https://www.prothomalony.com/
12978
new-york
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসে মুসলিম কমিউনিটির ধর্মীয় তাহজীব ও তামাদ্দুনের শীর্ষ সংস্কৃতি ঈদ উদযাপনকে মসজিদের বাহিরে সুন্নাহ মোতাবেক আদায় ও প্রতিষ্ঠিত করতে এবং অমুসলিম প্রতিবেশীদের চলাচলে, গাড়ি পার্কিংয়ের বিঘ্ন না ঘটিয়ে ও যে কোন রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে নিছক সুন্নাহ মোতাবেক মুসলিম কমিউনিটি ও নতুন প্রজন্মকে ঈদ উৎসব উপহার দিতেই মোহাম্মাদী সেন্টারের উদ্যোগে নিউইর্য়ক ঈদগাহর যে আয়োজন শুরু হয় ২০১১ সালের ঈদুল ফেতর উদযাপনের মাধ্যমে, তারই ধারাবাহিকতায় এবারেও ঈদুল ফেতরের নিয়মিত পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্কের মিনি বাংলাদেশ বলে খ্যাত জ্যাকসনহাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায়। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া প্রতি ঘন্টা আন্তর অন্তর একটি করে ১১ টা পর্যন্ত হওয়া শেষ জামাতে পুরুষ-মহিলা ও নতুন প্রজন্ম সম্মিলিত ৫টি জামাতেই মুসল্লির সংখ্যা ছিল সন্তোষজনক। প্রথম দুই জামাতে মুসল্লীর সংখ্যা অপ্রতুল থাকলেও শেষ জামাতগুলো ছিল ভরপুর। নারী মুসল্লীরা দাঁড়িয়েছিলেন একেবারে শেষ কাতারে।

যেহেতু মোহাম্মদী সেন্টারের অনেকগুলো প্রজেক্টের একটি হল এই নিউইয়র্ক ঈদগাহ, তাই এখানে সুন্নাহ মোতাবেক শুধু মুসল্লিদের ঈদের নামাজ আদায় করারই ব্যবস্থা করা হয়না, বরং এখামে নতুন প্রজন্মের ইমামাদেরকেও যোগ্য নেতৃত্বের সুযোগ দেয়া হয়। তাই, পাঁচজন ইমামের দুিইজনই ছিলেন নতুন প্রজন্মের ইমাম। হাফেজ কারী মুসতানজিদ বিল্লাহ রাব্বানী ও হাফেজ মুসতাঈন বিল্লাহ রাব্বানী। মুসল্লিরা তাঁদের পিছনে নামাজ আদায় করতে পেরে ছিলেন দারুণ প্রফুল্ল। আরো যে তিনজন ইমাম ছিলেন, তারা হলেন শাইখ কারী আবু খায়ের, শায়েখ মাওলানা হাফেজ আতীকুল্লাহ বদরপুরী ও শায়খ হাফেজ কারি আলম কাবাবিশী।

মোহাম্মদী সেন্টার ও নিউইয়র্ক ঈদগাহর প্রতিষ্ঠাতা ইমাম কাজী কায়্যূম ছিলেন সার্বিক পরিচালনায়। এ এলাকার মুসলিম কমিউনিটির জন্য প্রতিষ্ঠিত নিউইয়র্ক ঈদগাহের উদ্যোগে সুন্নাত মোকাবেক মসজিদে নামাজ না পড়ে ও কমিউনিটির অমুসলিমদের রাস্তা ঘাট বন্ধ করে তাদের কষ্ট না দেয়ার ঈদ জামাতে নামাজ আদায় না করে নিউইয়র্ক ঈদগাহে এসে নামাজ আদায় করার জন্য তিনি মুসল্লিদের ধন্যবাদ জানান। ৎ
কাজী কায়্যূম বলেন, ‘শেষ জামানায় যখন মুসলমানরা কমার্শিয়াল ইসলাম সেবীদের মিসলীডে বিভ্রান্ত হয়ে যা ইসলামের নয়, তা ইসলামের মনে করবে, ঠিক সেই সময়ে নবী মোহাম্মদের (সা) একটি সুন্নাত আদায় করলে ১০০ শহীদের সাওয়াব তাদের আমলনামায় জুড়ে দেয়া হবে।’
তিনি মুসল্লিদর উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘আপনারাই সেই শত শহীদের সাওয়াব প্রাপ্যের যোগ্য অধিকারী। আপনারা মসজিদের ভিতরে ঈদের নামাজ আদায় না করে ও নিজের ধর্মীয় উৎসবকে আদায় করতে অমুসলিম প্রতিবেশীর রাস্তাঘাট বন্ধ করার ঈদ জামাতে ঈদের নামাজ আদায় না করে একেবারে খালিস সুন্নাহ মোতাবেক নিজেই কেবল ঈদের নামাজ আদায় করলেন না, বরং পরিবারের সদস্য, নতুন প্রজন্ম ও বন্ধুবান্ধবদেরও সঠিকভাবে ঈদ উদযাপন শিখানোর অগ্রদূত হয়ে থাকবেন।’
কাজী কায়্যূম বলেন, ‘শেষ জামানায় যখন ফেতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, অনৈসলামিক কাজকর্মকে ইসলামিক বলে চালিয়ে দিয়ে তা মানাতে বাধ্য করা হবে, তখন ইসলামী তাহজীব ও তামাদ্দুনকে সংখ্যার আধিক্যে বিবেচনা না করে মানের মর্যাদায়ই বিবেচনা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সেজন্যই নিউইয়র্ক ঈদগাহের জামাতগুলো বরাবরই কেয়ানটিটির চেয়ে কোয়ালিটি ও আধ্যাত্মিকতার মানে মান সম্পন্ন।’
বিভিন্নভাবে নিজের অজান্তেই পরিস্থিতির শিকার হয়ে যারা এবারের ঈদ উদযাপনে নিউইয়র্ক ঈদগাহে আসতে পারেননি, তাদেরকে ভবিষ্যতের ঈদ জামাতগুলোতে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ তিনি করেন।
সহযোগিতার জন্য স্থানীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, জেবিবিএ, ইন্ডিয়ান মার্চেন্ট এসোসিয়েশন ও এনওয়াইপিডি-১১৫ প্রিসিংটকে ইমাম কাজী রায়্যূম বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন