https://www.prothomalony.com/
13729
literature
পঞ্চাশ বছর আগে মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমিতে আবিষ্কৃত ডাইনোসরের জীবাশ্ম সম্প্রতি পুনরায় বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন এক প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রজাতিটি ছিল কুখ্যাত মাংসাশী ডাইনোসর (টাইরানোসরাস রেক্স বা টি. রেক্স)-এর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
১৯৭০-এর দশকে পাওয়া দুটি আংশিক কঙ্কাল এতদিন 'ইলেকট্রোসরাস' নামের অন্য এক প্রজাতির বলে মনে করা হতো। কিন্তু ২০২৩ সালে কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালগেরি-র পিএইচ.ডি. শিক্ষার্থী জারেড ভরিস মঙ্গোলিয়ার সেন্ট্রাল মিউজিয়াম অফ ডাইনোসোরস-এ প্রদর্শিত জীবাশ্মগুলো নতুন করে পর্যবেক্ষণ করেন এবং কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার করেন, যা আগে কোনও টাইরানোসর প্রজাতিতে দেখা যায়নি।
তার পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, খুলি বা স্কালের পাশে বাতাস ধারণের বিশেষ কক্ষ ছিল, যেখানে সাধারণত টাইরানোসর প্রজাতির নাকে এমন কিছু দেখা যায় না। এছাড়াও পায়ের আঙুলের হাড়ের গঠনেও ভিন্নতা ছিল।
নতুন প্রজাতির নাম: (খানখুলু মঙ্গোলিয়েনসিস)
জীবাশ্ম বিশ্লেষণের পর গবেষকরা নিশ্চিত হন এটি একটি একেবারে নতুন টাইরানোসরিড প্রজাতি। নতুন প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে খানখুলু মঙ্গোলিয়েনসিস। এটি একটি অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির টাইরানোসর, যার দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১৩ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ১,৭০০ পাউন্ড—যা তাকে তুলনামূলকভাবে দ্রুতগতিসম্পন্ন শিকারী হিসেবে গড়ে তুলেছিল।
গবেষণায় উঠে এসেছে, খানখুলু ছিল (ইউটাইরানোসোরিয়া) গোষ্ঠীর একটি নিকট আত্মীয়, যেখান থেকে পরবর্তীতে বিশালাকৃতি (টাইরানোসোরিনি) (যাদের মধ্যে টাইরানোসরাস রেক্স অন্যতম) এবং অপেক্ষাকৃত ছোট (অ্যালিওরামিনি) প্রজাতিগুলো বিবর্তিত হয়। ফলে এই নতুন আবিষ্কারকে বিজ্ঞানীরা "টাইরানোসরাস রেক্স-এর বিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী ধাপ" হিসেবে দেখছেন।
এই গবেষণাটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী (নেচার)-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি টাইরানোসর প্রজাতির বিবর্তন ও বিস্তারের ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন