https://www.prothomalony.com/
14887
literature
একটা গোলাপের শেষ গল্প
রিজোয়ান মাহমুদ
আমি জানলার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছি
অনুভব-কে বলি একটা গোলাপ ফোটাও
কাল তার পাতা ঝরার দিন
আমরা খেয়ালবশে কত কিছু করি
ওর গোলাপী মুখটা টিপে দিই
জোরে টিপে নাক থেকে দুধ বের করি
ঠোঁট জোড়া হৃৎপিণ্ড নিয়ে খেলি
আমাদের অভ্যাসটা এতটা আগ্রাসী
অনুভব, তুমি জানালায় চুল ভিজিয়ে দেখছ শুধু
মাঝখানে কত ফাঁকা, কতটা শূন্যতা
আমরা তারই সারাংশ - আর্তনাদ
একটা গোলাপ ফোটাতে এতটা গল্প
আমাদের-ই করতে হয়
পাতা ঝরার দিনে সম্মুখে তুমিও থেকো
দেখবে পাতার সঙ্গে তুমিও ঝরবে আলগোছে
গোলাপ ও তোমার একইসাথে মৃত্যু হলে
ফুল দেবেনা নাগর
ফুলেরও চুলে খোঁজার অভ্যাস - সেদিন তোমার
চুল প্রকাশ্য হবে না।
কবিতাপ্রকল্প প্রাইভেট লিমিটেড
মাসুদ মুস্তাফিজ
একটা পুরাতন নগরীর ছাদে আকাশ উড়ে যাচ্ছে গ্রামে
এদিকে ট্রাম্পের রাগি রগের শব্দ শাসন ভারি রবার
স্ট্যাম্পের থরথর ঈশ্বর ছাদে একা
ঘুমের ভেতর চিনি মিশিয়ে নির্ণয়াতীত-
তরুণ গোলাপ প্রকল্পে নক্ষত্রচাষ করছে-
একটা প্রাচীন বিকেল জুলাইয়ের বলিরেখায় লোলচর্মে অঝরে বৃষ্টি নামাচ্ছে
জানি-ময়ূরের পাখা বাতাস করে প্রাণহীন বৃক্ষের ঠোঁট
কেটে লিখছে কবিতা
ছুরি দিয়ে এইসব কবিতা আমাদের অনুভূতি শব্দের
অতীত প্রাচীর
এখন ঘরের সব আসবাবপত্র-রান্নাঘরময়
শখের টয়লেট লজ্জিত কবিতা হয়ে উঠছে সর্বত্র
সভ্যতার আলো
পিনাকী রঞ্জন মিত্র
আলোর ছোঁয়ায় দস্যু বাল্মীকি হয়
আলোর ছোঁয়ায় পঙ্গু পাহাড় লঙ্ঘায়
দস্যু ও যাযাবরে সত্যের আলো দিতে যে বাণী
দেখিয়েছিল পথ
যে বাণী গভীর অন্ধকারেও আলো জ্বেলে ছিল
বিদ্যুৎ ছটায়
তাকেই, বিকৃত করে ঈশ্বরের পুস্তক বলে চালিয়ে যাচ্ছে এক দল, বিকৃত রুচিবোধ, সুবিধা বাদীর ছল।
শান্তির আলো জ্বেলে দেবে বলে তোতার বুলিতেই
সেই পুস্তকের নামে
অশান্তির আগুন ছড়াচ্ছে চারিদিকে।
সভ্যতার রাস্তা দিয়ে হাঁটছে মানুষ মানবতা বুকে করে,
অসভ্য বর্বর আজও হেঁটে যেতে চায় গভীর আঁধারের
পথ ধরে
চোখে যার ঠুলি বাঁধা, অন্ধ সে, আলো তার নয়
ভুলে কি আঁধার পথ?
যার সত্য ও সভ্যতার আলোকেই ভয়!
শান্ত নদীর কথা মনে পডে.
আশরাফ হাসান
তুমি আলেয়ার মতো সম্মুখে এলেই
পেখম মেলতে চাও যেনো চৌকষ শিকারী কোনো
জানো তো আমি রোজকার ভুখাদের দলে নই
যারা উদ্ধত ক্ষুধার জিহবাকে
শুদ্ধতার আগুনে জ্বালাতে পারে নিমিষেই l
বিদ্যুতচমকের ন্যায় তুমি চোখকে ঝলসাতে এলে
আমি পেছন ফিরে বসি-যেনো কোনো ছায়াঢাকা গ্রাম
যেনো বয়ে যাওয়া কোনো শান্তজলের নদী
কারণ আমি জেনেছি আলেয়ার ইতিবৃত্তে
আকাশে বিদ্যুতের ক্ষণকীর্তি ;
তুমি সামনে এলেই বাঁক ঘুরিয়ে দিই
যেনো ধূর্ত শিকারীর যন্ত্রণায় অস্থির মাছেদের
সাগর-আশ্রমে ছুটে চলা
যেনো ভাবলেশহীন চেনা গন্তব্য ধরে হাঁটতে থাকা
কোনো নিখাঁদ নৈসর্গনাগর l
তুমি বৃষ্টিঝরার শব্দের মতো
গল্পগাথা নিয়ে হাজির হলে
আমি নিউটনের মধ্যাকর্ষণ থিউরি রিভিউ করি
বিচ্ছেদের তীক্ষ্ণ ফলায় বিদ্ধ করি সুখের শরীর l
তুমি হুটহাট আমার সামনে এলেই
আমি চিরসবুজ সাহসের নামতা পাঠ করতে থাকি
আর তুমি তো জানো আমাকে দেখলেই
আমার কলিগদের শান্ত নদীর কথা মনে পড়ে।
অপর নামহীন গল্প
স্বপন শর্মা
.
একটা গল্প পড়ছিলাম...
সারারাত অবিশ্রান্ত চোখ নিয়ে।
ভোরবেলায় মেয়েটিকে মেরে ফেলে ছেলেটি—
কৈশোরের চেনা সেই মুখ,
স্মৃতির ঘোলা জলে ভেসে ওঠে।
নাম না জানা সে মেয়েটির
নাম জানার আর সুযোগ ঘটে না।
তারপর—
গল্পটায় ডুবে থাকি আমি,
শীর্ষবিন্দু যেন হাতছানি দেয়।
পাঠকের খাটুনি উসুল হচ্ছে বোধ হয়।
ছেলেটি স্মার্ট—
সুঠাম দেহ, তাগড়া জোয়ান,
হাতে ঝকঝকে স্মার্টফোন।
ডায়াল করে, পুলিশ আসে,
ডেডবডি মুড়ে নিয়ে যায় প্লাস্টিকে।
পরে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়ে খবর—
পথচারীর অকাল মৃত্যু...
শোকের গাঢ় দীর্ঘশ্বাস
নেমে আসে আমাদের দেওয়ালে।
মোমবাতি
আবদুল বাতেন
হাত নেড়ে নেড়ে চলে যাচ্ছ, দূর থেকে
রোদ ঝলমল তুমি, লক্ষ্যে অটুট; চলে যাচ্ছ-
স্বাচ্ছন্দ্য ও সফলতার সোপান টপকে টপকে
সুখ ও সমৃদ্ধির বিশালতায়।
চলে যাচ্ছ, চির বসন্ত ওগো
আমার দৃষ্টি সীমানার ওপার দিয়ে, কথাবার্তাহীন।
কেন এই সরে যাওয়া, নীরবতা?
আমাদের কি কিছুই বলার নেই, বিদায় বেলায়?
অবশিষ্ট নেই, আমাদের সম্পর্কের কোন কিছুই?
ক্যাম্পাসে প্রথম দেখার দুর্নিবার উচ্ছ্বাস
কবিতার করমচা
গোধূলি বেলার নানা গল্প, চমকে দেয়া চুমু
জড়িয়ে ধরার ধুকপুক
গায়ে লেপটে থাকা, বৃষ্টি ভেজা তোমার শাড়ির সৌন্দর্য
কিছুই মনে পড়ছে না, এখন?
চৌরাস্তার চটপটি ও ফুচকায় ফোয়ারা, তৃপ্তির
বকুল ফুলের মালায় মুছে যাওয়া তোমার
অভিমানের কালো মেঘ।
পার্কের পাখিগুলো, গাছগুলো হেলেদুলে উঠত
আমাদের অন্তহীন কথার ঢেউয়ে।
হাত নেড়ে নেড়ে চলে যাচ্ছ, আজ দূর থেকে
প্রতিভা ও মেধার মূর্ছনায়
কিছু না বলেই ছেড়ে যাচ্ছ- জানপাখি!
বেদনা বিদীর্ণ আমি গলে গলে পড়ছি, স্মৃতির মাজারে
আগুন জ্বালা বোবা মোমবাতি।
বিরহের নীলগুলো
পুষ্পিতা সেন
হাতটাও ভালো করে ধরা হলো না,
আঙুল স্পর্শের চেষ্টা মাত্র
অনূভূতির শীতলতায় অসার হলো।
পড়ে থাকে হাত সাড়হীন।
জাগাতে আসেনি কোনো মন
ব্যাপন না হতেই বিপরীত চলন।
আকাশের বিশাল নীলে যেখানে হারিয়ে যেতে
চেয়েছি প্রেমে,
সে আমাকেই বেদনায় নীল করে গেলো।
আজ আমি নীলে লীন তাই
বিরহের দাগ কেটে সময় কাটাই।
নীলা
মৌসুমী পুলেন
কতটা অপচয় হলে মানুষ তার মন
বাক্সের মতো গুছিয়ে হাতের নাগালে রাখে,
কর্কটক্রান্তির হিসেব শিখতে গিয়ে
যুবক পপিফুলের মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হয়
মগজ থেকে সন্তর্পনে নেমে যায় মৃত্যুকূপ।
আগ্নেয়গিরির লাভা শেষ হয়,
যে দহনে লাভা হয় না
তা অনলের অমর কীর্তি।
বহু শহর ঘুরে ঘুরে
ভূগোলক বয়সী হতে থাকে
আর আমি কর্পূর।
জলের কনসার্ট
শেলী সেনগুপ্তা
কোনো সম্পর্ক টিকে থাকে অহেতুক মাত্রায়,
কোনো সম্পর্ক ব্যাখ্যার অতীত
জড়িয়ে থাকে মায়ার
হ্রস্ব এবং দীর্ঘশ্বাসে
অজান্তেই বাড়িয়েছি হাত
কাঙালের দীনতায়
কী আশ্চর্য
বাড়ানো হাতের মুঠোই উঠে এলো
মাছের দুঃখ
পাশাপাশি শুয়ে আছে রেখাগুলো
কালোত্তীর্ণ নদী হয়ে...
তবু কেন আমার বিভ্রম কানে বাজে
জলের কনসার্ট...
সমুদ্র পেরোতে হয় বোধের সাঁতারে
লুৎফা শাহিন
ছোটো-বড় অনেক গোপনীয়তা জমে আছে এই অবমুক্ত জীবনে
প্রতিদিন রাস্তা পেরোতে মর্মাহত হৃদয়ের ভাবনার প্রতিক্ষণে-
একার ভেতর এক নি:স্বতম মানুষ আর অসংলগ্নতার
বিবর্ণ দর্শন
অথচ অজ্ঞতার খামখেয়ালিপনায় আজো সীমাবদ্ধতা ও মাপকাঠির
মৌন সমীকরণ-তবুও বেশুমার বেগতিক বেগবতী
কল্পনা আমার!
এ কী জীবনের স্বতন্ত্রবোধ কোথায়-কোন ভালোলাগার আঙিনায়
কল্পনা কতোকিছু আগলে রাখি-
যখন যুক্তি তর্কে নিজের কাছে হেরে যাই
খেলামন আমার একবুক বেদান্তের ঈশ্বরবাদী জীবনে ফিরি!
আর রক্তদৃশ্যের সমুদ্রের বোধের রাস্তায় স্বপ্নবিজ্ঞান
অধ্যয়ণ করি!
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন