https://www.prothomalony.com/
14146
bangladesh
গত বছর বাংলাদেশের রাজনীতি এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়। জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে; বিনিময়ে প্রাণ হারান শত হাজার মানুষ। এ পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নির্বাচনী ও সাংবিধানিক সংস্কার ও শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে এক বছর পরও রাজনৈতিক অস্থিরতা, অপরাধ, ধর্মীয় মেরুকরণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশ জটিল সংকটে আছে। কেউ মনে করেন, বিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্র ও বাধাই এই সরকারের অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে। আবার অনেকের মতে, সরকারের দক্ষতার অভাবও সমস্যাগুলোর একটি কারণ। বাস্তবতা হলো, এত বড় পরিবর্তনের পথে কিছু ভুল-ত্রুটি ও বাধা স্বাভাবিক। বরং সরকার এই এক বছরে কী অর্জন করেছে আর কী চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
শেখ হাসিনার পতনের এক বছর পরও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। ছাত্র জনতা যারা আগুনের মাঝে দুঃসাহসিকভাবে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লড়াই করেছেন; তারা নতুন রাজনৈতিক দল গড়েছেন, তারা পুরনো বংশানুক্রমিক দলগুলোর অত্যাচার ভাঙতে চায়। কিন্তু এই নতুন শক্তির পথেও দেখা যাচ্ছে বিরোধী গোষ্ঠীর নানা কুটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। বিরোধীরা এই দলকে ইউনূস প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ তুলছে। তাদের মতে, এই দল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুযোগ নিচ্ছে এবং অস্থিরতা তৈরি করছে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী, যা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হাসিনার সরকারের দ্বারা দমন পীড়নে ছিল। তারা আবার রাজনীতিতে ফিরে এসেছে। বর্তমানে এই দলটি ছাত্র-নেতৃত্বাধীন নতুন দলের সঙ্গে মিলে কাজ করছে, ফলে অনেকে এটিকে জামায়াতের আদর্শকে ছদ্মবেশে ফিরিয়ে আনার কৌশল হিসেবে দেখছেন; যদিও, জামায়াতের শক্তিমত্তা সম্পর্কে আমার কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই।১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এই দলটি। শেখ হাসিনা সরকার দলটিকে নিষিদ্ধও করেছিল। তবে, বর্তমানে শেখ হাসিনা নিজেই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারের সম্মুখীন।
এদিকে, নির্বাচন নিয়ে এখনও মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি রাজনৈতিক শক্তিগুলো। বিএনপি নির্বাচন চায় ডিসেম্বরেই, কিন্তু ইউনূস সরকার তা এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে চায়। সামরিক বাহিনীর প্রধানও ডিসেম্বরেই নির্বাচন চান, যা ইউনূসের আপত্তির কারণ হয়েছে। পরে ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠকের পর ফেব্রুয়ারির সম্ভাবনার কথা বলা হলেও, তাতেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ইউনূস নির্বাচন বিলম্বিত করছেন কারণ তিনি চাচ্ছেন প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংস্কার-সংবিধান, নির্বাচন পদ্ধতি, বিচার বিভাগ ও পুলিশ ব্যবস্থায় পরিবর্তন। আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তবে এসব মৌলিক সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত্যের ঘাটতি স্পষ্ট। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী কিছু সংস্কারের বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে সম্মত হয়েছে, কিন্তু সংবিধান সংশোধনের বেশ কয়েকটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ প্রকট। জামায়াতে ইসলামী চায় অন্তর্বর্তী সরকার আরও সময় পাক সংস্কার শেষ করতে, অন্যদিকে বিএনপি দ্রুত নির্বাচন দাবি করে আসছে। নতুন রাজনৈতিক দল 'এনসিপি'ও সংস্কার চায় আগে, পরে নির্বাচন।
জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির সম্পর্ক এখন আর সুপ্ত নয়, বরং প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে-প্রশাসন, বিচার বিভাগ এমনকি ক্যাম্পাস নিয়েও দ্বন্দ্ব চলছে।
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে এক টকশোতে সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি মন্তব্য করেছেন, "নির্বাচন হলে জামায়াত প্রার্থী দাড়াতেই পারবে না, সবকিছু বিএনপির নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।" আবার ১৫ জুলাই কক্সবাজারে জামায়াতের হামলায় এক বিএনপি নেতা, রহিম উদ্দিন সিকদার নিহত হন; যা নিয়ে জনগনের সামনে বড় প্রশ্ন-তারা কী চায়, ক্ষমতা না দেশের ভবিষ্যৎ?
আবার, ইসলামপন্থী দলটি নারীর অধিকার সংকোচন ও শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রভাব বাড়াতে চাচ্ছে, যদিও তারা নির্বাচনে কখনোই বড় সাফল্য পায়নি। তবুও, তাদের উত্থান রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বর্তমানে দেশজুড়ে চাঁদাবাজি-একটি হট টপিক। এমন নয় যে আগে কখনো চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। সরকার বদল হয় সেই সাথে বদল হয় চাঁদাবাজীদের হাত। গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেছিলেন, "আওয়ামী লীগের যারা চাঁদাবাজি করতো, দখলদারি করতো তারা পালিয়েছে তাদের স্থানে অন্য একটা দল দায়িত্ব নিয়েছে।"
কোন সেই দল? নিঃসন্দেহে তা বর্তায় বিএনপির উপর। কারণ প্রতিদিনকার নিউজ, টিভি চ্যানেল, ফেসবুক সর্বত্র আমরা তাদেরই দেখছি। 'চাপের মুখে বিএনপি ' আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম, এ খবরে বলা হয়েছে, "দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ সব ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' ঘোষণা, দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা কোনো কিছুতেই বিএনপি নেতা-কর্মীদের যেন কিছু হচ্ছে না।" ৬ জুলাই, শিল্পকারখানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে গাজীপুর মহানগর বিএনপির চার নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দৈনিক ইত্তেফাকের শিরোনাম "কবরস্থানে 'চাঁদাবাজি', বিএনপি নেতা বহিষ্কার"-খবরে বলা হয়, রাজধানী আজিমপুর কবরস্থানে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ ওঠার পর লালবাগের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আমিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুগান্তরের শিরোনাম, "রাজধানীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ গ্রেফতার ২"! গ্রেফতারকৃতরা হলেন মিরপুর সনি সিনেমা হল এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ বাবুল ওরফে ইটা বাবুল (বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা) ও ঢাকা মহানগর উত্তরের ১১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সক্রিয় কর্মী তরিকুল ইসলাম। দৈনিক ইত্তেফাকের শিরোনাম "দলের নামে অফিস খুলে চাঁদাবাজি, বিএনপি নেতা আটক" খবরে বলা হয়, নাটোরের সিংড়ায় দলের নামে অফিস খুলে চাঁদাবাজির অভিযোগে এক বিএনপি কর্মী হাজী কুদ্দুস আকন্দকে অস্ত্র সহ আটক করেছে যৌথ বাহিনী। এমন আরো বহু শিরোনামে জনমনে প্রশ্ন উঠছে, ক্ষমতায় যাবার আগেই যদি বিএনপির চাঁদাবাজি এতটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে তবে ক্ষমতায় গেলে কি দেখবে দেশবাসী?
তাছাড়া, চলমান শিশু ধর্ষণ, বেনামি মামলা, রাহাজানি, একদলের অপরাধ ঢাকতে অন্যদলকে দোষারূপ করা, কখনো বিরোধী দলকে ফাঁসাতে চক্রান্ত, মসজিদে ভিন্নমতের ইমামকে ছুরি মারার রোমহর্ষক অসহিষ্ণুতা দেখে ঘরে ঘরে মানুষ বিচলিত। জনগণের এই অস্থিরতা এখন আর কেবল অসন্তোষ নয়, এক গভীর ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার প্রকাশ। তারা ঘরে বসে দেখছে, একজন ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে মারা হচ্ছে, আর মৃতদেহের ওপরও পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছে। একজন ৯ বছর বয়সী শিশু, যে মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে নিরাপদ থাকার কথা, তার লাশ উদ্ধার হচ্ছে দ্বিতীয় তলা থেকে। তারা দেখছে-কেউ তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে পোস্ট দিলে তার ঘরে গিয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয়, 'যেখানে পাবো, সেখানেই বিচার করে দেব' বলা হয়। এসব দেখে মানুষ ভাবছে-এই কি আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্র?
বিষয়টা এমন নয় যে এসব ঘটনা নতুনভাবে ঘটছে। গত ১৬ বছর ধরে এই রকম দৃশ্যপট আমরা বারবার দেখেছি-যেখানে সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় নির্লজ্জ নিরবতা একে অপরকে বৈধতা দিয়েছে। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের পর, জনগণ কি এবার সত্যিই ভিন্ন কিছু প্রত্যাশা করছে না?
সম্প্রতি, গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা করা হয়, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। কিছু সরকারি এবং স্থানীয় সংবাদপত্র অনুযায়ী, সংঘর্ষে ৪ জন নিহত এবং বহুজন আহত হয় (সাংবাদিক, পুলিশ সহ)৷ এই হামলার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা জেলা শহর। সংঘর্ষের রেশ গিয়ে পড়েছে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগার পর্যন্ত। সেখানে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
এনসিপি-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, "এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইচ্ছাকৃতভাবে নেতাদের হত্যার, এবং এটি "মুজিববাদী শক্তি"-এর পরিকল্পিত তাণ্ডব।" অন্যদিকে লীগ সমর্থকরা এই হামলা নিয়ে ফেসবুকে আনন্দ উল্লাস করে বলছেন, "এদের দমাতে লীগ যথেষ্ট।"
কেউ গর্ব করে বলছেন, "হুনলাম গোপালগঞ্জে নাকি বিএনপি আর আওয়ামী মিললা একলগে ন্যাশনাল চু*তিয়া পার্টিকে জয় বাংলা কইরা দিছে??? হাছা নি?"
বাংলাদেশের রাজনীতি যে এখনও প্রতিহিংসার ঘূর্ণিপাকে আবদ্ধ, তা স্পষ্ট। যদি আওয়ামী লীগ সত্যিই "মুজিববাদী শক্তি" হতে চায়, তবে সেটি বঙ্গবন্ধুর উদারতা, গণতন্ত্রপ্রেম ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের আদর্শে ফিরে আসা উচিত-একদলীয় শাসন ও রক্তপিপাসার নামে তাঁর নাম ব্যবহার করে ভয় সৃষ্টি করা নয়।
ইউনূস সরকারকে আমি ব্যর্থ বলতে রাজি নই। গত এক বছরে আমরা যদি এই সরকারের দিকে তাকাই, একদিকে তিনি যেমন কিছু সাহসী ও কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ নিয়েছেন (যেমন-মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রফতানি সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি), অন্যদিকে তেমনি হয়েছেন ভয়াবহ ষড়যন্ত্র ও প্রতিরোধের শিকার।
ইউনূস সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ও রাজনৈতিক নিপীড়ন অনেকটাই বন্ধ হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছে। শত শত পরিবার যারা তাদের প্রিয়জনের খোঁজ পাচ্ছিল না, তারা এখন আশাবাদী। অনেক রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং নির্যাতিতদের জন্য ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে সরকার প্রমাণ করেছে, তারা প্রকৃত গণতন্ত্রের পক্ষে। সংবাদমাধ্যম আবারও নিজের মত করে প্রশ্ন তুলতে পারছে, সরকারের সমালোচনা করতে পারছে সাধারণ জনগণ সহ রাজনৈতিক দলগুলো-যা গত এক যুগে প্রায় অনুপস্থিত ছিল। সাংবাদিক, লেখক, ব্লগারসহ মতপ্রকাশকারীদের ওপর নজরদারি ও দমন-পীড়ন অনেকটাই কমেছে।
নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কারও ইউনূস সরকারের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে, যেটি আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসেছে, যাতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হয়। যদিও এখনো কিছু দল সন্দেহ প্রকাশ করছে, তবুও একনায়কতন্ত্র থেকে বেরিয়ে একটি গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর দিকে যাত্রার প্রথম ধাপ এটি।
ইউনূস সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। তবে, প্রথম ছয় মাসে সরকারের নেওয়া অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কিছুটা হলেও সহায়ক হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে এ বছর জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্যপণ্যে তা ১০ শতাংশের ওপরে ছিল। তবে, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে ৯.২৪% এবং সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯.৩২%-এ নেমে আসে, যা গত ২২ মাসে সর্বনিম্ন। বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণ নুযায়ী, সার্বিক মূল্যস্ফীতি মাসের ব্যবধানে এতটা কমে যাওয়ার কারণ হলো নিম্নমুখী খাদ্য মূল্যস্ফীতি।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রফতানি আয়ে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরে টানা চতুর্থ মাসের মতো রফতানি বেড়ে দাঁড়ায় ৪.১১ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৬% বেশি। বিশ্ব অর্থনীতির উন্নতি, বড়দিনের মৌসুম এবং কার্যাদেশ বৃদ্ধিই এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ।সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাক খাত, যেখান থেকে আসে মোট রফতানির ৮০%। নভেম্বর মাসে ওভেন পোশাক রফতানি বেড়েছে ২০% এবং নিটওয়্যার ১২.৮%। এছাড়া হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানিতেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ফলে ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে মোট রফতানি দাঁড়িয়েছে ১৯.৯০ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২% বেশি।
২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলার, যা ১১ মাস আগেও ২০ বিলিয়নের নিচে ছিল। এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন রেকর্ড। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার—আগের বছরের চেয়ে ২৬.৮০% বেশি। শুধু মার্চে এসেছে সর্বোচ্চ ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থবছরের প্রতিটি মাসেই গড়ে ২ বিলিয়নের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ
এম. হেলাল আহম্মেদ জনি বলেন, "বর্তমানে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিগত সময়ের চেয়ে অনেকটা প্রশংসনীয়। বিশেষত খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। বিগত সরকারের সময়ে দেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, খেলাপি ঋণ বেড়েছে, পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উধাও হওয়ার পরেও দেশ যে স্বাভাবিক অবস্থায় চলছে এর কৃতিত্ব অবশ্যই বর্তমান সরকারকে দিতে হবে। তবে এ অবস্থা টেকসই করতে হলে তাদের আরো কিছুদিন সময় দিতে হবে। একটা ভঙ্গুর অর্থনীতিকে এতো দ্রুত সময়ে সঠিক পথে আনা সম্ভব নয়। আমাদেরকে বর্তমান সরকারের উপর আস্থা রাখতে হবে।"
(ঢাকা মেইল,"ড. ইউনূস সরকারের সাফল্য অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন")
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সরকার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে, বিশেষ করে চীনের সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু এসব অর্জনের পেছনে রয়েছে এক কঠিন বাস্তবতা, এই সরকার চরম ষড়যন্ত্র ও বাধার শিকার। সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ অভিযোগ করছে, এই সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে এবং তারা এই সরকারের সব কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করতে মাঠে নেমেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ ছিল ভারতের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র। কিন্তু তাঁর অপসারণের পর ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন ক্রমেই চীনের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে, যা এই অঞ্চলে ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি। চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ হিসেবে, ইউনুসের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল মার্চ মাসে চীনে, যেখানে তিনি বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানঅর্জন করেন। বিপরীতে, ভারত শেখ হাসিনার অপসারণে ক্ষুব্ধ এবং এখনো তাঁকে প্রত্যার্পণের বাংলাদেশি অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এমনকি হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশিদের ভিসা প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে ভারত এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের অনুরোধ উপেক্ষা করেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে ছড়ানো গুজব ও তথ্যযুদ্ধও ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আরো এক বড় ধরনের ষড়যন্ত্র। কখনো বলা হচ্ছে, এই সরকার চীন ঘেঁষা; আবার কখনো বলা হচ্ছে, এটি 'নাস্তিকদের সরকার', 'পশ্চিমা এজেন্ট', বা 'সাম্রাজ্যবাদীদের হাতের পুতুল'। এসব প্রচার জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে, যাতে সরকারের প্রতি আস্থা দুর্বল হয়।
তবে, আন্তর্জাতিক পরিসরে, ড. ইউনুস পশ্চিমা বিশ্ব ও জাতিসংঘের দৃঢ় সমর্থন পাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। ফলে, বাংলাদেশ হয়তো আগের মতোই বিভিন্ন পরাশক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল বজায় রাখবে। তবে,বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় অজানা চ্যালেঞ্জ হতে পারে "ট্রাম্প ফ্যাক্টর" যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হন, তবে ঢাকার কূটনৈতিক ভারসাম্য নীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
যদিও ইউনূস সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে কঠোর হয়েছেন,যা শেখ হাসিনার শাসনামলে নিয়মিত ঘটত, তবে নিরাপত্তা খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার এবং স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখনও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই-বলেই বিশ্বাস করছেন বিরোধীরা।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়, অভিযোগ করেছে যে সরকার তাদের যথাযথভাবে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মতে, গত এক বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর শতাধিক হামলা হয়েছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ অভিযোগ করছে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাদের হাজার হাজার কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে, ইউনুস প্রশাসন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও ইউনূস সরকারের সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও মাদক অপরাধের লাগাম টানা যাচ্ছে না, ফলে নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা তৈরি হয়েছে। অপরাধীরা যেন আগের চেয়েও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, তারা সরকারের আইন ও নীতিকে তাচ্ছিল্য করছে। এ অবস্থায় দেশে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে "মব জাস্টিস"।
মব জাস্টিস এখন দেশের জন্য এক ভয়ঙ্কর বিপদ-এ কথাটি বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। "মব" মানে, জমায়েত, ভিড়, বা লোকসমূহের একটি দল। "জাস্টিস" মানে ন্যায়বিচার যা নিরপেক্ষ তদন্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ, এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে। তাহলে "মব জাস্টিস" মানে উত্তেজিত জনতা আইন অমান্য করে কাউকে শাস্তি দেয়, সেটা সঠিক-ভুল বিবেচনা না করেই।
যদি কোনো চোর ধরা পড়ে, তাহলে সঠিক কাজ হবে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া। কিন্তু যদি জনতা তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে, সেটা হবে মব জাস্টিস যা বেআইনি হত্যাকাণ্ড। মব জাস্টিস এর নামে "ছেলেধরা", "কোরআন অবমাননা", বা "চোর সন্দেহে" অসংখ্য নির্দোষ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অনলাইনে ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ধর্মীয় উসকানির পরিপ্রেক্ষিতে সংখ্যালঘুদের বাড়ি-দোকানেও হামলা হয়েছে।
জনগণের একাংশ এখন বিশ্বাস করে আদালত নয়, মিছিল-মিছিলেই বিচার হবে। এই মব জাস্টিস বা জনতার হাতে বিচার নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি বিরাজমান। বেশিরভাগ মানুষই মব জাস্টিসের নেতিবাচক প্রভাব বুঝে থাকলেও, তাদের মধ্যে অনেকেই নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে মবকে নীরব সমর্থন দেয়, আবার কখনে চুপ থাকেন। যেমন-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, কোনো দলীয় কর্মী বা নেতা যখন মবের শিকার হন তখন তার সমর্থকরা তা 'রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র' বলে আখ্যায়িত করেন এবং প্রতিবাদ করেন। কিন্তু অন্য পক্ষের লোকজনের ওপর একই ঘটনা ঘটে গেলে তা 'জনতার বিচারের অংশ' বলে বোঝানো হয়।
আমরা জানি, মানুষের মধ্যে দীর্ঘ ১৬ বছর দমন-নিপীড়নের একটা গভীর কষ্ট ও ক্ষোভ জমে আছে। এই আঘাত ও অবিচারের বুকে আজও অনেকের মনে দগদগে আগুন জ্বলছে। তারা নিজেদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য বিক্ষোভে নামে, কিন্তু যখন সংস্থাগুলো থেকে সঠিক বিচার পায় না, তখন সেই ক্ষোভ ধীরে ধীরে মব জাস্টিসের রূপ ধারণ করে। তবে এখানেই সবচেয়ে বড় বিপদ, মব জাস্টিস যেমন আইনের শাসনকে অবমূল্যায়ন করে, তেমনি এটি সমাজে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার মাত্রা বাড়ায়। যারা মব জাস্টিসকে ন্যায়বিচার মনে করে, তারা নিজেদের হাতেই দেশের আইন-শৃঙ্খলার ভীতিত্ব সৃষ্টি করছে।
সুতরাং, বর্তমান সরকার ও সমাজের সব স্তরের দায়িত্ব হচ্ছে-এই দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ ও আস্থার অভাবকে বুঝে, আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে, মব জাস্টিসের অনৈতিকতা প্রতিহত করা।
সরকারি পর্যায়ে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাদের কাছ থেকেও দেখা যায় একটি দ্বৈত মনোভাব। অনেক সময় মব জাস্টিস ঠেকানোর দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তারা তা সম্পূর্ণ দমনে অক্ষম বা অনিচ্ছুক। এমনকি কখনো কখনো পুলিশের উপস্থিতিতেও বড় মাপের মব-সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে বলতেই হয়, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মব নিন্দার ক্ষেত্রে সামগ্রিক ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ।
২০২৫ সালের সংশোধিত আইনগত সহায়তা প্রদান আইন নিয়েও প্রশ্ন তুলচেন কেউ কেউ। আইনে বলা হয়েছে, এখন বাংলাদেশে কিছু নির্দিষ্ট ধরণের মামলা দায়েরের আগে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার পথ নিতে হবে। এর মধ্যে আছে পারিবারিক বিরোধ, যৌতুকের মামলা, কিছু দেওয়ানী মামলা, নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি ধারা, এমনকি পাঁচ লক্ষ টাকার নিচের চেক ডিজঅনার মামলা। সরকার বলছে, এর উদ্দেশ্য হলো বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে মামলার চাপ কমানো, দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা এবং জনগণের জন্য আইনগত সহায়তা সহজতর করা। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা বলছে, মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৯০% বিরোধ মেটানো সম্ভব, যেখানে একটি মামলার নিষ্পত্তিতে আদালতে বছরের পর বছর লেগে যায়। এই নীতির অন্তর্নিহিত বিপদ নিয়ে আমাদের সবাইকে ভাবতে হবে। "বিচার" ও "মধ্যস্থতা"-এই দুটি শব্দের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। বিচার মানে রাষ্ট্রের মাধ্যমে ন্যায়ের স্বীকৃতি; আর মধ্যস্থতা মানে, শক্তিশালী ও দুর্বল পক্ষকে এক টেবিলে বসিয়ে সমঝোতা করতে বলা-যেখানে দুপক্ষ সমান শক্তির নাও হতে পারে।
আজকের বাংলাদেশ এক দ্বিধায় দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে নতুন এক গণতান্ত্রিক স্বপ্ন, অন্যদিকে পুরোনো সহিংস রাজনীতির প্রেতছায়া। জাতি এক অনিশ্চয়তার মুখে, যেখানে প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশা বারবার মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। কিন্তু এই বিভ্রান্তি ও সংঘাতের মধ্যেই দেশের মানুষ তাদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে-কে তাদের কণ্ঠস্বরকে শ্রদ্ধা করছে, আর কে করছে না।
ইউনূস সরকারের পদক্ষেপ অনেকটা মরুভূমিতে জলস্রোতের মতো আশাব্যঞ্জক, তবে এই পথটা দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সূচক নয়, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন সমাজ ও সহনশীলতা-এই তিনটি প্রশ্নের উত্তরেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আমাদের এখন প্রয়োজন সহিষ্ণুতা, আইনপ্রয়োগে নিরপেক্ষতা, আর একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেখানে বিরোধী মানে শত্রু নয়, বরং বিকল্প চিন্তার সহযাত্রী।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন