https://www.prothomalony.com/
15542
bangladesh
প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:৪২
চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার আশায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ছুটে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাস জীবন থেকে হঠাৎ করেই দেশে ফিরে গত কয়েক মাস তিনি সন্দ্বীপজুড়ে একের পর এক অনুষ্ঠান, উঠান বৈঠক, স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। এলাকায় নিজের উপস্থিতি জোরালো করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।
ঢাকায় গিয়ে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে দেখা, কেন্দ্রেও ছিল নিয়মিত যাতায়াত। এসব দৌঁড়ঝাপ ছিল শুধু মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড তার হাতে ধানের শীষের টিকিট দেয়নি। এতে মিল্টনের প্রবাসফেরত সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। তাই শূন্য হাতে হতাশ মনে আবারও পুরানো ঢেরা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১০টিতে গত ৩ নভেম্বর প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। সেসময় সন্দ্বীপ আসন শূণ্য রাখা হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার আরও চারটি আসনের জন্য দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মনোনয়ন পান সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা।
মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর বেশ হতাশ মিল্টন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামেই অবস্থান করছেন। তার ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, “প্রবাস থেকে এসে এত দৌঁড়ঝাপের পরেও মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েছেন। তবে আপাতত চুপ থাকাই তার কৌশল।”
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, সন্দ্বীপ বিএনপির ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। এই আসনে বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের আমলে জেল-জুলুম সহ্য করে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। তবে এদের মধ্যে অনেকটা ব্যতিক্রম ছিলেন মিজানুর রহমান ভূইয়া মিল্টন। আওয়ামী লীগ সরকারের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। এরপর নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে দলীয় মনোনয়নের আশায় উঠান বৈঠক, সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়, অনুদান প্রদান, সমাবেশসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেন। এসবের পাশাপাশি ঢাকায় দলের শীর্ষ পর্যায়ের কাছেও জোর তদবির করেন। তবে এসব কিছুই কাজে আসেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বিএনপির এক নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন থাকার পর হঠাৎ করে এলাকায় সক্রিয় হন মিল্টন। স্থানীয় বিএনপির গুটিকয়েক নেতাকর্মী তাকে সমর্থন করলেও, বিরাট একটা অংশ তার বিরোধিতায় ছিলেন। তাদের মতে বিএনপিতে 'সুসময়ের মাছি'দের কোন স্থান নেই। মনোনয়ন পেতে হলে দেশে থেকেই জেল-জুলুম সহ্য করে দলের জন্য কাজ করতে হবে।
মনোনয়ন না পেলেও সন্দ্বীপের জন্য কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন মিল্টন। মনোনয়ন ঘোষণার একদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, মনোনয়ন না পেলেও আমার জন্মভূমি সন্দ্বীপের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাবো, ইনশাআল্লাহ। সন্দ্বীপের মানুষ আমার আত্মার সঙ্গে মিশে আছে তাদের ভালোবাসাই আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।
তিনি লিখেন, যারা আমাকে এতদিন শক্তি ও সাহস যুগিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আমি আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো, ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন