https://www.prothomalony.com/
15585
bangladesh
প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:০৪
হবিগঞ্জে সদ্য যোগদান করা জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জেলার পরিবেশদূষণ ও নদী দখলের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন পরিবেশ আন্দোলনের নেতারা। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার সভাপতি অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদ, ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ এর উপদেষ্টা ও বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াছ বখত চৌধুরী, সংগঠনের আহ্বায়ক তাহমিনা বেগম গিনি, বাপা হবিগঞ্জের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন, খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল ও পরিবেশকর্মী তাহমিনা বেগম।
নেতারা জানান, পুরাতন খোয়াই নদী, খোয়াই নদী, পুকুর–জলাশয়, পাহাড়–টিলা কাটা, বালু উত্তোলন, অবৈধ দখল এবং শিল্পদূষণে সুতাং নদীসহ পুরো জেলাই ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে। তারা নদী ও পরিবেশ রক্ষায় জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। জেলা প্রশাসক তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেন।
এ সময় শহরের পুরাতন খোয়াই নদী দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতের দাবিতে জেলা প্রশাসকের হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন পরিবেশকর্মীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, পুরাতন খোয়াই নদী হবিগঞ্জ শহরের প্রধান জলধারা। ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষা, বর্ষার পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে নদীর অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল নদীটি দখল ও ভরাট করে রেখেছে। দুই দশক ধরে পরিবেশবাদী সংগঠন ও নাগরিক সমাজ নদীটি উদ্ধার এবং স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে।
নাগরিক আন্দোলনের চাপের মুখে ২০১৯ সালে প্রশাসন নদীর কিছু অংশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও তা আবার দখল হয়ে গেছে। দখল–দূষণ এখনো চলমান, নদীর দুই তীরেও গড়ে উঠছে নতুন স্থাপনা।
স্মারকলিপিতে মাছুলিয়া থেকে পুরান বাজারের মাছবাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশে নদীর পূর্ণাঙ্গ সীমানা নির্ধারণ, স্থায়ী সীমানা পিলার স্থাপন, সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, খনন ও দুই তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন