https://www.prothomalony.com/
15340
literature
জলের গোপন
কাজী জহিরুল ইসলাম
একদিন এক নদী
আমাকে একলা পেয়ে জড়িয়ে ধরল।
ঢেউয়ের ঝাপটায় ভেজালো,
ডোবালো নিজের অন্ধকারে,
আমার সাঁতার শেখা হয়ে গেল।
এখন সাহসী আমি ঝাঁপ দিই সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গে,
যখন-তখন,
তলদেশ খুঁড়ে খুঁড়ে তুলে আনি
জলের গোপন
ডাঙাক্রান্ত অসহায় মানুষের জন্যে।
ফিরছি পুরানো পথেই
কাকন রেজা
ফিরছি পুরানো পথেই
অথচ কথা ছিল অন্যরকম
নতুন বোতলে মদিরার নাম বদলে যায়
কিন্তু নেশাটা থাকে আগের জনমের
পুনর্জন্ম নিলো অভিশাপ
ধারণাটি বিস্ময়কর, আত্মা ও শরীর
মৃত্যুর পরও আত্মা টিকে থাকে
যেমন থাকে ফ্যাসিবাদ পতনের পরেও
জন্মান্তরবাদ বলা যায় নিঃসন্দেহে
নয়া শরীরে পুরানো আত্মার প্রতিস্থাপন
নতুন বোতলে যেমন পচে যাওয়া মদিরা
পচনের নেশা বড় ভয়ংকর
অতএব ফিরছি পুরানো পথেই
অথচ কথা ছিল অন্যরকম
পদ্মপাতায় ভালবাসা
শেখর ভট্টাচার্য
তারকা হোটেল কক্ষের মতো সাজানো গোছানো
ভালোবাসা
শ্রেণি কক্ষের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে শিক্ষকের মতো প্রেম নিবেদন
বীজ গণিতের সূত্রে ছায়াবৃক্ষের ডালে চিত্রকল্প আঁকতে যাওয়া
নন্দনকাননের পিচ্ছিল কাণ্ড থেকে প্রেম কুড়ানোর
আপ্রাণ চেষ্টা, ভষ্মে ঘি ঢেলে দিয়ে বিনির্মানের চেষ্টা,
অহেতুক অপ্রেমিকের কর্ম।
টইটম্বুর দীঘিতে ভেসে থাকা পদ্মপাতায় থাকে ভালোবাসা
অগোছালো এলোমেলো ছড়িয়ে থাকা কক্ষ
সূত্রহীন আলিঙ্গন,যক্ষের শেকল ভাঙ্গা আলো
গাছের পাতার ভাজে শুক-সারির প্রেমার্ত ক্রন্দন,
অনুষঙ্গগুলো বুকের ড্রয়ারে অগোছালো রেখে দিলে
ভালোবাসার শালিক ডানা মেলে কবোষ্ণ ঠোঁটে,
গভীর ঘুমের গাঙে অতন্দ্র শয্যা শেষে
খরাক্রান্ত চৈত্রে ভালোবাসা বৃষ্টি হয়ে গন্ড দেশে চুইয়ে পড়ে,
ভালোবাসা বাদাম তোলা নৌকোয় -
উদাত্ত এক ভাটিয়ালি গান।
ভুল বাহার
শরিফুজ্জামান পল
কেন জানি ভুল করাই হয়েছে নিত্য কর্ম
ভুল মানুষে খুঁজে পাই ভুল প্রেমের গল্প,
জীবন কাটল ভুল করে ভুল পথে হেঁটে
ভুলের ছায়ায় সত্য খুঁজি নিঃশব্দ এক রাতে।
যাদের ভেবেছি আপন ফিরল না পিছে
তাদের চোখে শূন্য আলো ভাঙা আয়না শেষে,
ঠিকের খোঁজে হাঁটতে গিয়ে পথ হারাই বার বার
ভুলের ভিতর পাই -এখন ঝিনাই যমুনার পার।
ভুলই যেন প্রথম গুরু দেখায় সত্যের বাণী
ভুল আশ্রমে জনম গেলো ঠিকানা পাইনি ,
ভুল করেই শিখেছি ভুলের ঘরে কীভাবে
ভাঙা হৃদয় নতুন করে আশার ঘর বাঁধে।
যতই হারাই পাই আবার নতুন করে জেতা
ভুলের হাটে জমে আবার প্রেম যমুনা মেলা,
হাজার ভুলের জখমে পোড়ামন যে দগ্ধ
ভুলের ভীড়েই খুঁজে পাই নতুন জীবন চিহ্ন।
ভয় পাই না ভুলে আর ভুলই জনম সাথী
ভুল আকাশে গান গায় ভোরের ফিনিক্স পাখি।
বিশ্বাস
মোজাম্মেল হক সজল
প্রণয়ের প্রথম লগ্ন থেকেই
নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছি তোমায়
মেলে ধরছি তোমার স্পর্শের নাগালে।
তুমি খুঁটে খুঁটে খাচ্ছো
যখন তখন ইচ্ছে মতো খাচ্ছো।
প্রতিদিন আমার চেতনা খাচ্ছো,
প্রেমাশ্রিত হাতের আঙুল খাচ্ছো,
তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখের ঘুম খাচ্ছো,
অভিমান মিশ্রিত ঠোঁট খাচ্ছো,
অভিযোগের বিশ্রি বাক্য খাচ্ছো,
আমার ইচ্ছা-অনিচ্ছা সবই খাচ্ছো।
শুধু আমার বিশ্বাস টুকু খেয়ো না।
মিছা সুখ
স্বপ্ন কুমার
সোনার প্রলেপ দেয়া পেতলের মুখ
কুমারে সবারে বলে এই হলো সুখ
কই গেলে সুখ পাইবায় তুমি
কই গেলে খোঁজ পাইবায় তার
সুখের পিছে এতো ঘোরা
ঘুরিতেছো কেনে কও কুমার
সুখের পিছে কেনে ঘুরো
সুখ আসলে কিছুই নায়
মিছা শান্তি পাওয়ার লাগি
মানুষে মিছা সুখ বানায়।
অদ্ভুত জঙ্গল
আমিনুল ইসলাম
এখানে রক্তের দাগ-ওখানে টাটকা খুলি
বামে বাঘের থাবা তো-ডানে কুমিরের দাঁত
কিন্তু কোথাও শেওড়ার আড়াল নেই-
শালের বাগান কিংবা সুন্দরীর সারি নেই
এ এক অদ্ভুত জঙ্গল- বাঘ ভালুক হরিণ
হায়েনা-আদিম বন্যতার সবকিছুই আছে
কিন্তু নেই কোনো নদী-নেই কোনো ছায়া
কে বলে বৃক্ষ না থাকলে শ্বাপদেরা থাকে না?
কে বলে সিংহের জন্য অপরিহার্য-
শত জঙ্গলের একখানা কালো আফ্রিকা?
তাদের তাকাতে বলো- চোখ খুলে
যেভাবে দেখে সবুজ বনের ওপর ঝুলে থাকা চাঁদ।
দূরের বনে বৃষ্টি ঝরে
দেওয়ান নাসের রাজা
দূরের বনে বৃষ্টি ঝরে-মরূদ্যানে নিঃসঙ্গ এক বৃক্ষ
এমন করে ডাকছ তুমি-যেন সবার মতো
বহুদূরের আমি
একদিনও কী জানতে চাও পাতার স্বপ্ন কী
পাহার নদী পেরিয়ে যেতাম ডানা মেলে তবে।
কবির বুকে মরুভূমি অহোরাত্র তৃষ্ণা বাড়ায়
একবারও মেঘ ভাবে না যে দুঃখী কেন পাহাড়
কষ্টগুলো বরফ গলে হচ্ছে কতো নদী
অসময়ে বৃষ্টিপাতে বুকের প্রান্ত ভিজে।
এমন দিনে মরুদ্যানে সুনীল আকাশ ভাবছি যখন
কাছের। তখন থেকেই শূন্যতায় খয়েরী চিল
উড়ছে একা একা।
তখন থেকেই যাচ্ছে সবই ভেসে। হাজার মাইল
পেরিয়ে শেষে আকাশ যেমন দূরের। নিঃসঙ্গ এক
বৃক্ষ ভাবে, দুঃখ ঝেড়ে আকাশ থেকে
অঝোর বৃষ্টি ঝরে।
জীবন মানেই কি শুধু ছুটে চলা
হৃদয় বোস
জীবন যেন এক বয়ে চলে নদী,
নীরব অথচ অদম্য তার গতি।
কখন কোন দিকে মোড় নেয়,
বুঝবার উপায় নেই—
আকাশের মেঘের মতোই অনিশ্চিত সে যাত্রা।
ভালো বলার মতো কিছুই যেন নেই,
তবু চলতে হয়—
দিন যায়, বছর গড়িয়ে যায়,
দীর্ঘশ্বাসে মিশে যায় অনুচ্চারিত আশা।
কখনো মনে প্রশ্ন জাগে—
এটাই কি তবে জীবনের মানে?
এই অবিরাম ছুটে চলাই কি
জীবনের একমাত্র পরিচয়?
নদী যেমন থামে না, তেমনি থামে না জীবনও
তবু কোথাও না কোথাও
আমরা খুঁজে ফিরি সেই নীরব তীর,
যেখানে ছুটে চলারও বিশ্রাম মেলে!
ঠিকানা কোথায়
হাসান মাহমুদ
কোথায় যায় পথিক—
পথের ঠিকানা আছে কি জানা?
মহাশূন্যে কত নক্ষত্র হারায় দিক,
তবু খুঁজে পায় না ঠিকানা।
কত নক্ষত্ররাজি গেছে কৃষ্ণগহ্বরে,
কত নাবিক ডুবেছে মৃত সাগরের তীরে।
কতজন আর ফেরেনি ঘরে,
পথে নামো পথের সন্ধান করে।
জানি না আমি ঠিকানা কোথায়,
লোনাজলে ভাসি আর ডুবি।
কালের স্রোতে সময় ফুরায়—
আমিও তেমনি এক পথভোলা কবি।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন