https://www.prothomalony.com/

13703

literature

সাহিত্য

উত্তরের সাহিত‍্য

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৫ ০৬:১৯

নিঃসঙ্গ মেঘের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম

(I Wandered Lonely as a Cloud-by William Wordsworth) 

ভাষান্তরঃ শেখর ভট্টাচার্য
 

নিঃসঙ্গ মেঘের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম, 

পাহাড়, উপত্যকার উপর দিয়ে উড়ছিলো মন আমার

অকস্মাৎ চোখ জোড়াকে থামিয়ে দিলো

স্বর্ণাভ ড্যাফোডিল ফুলরাশি।  

হাওয়ার কোমল পরশে নয়ন হরণ করা দুলুনি

বৃক্ষের ছায়ার মায়ায়, জলের কোমল ঢেউয়ের ছোঁয়ায়

অনিন্দ্য সুন্দর ড্যাফোডিলের নৃত্যে, হৃদয় ছুঁয়ে গেলো।

 

ছায়াপথ জুড়ে উজ্জ্বল, ঝলমলে তারকা রাশির মতো 

বিস্তীর্ণ দিগন্তে ড্যাফোডিলের আলপনা রেখা

উপসাগরের দৃশ্যমান শেষ রেখায় হৃদয় হরণ করা

ফুলেল সৌন্দর্য, আহা এক পলকে দশ হাজার ফুল রাশি,

অন্তরলোকের আনন্দে গড়াগড়ি, দুলুনি, অদ্ভুত এক 

স্বর্গীয় অনুভূতি।

 

বাতাসের ঢেউ, ফুলের সারিতে ঢেউয়ের সৌন্দর্যের আভা

সব সুন্দরের অনুষঙ্গকে হার মানায় 

অন্তর থেকে উদগীরিত ড্যাফোডিলের উজ্জ্বল অতীন্দ্রিয় উপস্থিতি। 

হৃদয় হরণকরা এই অপার সৌন্দর্য কবিকে ধ্যাণ মগ্ন করে

আরও সুন্দরের জন্য তৃষ্ণার্ত কবি অপেক্ষায় প্রহর কাটান

বিস্মিত্ত হয়ে ওঠেন, আহা এক অপার দৃশ্য যেন সৌন্দর্যের ঝাঁপিকে -খুলে দেয় অজস্র সৌন্দর্যের প্রত্যাশায়। 

অলস সময়ে, ঘুম জাগরণে স্মৃতি-কাতরতা যখন পেয়ে বসে, হৃদয়ের গহীন থেকে উঠে আসে প্রফুল্ল অনুভূতি

কবির নিঃসঙ্গ সময়ের সঙ্গী হয় , হৃদয় নৃত্য করে

ড্যাফোডিল ফুল রাশির শৈল্পিক নৃত্যের স্মৃতি।।

 

 

 

জন্মদিন

(A Birthday-Christina Rossetti) 

ভায়ান্তরঃ সুমন শামসুদ্দিন

 

হৃদয় আমার সুরের পাখি

জল-প্লাবিত সিক্তডালে;

হৃদয় এক আপেলবৃক্ষসম

ন্যুব্জ শাখা পরিবেষ্টিত ফল;

 

রামধনুর আবরণে আবৃত হৃদয়

যেন উত্তাল সমুদ্রে সন্তরণরত;

হৃদয়খানি আপ্লুত আজ, যখন-

স্নাত হলাম ভালোবাসার আলিঙ্গনে।

 

আমাকে একটি ঐশ্বর্যপূর্ণ সুসজ্জিত কোমল আসন দাও

যেটি দুলতে থাকবে বিলাসী পশমি-বেগুনি সজ্জায়;

যা আরও নকশা করা থাকবে ঘুঘু ও ডালিম এবং

শতচোখ বিশিষ্ট ময়ূরপুচ্ছ খোদিত অঙ্কনে;

 

আরও সুশোভিত থাকবে সোনালী ও রূপালী আঙুর

এবং মোহনীয় পাতা ও শুভ্র লিলির চিত্রণে;

আজ আমার অস্তিত্বের শুভ জন্মদিন,

আমার ভালোবাসা আমকে করেছে হৃদয়ঙ্গম।

 

 

 

একটি স্বপ্নের ঘোরে দেখা একটি স্বপ্ন

(A Dream Within a Dream-by Edgar Allan Poe)

ভাষান্তরঃ খ্রীষ্টফার পিউরীফিকেশন

 

তোমার ললাটে লও, তুমি আমার চুম্বন!

হ্যাঁ। এই বিদায় বেলায় সব করি স্বীকার,

এ ভাবেই আলাপ করি আমি সাথে তোমার-

চূড়ান্ত পর্যায় মিথ্যা বলনি তো; তুমি আর

আমার দিনগুলো রয়েছে স্বপ্নে নিমগন;

প্রত্যাশা আমার যদিও পলকে গেছে উড়ে 

কোন এক রাতে, অথবা কোন দিনের ভাগে,

তা বাস্তবে দেখা গেছে, কিংবা যায়নি দেখা, 

তাই বলে কি আর, যায়নি খুব বেশি দূরে?

যা কিছু দেখি আমরা অথবা যা মনে জাগে 
এ একটি স্বপ্নের ঘোরে একটি স্বপ্ন দেখা।  

 

আমি দাঁড়িয়ে আছি প্রবল গর্জনের মুখে

ফেনিল যন্ত্রণাময় এক বালুকাবেলায়,

আর আমার হাতে রাখি তুলে পরম সুখে 

সোনালী বালুকার বিস্তর স্বর্ণদানা। হায়!-

পরিমাণে অল্প! কেমন তারা ছড়িয়ে যায়! 

আমার আঙুল গলে যায় অতল গহনে,

অনুক্ষণ আমি কাঁদি-সর্বদা থাকি ক্রন্দনে! 

হে ঈশ্বর! আমি কি পারিনা আনতে আয়ত্বে 

তাদের আমার মুঠোয় শক্ত করে ধরতে? 

হায় ঈশ্বর! আমি কি রক্ষা করতে পারিনা 

নির্দয় ঢেউ থেকে বাঁচাতে কোন বালুকণা? 

যা আমরা দেখি, অনুভব করি সমুদয় 

এ একটি স্বপ্নের ঘোরে দেখা স্বপ্ন নিশ্চয়?

 

 

 

আশা; ভরসার পাখি

("Hope" is the thing with feathers-Emily Dickinson) 

ভাষান্তরঃ রাবাত রেজা নূর 

 

আশা; ভরসার পাখি
যা বাসা বাঁধে হৃদয়ে
আর সুর তুলে কথা না বলে
কখনোই থামে না সেই গান

ঝড়ো হাওয়ার সুগন্ধি শোনা যায়
ক্ষত যেন ঝড়ের কাফেলা
ছোটপাখিকে উড়ে নিয়ে যায়
যা ধরে রাখে অনেক উষ্ণতা

আমি শুনেছি সেই গান শীতলতম ভূমিতে
সবচেয়ে অদ্ভুত সমুদ্রে―
এখনো; হয়তো বা কখনো দূর প্রান্তসীমায়
যা টুকরো টুকরো করতে চেয়েছে আমাকে। 

 

 

 

 

সে হাঁটে সৌন্দর্যের আলোছায়ায়

(She Walks in Beauty- by Lord Byron)

ভাষান্তরঃ শামীম আহমদ 

 

সৌন্দর্যের দ্রাঘিমায়, সে হেঁটে যায় 

মেঘহীন নক্ষত্রখচিত আকাশ

নৈসর্গিক রাতের মতো সৌন্দর্যে বিচরণ করে; 

অন্ধকার এবং উজ্জ্বলতায় উদ্ভাসিত চোখে তার এভাবেই 

সেই কোমল আলো মৃদু হয়ে ওঠে যা স্বর্গের উজ্জ্বল 

দিনের কাছে তীব্র তার অস্বীকার ;

 

একটি ছায়া যত দীর্ঘ, একটি রশ্মি ততই নিকট 

অর্ধেক বিকৃত করে নামহীন করুণা যা প্রতিটি কৃষ্ণ বৃক্ষের মাঝে তরঙ্গায়িত হয়, অথবা তার মুখের উপর মৃদুভাবে আলোকিত করে এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মাধুরী; যেখানে ভাবনার নির্মলতা সুমিষ্ট ভাবের প্রকাশ করে পবিত্র 

সত্তার, কত প্রিয় তাদের লৌকিক প্রস্ফুটিত নীলয় ... 

 

এবং সেই চিবুক, সেই ভ্রুতে মখমলের মতো নরম, শবের মতো শান্ত, তবুও স্পষ্টভাষী, সে হাসি জয় করে জ্বলে ওঠে, দিনগুলি যেনো বলে যায় উৎকৃষ্ট সময়ের উপাখ্যান; সর্বোপরি প্রশান্তিময় একটি হৃদয় যার ভালবাসা নির্দোষ!

 

 

 

যে পথে হয়নি চলা

(The Road Not Taken-by Robert Frost) 

ভাষান্তরঃ জাকিব জামাল 

 

দুটো পথ দু'দিকে গেছে বেঁকে ঝরাপাতার বনে,

যুগপথ হয়নি চলা তাই দুঃখ সঙ্গমরত মন আমার 

হেঁটেছি যতদূর যাওয়া যায়, একটি পথের সনে

আর রেখেছিলাম সযতন দৃষ্টি চোখের কোণে

যেখানে গিয়ে স্তিমিত হয়ে আসে উঠতি বৃক্ষের নিচে ঝোপঝাড়; 

 

অন্যপথের অন্যগল্প হয়তো অনেকটাই সুন্দর সে,

অথবা আবেদনময়ী আরেকটু খানিক,

সবুজ জমিন আর কাঙ্ক্ষিত বেশে;  

এমনও আলপথে এখানে হাঁটাহাঁটি শেষে 

তবুও রয়ে যায় তেমনই তীব্র নান্দনিক, 

 

আর দুটো পথই থাকে একইরকম শুরুর সকালে

যেখানে থাকে না কারও পদচিহ্ন কিংবা অন্ধকার।

আহ্! আমি প্রথমাকে ফেলে এসেছি অন্যকালে!

জানার বাসনায় কীভাবে যেতে হয় পথ কোন হালে,

আরও ছিল হৃদয়ে সংশয় আমার ফিরে আসবার।

 

বয়ে চলা দ্বিধায় ছেড়ে দীর্ঘশ্বাস বলি আমি,

যুগ-যুগান্তে এভাবেই থমকে দাড়ায় জনম।

যেন বেঁকে যাওয়া দুটো পথ বনে, আর আমি-

আমি বেছে নিই যে পথ ক্ষণকালের সঙ্গি,

অনন্য ভিন্নতায় মূলত এটাই করেছিল মুখরিত চরম।

 

 

 

 

এ‍ ভেরি শর্ট স্টোরি

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

অনুবাদঃ এইচ বি রিতা

 

পাদুয়ায় তখন সন্ধ‍্যা নেমেছে। গরম আবহাওয়া। এমনই এক সন্ধ্যায় তারা, 'তাকে' ছাদে নিয়ে গেল, যেন 'সে' ছাদ থেকে শহরের উপরিভাগ তাকিয়ে দেখতে পারে। আকাশে তখন চিমনি-সুইফ্ট পাখি ওড়ে বেড়াচ্ছিল। 

কিছুক্ষণ পর অন্ধকার নেমে এলো, সাথে সার্চলাইটগুলি জ্বলে উঠল। অন্যরা নিচে চলে গেল, সাথে করে বোতলগুলোও নিয়ে গেল। 'সে' আর লুস্ নিচে ব্যালকনিতে ওদের আওয়াজ শুনতে পেল। লুস্ তখন বিছানায় বসে ছিল; সেই উষ্ণরাতে তাকে প্রশান্তিদায়ক আর সতেজ লাগছিল।

 

লুস্ একনাগারে তিন মাস রাতের ডিউটিতে ছিল। সবাই বেশ খুশি হয়েছিল তাকে এই কাজ দিতে পেরে। যখন 'তার' অপারেশন হল, লুস্ই 'তাকে' অপারেশন টেবিলের যাবার জন্য প্রস্তুত করেছিল। আর অন‍্যরা তখন মজা করে বলত, "ফ্রেন্ড না এনিমা(পিচকি)?" 
অ্যানেস্থেসিয়ার অধীনে যাওয়ার সময় 'সে' নিজেকে শক্ত করে ধরে রেখেছিল, যেন অন‍্যদের মজা করার সময় 'সে' কিছু আবোলতাবোল বলে না ফেলে। অপারেশনের পর 'তাকে' ক্র‍্যাচ ব‍্যবহার করতে হয়। ক্র‍্যাচ নিয়ে হাঁটা শুরু করার পর 'সে' নিজে তাপমাত্রা মাপত যাতে লুস্ কে বিছানা থেকে উঠতে না হয়। হাসপাতালে মাত্র কয়েকজন রোগী ছিল, আর সবাই দু'জনের ব্যাপারটা জানত। সবাই লুস্ কে পছন্দ করত। 

যখন 'সে' হলওয়ে দিয়ে ফিরে যাচ্ছিল, তখন বিছানায় শুয়ে থাকা লুস্ এর কথা ভাবছিল। 

 

'সে' যুদ্ধক্ষেত্রে ফেরার আগে লুস্ কে নিয়ে গিয়ে ডুওমো গির্জায় প্রার্থনা করেছিল। ভেতরটা ছিল আবছা আলোয় ভরা ও নীরব,  কিছু লোক প্রার্থনায় মগ্ন ছিল। তারা বিয়ে করতে চেয়েছিল, কিন্তু "ব্যানস"-এর (গির্জায় ঘোষণা) সময় ছিল না। তাছাড়া তাদের কারোই জন্মসনদও ছিল না। তারা মনে করত, যেন তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। কিন্তু চাইত সবাই বিষয়টা জানুক এবং এটা স্থায়ী হোক যাতে কেউ কাউকে হারাতে না হয়। 

 

লুস্ 'তাকে' অনেক চিঠি লিখেছিল, কিন্তু সে চিঠিগুলো যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত 'সে' পায়নি। পরে একসঙ্গে ১৫টা চিঠি 'তার' হাতে এসেছিল। আর 'সে' তারিখ অনুসারে সাজিয়ে নিয়ে একনাগাড়ে চিঠিগুলি পড়ে নিয়েছিল। সব চিঠি হাসপাতাল আর তাদের ভালোবাসা নিয়ে লেখা; কীভাবে লুস্ 'তাকে' ভালোবাসতো, 'তাকে' ছাড়া থাকা কতটা কঠিন ছিল এবং রাতে 'তার' অভাব কতটা ভয়াবহ ছিল..ইত‍্যাদি। 

যুদ্ধবিরতির পর তারা একমত হলো যে, 'সে' বাড়ি ফিরে গিয়ে চাকরির খোঁজ করবে যাতে তারা বিয়ে করতে পারে। যতক্ষণ না 'তাঁর' একটা ভালো চাকরি হয় এবং 'সে' নিউইয়র্কে এসে তার সঙ্গে দেখা করতে পারে, লুস্ বাড়ি ফিরবে না। বোঝা যাচ্ছিল যে, 'সে' মদ্যপান করবে না, এবং সে তার বন্ধুদের বা শহরের কারো সাথে দেখা করতেও চাইবে না। 'তার' তখন একটাই লক্ষ‍্য- চাকরি খুঁজে পাওয়া এবং বিয়ে করা। 

তারা পাদুয়া থেকে মিলান যাত্রা করে। যাত্রাপথে ট্রেনে তাদের মধ‍্যে ঝগড়া হয়। কারণ লুস্ বাড়িতে যেতে রাজি হয়নি। এরই মধ‍্যে তারা মিলান স্টেশনে পৌঁছায়। স্টেশনে বিদায় নেওয়ার সময় একে অপরকে চুমু খায়, কিন্তু ঝগড়াটা তখনও থামেনি। এমনভাবে বিদায় নিতে গিয়ে 'তার' খারাপ লাগছিল।

 

এরপর 'সে' জেনোয়া থেকে জাহাজে করে আমেরিকায় চলে যায়। আর লুস্ ফিরে যায় পর্দোনোনে- হাসপাতাল খোলার জন্য। নির্জন, বৃষ্টিতে ভরা পর্দোনোন শহরটিতে ছিল 'আর্দিতি'র একটি ব্যাটালিয়ন। শীতকালে কর্দমাক্ত, বৃষ্টিময় শহরে বাস করতে গিয়ে ব্যাটালিয়নের মেজরের সঙ্গে লুস্ এর প্রেম হয়। সে আগে কখনো ইতালীয়দের ঘনিষ্ঠভাবে চিনত না। 

শেষমেশ সে চিঠি লিখে আমেরিকায় 'তাঁর' কাছে, যেখানে লুস্ জানায়—তাদের সম্পর্কটা আসলে শুধুই এক 'ছেলে-মেয়ে'র আবেগঘন বন্ধন ছিল। সে দুঃখ প্রকাশ করে এবং জানায়, হয়তো 'সে' এখন বুঝবে না, তবে একদিন তাকে ক্ষমা করে দিতে পারে এবং এমনকি কৃতজ্ঞতাও অনুভব করতে পারে। সে আশা করে, একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে, বসন্তে মেজরের সাথে তার বিয়ে হবে। সে আরো জানায়, 'তাকে' সে এখনও আগের মতোই ভালোবাসে, তবে এখন সে বুঝতে পেরেছে—তাদের সম্পর্কটি নিছক ছেলেমানুষি প্রেম ছিল। সে আশা করে, 'তাঁর' একটি দুর্দান্ত ক্যারিয়ার হবে এবং সে 'তার' ওপর পুরোপুরি বিশ্বাস রাখে। কারণ, এখন সে জানে—এটাই সবার জন্য সবচেয়ে ভালো।

 

এরপর বসন্ত পেরিয়ে গেলেও, মেজর লুস্ কে বিয়ে করেনি। লুস্ শিকাগোতে পাঠানো সেই চিঠির কোনো উত্তরও পায়নি। কিছুদিন পর, 'সে' লিংকনপার্ক অতিক্রম করার সময় একটি ট্যাক্সিক্যাবে বসে 'লুপ' ডিপার্টমেন্ট স্টোরের সেলসগার্লের মাধ্যমে গনোরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়।

 

ফুটনোটঃ গল্পে মূলত নাম প্রকাশ না করা ব‍্যক্তি একজন ইটালিয়ান সৈনিক এবং লুস্ একজন নার্স। বিভিন্ন তথ‍্যসূত্র অনুযায়ী, 'এ‍ ভেরি শর্ট স্টোরি' আংশিক আত্মজৈবনিক, যা হেমিংওয়ের প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা অর্থাৎ হেমিংওয়ের সংক্ষিপ্ত প্রেমের একটি কাল্পনিক রূপ। এই গল্পে উঠে এসেছে ভালবাসা ও বিচ্ছেদ, যুদ্ধকালীন প্রেম, এবং বয়ঃসন্ধিকালের অভিজ্ঞতা ও পরিণতি। হেমিংওয়ের এই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল ২৬ বছর বয়সী একজন নার্স অ্যাগনেস ভন কুরোস্কির সঙ্গে—যিনি ছিলেন হেমিংওয়ের থেকে সাত বছরের বড় এবং ১৯১৯ সালে একটি বিস্ফোরণে আহত হওয়ার পর ইটালির এক মিলিটারি হাসপাতালে সুস্থ হওয়ার সময় তিনি হেমিংওয়ের বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে তারা দুজনেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান, তারা আর কখনো একে অপরের সঙ্গে দেখা করেননি। অ্যাগনেস ভন কুরোস্কি ১৯৮৪ সালে ৯২ বছর বয়সে মারা যান।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন