https://www.prothomalony.com/

14770

literature

সাহিত্য

কবিতার একপাতা— সেপ্টেম্বার সংখ্যা

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৪:২২

অক্টোবরে ‘কবিতার একপাতা’ ৭ম বর্ষপূর্তি বিশেষ সংখ‍্যা যথারীতি চার পাতায় প্রকাশিত হবে। প্রাক- প্রস্তুতি শেষ, প্রস্তুতি পর্ব চলছে। তা’বলে সেই ব‍্যস্ততার অজুহাতে সেপ্টেম্বার সংখ‍্যার কাজে কোথাও কোনো ফাঁকি কাজ করেনি।

আমরা আমাদের পাঠককে জানি। তাঁদের পাঠরুচির প্রতি শ্রদ্ধা রাখি। সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে— বাংলা কবিতার সেরা সম্ভার আপনাদেরকে উপহার দেয়ার। বিষয় বৈচিত্র‍্যে, ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিক ও ভাষিক উপস্থাপনে, ভিন্ন স্বরের কবিতাগুলি আপনাদের ভালো লাগবে নিশ্চয়ই!
আপনাদের জন‍্য নিরন্তর শুভ কামনা!
ফারুক ফয়সল


বিষাদ বিদগ্ধ বিভ্রম
মঈনুস সুলতান
 
মহরমের চাঁদের মতো কিছু বিষাদ বিদগ্ধ বিভ্রম
ফিরে আসে বারংবার—
                   ঘটে অহরহ পুনরাবৃত্তি,
কিছু ঘটনা অনাবিল অনুপম
                     ঘটে শুধু একবার,  
বিগত হয় প্রগাঢ় প্রণয়, পুরোপুরি যায় না মুছে প্রীতি
মসলিনের ভাঁজে লেগে থাকে জেনো…কর্পূরের স্মৃতি;
 
বাঞ্চা করেছি যা কৈশোরের কামরাঙা লাস্যে
কিংবা কস্তুরীর তালাশে হন্যেও হয়েছি তারুণ্যে,
বেনোজল ভেঙ্গেছিল নদীপাড় শুধু আমারই জন্যে
চাই না যে ফের—
               বালুচরে বিভ্রান্ত চখা হয়েছে নিশ্চিত
          ভালো হয় অনুপস্থিতিতে হও যদি সুস্মিত।
 

নক্ষত্রের বনে
গাজী রফিক 

 

আর আমাকে নিরীহ বলেই যারা ভালোবাসেন শুধু ,
ত্বক-চিকচিকে! পৃথিবীতে অপরিমেয় শক্তিধর, 
তাঁদের হৃদয়  আমি কখনো চিনিনি! 
ছদ্মাবরণে এঁরা আমার অন্তরের সব শুভাকাঙ্ক্ষা, 
                                         স্বপ্ন ও কল্পনাকে 
আদি থেকে  ক্রমাগত সংহার করে গেছেন।

তবু দূর; অন্ধকার রাতের আকাশের ; 
তারার দিকে জেগে আছি। 
কাচের কুয়াশা নয় যে 
জীবনের সব সত্য মুছে ফেলে দেয়া যায় ; 
জানি তো কারা মিথ্যাকে লেলিয়ে দিয়ে সত্যের সঙ্গে
নিশ্চিত করেছে তার অনিবার্য পরিণয়। 

মিথ্যার থেকে আরও কি কি কুৎসিত খুঁজে পাওয়া যায় 
এই জগতে তল্লাশি দিতে, সত্যি আমার
ঘুমগুলোকে হারিয়ে ফেলেছি নক্ষত্রের বনে!

 

ভালোবাসা
মারুফুল ইসলাম

 

আমি যখন নিরাকার নীলের মধ্যে সাদা এবং ধূসর
রঙের নানা অবয়ব দেখি
তখন সবুজের অভাব অনুভব করি
অথচ যখন সুনীল বিস্তারে শ‍্যামল বর্ণের আলপনা দেখি
তখন শুভ্রতা কিংবা ধূসরতার অনুপস্থিতি আমাকে আহত করে না

তাহলে কি আমি নীলে এবং সবুজে সমর্পিত
যে সবুজ চিরকাল ভালোবাসার রং
আর যে নীল বরাবর বেদনার
নিজেকে আমার পূর্বাপর এক জলরং ছবি মনে হয়
যেখানে ভাটি অঞ্চলের অকূল জলের বুকে আকুল
মুখ তুলে আছে ডুবে যাওয়া গাছপালা

আসলে হৃদয় এমন এক প্লাবিত ভূমি
যেখানে বেদনার জলেও বর্ষাল ধানের মতো বেড়ে ওঠে ভালোবাসা

 

কালের আয়ু
বদরুজ্জামান আলমগীর
 

তোমার বয়স হয়েছে, কোথায় যেন খানিকটা
দেখতে তুমি আহত, লাগে ধূলার মলিনতায় স্নিগ্ধ।
জীবন ও তার স্তব্ধতা, ভাঙন ভাবি কতো মেধাবী
তোমাকে ফুলের সাথে, বহতা স্বচ্ছ নদীর সনে
তুলনায় বাঁধতে, বানানো কথায় মহড়ার মত বলতে
আর পারি না যে- যতোই বলো, একদম পারি না।

তোমার কথা বলতে এখন যদি ধূলার কথা না বলি
যদি না তুলি ভাঙা স্বরের প্যাসেরিন পাখির কথা
যদি না বলি শীত গ্রীষ্মের তীব্র ঝাপটায় ফেটে যাওয়া
গাছের বাকলের কথা- তাহলে তোমার সৌন্দর্যের কথা
ঠিকঠিক বলা হবে না- এই মোড়ে এসে তোমার
নিষ্ঠাবান মলিনতা সবচেয়ে বেশি সুন্দর, বলিরেখা-
আমাদের সম্মিলিত জীবনের ভরসা, আমূল নিরাপত্তা।

সময়ও জীবনের ইজেলে সিদ্ধ হোক এমনই কঠিনের নুনে
তোমার মতই ফেব্রুয়ারি আগস্ট থাকুক অক্ষর গুনে গুনে।

 

ভাঙা আয়নার গল্প
আবদুর রব

 

পথের ধুলোয় পড়ে থাকা
ভাঙা আয়নাটি নগরীর গোপন আর্কাইভ।
প্রতিটি খণ্ডে ভেসে ওঠে
অচেনা মুখ, ছিন্ন প্রতিচ্ছবি।

শিশু সেখানে
নিজের ভাঙা মুখ দেখে হেসে ওঠে।
তার কাছে এ এক মজার খেলা।

থমকে যায় পাখি,তারপর উড়ে যায়।
আয়নায় রয়ে যায় তার উড়াল দৃশ্য,
ডানার প্রতিধ্বনি।

পথের পাশে পড়ে থাকা
আয়না শহরের খণ্ডিত দিনলিপি;
যেখানে ভগ্ন জীবনও জ্বলে ওঠে
অন্যভাবে, প্রতিফলিত আলোর
অলৌকিক ব্যঞ্জনায়।

 

দেশজ
অপরাহ্ণ সুসমিতো

 

মদিনার মায় বাড়া বান্ধে মদিনা গাঁথে ফুল
ছেমড়ির বড় দেমাগ আছে সে করে চুলবুল

ধলা গরু হাম্বা ডাকে মাইয়ার জোয়ার আসুক
নদীর গাঙ্গে মরদ মেলা নায়ের গতরই ভাসুক

তারার বাড়ি নাটক হইসে সে হইসে ভিলেন
সাহার বাড়ি বিয়া হইত শাড়ি পরসে লিলেন

হাইঞ্ছা বেলা চুঙ্গা লইয়া বেটা গেছইন বাজার
বেটি ইগুর সখ হইসে আতখা মাইঞ্ছা মারার

তারে আমি জিগার করি মাতো না কিতাল্লাগি
আয়রে আয় পিরিত করি গলায় গলায় লাগি।

 

ঘোরের ভিতর
ইকবাল হোসেন বুলবুল

 

ঘর বাঁধিয়া ঘোরের ভিতর
ঘর-কে রাখি ঘোরের ভিতর

ঘর বাঁধিয়া ঘোরের ভিতর
ঘোরকে আঁকি ঘরের ভিতর
ঘরের সাথে নিত্য ঘুরি ঘোরের ভিতর
আমার সাথে, ঘর যে ঘুরে ঘোরের ভিতর

ঘোরে ঘোরে ঘুরি
ঘুরে ঘুরে উড়ি
ঘুমিয়ে থাকি ঘোরের ভিতর
জেগে উঠি ঘোরের ভিতর
ঘোরকে রাখি ঘরের মাঝে ঘোরের ভিতর
ঘুরাঘুরি বেঁধে রাখি ঘোরের ভিতর

ঘোরের ভিতর ঘুরাই কৃষক
ঘোরের জলে ঘুরাই জেলে
ঘোরের কলম, ঘোরের তুলি
ঘোরের কাব্য ঘোরের ছবি ঘরের ভিতর
ঘোরে ঘোরে ঘরকে ধরি ঘোরের ভিতর

 

গলুক পাথর
মনিজা রহমান
 


রক্ত-রোদে পুড়ে যাচ্ছে পাথরের ঘ্রাণ
চারদিকে অর্বাচীন কেবলই নির্দয় অম্লান
দিনরাত বারুদ-গন্ধ, শান্তির ভান অক্লেশে
 
পাটাতনে পানি নেই, শিশুদের পেট-জুড়ে ক্ষুধা
নির্বোধের মূর্খ উৎসব, উইপোকা বোধে
কবিতার পঙক্তিতে ভেসে যায় রাগপ্রধান সুধা
রক্ত রক্ত খেলা পুড়িয়ে দেয় সভ্যতার অর্জন
 
খবরে কান্না বাজে, সাইরেন বৃষ্টির ধারায়
অন্ধকার ছড়াচ্ছে দ্রুত, গাছে গাছে আলোড়িত ক্ষত
প্রতিহিংসার সলতে কত আর হবে সংযত
ভালোবাসা কফিনে মুড়ে ঘৃণার চাষে ব্যস্ত পান্ডারা
 
ঋণ আজ আদিম পাথর, আড়াল করে অনিন্দ্য মুখোশ
বাতাসে বিষের জোনাক, পথে পথে লুকানো স্নাইপার
ফুলছে কলংক নদী, প্রকাশ্য স্বার্থের জোশ
রক্ত রোদে গলুক পাথর, ভেসে যাক আগুনের ধার।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন