https://www.prothomalony.com/
15382
literature
অষ্টম বর্ষেরও সূচনা সংখ্যা—বিশ্ব সাহিত্যে কবিতার ভাণ্ডার থেকে তুলে আনা কবিতার বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করে আগ্রহী পাঠকের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা। আশা করি অনুদিত কবিতাগুলি মূল কবিতার সমান আনন্দ দানে সক্ষম হবে।
নিরন্তর শুভেচ্ছা আপনাদের সকলকে।
ফারুক ফয়সল
অপ্রকাশিত যন্ত্রণা
নাজওয়া জেবিয়ান
বাংলা ভাষান্তরঃ মোহাম্মদ হাইকেল হাশমী
সবচেয়ে কঠিন
যন্ত্রণা,
যা অনুভব করা যায়
কিন্তু
প্রকাশ করা যায় না।
শব্দরা
তোমার অন্তরে ঝড় তোলে,
চেষ্টা করে পালাতে
চোখের অশ্রু হয়ে
অথবা ত্বকের শ্বেত গ্রন্থি দ্বারা,
কিন্তু
তোমার নীরবতা,
তাদের অন্তরের খাঁচায়
বন্দি রাখে।
গাছেরা
জয়েস কিলমার
অনুবাদ: কামরুল হাসান
আমি ভাবি যে আমি কখনোই দেখব না
একটি গাছের মতো অপরূপ একটি কবিতা।
একটি গাছ যার ক্ষুধার্ত মুখ চেপে আছে
মাটির মধু প্রবাহিত স্তনের উপর;
একটি গাছ যা সারাদিন তাকায় ঈশ্বরের দিকে
আর তার পত্রময় বাহু তোলে প্রার্থনায়;
একটি গাছ গ্রীষ্মে পরিধান করতে পারে
তার চুলের খোঁপায় পাখিদের নীড়;
যার বুকের উপর তুষার পেতেছে শয্যা;
আর যে ঘনিষ্ঠ বাস করে বৃষ্টির সাথে।
আমার মতো বোকারা কবিতা রচনা করে,
কিন্তু কেবল ঈশ্বরই বানাতে পারে গাছ।
জেরুজালেমের গোলাপ-কাঁটা এবং শস্যের কান
(দৃশ্য : মেডিটেরিয়ানের পশ্চিম উপকূলের এক মাঠ)
সামিহ আল কাসিম
বাংলা অনুবাদঃ রাজু আলাউদ্দিন
শস্যের কান : হত্যা করো না আমাদের তুমি আয়ু ফুরাবার আগে
জেরুজালেমের গোলাপ-কাঁটা : কারণবিহীন হত্যা করা, এই তো আমার কাজ
শ. কা : কিন্তু তোমার সুন্দর ফুল মিষ্টি...
জে. গো. কা : বাঁধনহারা ইচ্ছে আমার সড়ক যেন...
শেষ হয়েছে তোমার মৃত্যুতে
শ. কা : কিন্তু তোমার বিষণ্ণ ফুল আর
তোমার অভিশপ্ত বিষাদ আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ে
ইচ্ছেমতো বাঁচো এবং মরো
বাঁচো-মরো যাই করো... কিন্তু আমায় ছাড়ো
জে. গো. কা : পরস্পরের ভাগ্যলিখন এই...
আমি মরছি বলেই তুমি বাঁচো
কিংবা তুমি মরো বলেই বাঁচি
শ. কা : পরস্পরের জন্যে মাঠে প্রচুর জায়গা আছে
জে. গো. কা : কিন্তু এটাই তোমার আমার ভাগ্যলিখন ভাই
এটাই নিয়তি
[আগুনের প্রবেশ]
শ. কা এবং জে. গো. কা : আমাদেরকে খুন করো না আগুন
আমরা দু’জন তরুণ কান্তি বাড়ছি একই সাথে
খুন করো না
খুন ..
খোঁজ
ইউনুস এমরে
বাঙলা ভাষান্তর : বদরুজ্জামান আলমগীর
দীনহীন এই কাঙাল এক সকল ভাবিয়া কয়
আমার মতন অভাগা আর দুঃখী ভবে কী রয়,
ভাঙা দিল হাল, মনভাঙা পাল নয়ন ভরা জল
কুটুমছাড়া দুনিয়ার এতিম আছেনি ভুবনের তল?
জনম দুঃখী কপাল পোড়া আমি যাই কথা কইয়া
বিচ্ছেদ অনলে অঙ্গ জ্বলে দিবারাতি রইয়া রইয়া,
মালিক, আর করো না দ্বিতীয় জনে এমন ভিখারী
তোমার কাছে মীন চায় নীড়াশ্রয়, ও দয়ার নিকারী।
এই মড়া যে প্রেমের মড়া পাবলিকে না বোঝে
তিনদিন পরে তারা যায় সাদা কাফনের খোঁজে,
আমারে ধোয় খালে বিলের নাপাক পানির ধারা
আমার শব ঘুম মানে না গোলাপ জল ছাড়া।
আমার দেহ কাবা শরীফ সে যে অবজ্ঞা না মানে
ঝড় তুফানের হাঁক শোনে না তোমার প্রেমের টানে,
মাটির তলে যামু না আমি চাই যে তোমার নজর
হাওয়ার উপর ভাইসা থাকুম পিপাসার্ত কবর।
সেই ঘোলাটে ছায়া
লাসজলো ক্রাস্নাহোরকাই
বাংলায় অনুবাদঃ লায়লা ফারজানা
তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল সে
কারণ তার আর কিছু করার ছিল না,
এগিয়ে যাওয়া ছাড়া ⸻
কারণ পৃথিবী এগিয়ে চলে,
বাতাস এগিয়ে যায়,
এমন কি সেই পদদলিত ধূলাও
আর সবকিছু — যা কোনোদিন শুরু হয়েছিল
এবং তারপর আর কোনো থামা নেই,
কোনো বিশ্রাম নেই,
এমন কি গন্তব্য —
কারণ তারপর আর কোনো শেষ নেই
কবি পরিচিতিঃ
———————-
কবি পরিচিতিঃ নাজওয়া জেবিয়ান , একজন লেবাননী-কানাডিয়ান লেখক, কবি, বক্তা এবং শিক্ষাবিদ। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের নাম— মাইণ্ড প্ল্যাটার, দ্য নেকটার অফ পেইন, ওয়েলকাম হোম, দ্য বুক অফ হিলিং, দ্য ওনলি কনস্ট্যান্ট, স্পার্কস অফ ফিনিক্স, কনভারসেশনস অন লেটিং গো, দ্য ওয়ান হু ব্রোক ইউ ক্যান্ট হিল ইউ।
অনুদিত কবিতা: অপ্রকাশিত যন্ত্রণা। অনুবাদ: মোহাম্মদ হাইকেল হাশমী। বাংলাদেশের কবি, লেখক ও অনুবাদক। উর্দু সাহিত্য এবং সা’দাত হাসান মান্টোসহ অন্যান্য উর্দু সাহিত্য্যিকদের কাজ বাংলায় অনুবাদের জন্য সুপরিচিত। হাইকেল হাশমী ‘শের ও শায়েরি’ শিরোনামে উর্দু কবিতা নিয়েও কাজ করেছেন।
কবিতাঃ দ্য ট্রিজ, কবিঃ আলফ্রেড জয়েস কিলমার।
আমেরিকান সেনাবাহিনীতে সার্জেন্ট থাকাকালে কিলমার ১৯১৮ সালে প্রথম মহাযুদ্ধে ফ্রান্সে মারা যান। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩১ বছর।
প্রকৃতি ও ঈশ্বর ভাবনা নিমজ্জিত কবি ‘গাছেরা এবং অন্যান্য কবিতা’ (১৯১৪) ও মেইন স্ট্রীট অ্যাণ্ড আদার পোয়েমস (১৯১৮) নামের দুটি উল্লেখযোগ্য কবিতার বই ছাড়াও প্রবন্ধ লিখেছেন, সাহিত্য সমালোচক ছিলেন, ছিলেন প্রভাষক। তিনি সম্পাদনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
অনুদিত কবিতাঃ গাছেরা। অনুবাদঃ.কামরুল হাসান।
আশির দশকের কবি। প্রথম কাব্য ‘সহস্র কোকিলের গ্রীবা’ প্রকাশিত হয় ১৯৯১ সালে। মোট ১৪ টি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও নিয়মিত ছোট গল্প ও প্রবন্ধ লিখে থাকেন। ভ্রামণিক ও ভ্রমণগদ্য লেখক হিসাবে খ্যাতিমান।
কবিতাঃ ‘কনভারসেশন বিটুইন ইয়ার অফ কর্ন অ্যাণ্ড জেরুজালেম রোজ থর্ন’।
কবিঃ সামিহ্ আল কাসিম ফিলিস্তিনী কবি। ইসরাইলি-আরব পত্রিকা কুল আল-আরবের প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তবে আরব বিশ্বে এবং বহির্বিশ্বেও তিনি মূলত কবি হিসাবে ব্যাপক পরিচিত।
অনুদিত কবিতাঃ জেরুজালেমের গোলাপ-কাঁটা এবং শস্যের কান। অনুবাদঃ কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন। নিরলস পঠন-পাঠন, দীর্ঘ বসবাস ও পেশার যোগে রাজু আলাউদ্দিন সমৃদ্ধ ল্যাটিন সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশবিশেষ বাংলা ভাষার পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ৩১। রাজু আলাউদ্দিনের কবিতা ও প্রবন্ধ ইংরেজি, স্প্যানিশ, ইতালীয় ও সুইডিশ ভাষায় অনুদিত হয়েছে।
কবিতাঃ আই ওয়াণ্ডার- ইজ এনিওয়ান হেয়ার। কবিঃ ইউনুস এমরে। তাঁর কবিতাগুলি আনাতোলিয়ান লোককবিতার ঐতিহ্যে রচিত। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে জন্মগ্রহণকারী একজন সুফি আধ্যাত্মবাদী কবি, যিনি আনাতোলিয়ার সংস্কৃতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছেন।
অনুদিত কবিতাঃ খোঁজ। অনুবাদঃ বদরুজ্জামান আলমগীর। একজন কবি, নাট্যকার ও নাট্য বক্তিত্ব এবং অনুবাদক। নাট্যপত্র সম্পাদনা করেছেন।কবিতার বই— পিছুটানে টলটলায়মান হাওয়াগুলির ভিতর, নদীও পাশ ফেরে যদিবা হংসী বলো, দূরত্বের সুফিয়ানা; ভাষান্তরিত কবিতা— ঢেউগুলো যমজ বোন, প্যারাবল— হৃদপেয়ারার সুবাস।
কবিতাঃ ছোট ছোট গীতিকবিতার 'অজা ব্রুনগোস রনিয়ানাত' থেকে একটির অনুবাদ— 'সেই ঘোলাটে ছায়া’।
কবি— ২০২৫ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী হাঙ্গেরিয়ান লেখক, ঔপন্যাসিক ও চিত্রনাট্যকার লাসজলো ক্রাস্নাহোরকাই। পাঠক সমালোচক তাঁকে মানব মনের জটিল ও গভীরে আলো ফেলা একজন উত্তরাধুনিক লেখক হিসাবে চিহ্নিত করেন। নোবেল জয়ের আগে তিনি ২০১৫ সালে ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত হন।
অনুদিত কবিতাঃ সেই ঘোলাটে ছায়া। অনুবাদঃ লায়লা ফারজানা। কবি ও অনুবাদক।
‘ঝরা পাতার র্যাপসোডি’ এবং ‘নীল ইগুয়ানা’ তাঁর প্রকাশিত মৌলিক কাব্যগ্রন্থ। তাঁর অনুবাদকৃত কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে তিনটি— ‘মার্কিন দেশের কবিতা’ ‘দ্য গ্রেট গ্যাটসবি’ ও ‘পেদ্রো পারামো’।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন