https://www.prothomalony.com/

14485

literature

সাহিত্য

উত্তরের সাহিত‍্য

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫ ০৭:৩৪

ছেলেটা মারা গেছে 

সোহানা নাজনীন

 

ছেলেটা যখন মারা গিয়েছিল, ঠিক তখনই নিউইয়র্কে টানা তিন দিন অতিমাত্রায় গরম পড়েছিল। কন এডিসনের বারবার মেসেজ, "পরিমিত বিদ্যুৎ খরচ করুন, না হলে শহরের বিদ্যুতে ঘাটতি হবে"-সবই যেন দূরের শব্দ। ঠিক সেই সময়েই ছেলেটা মারা গিয়েছিল। শুধু মারাই যায়নি,  ওই পচা গরমে দু'দিনের জন্য ঘরের মধ্যে একা, নিঃশব্দে পড়েছিল।

জীবন কোনো টানা সুরের মতো নয়, হঠাৎ ভাঙা, হঠাৎ জোড়া, আবার হঠাৎ নীরবতার মধ্য দিয়ে বয়ে চলা এক বৈচিত্রময় রাগিনী। আমরা ব্যথিত হই, কারণ হয়তো ভিন্ন তবু সেই সুরের ওঠানামায় লুকিয়ে থাকে আমাদেরও কিছু স্মৃতির গোপন আঘাত, প্রিয়জন হারানোর শূন্যতা, কিংবা অচেনা ভবিষ্যতের ভয়।

 

বয়স বেশি না-বড়জোর ছত্রিশ। আমরা যখন এই পাড়ায় আসি, তখন তিনি পাশের বাসার প্রতিবেশী। বেইজমেন্টসহ দোতলা বাড়িটা পুরো পরিবার দখল করেছিল, বাবা-মা, ভাই-বোন, নাতি-পুতিসহ। আমার শোবার ঘরের জানালা দিয়ে দেখা যেত ব্যাকইয়ার্ডর কলরব, যেখানে বাচ্চারা খেলতো, পাশে দাদা-দাদী। একটা সময় পর নাতি-পুতিগুলো বেদিশা হয়ে উঠলে দাদা-দাদী নিয়মমাফিক ভাবে কড়া গলায় চেঁচিয়ে উঠতেন। 

সামারের শুরুতেই সাজগোজ, বিকেলের বাতাসে ভেসে আসা বারবিকিউ চিকেনের গন্ধ-প্রতিদিন যেন এক উৎসব। প্রবাসের জীবন এত বড় পরিবার, এত মিলন, আমাকে মাঝে মাঝে ব্যাথিত করত। ভাবতাম, আমার কেন নেই এমন?

 

কিন্তু সেই ঘরেই ছেলেটা একলা ছিল। বছর পাঁচেক আগে ডিভোর্সের পরে তার বাচ্চারা মায়ের সঙ্গে ব্রঙ্কস-এ থাকতো। এই করুণ পরিণতির সময় পরিবারের অন্যরা তখন ফ্লোরিডায় ছুটিতে। মানসিক ভারসাম্যহীনতা, অতিরিক্ত মদ-মিশে গিয়েছিল চূড়ান্ত নিঃসঙ্গতার সঙ্গে। 

ফ্লোরিডা থেকে পরিবারের কল এসেছিল, ছেলে ধরেনি। সবাই ভেবেছিল, "ও তো মাঝে মাঝেই ডুব দেয়।"

 

সোমবার সকালে পুলিশি গাড়ি ছেয়ে গেল আমাদের এভিন্যু। আমরা বুঝতেই পারিনি পাশের বাসায় এমন কিছু ঘটে গেছে। অথচ আমরা পাশাপাশি আছি উনিশ বছর ধরে। পাশাপাশি, কিন্তু সত্যিকারের দেখা বা বোঝাপড়া কতটুকু?

সাতদিন ধরে চলে শোক। বাড়ির সামনে কালো পতাকা উড়ছে, ডাবল পার্কিং-এ ভিড়। একেকটা গাড়ি আসে, গতি থমকে যায়, আর ট্রাফিক জ্যাম বেড়ে যায়। এত মানুষ-কোথা থেকে এলো কে জানে! ছেলেটাকে এতো মানুষ চিনতো। সে যখন একা ঘরে নিজের জীবনের সঙ্গে লড়ছিল, তখন তার পরিবার সাঁতার কাটছিল মায়ামী বিচে। 

 

জীবনসঙ্গীর সাথে বিচ্ছেদের পর তার সন্তানরাও আলাদা হয়ে গিয়েছিল। কে জানে, কতটাই বা ধরে রাখতে পেরেছিল! 

অথচ আজ মানুষের ঢল, ড্রাইভওয়ে আর ব্যাকইয়ার্ড জুড়ে সাদা তাবু টাঙ্গানো। স্মৃতিচারণ চলছে-গীতা পাঠ, ধুপ, আগরবাতির গন্ধ। একসময় সে সব ছাপিয়ে ট্রে ভর্তি খাবার, হাসাহাসি, বাচ্চাদের হুড়োহুড়ি। 

রাত গভীর হতেই ফুটপাথে জটলা, কাঁচের বোতলের টুং-টাং, অস্পষ্ট ম্রিয়মাণ বাক্যালাপ। 

 

মানুষ মাত্রই উৎসবমুখর, জীবনের স্রোতে খুব সহজেই মিশে যায়। বেঁচে থাকতে যাকে সময় দেওয়া উচিত ছিল, যাকে পাশে কিছুক্ষণের জন্য বসতে হতো, সেগুলো আমরা করি না। মৃত্যুর পর আমরা মৃতকে দেখতে যাই, মিছিল বাঁধি, শোক পালল করি, তারপর আবার যে যার মতো ফিরে যাই জীবনের উৎসবে। 

আজ সকালে ফিউনারেল ট্রাক দাঁড়ানো ছিল বাড়ির সামনে। একতলার ঘর থেকে কান্না ভেসে আসে-এটাই শেষ যাত্রা। ছেলেটা ছেড়ে গেছে সব কিছু-মৃত্যুর মতো সত‍্যের স্বাদ নিয়ে; নিঃশব্দে। মানুষের আত্মা ছেড়ে যায় নির্ধারিত সময়ে, শুধু শুন্য বাদামের খোসার মতো পড়ে থাকে কিছু স্মৃতি আর মায়া। অন্য সবাই মেতে ওঠে জীবনের জৈবিকতায়, ভুলে যায়, কে ছিল সাথে। 

 

ছেলেটা আজ সাতদিন হল মারা গেছে।

 

 

 

অশ্রু

মোঃ ইজাজ আহামেদ

 

এসেছে আষাঢ় মাস। পুকুরে-নদীতে উঠেছে খুশির ঢেউ। আকাশের মাঠে আনন্দে খেলছে মেঘশিশুরা। বৃষ্টি নামছে। মাটির মাঠে খেলছে ছেলেরা। আনন্দে বৃষ্টির ফোঁটারা লাফাচ্ছে, লাফাচ্ছে ছেলেপুলেরা। গাছের পাতারা নাচছে। ছাদে সঙ্গীত জুড়েছে বৃষ্টিরা।

 

বৃষ্টিতে স্নানরত ও বৃষ্টির মিউজিকে বিমোহিত ছাদের নিচে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে বাইরে দুঃখ ভরা নয়নে চেয়ে আছে ছয় বছরের ফাইয়াজ। সে একটি নামিদামি বেসরকারি স্কুলে ভর্তি হয়েছে, প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। ভর্তি হওয়ার পর থেকে শুধু পড়ার চাপ। তার আর্থিক স্বচ্ছল বাবা-মা কয়েকটি গৃহ শিক্ষক নিযুক্ত করেছে যাতে সে গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে মেশার অবসর না পায়। তারা মনে করে পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে মিশলে ছেলে ভালোভাবে মানুষ হবে না, পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে উঠবে। সকালে টিউশন, তারপর স্কুল, স্কুল থেকে ফিরে আবার টিউশন, শুধু হাত-মুখ-পা ধোয়া ও খাবার খাওয়ার জন্য ঘণ্টা খানেকের বিরতি তার জন্য বরাদ্দ। আজ মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষক মহাশয় আসেননি।

 

তাই জানালার বাইরে ছেলেগুলোর দিকে তাকাবার সময় পেয়েছে ফাইয়াজ আর তার মনে তাদের সঙ্গে খেলার বাসনা তাড়না দিচ্ছে। সে জানে তার বাবা-মা মনের ইচ্ছা পূরণ করতে দেবে না তবুও সে তার মনের আকাঙ্ক্ষা দমিয়ে রাখতে পারল না। সে বলে উঠল, "মা দেখ, ছেলেগুলো বৃষ্টিতে ভিজে খেলছে আর কত আনন্দ করছে! আমিও তাদের সঙ্গে খেলতে চাই।" 

তার মা বলল, "না বাবা না, তোমার ঠান্ডা লেগে যাবে। ছেলেগুলো ভালো না, তারা পড়াশোনা করে না, সারাদিন টো টো ঘুরে আর খেলে, পড়তে বসার নামই নেয় না। তোমাকে ভালো করে পড়াশোনা করে মস্ত বড় মানুষ হতে হবে। আর তাদের সঙ্গে মেশার কথা মুখে উচ্চারণ করো না, তোমার আব্বু শুনলে তোমাকেও বকবে আর আমাকেও বকা দেবে। তুমি তো জানো সে কত রাগী!" ফাইয়াজ বলল, "ঠিক আছে মা, আমি আর বলব না।" 

 

তার মা ঘর থেকে বেরিয়ে যায় আর সে বাইরে হাত বাড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। তার হাতে টপ টপ করে পড়ে আকাশের অশ্রু, তার চোখ থেকেও গাল বেয়ে চুঁইয়ে পড়ে জলের ফোঁটা। সে মনে মনে ভাবে স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে তার দিনগুলো কত সুন্দর ছিল! সে সারাদিন আপন মনে খেলত, তার খেলার সাথি ছিল অনেক ধরনের খেলনারা। বড়দের ফোনে কথা বলতে দেখে সেও হাতে কোনো খেলনা বা কাঠের টুকরো বা কোনো কিছু মোবাইল ভেবে কানে ধরে খেলনাদের সাথে কথা বলত। এখন শুধু পড়া আর পড়া। তার যত রাগ স্কুলের উপর গিয়ে পড়ে। পিঠে ব্যাগভর্তি বই-খাতা বয়ে নিয়ে যেতেও তার মনোকষ্ট হয়, তার অবাক লাগে। তার শৈশবটাই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিযোগিতার চাপে হাঁপিয়ে উঠছে শৈশব, শৈশবের আনন্দ ক্রমশ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। কালো আকাশের পানে বিস্মিত মনে অশ্রুসিক্ত ঝাপসা নয়নে তাকাল ফায়াজ।

 

 

 

পূণ্যস্নান

ছন্দা দাম

 

নরেন্দ্র বাড়ি ফিরল পাগল পাগল ভাব নিয়ে। স্টেশন থেকে যখন ওকে একটা সাইকেল রিক্সায় করে নিয়ে আসা হলো, ও তখন কি জানি বিড়বিড় করছিল।

"তনু কোথায় তুমি? কে নিয়ে গেল?"

সবার খেয়াল হলো, সত্যিই তো ওর স্ত্রী সাথে গিয়েছিল তো! জিজ্ঞেস করে কোন সদুত্তর পাওয়া গেল না।

সমব্যথী কাকা একজন বললেন..."একটু শান্তি দিবি তোরা? ব্যাটার নিজেরই কিছু ঠিক নেই! আর বৌ!"

 

সপ্তাহ খানেক পর একটু প্রকৃতিস্থ হলো। বাবা জিজ্ঞেস করলেন, "কি রে নরু বৌমার কি হলো?"

ও যেন আকাশ থেকে পড়ল। হঠাৎ চিৎকার করে কেঁদে উঠলো! "বাবাগো তনু জলে ডুবে গেল, আমার চোখের সামনে, আমি কিছু করতে পারলাম না।"

নিজের মাথা দেয়ালে মারতে মারতে চিৎকার করে বলতে লাগল, "আমার তনু কোথায় বাবা? আমার তনু কোথায়?"

 

সবাই ধরে বেঁধে ওকে আটকালো। গ্রামের সবাই ঠিক করল আপাতত কয়েকদিন ওকে আর কিছু জিজ্ঞেস করা যাবে না। তবে একটা কথা নিশ্চিত যে, তনু ফেরেনি।

খবরটা চাউর হয়ে গেল ধীরে ধীরে। কিছুদিন পর তনুর বাপের বাড়িতে থেকে ওর দাদা এলো। পুলিশ কাছারি সব হলো। নরেন্দ্র কয়েকমাস থানা জেল হাজতে আনাগোনা করল। তারপর সব থামল।

 

আজ নরেন্দ্রর দ্বিতীয় বিয়ে। ওর পাহাড় প্রমাণ জীবন কাটবে কি করে তাই গরীব ঘরের একটা সুন্দরী মেয়ের সাথে সম্বন্ধ করে বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। তনুর দাদা ও এসেছেন।

পাত পেড়ে খেয়ে তিনি বোনের বরের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বলে গেছেন, "কষ্ট পেও না ভাই। বোনের এইটুকুই জীবন ছিল। তুমি সুখী হও।" 

 

ঘরের এককোণে তনুর ছবিটা মাকড়সার জাল পেড়িয়ে দেখছিল আর বলছিল, "ভাগ্য ভালো স্বামী ফিরে এসেছেন। উনার পরিবর্তে আমি ফিরলে এই সমাজেই বোধহয় স্থান পেতাম না!" 

মৃতার আত্মা হাঁফ ছেড়ে বাঁচল এই ভেবে, কুম্ভস্নানে গিয়ে ওকে পাপ নিয়ে ফিরে আসতে হয়নি।।

 

 

 

অপরাধী 

পঙ্কজ শীল 

 

অন্ধকারের স্তব্ধতা ভেদ করে শহরের নিস্তব্ধ রাস্তায় হাঁটছিল অনির্বাণ। তার চোখে ক্লান্তি, অথচ মুখে এক অদ্ভুত স্থিরতা। মানুষের ভিড়ের ভেতর থেকেও সে আজ একাকী-অতীতের বোঝা যেন কাঁধে টেনে চলেছে। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যে রায় সে শুনেছিল, তা ছিল সমাজের কাছে অবধারিত-"অপরাধী।" কিন্তু সে জানে, মানুষের বিচার সবসময় সত্যের সঙ্গে মেলে না।

 

অনির্বাণের জীবন কোনো দিন সরল ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় সে ছাত্রদের কাছে আদর্শ ছিল-সততা, ন্যায় আর প্রশ্ন করার সাহস শেখাত। কিন্তু একদিন তারই প্রিয় ছাত্রকে আন্দোলনের মিছিলে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। সেই রাতের পর থেকে অনির্বাণ বদলে যায়। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে, আর সেই অপরাধে তাকে ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে দেয়া হয়। ঘরে বই, কলম, চিন্তার খাতাই যখন প্রমাণ হয়ে ওঠে, তখন নির্দোষ মানুষও অপরাধীর খাঁচায় বন্দি হয়ে পড়ে।

আদালতে দাঁড়িয়ে সে বারবার বলেছিল-"অপরাধ যদি হয় প্রশ্ন করা, তবে আমি অপরাধী।" 

কিন্তু মানুষের ভিড়ে সেই উচ্চারণ কেউ শুনল না। সংবাদপত্রে তার ছবি ছাপা হলো, তাতে লেখা হলো 'রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী'। 

আশেপাশের মানুষ তার দিকে তাকাল আতঙ্ক নিয়ে, বন্ধুরা সরে গেল, আত্মীয়রা দূরে সরে গিয়ে বাঁচতে চাইল। কেবল সে-ই রইল একা, নিজের বিশ্বাসের ভার বহন করে।

 

কারাগারের অন্ধকার ঘরে দীর্ঘ রাতগুলোতে অনির্বাণ ভাবত, মানুষকে সত্যি কি শুধু রায়ে বিচার করা যায়? নাকি অন্তরের গভীরে লুকোনো দায়ই প্রকৃত অপরাধ? সে নিজেকে প্রশ্ন করত, "আমি কি তবে সত্যিই অপরাধী?"

ছাত্রদের শেখানো সেই সাহসই কি আমার অপরাধ? নাকি নীরব থাকা, অন্যায়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, সেটাই প্রকৃত অপরাধ ছিল, যা আমি করিনি?

মুক্তির পরও সমাজ তাকে আর গ্রহণ করল না। পাড়ার দোকানি তাকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেয়, কেউ চাকরি দিতে চায় না, কেউ বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় না। অথচ যারা প্রকৃত অপরাধী, যারা ক্ষমতার আঁচলে আশ্রয় নিয়ে অন্যের রক্তে ভিজে ধনী হয়েছে, তারাই আজ সম্মানিত। অনির্বাণ ভাবে, অপরাধ আসলে আইনভিত্তিক নয়, এটি সমাজের সুবিধা-অসুবিধার হিসাবের খেলা।

 

এক রাতে সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখে চোখ রাখল। ক্লান্ত অথচ দীপ্ত সেই চোখ বলল-"অপরাধী তুমি নও, অপরাধী হলো সেই সমাজ, যে সত্যকে সহ্য করতে পারে না, যে প্রশ্নের মুখে ভেঙে পড়ে, যে মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে।" 

তার বুকের ভেতর থেকে তীব্র একটা হাসি বেরিয়ে এলো, যেন নিজেকে দোষমুক্ত করল সে।

সকালে সূর্যের আলো জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকল। অনির্বাণ কলম হাতে নিল। হয়তো সে নতুন এক যাত্রার শুরু করবে, যেখানে আবারও প্রশ্ন উঠবে, আবারও সমাজের দেয়ালে ফাটল ধরবে। তাকে হয়তো আবার অপরাধী বলা হবে, কিন্তু সে জানে, অপরাধী হওয়া মানে সব সময় দোষী হওয়া নয়; কখনো কখনো অপরাধী হওয়াই ন্যায়কে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র উপায়।

 

 

ভুল ফুল 

অংশুমালী বর্মন

 

খুব ব্যস্ততার মাঝে দিন কাটাচ্ছি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটা না একটা কাজ লেগেই আছে। আজ বাড়িতে ওয়াটার লাইনের মিস্ত্রি এসেছে। তাদের কাজ দেখছি। কিছু মালামাল আনতে হবে আরও। সেটার তালিকা করছে। এমন সময় মেসেঞ্জারে টুং করে শব্দ হলো। শানু লিখেছে, আপনার এলাকায় আসছি, বিকালে দেখা করতে চাই।

আমি রিপ্লাই দিলাম, আচ্ছা। 

 

কিন্তু ওয়াটার লাইনের কাজের মালামাল আনার পর,

তাদের সাথে থাকতে থাকতে কখন যে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে বেলা ডুবে গেছে, বুঝতে পারি নি।

মোবাইল যখন হাতে নিলাম, তখন দেখি অনেকগুলো মেসেজ করেছে শানু।

"কই আপনি?"

"আমি বাজারে যাচ্ছি।"

"চা খাওয়াবেন।"

তারপর ছবি দিয়েছে, জাম মাখা খাচ্ছিল, সেই ছবি।

আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম, আর মনে থাকলেও মনে হয় যেতে পারতাম না।

লিখলাম, "সরি। আমি ভুলে গিয়েছিলাম। অন্য কোনো সময় দেখা হবে। তখন চা, আড্ডা সব হবে। মনে করো বাকি রইল।"

 

শানু, কোনো রিপ্লাই দেয় নি।

অভিমান করেছে বুঝতে পেরেছি। আর এই অভিমান, ছোট্ট ছোট্ট ভুল বোঝাবুঝি গুলোই সম্পর্কে ফাটল ধরায়। সেই ফাটলে আগাছা জন্মায়, আগাছার আবরণে ফাটল ঢেকে যায়, ফুল ফোটে, তবে সে ফুল তাকে আর আমাকে এক করতে পারে না। কারণ এ গোলাপ নয়, ভুল ফুল। 

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন