https://www.prothomalony.com/

17749

new-york

নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কে আইসিইর নতুন ‘সার্জ’ অভিযানের ইঙ্গিত, বাড়ছে অভিবাসীদের উদ্বেগ

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ ০১:২৫

ঘটনার সূত্রপাত রোববার রাতে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক ব্যক্তি ২৬ ফেডারেল প্লাজার সিঁড়িতে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আতশবাজির সাহায্যে আগুন ধরিয়ে দেন। ভবনটিতে আইসিইসহ একাধিক ফেডারেল সংস্থার কার্যালয় রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং তদন্তের দায়িত্ব নেয় এফবিআই।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে টম হোমান সরাসরি ডেমোক্র্যাট নেতাদের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, বামপন্থী রাজনীতিকদের বক্তব্যই কিছু উগ্রপন্থী মানুষকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “তারা বিশ্বাস করে বামপন্থীদের কথাই সত্য, আর সেই বিশ্বাস থেকেই তারা এমন কাজ করতে উৎসাহিত হয়।”

হোমান জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সতর্ক করে আসছেন যে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য একসময় সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। তাঁর দাবি, “আমি যে আশঙ্কা করেছিলাম, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি ঘটনা ঘটেছে। যতদিন আইসিইকে তাদের কাজ করতে দেওয়া না হবে, ততদিন এমন পরিস্থিতি চলতেই থাকবে।”

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অভয়ারণ্য (Sanctuary) নীতিরও কড়া সমালোচনা করেন হোমান। গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্থানীয় কারাগারগুলোর সঙ্গে আইসিইর ২৮৭(জি) কর্মসূচির সহযোগিতা সীমিত করার পর অভিবাসন আইন বাস্তবায়ন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, আগে একজন আইসিই কর্মকর্তা স্থানীয় কারাগার থেকেই একজন অপরাধীকে হেফাজতে নিতে পারতেন। এখন একই কাজের জন্য পুরো একটি দল নিয়ে মাঠে নামতে হয়। ফলে জনবল ও সম্পদ—দুটিই বাড়াতে হচ্ছে।

এই ঘোষণার রাজনৈতিক গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি এর সামাজিক প্রভাবও কম নয়। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস, ওজোন পার্ক, ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার কিংবা কুইন্সের বিভিন্ন অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এমনিতেই অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। বহু মানুষ বছরের পর বছর ধরে গ্রিন কার্ড, স্ট্যাটাস পরিবর্তন কিংবা পারিবারিক অভিবাসনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তাঁদের কাছে ‘সার্জ অপারেশন’ শব্দটি কেবল প্রশাসনিক অভিযান নয়; এটি অনিশ্চয়তার আরেকটি নাম।

ফেডারেল ভবনের সিঁড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনাটি হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই সংবাদ শিরোনাম থেকে সরে যাবে। কিন্তু এর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। অভিবাসন নীতির প্রতিটি পরিবর্তন, প্রতিটি নতুন অভিযান কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্যের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে সেইসব সাধারণ মানুষের জীবনে, যারা আইন মেনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন।

একই সন্ধ্যায় নিউজম্যাক্সে প্রচারিত আরেকটি প্রতিবেদনে মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর এরিক শ্মিট এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির সংস্কারের দাবি জানান। তাঁর মতে, কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা দরকার।

একই দিনে অভিবাসন নিয়ে দুটি আলাদা বার্তা—একদিকে আইসিইর কঠোরতর অভিযান বাড়ানোর ঘোষণা, অন্যদিকে উচ্চদক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসা নিয়েও প্রশ্ন তোলা—ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে এখন কঠোর নজরদারির ধারা আরও জোরালো হচ্ছে। এই বাস্তবতায় বৈধ ও অবৈধ—দুই ধরনের অভিবাসন ব্যবস্থাই আগের তুলনায় অনেক বেশি রাজনৈতিক বিতর্ক এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
 

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন