https://www.prothomalony.com/
12626
decoration
রোজায় ওষুধ সেবন: নিয়ম ও সতর্কতা
শারীরিক জটিলতায় চিকৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ওষুধ রোগীদের সারা বছরই সেবন করতে হয়। ওষুধ সেবনের নিয়ম বিভিন্ন ধরনের হতে পারে—কিছু ওষুধ খালি পেটে গ্রহণ করতে হয়, কিছু খাবারের পর, আবার কিছু দিনে দুইবার বা তিনবার নির্দিষ্ট সময় অন্তর। বিশেষ করে, অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ওষুধের কার্যকারিতা ঠিক থাকে।
যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, রোজার সময় তাদের ওষুধের রুটিনে পরিবর্তন আসতে পারে, যা সামঞ্জস্য বজায় না থাকলে ক্ষতিকর হয়ে উঠে। তাই রোজার সময় ওষুধ গ্রহণের নিয়ম কীভাবে পরিবর্তন করা যাবে, তা চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করাই ভালো, যাতে রোজা ও চিকিৎসা—দুটোই সঠিকভাবে পালন করা যায়।
তবে গুরুতর জটিল অবস্থা না থাকলে এবং খাবারের আগে গ্রহণযোগ্য ওষধগুলো এ মাসে সাধারণত দুই বেলা—সেহরি ও ইফতারের সময় গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন-সকালের ওষুধ, সেহরির শেষ দিকে গ্রহণ করা যেতে পারে। সেহরির সময় পানি ও হালকা খাবারের সঙ্গে ওষুধ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আর রাতের খাবারের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য ওষুধ ইফতারের পর খাওয়া যেতে পারে। খেজুর বা হালকা খাবারের পর ওষুধ সেবন করলে তা সহজে হজম হয় এবং শরীর ভালো থাকে।
তবে, কিছু কিছু কিছু ওষুধ খালি পেটে খেতে হয়। যেমন-থাইরোয়েড এর জন্য লেভোথাইরক্সিন, হাড়ের সুরক্ষায় বিসফসফোনেটস, অন্ত্রের আলসারের চিকিৎসায় সাক্রালফেট, টাইপ ২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় রেবেলসাস। মূত্রধারণের সমস্যায় 'বেথানেকল' এবং উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ফেইলিওর এবং টাইপ ১ ডায়াবেটিসের কারণে সৃষ্ট কিডনি সমস্যার চিকিৎসার জন্য অনেক সময় 'ক্যাপটোপ্রিল' কালি পেটে খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। আবার অনেককে নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয়।
রোজার নিয়ম মেনে এই ওষধগুলো নেয়া জটিল। তাই ইনসুলিন বা বিশেষ ওষুধ গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ওষুধের ডোজ ও সময় সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
তাছাড়া, ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যাদের হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বেশি। যাদের রক্তে চিনির মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকে বা যাদের ক্ষেত্রে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত কমে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, তাদের জন্য রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে, জটিল অবস্থার রোগীদের চিকিৎসকরা রোজা না রাখার পরামর্শ দিতে পারেন। তবে এমন কিছু ওষুধ রয়েছে, যা রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক এবং হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি কমায়। যারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে রোজা রাখতে চান, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধের সময়সূচি এবং ডোজ নির্ধারণ করা উচিত, যাতে রোজা পালন ও সুস্থতা দুটোই বজায় থাকে।
ডা. এ হাসনাত শাহীন তার 'রোজায় হাইপোথাইরয়েডিজমে ওষুধ সেবনে করণীয়' কলামে বলেছেন, 'পবিত্র রমজান মাস চলছে; তাই অনেক সময় হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীরা ওষুধ সেবনের সময় নিয়ে ঝামেলায় পড়েন। সাধারণত ইফতার ও সাহ্রিতে দুটি মূল খাবার গ্রহণ করা হয়। অনেকেই ইফতারের সময় ওষুধটি সেবন করে সঙ্গে সঙ্গে বা কিছুক্ষণ পর ইফতার করে ফেলেন। এতে ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। যেহেতু ওষুধটি খালি পেটে খেতে হয়, তাই রমজানে সাহ্রি খাওয়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে এটি সেবন করুন। ইচ্ছা করলে ইফতারের অন্তত তিন ঘণ্টা পরও সেবন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে একটি জিনিস মনে রাখা ভালো, ওষুধটি সেবনের অন্তত এক ঘণ্টা পর খাবার খেতে হবে।'
ডা. মুজাহিদুল ইসলাম তার 'রোজার সময় ওষুধ সেবন' কলামে বলেছেন, 'লোকাল অ্যানেসথেশিয়া বা স্থানিক অবচেতনকারী ওষুধ, যেমন দাঁতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যানেসথেশিয়া, গিলে খেতে হয় না এমন কিছু ওষুধ (জিহ্বার নিচে ব্যবহৃত জীবন রক্ষাকারী নাইট্রোগ্লিসারিন), জীবন রক্ষাকারী ইনজেকশন, ইনসুলিন এবং ক্রিম, লোশন ও ত্বকের বাহ্যিক অংশে ব্যবহৃত ওষুধগুলো রোজা অবস্থায় প্রয়োগ করা যায়।'
রোজার মাসে শরীরের যত্ন নেওয়ার সহজ উপায়:
রোজা ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির একটি। রোজার অর্থ বিরত থাকা, আত্মসংযম, পরিশুদ্ধি। রোজা রাখা মানেই শুধুমাত্র খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকা নয়, এটি শরীর ও মনের জন্য একটি বিশুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া। তবে রোজার মাসে সঠিকভাবে নিজের যত্ন না নিলে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও অপুষ্টির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রোজার মাসে ইবাদতের সাথে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শারীরিক যত্ন নেওয়া জরুরি।
রোজায় সারা দিন না খেয়ে থাকার পর সঠিক খাদ্য গ্রহণ না করলে শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই ইফতার ও সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সেহরিতে এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগায়। ওটস, দই, ডিম, শস্যজাতীয় খাবার ও সবজি এই ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প। পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, পাশাপাশি ফল খাওয়া দরকার, বিশেষ করে খেজুর, যা দ্রুত শক্তি দেয়। তবে চা, কফি বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এগুলো শরীরের পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে।
ইফতার করার সময় দ্রুত শক্তি পেতে খেজুর দিয়ে ইফতার করা ভালো। এরপর হালকা স্যুপ, শসা, টমেটো, শাকসবজি ও ফল খাওয়া উচিত, যা শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করবে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থেকে ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। তাই ভাজাপোড়া ও তেলযুক্ত খাবার কমিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে মনোযোগ দেওয়া শরীরের জন্য উপকারী হবে।
এছাড়া, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোললে, ইফতার ও সেহরিতে পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করলে, শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায় এবং শারীরিক সমস্যা এড়ানো যায়। রোজায় খাবারের প্রতি অতিরিক্ত লোভ থেকেও দূরে থাকতে হবে এবং ধৈর্য ও সংযম অনুশীলন করতে হবে। ইফতারে লোভনীয় খাবারের প্রতি আসক্তি কমিয়ে, পরিমিত খাবার গ্রহণ করতে হবে, যা শরীরের জন্য উপকারী।
রোজার সময় শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে পানিশূন্যতা এড়ানো খুবই জরুরি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে যায়, তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা আবশ্যক। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত।
চিনি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো শরীরের পানি শোষণ করে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ায়। পরিবর্তে, ফলের রস ও ডাবের পানি পান করা যেতে পারে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখবে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে শক্তি জোগাবে।
রোজার সময় ঘুমের রুটিনে পরিবর্তন আসে, যা শরীরকে ক্লান্ত করে তুলতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে সেহরির পর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দিনের বেলা ঘুমিয়ে নেয়া যায়। এতে ক্লান্তি দূর হবে। ঘুমানোর আগে মোবাইল বা টিভি দেখার অভ্যাস কমানো উচিত, যাতে ভালো ঘুম হয় এবং শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারে।
চিকিৎসকরা বলেন, রোজার সময় ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো, তবে হালকা শারীরিক কার্যক্রম শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। ইফতারের পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে হজমের সমস্যা কমবে এবং শরীর সজীব থাকবে। নামাজ পড়ার মাধ্যমেও শরীর সক্রিয় থাকে, যা এক ধরনের হালকা ব্যায়ামের কাজ করে। তবে শরীর যদি খুব ক্লান্ত থাকে, তবে না হাঁটাই ভালো।
স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে যা ঘটতে পারে:
স্বাস্থ্য সচেতনতা জরুরি কারণ এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য সচেতনতা আমাদের শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক দিকগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হয়।
রোজার মাসে অনেকেই ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংযমের চেতনায় ওষুধের নিয়ম বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে শিথিলতা দেখান। অনেকে মনে করেন রোজার মাসে ওষুধের সময় ও ডোজ পরিবর্তন করলে কোনো সমস্যা হবে না, বা ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার খেলেও শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তারা মনে করেন, 'রোজার নিয়ম ভাঙ্গলে কিচ্ছু হবে না, আল্লাহ্ রক্ষা করবেন।' কিন্তু বাস্তবে, এ ধরনের অভ্যাস শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
ওষুধের নিয়ম ভাঙার ক্ষতিকর দিকঃ
১. রোগ নিয়ন্ত্রণের ব্যাঘাত – উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাসিডিটি বা থাইরয়েডজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে ওষুধের নির্দিষ্ট সময় ও ডোজ ঠিক রাখা জরুরি। হঠাৎ নিয়ম পরিবর্তন করলে রোগের অবনতি হতে পারে।
২. ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাওয়া – কিছু ওষুধ নির্দিষ্ট সময়ে খেতে হয়, বিশেষ করে খালি পেটে বা খাবারের সঙ্গে। সময় পরিবর্তন করলে তা শরীরে সঠিকভাবে শোষিত না হয়ে কম কার্যকর হতে পারে।
৩.জটিলতা সৃষ্টি – যেমন, ডায়াবেটিস রোগীরা যদি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইনসুলিন বা ওষুধের সময় পরিবর্তন করেন, তবে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) বা বেড়ে (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) যেতে পারে, যা মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের ক্ষতিঃ
১. হজমের সমস্যা – অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা তৈলাক্ত খাবার অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
২. ওজন বৃদ্ধি ও মেটাবলিক সমস্যার ঝুঁকি – ইফতারে অতিরিক্ত চিনি ও ফ্যাটযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে ওজন বেড়ে যেতে পারে এবং ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৩. পানিশূন্যতা ও ক্লান্তি – চা, কফি বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার শরীরে পানির ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে, যা রোজার সময় দুর্বলতা বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষ করে বযস্কদের বেলায় কিছু বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক থাকা দরকার। যেমন হৃদরোগের রোগীদের ক্ষেত্রে ডা. মো. রাশীদ মুজাহিদ তার 'রোজায় ওষুধ ও খাবার গ্রহণে সতকর্তা' কলামে বলেছেন, '৫০ এর বেশি বয়স্ক রোগী যারা দুর্বল, দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকলে আরও বেশি অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে; তাদের রোজা না থাকাই ভালো। একই সাথে হার্ট ফেইলরের রোগীদেরও রোজা না রাখা উচিত। যে কোনো হৃদরোগী যার অবস্থা জটিল নয় কিন্তু হঠাৎ যদি বুকে ব্যথা বা বেশি খারাপ অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত রোজা ভেঙে ওষুধ খেয়ে নিতে হবে।'
তাছাড়া, বয়স্কদের জন্য এই সময় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, সেহরির পর তারাবি আদায় করা, সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, কোরআন তেলাওয়াত করা—ইত্যাদি নানা কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত এই পরিবর্তনগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম হলেও, বয়স্কদের জন্য এটি অনেক সময় বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। মেজাজের পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যেমন অসন্তুষ্টি, বিরক্তি, বা অস্থিরতা তৈরি হওয়া যা তাদের সাধারণ মনোভাব এবং আচরণে প্রভাব ফেলে।
এ সময় তাদের আচরণে বিরক্ত না হয়ে বরং সহায়ক হওয়া দরকার। তাদেরকে সেহরি এবং ইফতারের পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের সুযোগ দিলে তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভালো থাকতে সাহায্য করবে। সেহরি এবং ইফতারি সময়ে পুষ্টিকর ও পরিমাণমতো খাবার খাওয়া নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি বজায় থাকে এবং খাবারের অভাবে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা শক্তির অভাব না হয়। যদি মানসিক বা শারীরিক কোনো সমস্যা বাড়ে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে যাতে সমস্যা বড় না হয়ে যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আত্মসংযম। প্রত্যেকের জন্য রোজার সময় যে কোনো ধরণের অতিরিক্ত কাজ বা শারীরিক শ্রম থেকে বিরত থাকা ভালো। এমনকি অতিরিক্ত চিন্তা বা উদ্বেগও আত্মসংযমের পরিপন্থী। বয়স্কদের বেলায় এর প্রতি আরো বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। তা না হলে, সচেতনতার অভাব এই সময় শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ বাড়াতে পারে, মেজাজের উত্থান পতন ঘটাতে পারে এবং কিছু শারীরিক সমস্যাকে আরো গুরুতর করতে পারে।
রোজা সংযমের মাস। এই সংযমের মাসে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের শিক্ষা অনুসারে, আল্লাহ আমাদের শারীরিক সুস্থতার প্রতি যত্নশীল হতে বলেছেন, এবং সুস্থতা বজায় রাখাই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা এবং আনুগত্যের আরেকটি মাধ্যম। তাই রোজার সময় স্বাস্থ্যবিধি এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমরা যেসব সিদ্ধান্ত নিই, তা ধর্মীয় আদর্শ এবং চিকিৎসক নির্দেশনার সমন্বয়ে হওয়া উচিত। বিশেষত, যাদের শারীরিক জটিলতা রয়েছে এবং রোজার সময় তাদের নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করতে হয়, পরিমিত খাবার খেতে হয়, তাদের জন্য যথাযথ সচেতনতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা একান্ত জরুরি।
সাজসজ্জা থেকে আরো পড়ুন