https://www.prothomalony.com/
15203
literature
হলুদ সুর বুনে থাকার নামই বাইশে শ্রাবণ
সোমা পালিত ঘোষ
এক পশলা অসমাপ্ত শ্রাবণ গল্পে বিলাসী পরমায়ু।
জল থৈ থৈ হৃৎপিণ্ড তবু নৌকো হতে চায় বারবার।
বারান্দা জুড়ে রোদ্দুরের বাস। দু একটা ফুলের পাঁপড়ি।
ধুকপুক অলিন্দে নিলয়ে ঘন মেঘের আলিঙ্গন।
উশখুশ হেমন্ত বেলায় ব্যস্ত শহরের পথঘাট।
নদীর ঘুম ভাঙ্গাতে পাখি জন্ম চেয়েছিল
আটপৌরে দৈনন্দিন...তবু, দ্যাখো ঘাটে বাঁধা
নৌকোগুলোর বাড়ছে দাবি। ঠোঁটের উপর
ছড়ানো আলোয় জলীয় সুবাস।পারদ ডুব শরীর তখন নদী।
ছায়ামাখা রাখাল পথে কোনো অপরাধ আঁকা হয় না।
শহর জুড়ে ভীষণ ঝড়ে চলো নিখোঁজ হই।
গদ্যের পৃথিবীতে বৃষ্টি মাখা হলুদ সুর বুনে থাকার নামই বাইশে শ্রাবণ।
ডেফোডিল সমাধি
সু শা ন্ত হা ল দা র
স্বভাবে ক্ষত্রিয় হলেও অনার্য ভিক্ষুক আমি
রক্তচন্দন চাইতে আসিনি
এসেছি চাঁদ ধোয়া জলে ভরে উঠুক নীলক্ষা নদী
ফলিত বীজ যেন জননী তুষ্টিতে ভরে উঠে কৃষকের মাটি
আত্মবিহনে আমিও যেন বৃক্ষধ্যানে হরিতকী মিষ্টতায়
অশ্বত্থ হতে পারি
তেমন কিছু চাইতে আসিনি
যদি প্রেম দাও
ভুলে যাব বল্কলে খোদাই করা কুড়াল কাহিনী
ব্যথা জর্জরিত মনে সুখাসনে বিরাজমান হবে সূর্য্যমুখী
হাসি,
ক্ষত্রিয় হলেও ভুলে যাইনি
নিরস্ত্র প্রেমে গোলাপ বুকে ডেফোডিল সমাধি!
আশৈশবের ক্ষত
আনন্দ পাল
শৈশব কার না থাকে, ভুলে গিয়ে
থাকতে পারে কে'বা! মাটি ফোঁড়ে
বেরিয়ে আসা চারা গাছের মতো
কড়া নাড়বেই সে বার্ধ্যকের ডোরে।
অবুঝ মন, তার সবুজ পাতায় আঁকে
হরেক রকম দস্যিপনার ইতি-
স্কুল-পালানো, মিছেমিছি বর-বউ
খেলা, দৌঁড়ঝাপ, জল-সাঁতারের স্মৃতি!
শৈশব মানে, হার না মানা মনে
আকাশ ছুঁতে ঘুড়ির মতো উড়া
শৈশব মানে, দ্বিধাহীন হৃদয়ে
ছুঁতে চাওয়া দূর-পাহাড়ের চূড়া।
শৈশব মানে,অবিশ্রান্ত চিলের
মতো নির্ভীক মনে বেড়ে উঠা।
শৈশব মানে, মায়ের আঁচল ধরে
হাসনাহেনা, বকুল হয়ে ফোটা।
তিলে তিলে গড়া মৌমাছিদের
সংগৃহীত মধুর চাকের মতো
স্মৃতিভাণ্ডার খুলে দেখি, তাতে
লেগে আছে আশৈশবের ক্ষত।
শরৎ এর স্নিগ্ধতায়
আব্দুস সাত্তার সুমন
নীল আকাশের নিচে- পাহাড়ের বুকটি চিরে বয়ে গেছে
ঝর্ণা, শরৎ এর স্নিগ্ধতায় ভোরের রূপে ছড়ালো চারিদিক,
সাদা সাদা কাশবনে অপরূপায় ডানা মিলে আছে প্রকৃতির সবদিক, আহ্বান করে বলে এসো..আমার সরলতায় সুন্দরে মিশে যাও কোন একদিন।
আমি ছুঁতে চাই সেই শীতল জলপ্রপাত, ছুঁতে চাই সেই নীলাঞ্জনা, দূর থেকে মনে হয় এটাই বাস্তবের মূর্ছনা- কিন্তু কাছে এলে মুছে যায় সব বেদনা।
নৈঃশব্দের নিমন্ত্রণ
মাহমুদা মৌ
ধুলোমাখা আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ধরে
হেঁটে চলি নিরুদ্দেশ!
চৈত্রের প্রখর রোদ আর বিধ্বস্ত আমি—
কি যেন, কি যেন বলতে চাই!
আনমনা, উদাস ভাবনাবিধ্বস্ত বিষণ্ণ আমাকে
কোনো অদৃশ্য রেখার পথ বেয়ে নিয়ে যাচ্ছে উড়ে,
যাচ্ছি ছায়া হয়ে।
মাটির স্পর্শও বুঝি না,
বুঝি না আকাশ ছোঁয়ার অনুভব,
বুঝি না ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার কীটতত্ত্ব!
হঠাৎ সম্বিত ফিরে আমি
শুনছি, বলছে যেন কে—
দূরে যাবার দরকার কি?
কাছে আসার অধিকার নেই বুঝি তোমার?
ভাবছি—
আমার শুধু আমিই,
নাকি নৈঃশব্দই আমার সঙ্গী!
বিষাদের করাত
হোসেইন দিলওয়ার
নির্বাক ভালোবাসা ছুঁয়ে ভিজে যায় সৌধের মাস্তুল।
কাল্পনিক চুমুর শিহরনে, বে-সম্ভব ভালোবাসার স্থায়ী
বিনির্মাণ চায় সিদ্ধহস্ত চতুরেরা এবং সর্বোচ্চ মূল্য হাঁকায় কেবল নিজেদের জন্য।
ঘাসের মতো শুকিয়ে যায় যাত্রার জ্যা ও জ্যামিতি।
সুখটাকে বাণিজ্যিক সাবানের অস্থায়ী বুদ্বুদ বৈ -
কিচ্ছু মনে হয় না।
চাল ফুটো করা আড়ম্বর বর্ষায় সিক্ত হওয়া জীবন চুল্লিও বেদনার এক জীবন্ত সৌধ। কিন্তু এখানে কোনো দর্শনার্থী নেই! কেননা, দুঃখের কোনো জিরো ফিগার নেই; দুঃখের কোনো বাণিজ্য মেলাও নেই!
এখানে কেবল ধার তোলে অবিক্রীত বিষাদের পরিচিত করাত।
হায়রোগ্লিফিক
ইসতিয়াক আহমেদ হৃদয়
'ভালোবাসি' কথাটা বলতে গেলেই
অপভ্রংশের উৎপত্তি হয়।
ঘৃণার জন্মটা ঠিক সেখানেই।
আর্যভারতীয়দের আবিষ্কৃত ঘৃণা-
শতমের শাখায় আমাদের প্রবল প্রেমের উৎপত্তি।
তারপর চর্যাপদের মধ্যে স্বইচ্ছায় হারিয়ে যাওয়া-
সংসার—
কাম—
বিরহ—
যে সাহিত্য ব্যাকরণ তুমি বারবার ভুলে যাও।
প্রেম কখনো কখনো সাংঘর্ষিক আঁতাতে দীর্ঘস্থায়ী হয়!
বিপ্লবের অভিধান
শাহীন সুলতানা
আকাশ ছুঁইছুঁই করছে আগুনের লেলিহান শিখা, সে
আগুনে পুড়ে যাচ্ছে দেশ, স্বপ্ন, আর সভ্যতার ককপিট! লুটেরার হাতে নিরোর বাঁশি।
হাতুড়ি বসেছে মনুষ্যত্ব নামক অভিজাত শব্দের পিঠে,
রাত্রির কান্না দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছে ঘাতক;
ফাঁসির দড়িতে আঁটকে থাকে সময়ের মানচিত্র।
তবু জোয়ান দাঁড়ায় ঘুরে... বিপ্লবের প্রতি পদক্ষেপে-
এঁকে দেয় বলিষ্ঠ নেতৃত্বে স্বপ্নের অভিধান।
সাকিনা বেওয়া
দেবব্রত সিংহ
চার
তাণ্ডব চালিয়ে চলে গেছে তারা। এখন খালপাড়ের সাকিনা বেওয়ার ছিটেবেড়ার ঘরের খণ্ডহরের সমুখে খাঁ-খাঁ করা নির্জনতা। কপালে হাত দিয়ে অসম্ভব বিমর্ষমুখে পা ছড়িয়ে বসে আছে সাকিনা। চোখের সামনে এই তাণ্ডব এই ভাঙচুর এখনও সে বিশ্বাস করতে পারছে না। এখনও মেনে নিতে পারছে না। কী করবে, কোথায় যাবে খুঁজে পাচ্ছে না কিছুই। যে-বার নদী বাঁধের ভাঙনে তার ঘর ভেসে গেছিল সে-বার ছেলেটা ছিল পাশে। ঘর তো তার একার ভেসে যায়নি, আরও অনেকের গেছিল। সেদিন তারাও পাশে ছিল। ভাঙনের হা-হুতাশ, ভাঙনের দুঃখ, বাঁধভাসির কষ্ট সেদিন ভাগ করে নিয়েছিল সবাই মিলে।
আজ কেউ নেই। এই তাণ্ডবের পরে এই বিধ্বংসী ধ্বংসলীলার পরে তার ধারেপাশে কেউ নেই। সাজিদা বিবি পর্যন্ত দোর লাগিয়ে বসে আছে ঘরের ভিতরে। ভাবতে ভাবতে উঠে দাঁড়িয়ে জায়গাটার দিকে একবার মুখ ফিরে তাকালে সাকিনা। এখানেই কি ঘরটা ছিল। বুঝতেই পারা যাচ্ছে না।
ঘরের কোনও চিহ্ন রেখে যায়নি ওরা। টুকিটাকি কত কী জিনিস, বাসনকোসন, কাপড়চোপড় কিছুই রাখেনি। কুলুঙ্গিতে তুলে রাখা ছোটো টিনের কৌটোর টাকাপয়সা, বাজারের ব্যাগ, ছেলের কিনে দেওয়া নতুন মোবাইল এসবের কিছুই রাখেনি। সব লুটপাট করে নিয়ে চলে গেছে ওরা।
দেখতে দেখতে কেমন যেন খেই হারিয়ে যাচ্ছিল সাকিনার।ভোর-সকালের রোদে ঝলমল করছিল আকাশটা। অন্তহীন অসীম নীলাকাশ। সেই নিঃসীম নীলাকাশের নিচে দাঁড়িয়ে বুঝে উঠতে পারছিলনা সাকিনা, সে এখন কোথায় আছে। কোথায় আছে দাঁড়িয়ে?
কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বাইকের শব্দে ভেঙে গেল ঘোরটা। সাকিনা দেখলে, দূর থেকে দেখল খালপাড়ের রাস্তা দিয়ে রাকিবুলের বাইক বাহিনী আসছে। তার এদিকেই আসছে।
আবার কীসের জন্য আসছে ওরা। কী নিতে আসছে। কিছুই তো নেই আর।
কৌতূহলটা খানিক পরেই মিটিয়ে দিলে রাকিবুল। বাইক বাহিনীর দলবল নিয়ে মসজিদের নতুন মৌলভী সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে সাকিনা বেওয়ার সামনে এসে দাঁড়ালে ওরা।
রাকিবুল বললে, "আমরা সালিশি সভা করতে এয়েছি। কথাটা শুনে নে।তোকে জরিমানা দিতে হবে এক লাখ টাকা। আজ সন্ধ্যায় আজানের আগেই দিতে হবে। যদি না দিতে পারিস তাহলে গেরাম ছেড়ে চলে যাবি।আর ঢুকতে পারবিনি গেরামে।"
এমএলএ সাহেবের এই অমোঘ নিদান, প্রধানবাবুর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করলে রাকিবুল। তার ঘোষণার পরে বাকিরা সবাই সায় দিলে মাথা নেড়ে। একজন বললে, "তুমি যা করেছ তার কোনো ক্ষমা নেই। মনে করে দেখ যখন বাঁধ ভেঙে গেছিল, বাঁধের জলে তোমার ঘরদুয়ার ভেসে গেছিল তখন কে দেখেছিল তোমাকে। আমাদের দলের ছেলেরাই দেখেছিল। সেসব তুমি ভুলে গেলে! ভুলে গিয়ে দলের নামে উলটো-পালটা যা মুখে আসে তাই বলে দিলে। আমাদের এমএলএ সাহেব খুব ভালো মানুষ। না হলে তোমার যে কী হত আজ সে আর কী বলব।"
নতুন মৌলভী সাহেব বললেন, "ঠিকই তো। একদম ঠিক কথা বলেছ। শুন সুকুরের মা, কাজটা তুমি ভালো করনি আদৌ। যার নিমক খেয়েছ তারই বদমান করেছ।"
রাকিবুল বললে, "ঠিক আছে আমরা চললাম। কথাটা আরেকবার বলে যাচ্ছি, ভালো করে শুনে রাখ, জরিমানার এক লাখ টাকা আজ সন্ধ্যার মধ্যেই মিটিয়ে দিতে হবে তোকে। তারপরে আর কোনো কথা শুনব না আমরা, এটা কিন্তু মনে রাখিস।"
সবাই ভেবেছিল হাতে পায়ে ধরে 'যা করেছি দোষ করেছি' বলে কেঁদেকেটে জরিমানাটা মকুব করার জন্য বলবে সাকিনা বেওয়া। সেসব কোনোকিছুই সে বললে না। সালিশি সভার নিদান ঘোষণার পরেও সে একটি শব্দও উচ্চারণ করলে না। চুপচাপ পাষাণ মূর্তির মতন দাঁড়িয়ে থেকে কথাগুলো শুধু শুনে গেলে। সবার কাছেই ভারি অদ্ভুত ঠেকল ব্যাপারটা। সালিশি সভায় যেমনটা হয়ে থাকে সেসবের কিছুই হল না। সবারই মনে হতে লাগল সালিশি সভায় এরকম একটা ঘোষণার পরেও এত নির্বিকার, এত নিরুত্তাপ, এত নিরুচ্চার থাকে কী করে মানুষ!
পাঁচ
রাত এখন কত কে জানে। ইস্টিশানের লাইনপারে গঞ্জের বাজারের ওদিকে বড় খাঁ গাজীর মাজারে অবসন্ন শরীরে উপুড় হয়ে শুয়ে সাকিনা বেওয়া বললে---
"হে গাজী সাহেব। হে বড়খাঁ গাজী। আমি এয়েছি বাবা। তুমার মাজারে এয়েছি। বড়ো নিরুপায় হয়ে এয়েছি। আমি দেউলপোতার খালপাড়ের সুকুরের মা সাকিনা বেওয়া।
তুমাকে আর কী বলব বাবা। তুমি ত জান সবই। ই জগৎ সংসারে তুমার অজানা নাই কিছুই। তবু বলছি বাবা। সত্যি বলছি।
ওই ভাইরা না ভাইরাল যে কি জিনিস সে আমি জম্মেও জানি নাই। শুনিও নাই কোনওদিন। গঞ্জের বাজারে রোজ যেমন শাকপাত বেচি সেদিনও বেচছিলাম। একটা ছেলে শাক কিনতে এসে এ-কথা সে-কথায় গপ্পো জুড়ে দিলে আমার সঙ্গে। খালপাড়ের কোন্ পাড়ায় থাকি। ঘরে কে আছে। ছেলে কী করে। কোথায় থাকে। কী কাজ করে। নদীবাঁধের ভাঙনে ঘর ভেসে যাওয়ার পরে পঞ্চায়েতের পাকা ঘর পেয়েছি কি না। সেই ঘরে থাকতে এখন কেমন লাগছে---এসব নানান কথা। আমি তার মুখের উপরে মিছা কথাটা কী করে বলি বলত বাবা। যেটা সত্যি সেটাই বলেছি।ঘরের টাকা বাবুরা ভাগ করে খেয়ে নিলে ঘর কী করে হবে। ওই ভিতের উপরে গাঁথনিটুকু হয়েছে, তারপরে আর হয়নি কিছুই। তুমি বিশ্বাস কর বাবা, এর বাইরে একটাও কথা বলি নাই আমি।
তার জন্যে ওরা কী করলে জান। ওরা ওই জিসিবি না কী বলে সেই মিশিন দিয়ে এক নিমিষে গুঁড়িয়ে দিলে সব। আমার ছিটেবেড়ার ঘরখানা কত কষ্ট করে আমরা মা-ছেলে মিলে তুলেছিলাম। সেই ঘরটাকে পর্যন্ত রেহাই দিলে না। একদল ছেলে আমাকে ঠেলে ফেলে দিয়ে ঢুকে পড়লে ঘরে, মোবাইল খুঁজতে ঢুকে পড়লে। তারপরে ভাঙচুর করে ছিটেবেড়ার ঘরটাকে মাটিতে মিশিয়ে দিলে। ঘরের ভিতরে জিনিসপত্তর যেখানে যা কিছু ছিল সব নিয়ে গেল লুটপাট করে। তাতেও ছাড়লে না বাবা। আমাদের গেরামের পঞ্চায়েতের মেম্বার রাকিবুল ওর দলবল নিয়ে নতুন মৌলভী সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে সালিশি সভা ডেকে এক লাখ টাকা জরিমানা করলে, না দিতে পারলে সন্ধ্যার আজানের আগেই গেরাম ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা শুনিয়ে দিলে।
কী আশ্চয্যি দেখ বাবা! পাড়ার লোকে দেখল সবই, শুনল সবই, তবু কেউ মুখ দিয়ে টুঁ শব্দটি করল না।
আর কী বলব বাবা। আমি সাকিনা বেওয়া। বিধবা মানুষ। গরিব মানুষ। আমি শুধু একটা কথা বলতে এয়েছি। যারা আমার ঘরদুয়ার, ভিটেমাটি গুঁড়িয়ে দিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দিলে গেরাম থেকে, তাদের তুমি ছেড়ে দিওনি বাবা। তুমি তাদের ছেড়ে দিওনি।
মাজার থেকে উঠে বাঘের পিঠে চড়ে দেউলপোতার খালপাড়ে গিয়ে এর একটা বিহিত কর। তুমি আজই একটা বিহিত কর।"
ছয়
দেখতে দেখতে গড়িয়ে গেল রাত। দহন-দিনের গ্রীষ্মের রাত। গঞ্জের রাস্তায় টিমটিম করে জ্বলতে থাকা আলোর মাথায় কৃষ্ণপক্ষের মধ্যরাত্রির নক্ষত্রেরা এল নেমে। তখন দুঃসহ ক্লান্তিতে আক্লান্ত শরীরে মাজারের থানে আঁচল পেতে শুয়ে নিঃসহায় নিঃসম্বল নিরাবলম্ব সাকিনা বেওয়া আচ্ছন্ন করা ঘুমের ঘোরে দেখলে বাঘের পিঠে চড়ে যোদ্ধার বেশে মাজার থেকে বেরোচ্ছেন বড় খাঁ গাজী।
তিনি একা নন। তাঁর সঙ্গে সুকুরের বাপও।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন