https://www.prothomalony.com/
15025
decoration
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ০৪:০২
ফটোগ্রাফি শুধু ক্যামেরার ক্লিক নয়। এটি মুহূর্তকে ধরে রাখার এক শিল্প, যা সময়ের সীমা পেরিয়ে গল্প বলে। আলো-ছায়া, রঙ, আবেগের মেলবন্ধনে ফটোগ্রাফাররা আমাদের জন্য তৈরি করেন দৃশ্যমান কাব্য, যা প্রত্যেক দর্শকের মনে আলাদা অনুভূতি জাগায়।
এই প্রতিবেদনে আমরা কথা বলেছি দুইজন সৃজনশীল ফটোগ্রাফারের সঙ্গে, যাদের কাজের মধ্যে মিশে আছে জীবনের নানা গল্প ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি। তাদের অভিজ্ঞতা, অনুপ্রেরণা এবং সৃষ্টিশীল যাত্রার কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।
ধন্যবাদান্তে - রোকেয়া দীপা
ফটোগ্রাফার আলী রেহান
আলী রেহান একজন সিনিয়র আর্কিটেকচারাল ফটোগ্রাফার, সিনেম্যাটোগ্রাফার এবং স্যাফায়ার রিয়েল এস্টেট মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা।আলী রেহান এর বিশ্বাস, প্রতিটি ছবি একটি মুহূর্তকে ধরে রাখে, ইতিহাসকে জীবন্ত করে তোলে।
শিল্পী পরিবারের বেড়ে ওঠা তিনি ছোটবেলা থেকেই শিল্পকে জীবনের অবলম্বন করে বাঁচতে শিখেছেন। তার বাবা চিত্রশিল্পী মতলুব আলী এবং মা হাওয়াইয়ান গিটার শিল্পী রেহানা সুলতানা।
বাবা মা তাকে ছোটবেলা থেকেই কাজের ভেতর দিয়ে অমর হয়ে থাকতে শিখিয়েছেন বলে জানান তিনি। এই বিশ্বাস নিয়েই গত চৌদ্দ বছর ধরে তিনি আলোকচিত্র ও সিনেমাটোগ্রাফির পেছনে সময়, শ্রম আর ভালোবাসা ঢেলে গড়েছেন তার পথ। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোস্টার গ্রুপ এর হোমস ডটকম প্ল্যাটফর্মে সিনিয়র আর্কিটেকচারাল ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন তার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান, স্যাফায়ার রিয়েল এস্টেট মিডিয়া।
শিল্প থেকে পেশায় যাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, "আমার ক্যামেরার ফ্রেমের আড়ালে আছে বহু বছরের সংগ্রাম, অধ্যবসায়, আত্মত্যাগ আর স্বপ্নের গল্প। শিল্প থেকে পেশায় যাত্রা কিছুটা এইভাবে।"
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। পড়েছিলেন ব্যবসায় প্রশাসনে। কিন্তু তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় একটি ছোট ঘটনায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফর্ম পূরণের সময় বাবা তার তিনটি শখ লিখেছিলেন: মিউজিক, ফটোগ্রাফি আর ক্রিকেট। সেই ফটোগ্রাফি শব্দটাই যেন অজান্তে তার হৃদয়ে গেঁথে যায়। পড়াশোনার ফাঁকে ছবি তোলা হয়ে ওঠে নেশা। ধীরে ধীরে ক্যামেরা হয়ে ওঠে তার নতুন স্বপ্নের জানালা।
এই আগ্রহ থেকেই বাংলাদেশের খ্যাতনামা আলোকচিত্রী চঞ্চল মাহমুদ ও প্রীত রেজার কাছ থেকে শিখেন ফটোগ্রাফির প্রাথমিক পাঠ। তখনও জানতেন না, এই শখই একদিন তার পেশা হবে।
বিবিএ শেষ করার পর তার পরিবার আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দা ভিসা পায়। সবাই ভেবেছিল তিনি এমবিএ করবেন। কিন্তু তিনি জানালেন, তিনি ফটোগ্রাফি নিয়ে পড়তে চান, এই নেশাকেই পেশায় রূপ দিতে চান।পরিবারের সম্মতিতে ২০১৪ সালে ভর্তি হন নিউইয়র্ক ফিল্ম একাডেমিতে, কমার্শিয়াল ফটোগ্রাফির দুই বছরের ফুলটাইম কোর্সে।
তিনি বলেন, "পড়াশোনার খরচ জোগাতে বাবার পেনশন, আমার স্কলারশিপ আর সেই সাথে আত্মীয়স্বজনদের আত্মত্যাগই ছিল ভরসা।"
কোর্স শেষ করে দেশে ফিরে স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে সংগ্রাম শুরু করেন। এসময় কাজ করেন কাউন্টার ফটো নামক প্রতিষ্ঠানে এবং শুরু করেন নিজের ফটোগ্রাফি স্কুল অপাসিটি। পরে স্ত্রী ভিসা পাওয়ার পর আবার ফিরে আসেন নিউইয়র্কে।
মার্কিন ক্যারিয়ার ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, "নিউইয়র্কে প্রথম কাজ করি অ্যান্টফার্ম নামের একটি ডায়মন্ড জুয়েলারির বিজ্ঞাপন সংস্থায়। অনেকের ধারণা ছিল ফটোগ্রাফার মানেই শুধু বিয়ের ছবি তোলা। কিন্তু আমি প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম-ফটোগ্রাফি একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প ও পেশা, যা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট জগতে উচ্চপর্যায়ের চাকরিও করা সম্ভব।"
ফ্রিল্যান্স জীবনে কাজ করেছেন বিশ্বের নামকরা বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের সঙ্গে-রোলেক্স, প্যাটেক ফিলিপ, গুচ্চি, রিস্ট অ্যাফিসিওনাডো, অ্যাভি অ্যান্ড কো।
তিনি মনে করেন একজন বাংলাদেশি হিসেবে এই অভিজ্ঞতা যেমন সম্মান, তেমনি দেশের প্রতিনিধিত্বের সুযোগও এনে দিয়েছিল।
তার নতুন সূচনা সম্পর্কে জানান, স্যাফায়ার রিয়েল এস্টেট মিডিয়া। ২০২০ সালের লকডাউনে তিনি অর্জন করেন (এফ-এ-এ) ড্রোন পাইলট লাইসেন্স এবং করেন রিয়েল এস্টেট মিডিয়ার ওপর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ। পরে কাজ করেন শাটারফ্লাই ও চেজ কনটেম্পোরারির মতো প্রতিষ্ঠানে।
তিনি বলেন, "কিন্তু আমার মন সবসময় চেয়েছে আরও বড় কিছু করার। তাই জন্ম নেয় আমার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান-স্যাফায়ার রিয়েল এস্টেট মিডিয়া।"
বর্তমানে তিনি এবং তার স্ত্রী এ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে তিনি বলেন, "আমাদের প্রতিষ্ঠান বিলিয়ন ডলারের রিয়েল এস্টেট প্রপার্টির জন্য হাই-এন্ড ফটো, ভিডিও, ম্যাটারপোর্ট থ্রি–ডি, ড্রোন সার্ভিস এবং ভার্চুয়াল স্টেজিং সেবা দিয়ে আসছে। গত পাঁচ বছর ধরে আমরা কাজ করছি নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও কানেকটিকাট জুড়ে। সবচেয়ে বড় কথা, একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই হাই-ভ্যালু ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করার জন্য গৌরব আছে আমাদের।"

ফটোগ্রাফার হৃদয় অনির্বাণ খন্দকার
আরেকজন ফটোগ্রাফার-হৃদয় অনির্বাণ খন্দকার। তিনি একজন আলোকচিত্রী ও চিত্রনাট্যকার। তিনি মূলত ডকুমেন্টারি ও স্টোরিটেলিং ফটোগ্রাফি পছন্দ করেন। ল্যান্ডস্কেপ, পোর্ট্রেট এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক ভিজ্যুয়াল গল্প তার ছবির বড় অংশ জুড়ে থাকে। মানুষের জীবনধারা, সংগ্রাম এবং পরিবেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তার ছবির প্রধান বিষয়বস্তু।
হৃদয় অনির্বাণ এর জন্ম ১৯৮১ সালে। তিনি একাধারে সৃজনশীল চিন্তক, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার ও সাংস্কৃতিক নথিকার। তিনি নিউইয়র্ক সিটির লা'গার্ডিয়া কমিউনিটি কলেজ (সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক) থেকে ফাইন আর্টস ফটোগ্রাফিতে অ্যাপ্লাইড সায়েন্স-এ অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ফটোগ্রাফি ওয়ার্কশপ করেছেন। পাশাপাশি তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করেছেন। বর্তমানে তিনি ব্রুকলিন কলেজে ফিল্ম প্রোডাকশনে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করছেন। এছাড়াও এখনও নিয়মিত বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন, শিল্পীদের কাছ থেকে শিখেছেন, নিয়মিত Museum, Gallery তে তিনি যান।
২০০৯ সাল থেকে তিনি চলচ্চিত্রের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কাজ করেছেন জোগি-মোশন স্টুডিও ও কারুজ কমিউনিকেশন্স এ ক্যামেরাম্যান হিসেবে; যেখানে একাধিক প্রামাণ্যচিত্র ও ফিকশন প্রজেক্টে অবদান রেখেছেন। সিণ্ডিকেট ফিল্মস এর ট্রাভেল সিরিজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি কয়েকটি টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ও করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রবাসে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা এর প্রেস ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করছেন। এরইমধ্যে তিনি চারটি আলোকচিত্রগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন: লাইফ এন্ডিউরিং ডিউরিং আ প্যান্ডেমিক (২০২০), মিসিং দ্য বিট (২০২০), মেকিং আ লট আউট অব লিটল (২০২৩) ও লিভিং অফ দ্য ল্যান্ড (২০২৪)। তার ওয়েবসাইট: www.hakhandakar.com
ফটোগ্রাফিতে আসার সখ কেনো হলো-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "কলেজে থেকেই আমি মানুষ আর পরিবেশের গল্পগুলো খুব গভীরভাবে দেখতাম। ক্যামেরা হাতে পেয়ে বুঝলাম, এই গল্পগুলো ধরে রাখার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো ফটোগ্রাফি। সামাজিক, সাংস্কৃতিক আর পরিবেশগত পরিবর্তনের গল্পগুলো ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ইচ্ছে থেকেই আমার ফটোগ্রাফির পথচলা শুরু।"
তার সৃজনশীল কাজ ফাইন আর্টস ফটোগ্রাফি ও চলচ্চিত্র নির্মাণকে একসূত্রে গেঁথে রেখেছে। মানুষের অভিজ্ঞতাভিত্তিক গল্পই তার ছবির মূল উপজীব্য বলে জানান। পছন্দের ফটোগ্রাফি সম্পর্কে তিনি বলেন," আমার পছন্দ মূলত ডকুমেন্টারি ও স্টোরিটেলিং ফটোগ্রাফি। এর ভেতর ল্যান্ডস্কেপ, পোর্ট্রেট আর কমিউনিটি-ভিত্তিক ভিজ্যুয়াল গল্প বেশি করি। মানুষের জীবনধারা, সংগ্রাম আর পরিবেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্কই আমার ছবির মূল বিষয়বস্তু।"
তার দীর্ঘমেয়াদি ডকুমেন্টারি প্রজেক্ট "রুরাল রিলস" শুরু হয় ২০২৩ সালের আগস্টে। এ প্রকল্পে তিনি আমেরিকার গ্রামীণ জনপদের পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রা ও জলবায়ু সংকটকে কেন্দ্র করে কাজ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের আদিবাসী সম্প্রদায়, মেইনের দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য গ্রাম, এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার ও ভারমন্টের কৃষিভিত্তিক অঞ্চল। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এ নিয়ে একটি বই প্রকাশিত হবে এবং একই বছরের প্রদর্শনীতে তা উপস্থাপিত হবে।
একইসঙ্গে তিনি তার আসন্ন নাট্য চলচ্চিত্র "দ্য লাস্ট ফলি"এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা বর্তমানে প্রযোজনার অর্থায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ব্রড চ্যানেল অঞ্চলে সেট করা এ চলচ্চিত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সংকট ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। কাহিনিতে দেখা যায়, এক চরিত্র দ্বিধায় পড়ে, থাকবে নাকি ছেড়ে যাবে! এর ভেতর দিয়ে উঠে আসে পরিচয়, মাটির টান, এবং "জলবায়ু উদ্বাস্তু"দের নীরব স্থানান্তরের গল্প।
তার আলোকচিত্র দেশ-বিদেশের নানা প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনীগুলো হলো-লাইফ এন্ডিউরিং-ডিউরিং প্যান্ডেমিক (একক প্রদর্শনী) খুলনা, বাংলাদেশ (১-৪ ডিসেম্বর, ২০২০), এবং প্রথম আলো অফিস, কুইন্স, নিউইয়র্ক (৩ অক্টোবর, ২০২০), মিসিং দ্য বিট (একক প্রদর্শনী) খুলনা, বাংলাদেশ (২৮-৩০ নভেম্বর, ২০২০), লকডাউন (সম্মিলিত প্রদর্শনী) ইটজি চাইনিজ, কুইন্স, নিউইয়র্ক (৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০), আদারনেস (সম্মিলিত প্রদর্শনী) স্প্রিং স্ট্রিট ন্যাচারাল, ম্যানহাটন (২১ জুন, ২০১৮)।
এ মাসেই তার নতুন একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। তার শিল্পচর্চা ক্রমাগত পরিবর্তিত ও বিকশিত হচ্ছে, তবে মূল কেন্দ্রবিন্দু থেকে যায়, মানুষের গল্প, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পরিবর্তিত ভূদৃশ্য।
হৃদয় অনির্বাণ তার প্রিয় ক্যামেরা এবং লেন্স প্রসঙ্গে বলেন, "আমি DSLR Canon 5D Mark II এবং film camera Nikon FM2 ব্যবহার করি। লেন্সের মধ্যে Canon L-series এর 35mm, 85mm, 200mm আমার প্রিয়। Nikon এর সাথে 35mm লেন্স ব্যবহার করি। শুরুর দিকে ছাত্রাবস্থায় ব্যবহার করেছি ভঙ্গুর Olympus OM1, তখন অ্র্থনৈতিক বেশ খারাপ ছিলো। "
ছবি তোলার পর সাধারণত তিনি অ্যাডোব ব্রিজ ও ফটোশপ ব্যবহার করেন। দ্রুত এডিটের জন্য মাঝে মাঝে অ্যাডোব ব্রিজ এর ক্যামেরা র' ব্যবহার করেন। এগুলোর মাধ্যমে কালার কারেকশন, ক্রপিং, টোন অ্যাডজাস্টমেন্ট ইত্যাদি করেন। পোস্ট-প্রোডাকশনে তিনি ছবির ফ্ল্যাটনেস কমিয়ে কনট্রাস্ট বাড়ানোর চেষ্টা করেন, যাতে ছবি আরও পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে।
আলো কোথা থেকে আসছে, বিষয়বস্তু কেমনভাবে ফ্রেমে বসানো হচ্ছে, কম্পোজিশন ও ব্যাকগ্রাউন্ড, ছবির মাধ্যমে কী বার্তা বা গল্প বলা হচ্ছে এগেুলো গুরুত্বর্পূণ বলে মনে করেন হৃদয় অনির্বাণ। তবে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বর্পূণ হল-ছবিগুলো ভালো লাগছে কিনা, ছবি মুর্হুতগুলো উপভোগ করছে কিনা।
একটি ভাল ছবি তোলার জন্য সঠিক কম্পোজিশন, আলো–অন্ধকারের ভারসাম্য, ছবির ভেতর অনুভূতি আর গল্প, টেকনিক্যাল দক্ষতা (শাটার স্পিড, অ্যাপারচার, আইএসও) গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
তার তোলা সবচেয়ে পছন্দের ছবি "Life Enduring During a Pandemic" সিরিজের ছবিটি, কারণ এতে মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, আশা আর এক অদৃশ্য ভয়ের সময়কে তিনি নথিভুক্ত করতে পেরেছিলেন। এটা শুধু ছবি নয়, এক ইতিহাসের দলিল মনে করেন তিনি।
এই পেশায় তার জীবনের গুরুত্বপুর্ন ঘটনা ছিল ২০২০ সালের মহামারীর সময়। সেই সময়ে তিনি ক্যামেরার মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম নথিবদ্ধ করতেন। এই অভিজ্ঞতাই তাকে পরিচিতি দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ডকুমেন্টারি প্রজেক্টের প্রতি আরও গভীরভাবে যুক্ত করে। বিশেষ করে বলতে গেলে, ঘটনাক্রমে প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকা'র সাথে পথ চলা।
ফটোগ্রাফির ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। কারণ এটি অতীত ও বর্তমানের ঘটনাকে দৃশ্যমান প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করে, যা ইতিহাসকে বুঝতে, সংরক্ষণ করতে এবং অন্যদের সাথে ভাগ করে নিতে সাহায্য করে।তিনি বলেন, "এটি যোগাযোগ ও শিক্ষাগত তথ্যের প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা মানব সমাজ, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির গভীরতর বোধগম্যতা তৈরি করে এবং মুদ্রণযন্ত্রের পর থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলির মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।"
ফটোগ্রাফি থেকে আয় সম্পর্কে তিনি বলেন, "আমি প্রেস ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করি, যেখানে সংবাদমাধ্যমে ছবি প্রকাশিত হয়। এছাড়া আমার করা ফটোবুক ও প্রদর্শনী থেকেও সামান্য আয়ের সুযোগ হয়। আমার লং-টার্ম ডকুমেন্টারি প্রজেক্ট ও ট্রাভেল সিরিজ থেকেও আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। স্পষ্ট করে বলতে, র্বতমানে ছবি আমি প্রয়োজনের তাগিদে, দায়বদ্ধতা বা নিজেকে সমৃদ্ধ করার জন্য তুলি। চলচ্চিত্র মাধ্যমই আমার প্রধান পেশা।" ভবিষ্যতে Fine-art Photography তে Mixed media নিয়ে কাজ করার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি।
নতুন ফটোগ্রাফারদের জন্য তিনি বলেন, "শুধু নিত্য নতুন যন্ত্র বা তার আপডেট নয় বরং নতুন নতুন টেকনিককে সাথে করে গল্প বলার ক্ষমতা বাড়ালে ভালো হয়। প্রতিদিন ছবি তোলা ও অনুশীলন করা খুবই গুরুত্বর্পূণ। আলো পর্যবেক্ষণ করতে পারেন কারণ ভালো আলোই ছবিকে জীবন্ত করে তোলে। ধৈর্য ধরতে হবে ও নিজের ভিজ্যুয়াল স্টাইল তৈরি করতে হবে।"
ফটোগ্রাফি এখন তার জন্য পেশা ও আবেগ দুই-ই। শখ থেকে শুরু হলেও বর্তমানে তিনি এটিকে জীবনপথ ও পেশা হিসেবে নিয়েছেন।
সাজসজ্জা থেকে আরো পড়ুন