https://www.prothomalony.com/
13201
literature
উত্তরকাল
পরিতোষ বাবলু
বেলা শেষে পাখিরাও ঘরে ফিরে।
হরিদাসের হয়না ফেরা!
ঘনসন্ধ্যা নেমে এলে, লণ্ঠনে- লণ্ঠনে
রাতজোনাকির মতো বাতি জ্বলে--
মাছ ধরার নৌকোয়, জেলে নৌকোয়।
দাসপাড়ার কৈবর্ত সম্প্রদায়ের লোকেরা
মাছ ধরে জীবিকার তাগিদে;
পদ্মার ঊর্মিলায়।
রূপালী ইলিশ আগের মতো করে
ধরা পড়ে না জালে।
কস্মিনকালে হরিদাস মনসামঙ্গলের
চাঁদ সওদাগরকে অলীক স্বপ্নে দেখে!
অকস্মাৎ ছাই-রঙ আঁধারে
হরিদাস আঁতকে ওঠে! ক'জনার কাঁধে
বাঁশের খাটিয়া!
শ্মশানবন্ধুরা ধ্বনি ছুঁড়ে হেঁটে চলে
"হরিবোল, বল হরি" বলে!
হরিদাস উত্তরকালের কথা ভাবে--
হায়রে মানুষ, রঙের মানুষ!
দ্বিকোষ
কোমল দাস
গুণির স্বভাবও হয়ে গেছে অবচয়,
অঢেল জ্ঞানীও চলে গেছে অবতলে।
সাধুরও এখন বিনা দোষে সাজা হয়,
হযবরলতে যেন সবকিছু চলে।
বনমোরগের পদধ্বনির নাদে,
কাচের বোতলে দেহত্যাগ করে হাওয়া।
ভয় দেখিয়েও না হেসে ভূতেরা কাঁদে,
সুখতারা করে চাঁদের উপরে ধাওয়া।
মাছেরা জানে না কত ধানে কত চাল,
চিৎকার ছাড়ে থাকবো না আর জলে।
তীরে উঠে বলে টেনে পিপীলিকা হাল,
ভেজা জমিতেও এখন লাঙল চলে।
নদীতে
অঞ্জলি দেনন্দী, মম
নদীতে আমি আর তুমি।
গলা পর্যন্ত ডুবে আছি।
আমরা খুব কাছাকাছি।
আমার কপাল চুমি
তুমি বললে হেসে,
ভালবেসে,
বৈশাখে নদী জল শীতল রাখে।
এখনই সামনে যে আছে চাই তাকে।
আমি বললাম লাজ নত মুখে,
তোমায় পেয়ে থাকবে সে সুখে।
গ্রহণ করে নাও যদি।
হবে তো সে নদী।
প্রেমের সাগরের পানে
বয়ে যাবে ব্যাকুল টানে।
এরপরে মিললাম দুজনে জলে।
উন্মুক্ত আকাশ তলে।
আশেপাশে নাই কেউ।
ছুঁয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় ঢেউ।
সম্পর্ক
আহাম্মদ উল্লাহ
মাঝে মাঝে মনটা উদাসীন হয়
হিসাব নিকাশের খাতা খুলে বসি
ঝড়ের মত কে এলো কে গেলো
আপনার আপন ভাবি যারে
ভাই, বন্ধুবর কিংবা হৃদয়ের এক মানুষ
দেখা হয় না বহুদিন তবুও খুঁজে রাখি মনের কোণে।
একদিন শুনি তার কথা
অন্যমুখে অন্যস্বরে
মধুর ব্যথা বুকে বাজে।
বুঝি—আপন ভাবিলে কি আপন?
সময় বয় দূরত্ব কিছু রয়।
একান্ত নিকটে ব্যথার উপশম মন ভাবে যারে
অবহেলা- বেদনা দিয়েছে ফিরিয়ে সর্বদ্বারে।
নীরবতার আত্মকথা
মধুমিতা দত্ত
পাহাড় কথা বলে না, তবুও তার ভাষা—নীরবতা।
আমি একদিন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
"তুমি কি কেবলই এক স্তব্ধ প্রাকৃতিক গঠন?"
সে হেসে উঠেছিল, নিঃশব্দে—বলেছিল,
"আমি তোমারই অংশ, সেই স্তর
যেখানে আত্মা ধুলোর চেয়ে সূক্ষ্ম হয়ে মিশে যায়।"
পাহাড় শিখিয়েছে—উঁচু মানেই গর্ব নয়,
নিচু মানেই হীন নয়;
উঁচু পড়ে যেতে পারে, নিচু ধারণ করে তাকে।
সে বলেছে, "প্রকৃতি মানে না ধর্ম,
না পাপ-পুণ্য, না মুক্তি কিংবা বন্ধন—
সে শুধু জানে চক্র: জন্ম, মৃত্যু, পুনর্জন্ম।
মানুষের আত্মাও সেই চক্রে বাঁধা,
আমার মতো—ভাঙে, গড়ে উঠে আবার
হাজার বছরের স্তব্ধ গহনতায়।"
প্রকৃতি কেবল বাইরের নয়—
সে ভিতরের বাস্তবতা,
আর পাহাড়? আত্মার স্থিতি, যেখানে চেতনা
নীরব হয়ে থাকে।
হাওয়া
পলাশ দাস
এই এখনই বাজার থেকে ফিরলাম
তারপরই বৃষ্টি নামল
চারপাশ দেখছি ছুটছে নিভছে
যে যার মতো
কেউ কারো মুখ দেখে না
রাস্তাটা যতদূর দেখা যায়
আমাদের শহরে এখন পুরোনো বাড়ি ভাঙা হচ্ছে
আর কেটে ফেলছে পুরোনো গাছ
রাস্তাটা তেমনই আছে
শুধু দৃশ্যত বহরে বেড়েছে আর
হু হু করে ভেসে যাচ্ছে নতুন হাওয়া
প্রেমপত্র
সারমিন চৌধুরী
পুরানো ডাকবাক্সে ঝুলে আছে
কাঁচা হাতের লেখা সেই প্রথম প্রেমপত্র।
পড়ে আছে জরাজীর্ণ ক্রমনীল অন্ধকার কক্ষে
মূল থেকে তুলে আনা প্রেমের অন্তর্ধান,
যেখানে ছিল প্রতি অক্ষরে ধ্রুপদী সরল ভাবাবেগ।
করেছিলাম শব্দের দীপ্তিময় হালচাষ পত্র জুড়ে,
অজান্তেই নিষ্পাপ অশ্রুবিন্দুতে হয়েছিলাম সিক্ত
এলোমেলো ভাবনারা লেপ্টে ছিলো কালিতে
আলপনার মতো উজ্জ্বল মুখ ভাসছিল চোখে
ইউক্লিডের উপপাদ্যের মতো রসিকতাপূর্ণ ছিল
অনুভূতির পুষ্পজলে হয়েছিলো রোমাঞ্চিত;
প্রতিটি কথায় ছিল আধ্যাত্মিক বিভা,অপেক্ষা
জড়িয়েছিল শুধু তোমার ছায়াজাল আষ্টেপৃষ্টে
যেখানে ফুটেছে প্রজ্ঞাময় প্রেমের সংলাপ!
যে আর্দ্রতম দিন জুড়ে দিতো তীব্র আহাজারি
যত্নে বপন করেছিলাম সেখানে প্রণয়ের বীজ
তোমার স্পর্শ পাইনি বলে বিনষ্ট হয়ে গেছে,
সেই থেকেই হাঁটছি বেদনার সীমাহীন মাঠে।
বিশ্ব-পণ্ডিত
মোঃ রহমত আলী
বিশ্ব যখন অন্ধ হয়ে, অন্ধ খুঁজে ফেরে
অন্ধ তখন বিশ্বের দিকে তাকিয়ে বলে,
দেখোনা তোমরা কোথায় আগুন লেগেছে!
কারা আগুন লাগিয়েছে,
তারা কারা যারা আগুন লাগাচ্ছে?
তবে কি তোমাদের নজরে এগুলো
শুধুই মজাদার লীলা?
লক্ষ্য কোটি আর্তনাদ দেখেও তোমরা-
মিথ্যা সান্ত্বনা ছুড়ে দাও!
হয়তো খেয়ালি বসে ধ্বংসাত্মক তামাশা দেখো!
কিন্তু, বিশ্ব যখন আলোকিত রজনীর তালাশে ব্যস্ত,
তখনও কতক দেশের আমজনতা অভাবগ্রস্ত
মারাত্মক দুর্বিষহ জীবনযাত্রায় জর্জরিত।
তবু যতই চোখে আঙুল দাও, দেখেনা বিশ্বগুরু,
অথচ তারাই আজ বিশ্ব মহারাজ, মহাপণ্ডিত!
'এআই' যেভাবে শিল্পসাহিত্য চর্চাকে বিঘ্নিত করছে
এইচ বি রিতা
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা 'এআই' মানবসৃষ্টির প্রায় সকল ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে, শিক্ষাক্ষেত্র এবং সাহিত্য-শিল্পচর্চাও তার ব্যতিক্রম নয়। এই দুই জায়গায়তেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রবেশ করেছে এক নীরব বিপ্লব নিয়ে। যদিও এর আগমন সাহিত্যিক ও শিল্পীকে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা-দক্ষতা বিশ্লেষণ করে আলাদা পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করতে পেরেছে, তবে এই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ও বাণিজ্যকেন্দ্রিক ব্যবহার শিক্ষাক্ষেত্র ও শিল্পসাহিত্যের মৌলিক স্বর ও মানবিক গভীরতাকে একপ্রকার হুমকির মুখে ফেলছে।
আমার প্রসঙ্গ, 'এআই' কীভাবে আধুনিক সাহিত্য ও শিল্পচর্চার অন্তঃসারকে বিঘ্নিত করছে, তা নিয়ে। 'এআই' মূলত নিজে কিছু অনুভব করে না, অভিজ্ঞতা থেকে শেখে না, কিংবা কোনো ব্যক্তিগত জীবন নেই তার। 'এআই' যা লেখে, তা আসে বিপুল পরিমাণ ডেটা থেকে শেখা ভাষার ধরন ও প্যাটার্ন থেকে-যেখানে সে বিশ্লেষণ করে, কোন শব্দের পরে কোন শব্দ আসতে পারে। মানুষের লেখা বই, কবিতা, প্রবন্ধ, সংবাদ, চ্যাট, গবেষণাপত্র এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে ভাষার গঠন শেখে 'এআই।' ব্যক্তির জিজ্ঞাসা বা প্রম্পট দেখে প্রাসঙ্গিক শব্দ-সংমিশ্রণ তৈরি করে।
'এআই' নির্ভর লেখনী বা চিত্রাঙ্কন সফটওয়্যার প্রায়শই প্রচুর পরিমাণে তথ্য বিশ্লেষণ করে কনটেন্ট তৈরি করে, যা দেখতে মৌলিক হলেও, আসলে তা মানব অনুভবের রিফ্লেকশন নয়, বরং একধরনের 'ডেটা-ড্রিভেন কোলাজ'।
সাহিত্য একান্তই মানুষের আবেগ, অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ, মানসিক সংকট, স্বপ্ন ও সময়চেতনার বহিঃপ্রকাশ। সেখানে 'এআই'-এর সৃষ্ট লেখাগুলো নিখুঁত হলেও অনেকটা আত্মাহীন। যেমন ধরুণ, ভিনসেন্ট ভ্যান গো-এর 'স্টারি নাইট' শুধু ক্যানভাসে আঁকা একটি আকাশ নয়, এটি একটি মানসিক অবস্থা, একাকিত্ব, এবং কল্পনার দোলায় ওঠানামা করা শিল্পীর অভিজ্ঞতা। কিন্তু 'এআই' যখন এমন একটি চিত্র তৈরি করে, তখন তা চোখ ধাঁধানো হতে পারে, কিন্তু সেখানে শিল্পীর অন্তর্জগৎ বা যন্ত্রণা প্রতিফলিত হয় না। অনুরূপ, বিমল মিত্রের 'কড়ি দিয়ে কিনলাম'-যে গ্রন্থের জন্য তিনি ১৯৬৪ সালে রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত হন, 'এআই' এমন একটি গ্রন্থ তৈরি করতে পারবে না, ছোট গল্প ছাড়া। এবং সে গল্পের চরিত্র হয়তো চমৎকার হবে, সংলাপ হয়তো নির্ভুল হবে, কিন্তু তারা 'বেঁচে' থাকার মতো না। তাদের চিন্তা-ভাবনা পাঠকের অনুভবের সাথে জুড়ে না, কারণ চরিত্রগুলোর মধ্যে তীব্র প্রেম, তীব্র দ্বন্দ্ব, বেদনাবোধ বা সময়চেতনার সংকট নেই। তারা একধরনের নির্বাক কাকতালীয় পুতুল।
কবিতার ক্ষেত্রে এই সঙ্কট আরো গভীর। কবিতা কেবল শব্দের সমাহার নয়, এটি অনুভব, আবেগ, যন্ত্রণার নীচতলা, স্বপ্ন ও স্মৃতির আলোকছায়া। কবিতা লিখতে গেলে কেবল ব্যাকরণ নয়, লাগে রক্তে মিশে থাকা কষ্ট, অননুভূতি, প্রেমের গভীরতা, স্মৃতির রন্ধনভূমি থেকে আসা ভাষা। আর এখানেই 'এআই' ব্যর্থ হয়। 'এআই' যখন কবিতা লেখে, তখন সেটি লক্ষ লক্ষ কবিতার ডেটা বিশ্লেষণ করে গড়পড়তা এক ছন্দবদ্ধ শব্দের কাঠামো দাঁড় করায়।
"আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে-এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে..."-
জীবনানন্দ দাশের এই কবিতার পঙ্ক্তিতে যে পুনর্জন্মের আকুতি, যে নির্জন বাংলার প্রতি নিঃশর্ত প্রেম, এবং যে শিকড়ের অস্তিত্বচেতনা-সেটা কেবল মানুষের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি আর মাটির গন্ধেই সম্ভব। কিন্তু 'এআই' যখন এমন একটি কবিতা লিখবে, তখন তাতে হয়তো থাকবে ছন্দ, শব্দ হবে প্রাঞ্জল, কাঠামো হবে সুন্দর এবং নদী, পাখি, গাছ, ঋতু-সব উপাদানই থাকবে, কিন্তু যা থাকবে না তা হল শিকড়ের অভিজ্ঞতা, নিঃসঙ্গ বাংলার বিষণ্নতা, পুনর্জন্মের 'আত্মা। কারণ, 'এআই' জানে না ধানসিঁড়ি নদীর পাড়ে বিকেলের আলো কেমন হয়। তার ভাণ্ডারে সেই আলো শুধুই 'ডেটা', অনুভব নয়। জীবনানন্দের কবিতায় যে নির্জন বিষণ্নতা থাকে, যা নগরের ক্লান্তিকেও গ্রামে ফেরা স্বপ্নে পরিণত করে, 'এআই' বুঝতে ব্যর্থ যে-এই বিষণ্নতাও একধরনের প্রেম। এবং সাহিত্যসচেতন পাঠক বা প্রজ্ঞাবান কবিরা এই 'এআই' কবিতাকে ঠিকই চিনে ফেলেন-চোখে পড়লে বুঝে যান, শব্দ যতই নিখুঁত হোক, তার ভেতরে প্রাণ নেই।
আরো আছে, অভিজ্ঞতার গন্ধহীনতা। মানুষের লেখা কবিতা জীবনের নির্যাস থেকে জন্ম নেয়। শৈশব-কৈশোরের খেলা, বৃদ্ধ মা-বাবার অসুস্থতা, ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতা, যুদ্ধের ভয়াল রাত, সমাজের নীপিড়ন-দুর্দশা, প্রেমিকের প্রতারণা—এসব অননুকরণীয় নিত্য নতুন অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণই কবিতায় শব্দ হয়ে ওঠে।
'এআই' এর কবিতা সেই অভিজ্ঞতাহীনতায় নিঃস্ব। 'এআই'
জানে না হারানোর কষ্ট, মৃত্যুর গন্ধে চোখের জল কেমন করে নোনা বা গরম হয়। 'এআই' কেবল পূর্ববর্তী সাহিত্যের পুনরাবৃত্তিতে শিক্ষিত, অনুকরণ করতে পারে-কিন্তু নতুন কিছু সৃষ্টিতে নয়।
'এআই'-এর সৃষ্ট শিল্প বা সাহিত্য দেখতে নিখুঁত হলেও, তা পাঠকের আত্মার গভীরে প্রবেশ করে না। এটি এমন এক ধরনের কনটেন্ট যা প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ কিন্তু মানবিকভাবে শূন্য। শিল্পের অন্তরাত্মা হচ্ছে অনুভব, আর 'এআই' এর অভাব ঠিক এখানেই।
'এআই' যখন সাহিত্য রচনা বা শিল্প সৃষ্টি করে, তখন তা মানুষকে প্রযুক্তির আড়ালে ডুবিয়ে রাখতে পারে, তবে কখনোই মানুষের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির গভীরতা, তার চিন্তা বা আত্মার শব্দকে প্রকাশ করতে সক্ষম হয় না।
যারা 'এআই' নির্ভর করে সাহিত্য তৈরি করতে চান, তাদের জন্য এই স্মরণীয় বার্তা:
"একটি শব্দও যদি আপনাক হৃদয়ের গভীরতা থেকে উঠে আসে, তখন সেটাই সত্যিকার শিল্প।"
কাজেই যখন আপনি সাহিত্য রচনা করেন, মনে রাখবেন-শব্দগুলো যেন আপনার হৃদয় থেকে উঠে আসে, যেন তা পাঠকের হৃদয়ে পৌঁছায়।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন