্রথম প্রয়োজন আল্লাহর মহিমা ও নিজের অসহায়ত্বের উপলব্ধি। মানুষ মাটির তৈরি, এ চিন্তা কেবল তথ্য নয়, এটি আত্মাকে নম্র রাখার শক্তিশালী থেরাপি। যখন মানুষ উপলব্ধি করে যে তার ক্ষমতা, জ্ঞান বা মর্যাদা সবই আল্লাহর দান, তখন অহংকার ভেঙে যায়। নিজেদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে চিন্তা করা, ভুল স্বীকার করা, অন্যের প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া, এই অভ্যাসগুলো মানুষকে অন্তরে বিনয়ী করে। বিনয় একটি শক্তি এটি দুর্বলতার পরিচয় নয়। যারা বড় হয়, তারা বিনয়ের মধ্যেই বড় হয়।
সৎ মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব, নিয়মিত আত্মসমালোচনা, দোয়া এবং অন্তরে বিনয় লালন করা, এসবই অহংকারের আগুনকে নিভিয়ে দেয়। ইমাম গাযালী ও ইবনুল কাইয়িম উভয়েই বলেছিলেন: অহংকারের চিকিৎসা হলো, নিজেকে বাস্তব অবস্থানে নিয়ে আসা, আর মানুষের সম্মানকে নিজের সম্মানের মতো মূল্য দেওয়া। একজন মানুষ যত বেশি মানুষকে সম্মান দেয়, তত বেশি তার হৃদয় আল্লাহর নিকট সম্মানিত হয়।
অহংকার শুধু একটি চরিত্রগত ত্রুটি নয়, এটি ধ্বংসের সূচনা। আখেরাতের জন্য এটি ভয়াবহ, এবং দুনিয়ার জীবনেও এটি সম্পর্ক, শান্তি, সম্মান সবকিছু নষ্ট করে দেয়। একজন বিশ্বাসীর কর্তব্য হলো নিজের অন্তরকে অহংকারের গোপন ফাঁদ থেকে রক্ষা করা, আর আল্লাহর সামনে নিজের সামান্যতা ও দুর্বলতাকে বারবার স্মরণ করা। কারণ সত্যিকারের সম্মান, মর্যাদা এবং সফলতা শুধু তাদের জন্যই, যারা বিনয়, কৃতজ্ঞতা এবং আল্লাহমুখী জীবনের উপর স্থির থাকে।
.
.png)
হতাশতার অন্ধকারে ইসলামের আশার বার্তা
মো:মেহেদী হাসান, ছাত্র, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানুষ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অস্থির। কর্মক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা, জীবিকার চাপ, সংসারের দায়, সম্পর্কের জটিলতা, সামাজিক তুলনা, সব মিলিয়ে অনেকেই এক ধরনের নীরব মানসিক ক্লান্তি বহন করছেন। বাইরে হাসি থাকলেও ভেতরে ভাঙনের শব্দ শোনা যায়। মনে হয়, জীবন যেন কেবল দায়িত্বের তালিকা, অনুভূতির জন্য জায়গা নেই। এই জায়গাতেই মানুষ সবচেয়ে বেশি হারিয়ে ফেলে আশাকে। ইসলাম এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে না। বরং মানুষের মানসিক ভাঙনকে স্বাভাবিক বলেই গ্রহণ করে কিন্তু সেখানে থেমে যাওয়াকে গ্রহণ করে না। কুরআন মানুষের এই দুর্বল মুহূর্তেই সরাসরি কথা বলে।
আল্লাহ বলেন-“তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।” (সূরা যুমার, আয়াত ৫৩)
এই আয়াত শুধু ধর্মীয় সান্ত্বনা নয়; এটি এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি- ভুল, ব্যর্থতা বা পাপের পরেও জীবন শেষ হয়ে যায় না। মানুষ যত দূরেই সরে যাক না কেন, ফিরে আসার দরজা বন্ধ হয় না। আধুনিক মনোবিজ্ঞানে যাকে second chance mindset বলা হয়, কুরআন সেই ধারণাকেই শত শত বছর আগে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে দিয়েছে।
অনেকেই ইবাদতকে শুধু পরকালমুখী বিষয় হিসেবে দেখে। কিন্তু ইসলামে ইবাদতের আরেকটি বড় দিক হলো- মানসিক ভারসাম্য। কুরআনে নামাজ সম্পর্কে বলা হয়েছে- “নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সূরা আনকাবূত, আয়াত ৪৫)
এখানে ‘মন্দ কাজ’ শুধু বাহ্যিক পাপ নয়; এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে ভেতরের অস্থিরতা, হতাশা, আত্মঘৃণা। নামাজ মানুষকে দিনে পাঁচবার থামতে শেখায়। ব্যস্ত জীবনের মাঝখানে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে নিজের বোঝা আল্লাহর সামনে রেখে দেওয়া এটাই ইসলামের সবচেয়ে বাস্তবধর্মী মানসিক চিকিৎসা।
আজ মনোবিজ্ঞান যাকে mindfulness বা grounding practice বলে, ইসলাম সেটাই নামাজ ও দোয়ার মাধ্যমে শেখায় কোনো কোর্স ছাড়াই, কোনো খরচ ছাড়াই।
হতাশার সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এটি মানুষকে একা করে দেয়। মানুষ কথা বলা বন্ধ করে, সাহায্য চাইতে লজ্জা পায়। ইসলাম ঠিক এই জায়গাতেই সামাজিক বন্ধনের কথা বলে।
আল্লাহ বলেন “সৎকাজ ও তাকওয়ায় একে অপরকে সহযোগিতা করো।” (সূরা মায়িদা, আয়াত ২)
এটা শুধু দান- সদকার নির্দেশ নয়; এটা মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ। পরিবারের একজন সদস্য, বন্ধুর নীরব উপস্থিতি, বা কেউ শুধু মন দিয়ে শোনা এসবই ইসলামের দৃষ্টিতে ইবাদতের অংশ। হতাশ মানুষের জন্য অনেক সময় উপদেশ নয়, বরং একজন শ্রোতাই সবচেয়ে বড় নিয়ামত।
কুরআন খুব বাস্তবভাবে বলে, জীবন মানেই পরীক্ষা:“আমি তোমাদের পরীক্ষা করবো ভয়, ক্ষতি, ক্ষুধা ও সম্পদের ঘাটতির মাধ্যমে।” (সূরা বাকারা, আয়াত ১৫৫)
এখানে কষ্টকে কোনো অভিশাপ বলা হয়নি। বরং এটাকে জীবনের অংশ বলা হয়েছে। ইসলাম মানুষকে শেখায় কষ্ট এলে নিজেকে ব্যর্থ ভাবার দরকার নেই। বরং কষ্টের ভেতর নিজের অবস্থান মূল্যায়ন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
নবী (সঃ) বলেছেন “বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজেকে হিসাব করে।” (তিরমিজি, হাদীস: ২৪৫৯)
এই আত্মসমালোচনা মানুষকে হতাশা থেকে বের করে বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনে। অভিযোগ নয়, বরং উপলব্ধি মানুষকে সামনে এগিয়ে নেয়।
ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে হতাশা একটি অস্থায়ী অবস্থা, পরিচয় নয়। মানুষ ভেঙে পড়তে পারে, কিন্তু সে ভাঙা মানুষ হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকে না। আশা, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসা এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে ইসলাম মানসিক স্থিতির ভিত্তি তৈরি করে।
আধুনিক মনোবিজ্ঞানের resilience ধারণা আসলে ইসলামের এই শিক্ষারই নতুন ভাষা। ইসলাম মানুষকে বলে যে ভেঙেছে, সে আবার দাঁড়াতে পারে।যে পথ অন্ধকার, সেখানে আলো আসতে পারে।
হতাশার দরজার পাশেই আরেকটি দরজা থাকে ফিরে আসার দরজা। এই দরজাটা খোলার জন্য শুধু একটিই শর্ত মানুষ যেন আশা ছাড়ে না।
.
(2).png)
দোয়া মুসলমানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র
লেখক: আবদুল্লাহ শুয়াইব। ছাত্র, কুওয়াতুল ইসলাম কামিল মাদরাসা, কুষ্টিয়া
মানবজীবন এক অবিরাম যাত্রা, যা সুখ ও দুঃখ, আশা ও হতাশা, সাফল্য ও ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে এগোয়। আমরা চেষ্টা করি, সংগ্রাম করি, পরিকল্পনা করি, জ্ঞান অর্জন করি, ধন-সম্পদ সংগ্রহ করি এবং মানুষের সহায়তা আশা করি। তবু একটি গভীর সত্য আমরা অনুধাবন করি, মানুষের শক্তি সীমিত, তার সক্ষমতার সীমানা আছে। কতই না জ্ঞান, ধন বা সহায়তা থাকুক, কিছু কিছু মুহূর্তে নিজের সীমাবদ্ধতা মানুষকে বোঝায়। সেই সময়ই প্রকৃত শক্তি অনুধাবন হয়, একটি অদৃশ্য অথচ পরম শক্তির ওপর নির্ভরতা ছাড়া শান্তি ও স্থিরতা অর্জন করা সম্ভব নয়। ইসলাম সেই নির্ভরতার নাম দিয়েছে দোয়া।
দোয়া শুধু চাওয়ার প্রক্রিয়া নয়; এটি বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার অন্তরঙ্গ সম্পর্কের এক অটুট সেতু। এটি আত্মার গভীর আবেগ, হৃদয়ের নীরব আর্তি এবং বিশ্বাসের সর্বোচ্চ প্রকাশ। যখন একজন মানুষ অবলম্বনের শেষ সীমায় পৌঁছায়, যখন প্রচেষ্টা, জ্ঞান, সম্পদ বা মানুষের সহায়তা যথেষ্ট মনে হয় না, তখন দোয়া অন্তরকে আলোকিত করে, আশা জাগায় এবং সাহস যোগায়।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের স্পষ্টভাবে বলেন: “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” (সূরা গাফির, আয়াত ৬০) । রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন:“দোয়া ইবাদতের মূল।” (তিরমিযী, হাদিস ৩৫৪৯) ।
এই আয়াত ও হাদিস আমাদের শেখায় যে দোয়া কেবল প্রয়োজন প্রকাশ নয়; এটি ঈমানের প্রকাশ, ভরসার চূড়ান্ত রূপ, আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ। যে বান্দা বেশি দোয়া করে, সে আল্লাহর নৈকট্যকে অধিকতর অনুভব করে এবং প্রিয় হয়ে ওঠে।
ইতিহাস আমাদের দেখায়, নবীগণের জীবনে দোয়ার শক্তি কতটা কার্যকর। নবী ইউনুস (আ.) যখন সমুদ্রের গভীরে মাছের পেটে বন্দী ছিলেন, তিনি দোয়ার মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছিলেন (সূরা সাহাফ, ৮৭)। নবী ইব্রাহিম (আ.) যখন জ্বলন্ত আগুনে ফেলে দেওয়া হয়েছিলেন, দোয়া ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের কারণে আগুন তার জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার মাধ্যম হয়ে উঠেছিল (সাহিহ বুখারি ৩৮২৪, সহিহ মুসলিম ২৩৭৯)। নবী মুসা (আ.) যখন ফেরাউনের শক্তিশালী বাহিনীর মুখোমুখি ছিলেন, দোয়ার মাধ্যমে তিনি সাহস পেয়ে বিপদকে জয় করেছিলেন। এই ঘটনাগুলো আমাদের শেখায়, যে দোয়া কেবল মনোবল জাগায় না, বরং আল্লাহর অনুগ্রহে বাস্তব জীবনেও পরিবর্তন আনে।
দোয়া মানুষকে তিন ধরনের কল্যাণ দেয়। প্রথমত, আল্লাহ দোয়া কবুল করেন, যা আমরা চাই তার মতো। দ্বিতীয়ত, দোয়ার বিনিময়ে কোনো বড় বিপদ দূর করা হয়। তৃতীয়ত, দোয়া কিয়ামতের দিনে অগণিত নেকি হিসেবে জমা হয়। অতএব, একজন মুমিন কখনো দোয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
দোয়ার সর্বোচ্চ প্রভাব পেতে কিছু আদব পালন করা জরুরি। দোয়া শুরু করা উচিত আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসূল (সঃ) -এর ওপর দরুদ পাঠের মাধ্যমে (সাহিহ মুসলিম, হাদিস ৪০৫)। এরপর দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে প্রার্থনা করতে হবে যে আল্লাহ তা অবশ্যই শুনবেন। দোয়া শুধু বিপদে নয়, সুখের মুহূর্তেও করতে হবে। হালাল রিজিক সচেতনভাবে গ্রহণ করা উচিত। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ফলাফল না পেলেও ধৈর্য্য হারানো যাবে না। কারণ আল্লাহর রহমত শুধুমাত্র তাদের মধ্যে নেমে আসে যারা পরীক্ষার মুহূর্তেও স্থির থাকে (সূরা বাকারাহ, আয়াত ২৮৬)।
দোয়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হওয়া উচিত। নামাজের পরে, তাহাজ্জুদের সময়, আনন্দের মুহূর্তে বা দুঃখের সময়ে দোয়া করা উচিত। কারণ মানুষ ক্লান্ত হলে মানুষ তাকে ছেড়ে দিতে পারে, কিন্তু মুমিন ক্লান্ত হলে আল্লাহ তাকে নিজের দিকে টেনে নেন। দোয়া হলো এমন এক অস্ত্র, যা কারও ক্ষতি করে না; বরং যে এটি ব্যবহার করে তাকেই শক্তি দেয়, রক্ষা করে এবং আশার আলো দেখায়। দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত সাফল্যের দরজা খুলে দেয় দোয়া।
যার পাশে দোয়ার শক্তি আছে, তাকে কোনো পরাজয় জয় করতে পারে না। কারণ দোয়ার সঙ্গে থাকা মানেআল্লাহর সান্নিধ্য সঙ্গে থাকা। দোয়া মানে এক অন্তরঙ্গ আলাপ, যেখানে অন্তরের আর্তি আল্লাহর কাছে পৌঁছে, চোখের জল ও নীরব ব্যথা শোনার মতো কেউ নেই। দোয়া হলো মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি, সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়, এবং জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযাত্রী।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন