https://www.prothomalony.com/

12917

new-york

নিউইয়র্ক

এক মাস বাড়লো পিপিএলে যুক্ত হওয়ার সময়

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৫ ০৬:৪৪

নিউইয়র্কের ভোক্তা-পরিচালিত ব্যক্তিগত সহায়তা কর্মসূচিতে (সিডিপেপ) যুক্ত হওয়ার জন্য নিবন্ধনের সময়সীমা এক মাস বাড়ানো হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, যারা এখনো পাবলিক পার্টনারশিপ এলএলসিতে (পিপিএল) নিবন্ধন সম্পন্ন করেননি তারা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় পাবেন।

জানা গেছে, ১ এপ্রিল থেকে সিডিপেপের সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা পিপিএলের হাতে চলে যাচ্ছে। যার ফলে রাজ্যের ৬ শতাধিক ছোট আর্থিক ইন্টারমিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও বিভ্রান্তির কারণে হাজারো ব্যবহারকারী ও কর্মী সময়মতো নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারেননি। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই অতিরিক্ত ৩০ দিনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য কমিশনার ড. জেমস ম্যাকডোনাল্ড জানান, ব্যবহারকারী ও কর্মীদের কোনো দোষ নেই। তাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। তাই কেউ যাতে সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই অতিরিক্ত সময়সীমা শুধুমাত্র নিবন্ধনের সুযোগ হিসেবে দেওয়া হয়েছে, ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন যথাসময়ে কার্যকর হবে।

এদি নতুন ব্যবস্থাপনার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকেই। অনেক কর্মী এখনো নিশ্চিত নন, তারা সময়মতো বেতন পাবেন কী-না। বিভিন্ন অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ও আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং পুরো পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে বিশৃঙ্খল বলে আখ্যা দিয়েছেন।

গভর্নর ক্যাথি হোচুল এই পরিবর্তনকে প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে বলেছেন, সিডিপেপের ব্যয় মাত্র পাঁচ বছরে ৩.২ বিলিয়ন ডলার থেকে ১১.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যা নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন ব্যবস্থাপনা জরুরি। তিনি জানান, রাজ্য প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য রোগী ও কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তবে আগের প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের আর সময় দেওয়া হবে না।

নিবন্ধনের সময়সীমা এক মাস বাড়ানো হলেও, এটি অনেকের জন্য পর্যাপ্ত হবে কী-না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। আইনপ্রণেতারা সময় আরও বাড়ানোর দাবি জানালেও, রাজ্য প্রশাসন সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে।

সিডিপেপে যারা অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না তাদের করণীয়

নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে কেউ যদি পিপিএলে নিবন্ধন করতে না পারে তবে তার সিডিপেপ সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্তিতিতে গ্রহকরা বিপাকে পড়তে পারেন। তবে একটি বিকল্প উপায়ের মাধ্যমে এই সমস্যা নিরসন সম্ভব বলে জানিয়েছেন কর্ণফুলী হোম কেয়োরের সিইও মো. হাশেম।

তিনি বলেন, সিডিপেপ যাদের বন্ধ হয়ে যাবে তারা আর ব্যবসায়ে টিকে থাকেতে পারবে না। এমন পরিস্থিতিতে যদি কোন প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সধারী হোম কেয়ার সার্ভিসেস এজেন্সি (লেকসা) হয়ে থাকে তারা পার্সোনাল কেয়ার সার্ভিস (পিসিএস) দিতে পারবে। এমন পরিস্থিতিতে তারা টিকে থাকতে পারবে। কিন্তু যাদের কাছে এই লাইসেন্স নেই তারা পুরোপুরি ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়বে।

তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যারা পার্সোনাল কেয়ার সার্ভিসের জন্য উপযুক্ত নন তাদের পিপিএলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। আর যারা পার্সোনাল কেয়ার সার্ভিসের জন্য উপযুক্ত তাদের আমরা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছি।

মো. হাশেম বলেন, আমাদের কুইন্স এবং পুরো লং আইল্যান্ডে আমরা হোমকেয়ার সেবা দিচ্ছি। অপর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্রঙ্কস, রকলেন্ড কাউন্টি, অরেঞ্জ কাউন্টি, ডাচেস কাউন্টি, অস্কার এবং সুল্লিভান কাউন্টি পুরো এলাকায় সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের হোম কেয়ার সার্ভিসেস এজেন্সির লাইসেন্স থাকায় আমরা পিসিএস সেবাটা দিতে পারবো। কিন্তু যাদের লাইসেন্স নেই তাদের অবশ্যই পিসিএলে যেতে হবে।

সিডিপেপ ও পিসিএসের পার্থক্য কি? পিসিএস প্রোগ্রামে স্থানান্তর প্রক্রিয়া

ভোক্তা পরিচালিত ব্যক্তিগত সহায়তা প্রোগ্রাম (সিডিপেপ) এবং ব্যক্তিগত সহায়তা সেবা (পিসিএস) দুটি মেডিকেইড দ্বারা অর্থায়িত হোম কেয়ার প্রোগ্রাম। তবে তাদের কার্যক্রমের ধরন একেবারে আলাদা। সিডিপেপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের কেয়ারগিভার নির্বাচন, প্রশিক্ষণ এবং সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারেন। এর মধ্যে, পরিবারের সদস্যদের কেয়ারগিভার হিসেবে নিয়োগের সুযোগও রয়েছে। তবে স্বামী বা স্ত্রীর কেয়ারগিভার হওয়া নিষিদ্ধ। এটি ব্যবহারকারীদের অধিক স্বাধীনতা প্রদান করে এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কেয়ারগিভারের ব্যবস্থাপনা করতে সহায়ক।

অন্যদিকে, পিসিএস প্রোগ্রামে, কেয়ারগিভারের নিয়োগ এবং তাদের সময়সূচি পরিচালনা করে একটি এজেন্সি। এজেন্সির মাধ্যমে কেয়ারগিভার নিয়োগের ফলে ব্যবহারকারীর কেয়ারগিভারের নির্বাচন এবং প্রশিক্ষণের ওপর কম নিয়ন্ত্রণ থাকে। এছাড়া, পিসিএস প্রোগ্রামে পরিবারের সদস্যদের কেয়ারগিভার হিসেবে নিয়োগের অনুমতি নেই, কিছু বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যারা বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী যারা সিডিপেপ প্রোগ্রামে থাকতে চান তারা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পিপিএলে নিবন্ধন করতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (ডিওএইচ) নির্দেশিকা অনুযায়ী,  পিসিএস প্রোগ্রামে স্থানান্তর করতে গেলে, মেডিকেইড পরিচালিত যত্ন সংস্থা (এমএমসিও) এবং স্থানীয় সমাজসেবা বিভাগ (এলডিএসএস) এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। পিসিএস-এ স্থানান্তর করলে গ্রাহকের একটি নতুন মূল্যায়ন এবং পূর্ব অনুমোদন প্রয়োজন হবে। যা সঠিকভাবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অপরিহার্য।

প্রসঙ্গত, নতুন সিডিপেপ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো গৃহ পরিচর্যা কর্মসূচিতে অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার কমানো। এই পরিবর্তন রাজ্য ও ফেডারেল করদাতাদের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করবে বলে মতামত সংশ্লিষ্টদের। তবে এই পরিবর্তনের ফলে গৃহ পরিচর্যা কর্মীরা তাদের বর্তমান স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। সেইসাথে তাদের মজুরিও পরোক্ষভাবে কমে যেতে পারে। এতে করে প্রায় ৪ লাখ গৃহ পরিচর্যা কর্মী এবং ২ লাখ ৮০ হাজার বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী নাগরিকের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা কর্মীদের স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন