https://www.prothomalony.com/

13295

literature

সাহিত্য

উত্তরের সাহিত‍্য-শ্রমিক দিবস সংখ‍্যা

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৫ ০৪:১৪

ভূমিকাঃ প্রতি বছর ১লা মে শ্রমিক দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রত্যেক শ্রমজীবীর অবদান অপরিসীম, যা আমাদের সম্মান ও দায়বদ্ধতার দাবি রাখে। শ্রমিক হলো সেই মানুষ, যিনি নিজের শারীরিক বা মানসিক শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শ্রমিক কেবল কারখানার মেশিন ঘোরানো ব্যক্তি নয়—যিনি নির্মাণ করে, পোশাক সেলাই করেন, রাস্তা বানান, কৃষিক্ষেতে কাজ করেন, গাড়ি চালান, এমনকি অফিসে বা ঘরে কাজ করেন—সবাই কোনো না কোনোভাবে শ্রমিক। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিদিনের সংগ্রাম আমাদের অনুপ্রাণিত করে। শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে সাজানো উত্তরের সাহিত্য পাতার এই শ্রমিক দিবস সংখ্যা প্রকাশ করতে পেরে আমরা গর্বিত। এই সংখ্যায় প্রতিটি কলমের আঁচড়ে উঠে এসেছে শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট, স্বপ্ন ও আশা-শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধের কথা। 

শুধু শ্রমিক দিবসে নয়, বছরের প্রতিটা দিন শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা রক্ষা করতে আমাদের সকলের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। এই দায়িত্ববোধের অনুভূতি নিয়ে আমরা এই সংখ্যা আপনাদের উৎসর্গ করছি।

ধন্যবাদান্তে—এইচ বি রিতা। 

 

 

রক্ত ও ফাঁসির রজ্জু বেয়ে  

তমিজ উদ্‌দীন লোদী

 

নীল আভা বিকিরণ হয় ঐশ্বরিক অন্ধকারের নিচে।  

সোনালি আলো ঝলসে ওঠে উজ্জ্বল করিডোর থেকে,  

রক্তপাতের সমুদ্র সাঁতরে যখন ছায়াগুলি পাশ দিয়ে যায় এবং চোখের পাতা আরও শক্ত হয়ে বন্ধ হয়-তখন ভাঙা কাঁচের টুকরোগুলি  

ঝলমল করে, বুক ভেদ করা সীসার বারুদ যখন স্ফটিকের জাল হয়ে দোলে —  

তখন মনে পড়ে দরজায় নরম টোকা, কে এলো হাতকড়া হাতে!   

গভীর নিদ্রা থেকে জাগিয়ে কারা প্রতিপক্ষকে হত্যা করে ফেলে দেয় খোলা রাস্তায়।

 

কারা অধিকারকে হরণ করে 

শ্বাসের পর শ্বাস, উদ্বন্ধন  উজিয়ে ওঠে পাইন গুঁড়ির মধ্যে। ঘাম জমে পিঠে,  

একটি ক্ষয়ে যাওয়া ধাতব মাথা ঝলমল করে হে মার্কেটের কাছে   

আঙুলগুলি প্লাস্টিকের হলুদ হাতলকে আঁকড়ে ধরে,  

পুরানো, ময়লা কুড়ুল উঠে আসে, গাঁইতি-কাস্তে উঠে আসে 

 

রক্ত ও ফাঁসির রজ্জু বেয়ে 

শ্রম নির্ণীত হয় শ্রমিক- মানুষের অভীপ্সার কাছে। 

 

 

 

মে দিবস কথা কয়

দীপংকর গৌতম

খালি কলসের মতো পেট, খায় কি খায় না

ক্ষুধার আগুন জ্বলে পেটে, চুলা জ্বলে না

গাজীপুর, টঙ্গী রাস্তা বসে আছে ক্ষুব্ধ শ্রমিক

সড়ক বন্ধ, বন্ধ কারখানা, গাড়ি চলে না।

 

বকেয়া ওভার টাইম, বেতনও বকেয়া থাকে, 

চাকরি যখন তখন আছে কি নাই কে বলবে কাকে

দাবি শুধু দাবি, মারপিট খাবি

মে দিবস আসে আর যায়, মে দিবস কে বলবে কাকে।

 

চুরি হয় স্বপ্ন, চুরি হয় শ্রম

ট্রেড ইউনিয়ন তাও চুরি হয়

মে দিবস হাতুড়ি-কাস্তের কথা কয়। 

 

 

 

শ্বেতাভ পুষ্পের প্রতি

শঙ্খশুভ্র পাত্র

 

স্নিগ্ধ-সকালের ফুল প্রস্ফুটিত— যেন সমর্পিতা

শ্বেতাভ রঙের দিকে প্রতিদিনই— অনিন্দ্য সুবাস

আমি যে নিবিড় করে পাই তাকে, পুবের আকাশ

রবিতে বিভোর— ছবি, মনে-মনে মাধবী বিতান

কী আগ্রহে এঁকে ফেলি— জানে এই গৃহমুখী দোর৷

বিজন দুয়ারে কার ছায়া পড়ে, সে কি দয়াবৃতা?

কী জানি জানালা, দ্বিধা... শ্বেতশ্মশ্রুময় এই আয়ু

কমলে কোমল, মল, রুনুঝুনু, জাগরূক স্নায়ু

সারাদিন সুখপাখি— খুঁজে ফেরে চাঁদের শিথান৷

 

পুষ্পঘোর, ঘর-দোর, আলস্যে, প্রণয়ে একাকার৷

শয্যা ছেড়ে উঠি তবে— সাজসজ্জা এই জড়সড়৷

নিকটে আসো না, তবু, মনে মনে আমাকেই পড়ো—

এই তো মাধবী ঢের, মধুবাতা, "ফিরে এসো চাকা..."

পাগল না হলে লিখি— কেন এই শিশুমতি, টান—

শ্বেতাভ পুষ্পের প্রতি, তুমি জানো ভোরের বাগান?

 

 

 

দাহ্যতা ও তুমি

আশরাফ হাসান

 

দাহ্যতা ধারণ করেছি বলেই তুমি বেশ আছো

আছো আলো-আঁধারির মধ্যখানে অক্ষত

স্বর্ণকামারের মতো তোমার হাত পোড়েনি এখনো।

 

যে অস্তিত্ব জেনেছে প্রজ্জ্বলনের ইশতেহার

চৈত্রদুপুরের মাঠ থেকে তুলতে শিখেছে সবুজ সাহস

প্রান্তিক চাষির মতো যে মাঠে জ্বলে উঠে 

খরার অবাধ অনাচার 

তারে কী পোড়াবে এই অরন্তুদ আগুন

তোমার বাসনার কোমল শিখা

তারে কী নিনাদ শোনাবে ভৈরবী মেঘের দেশ! 

 

জ্বলতে শিখেছি বলেই 

তোমার ঘরে এখনো আলোর এষণা

রাত্রির ভনিতা থামিয়ে দিয়ে সলতের মতো জাগি

জ্বলি যুগপৎ হয়ে তোমার অনুপম অনুপ্রেরণা।

 

তুমি জ্বালানি যোগান দিয়েছো অবিরাম

অথচ কী বিস্ময়

স্বর্ণকামারের মতো তোমার হাত পোড়েনি এখনো। 

 

 

অর্ধসমাপ্ত মানুষ

বেনজির শিকদার 

 

'আজ' কিছুতেই আমার হয় না।

প্রতিটি দিন আমি দান করে দিচ্ছি।

কেউ না কেউ হরণ করে নিচ্ছে আমার প্রতিটি দিন।

দখলি দৌরাত্ম্যে অধিকার করে নিচ্ছে আমার মুহূর্তগুলো।

কেউ না কেউ গ্রহণ বা বর্জনের খাতায় রাখছে 

আমার প্রতিটি উদ্যমী 'আজ'।

আমি কিছুতেই আগামীর কাছে পৌঁছুতে পারছি না।

আমার সবটাই যেন নির্মূল নস্যি কাজ।

 

আমি কিছুতেই হাতে ধরতে পারছি না ছায়া।

আমি কিছুতেই কুয়াশার মিছিলে

দেখতে পারছি না আমার নিজের মুখচ্ছবি।

আমাকে কেউ আঁকেনি!

আমাকে নিয়ে কাব্য করেনি কোনও কবি।

আমি সময়ের মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছি

কিছুতেই গতি-বাহনে চেপে যেতে পারছি না—

আরাধ্য আগামীর কাছে! 

 

অনাবাদী সূর্যটা এখনও অনন্ত ঘুমে 

আশাবাদের গান গেয়ে কৃষকও যায়নি জমিনের কাছে।

পথহীন পরবাসী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর যে পাখিটা;

এখনও সে চুপ করে বসে আছে আগামীর আশায়।

যেন অনামি হাওয়ার ঢেউ এসে তাকে ঠিক ভাসায়!

যেন আগামী ভোর তার একান্ত হয়

যেন আগামী জাগরণ হয়—- 

আমার মতোই অতলান্তিক অনুভবে;

 

আমি অর্ধসমাপ্ত মানুষ—

কেবল প্রতীক্ষায় আছি, কালকের দিনটি আমার হবে।

 

 

 

চাকার বিবর্তন

সাকিব জামাল

 

কৌশলে, শ্রমিকের মাথার সাথে পা লাগিয়ে-

চাকা তৈরি করে আধুনিক কর্মকার!

সভ্যতা এগিয়ে চলেছে সামনে...

হিসাব, ভ্রান্তি লুকানো চমৎকার!

ধারণা করি, এই চাকা আবিষ্কারের পূর্বেই-

সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ভালো ছিল।

এখন তারা ভালো না-থাকা মানুষের দলে!

শান্তিকে যদি সূচক ধরো,

সভ্যতা এগিয়েছে কতোটুকু?

চাকার সংখ্যা বেড়েছে মাত্র।

নিরানব্বই শতাংশ মানুষই চাকা।

আর চাকার প্রতিটি বিন্দুই পিষ্ট হয়!

 

 

 

কথোপকথন

আবদুল বাতেন

 

-সিক্স প্যাক বডি তোমার, কিভাবে বানালে?

কোন জিমে যাও, ধারে- কাছে; নিয়মিত?    

যুবক হাসিফোয়ারায় ভিজে আঙুল তুলে দ্যাখায়- 

আদিগন্ত এক মাঠ। ধান, ভুট্টা, গম, আখের খেত।    

 

-ইস, তোমার অমন জিরো ফিগার! দারুণ, দারুণ

ট্রেড মিলে ঘাম ঝরাও, সকাল- বিকাল?

শীর্ণ মেয়েটি আমার হাতে হাতুড়ি তুলে দ্যায়

-ইট, পাথর ভেঙ্গে ভেঙ্গে আমার এমন!  

 

-সুগার ঠিক রাখতে কি কি মেপে খাও?

আর চর্বি ঝরাতে, ইয়োগা?

বৃদ্ধ তাঁর পলিথিনের তাঁবুতে নিয়ে যায়- 

পোড়া রুটি, বাসি সবজি সানকির; দ্যাখায়।  

 

-উচ্চ রক্তচাপ তোমাকেও নিশ্চয় ভোগায় খুব?

তুমি ভিগেন, বুঝি; এখন?

পোশাক শ্রমিক নারীটি মাথার আঁচল ফেলে

আমার সামনে নির্দ্বিধায় 

তাঁর ফোস্কা পড়া হাতের তালু তুলে ধরে। 

 

-ঐ বিল্ডিং তৈরিতে তুমি পড়ে গিয়ে হাত- পা ভেঙ্গেছিলে

তোমার মাথা থেঁতলে গিয়েছিল। 

তোমার জন্য সেখানকার কামরা বরাদ্দ হয়েছিল? শুনে  

গড়িয়ে গড়িয়ে বালকটি বস্তির দিকে যেতে থাকে। 

 

-তোমারা কি ধর্ম- কর্ম মানো, নামাজ- রোজা?

পথশিশুটির ফ্যাসফ্যাসে কণ্ঠস্বর

-ছার, আমরা প্রতিদিন রোজা।

ডাস্টবিনে খাবার খোঁজাই আমাদের ৫ ওয়াক্ত নামায।

 

 

 

 

শ্রমিক দিবস আমাদের অনুপ্রেরণা

রাশিদা কামাল

 

'শ্রম' আর 'শ্রমজীবী' শব্দ দুটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 'শ্রম' শব্দের আভিধানিক অর্থ মেহনত বা খাটুনি। আর 'শ্রমজীবী' শব্দের অর্থ দৈহিক শ্রম দ্বারা জীবিকা অর্জনকারী। সেই অর্থে আমরা সবাই শ্রমজীবী। যদিও শ্রমের ধরন আলাদা। গুহাবাসী মানুষ গুহায় বসেই হয়তো শ্রমের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলো। আর উপলব্ধির প্রান্তে দাঁড়িয়ে তারা একসময় গুহা ছেড়ে অরণ্যচারী হয়েছিলো-পা রেখেছিলো শক্ত মাটিতে। এই শক্ত মাটিই শিখিয়েছিলো শ্রমের প্রয়োজনীয়তা। শ্রমকে সাথী করে, নানা কৌশল উদ্ভাবন করে নিজেকে করেছিলো প্রতিষ্ঠিত-প্রমাণ করেছিলো নিজের শ্রেষ্ঠত্ব। 

 

আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি একটা বাক্য, পরিশ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি। বাসায় শুনেছি মা-বাবার কাছে আর স্কুলে শুনেছি শিক্ষকদের কাছে। কথাটাকে তাই খুব সাধারণ মনে হতো। কিন্তু আসলেই কি তাই! বড়ো হয়ে বুঝেছি আর মনে মনে হেসেছি। না, বাক্যটা সাধারণ না! 

অসাধারণ বাক্য! যে বাক্যটি বুকে ধরে আছে উন্নতি আর অগ্রগতির মূলমন্ত্র! 

নিউইয়র্ক থেকে রিতার ফোন পেলাম 'শ্রমিক দিবস' নিয়ে লিখতে হবে। এখানে একটা কথা বলে রাখি, রিতার ফোন আমাকে উজ্জীবিত করে। ওর কথামতো লিখতে বসে গেলাম। মনে মনে নিজেকে বললাম, এ দিনের কথা তো সারা বিশ্ব জানে! এ তো ইতিহাস! ইতিহাস যত পুরোনো হয় ততই জ্জ্বলজ্বল করে-ততই গুরুত্ব পায়! এটাই ইতিহাসের বৈশিষ্ট্য! 

 

লিখতে বসে মনে পড়লো আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকদের আত্মত্যাগের কথা। যারা দৈনিক আট ঘন্টা কাজের দাবীতে একত্রিত হয়েছিলো। ভয়ানক কিছু ঘটবে জেনেও আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। ভয়ানক কিছুই ঘটেছিলো! শ্রমিকদের ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি এক অজ্ঞাতনামার বোমা নিক্ষেপের ফলে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলি ছোঁড়ে। দশ বারোজন পুলিশ আর শ্রমিক এ সময় নিহত হয়। এর পর থেকেই দিনটি শ্রমিক দিবস নামে পরিচিতি পায়। 

এ দাবী উত্থাপনের আগে শ্রমিকদের অমানবিক পরিশ্রম করতে হতো। বিনিময়ে মজুরি মিলত সামান্য। মানবেতর জীবন যাপন করতো শ্রমিকরা। এই পরিপ্রেক্ষিতে ১৮৮৪  সালে একদল শ্রমিক আট ঘন্টা কাজের দাবীতে 

সোচ্চার হয়। এ জন্য তারা সময় বেঁধে দেয় ১৮৮৬ সালের পয়লা মে। কিন্তু কারখানার মালিকরা এ দাবী মেনে নিলো না। এ দাবী বাস্তবায়নের জন্য তারা শিকাগোর হে মার্কেটের বাণিজ্যিক এলাকায় জড়ো হয়। আগস্ট স্পিচ  নামের এক নেতা তখন বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ পুলিশের কাছেই এক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন পুলিশের মৃত্যু হয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় এগারোজন শ্রমিক নিহত হয়। আগস্ট স্পিজসহ আটজনকে অভিযুক্ত করে ১৮৮৭ সালে ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। একজন কারাভ্যন্তরে আত্মহত্যা করে আর একজনকে পনেরো বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

কিন্তু বোমা বিস্ফোরণকারীর সন্ধান কখনও পাওয়া যায়নি। ফাঁসির মঞ্চে আরোহণের আগে আগস্ট স্পিজ বলেছিলেন , আমাদের নিস্তব্ধতা তোমাদের আওয়াজ থেকে অধিক শক্তিশালী হবে।

শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের আট ঘন্টা কাজ করার অধিকার বাস্তবায়িত হয়। আর এভাবেই দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বিশ্বের আশিটি দেশে দিনটি জাতীয় ছুটির দিন। এরও অনেক পর ১৯০৪ সালে আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।সে প্রস্তাবে বলা হয় সকল শ্রমিক সংগঠন মে মাসের এক তারিখে কোন কাজ করবে না। সেই সাথে এ দিনটিকে ছুটির দিন হিসাবে পালনের দাবীও জানানো হয়। কোন কোন স্থানে হে মার্কেটের আত্মত্যাগী শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে আগুনও প্রজ্জ্বলিত হয়। মজার ব্যাপার হলো আমেরিকায় দিনটি পালিত হয় সেপ্টম্বরের প্রথম সোমবার। 

 

আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষ দিনটি পালন করে ছুটির আবেশ নিয়ে। ভুলে যায় এ দিনের মূল উদ্দেশ্যকে। আর শ্রমজীবীরা বকেয়া বেতনের দাবীর কথা বলেই

দিনটি পার করে। হয়তো বকেয়া বেতন পায় হয়তো বা পায় না। শ্রমিকদের গুরুত্ব এই দিনটিতেই সীমাবদ্ধ থাকে। এতদিনেও বদলায় নি শ্রমিকদের ভাগ্য-বাস্তবায়িত হয়নি ওদের অনেক দাবী। বাস্তবায়িত হোক ওদের মৌলিক দাবী এটাই আমাদের কাম্য। 

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন