https://www.prothomalony.com/

12522

search

অনুসন্ধান

স্মৃতিকথা: শৈশবের একুশে ফেব্রুয়ারি

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৩:১১

শৈশবের একুশে ফেব্রুয়ারি 

আমি তখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ি। প্রতি বছর বন্ধুরা মিলে একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রভাত ফেরিতে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করতাম। তাই ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে সবাই বিদ্যালয়ে রাত্রিযাপন করতাম। ফুলের ডালা কেনার মতো আমাদের টাকা ছিল না। সেজন্য সবাই মিলে রাতে সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফুল কুড়িয়ে আনতাম। গাঁদা, গোলাপ, পাতাবাহার, জবা সহ হরেক রকম ফুল সংগ্রহ করে রাতভর ডালা সাজাতাম। সে সময় এতো ককশিট ছিল না। তাই বাঁশের তৈরী পরিত্যক্ত চালুন দিয়ে ফুলের ডালা তৈরী করতে হতো। চালুনের ছিদ্রে ছিদ্রে ফুল গেঁথে চারিদিকে পাতাবাহার পাতা দিয়ে সজ্জিত করতাম। যার হাতের লেখা সুন্দর সেই বন্ধুর কাজ ছিল সাদা পাতায় শোকের প্রতীক কালো রঙে শ্রদ্ধাঞ্জলি লেখা। মাইকে সারারাত ভাষার গান বাজতো আর এদিকে আমরা ফুল গাঁথতাম। এভাবেই রাত পেরিয়ে ভোর হতো। ভোরে সবাই খালিন পায়ে বিদ্যালয়ের পাশের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করতাম। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ ছোট ছোট বাচ্চারা হাতে ফুল নিয়ে খালি পায়ে শহীদ মিনারে এক-দুইটি ফুল অর্পন করতো। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হতো। ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে যেত শহীদ মিনার। মিনারের একটি কর্ণারে মাইকে বাজতো– ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি...’ এমন আরও অনেক ভাষার গান ভেসে আসতো চারিদিক থেকে। ছোট বাচ্চারা দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতো, কখন ফুলগুলো কুড়িয়ে নিয়ে বাড়ি যাবে। শৈশবে আমরাও ফুল না পেলে শিমুল ফুল নিয়ে শহীদ মিনারে দিতাম। আবার বাড়িতে ফিরে কখনো কলা গাছ কখনো’বা পাট শোলা দিয়ে শহীদ মিনার বানাতাম। সেদিন অন্য সব ফুল সংগ্রহ করতে না পারলেও হাতের কাছেই পাওয়া যেত শিমুল ফুল। সেগুলো কুড়িয়ে ছোট্ট শহীদ মিনার সজ্জিত করতাম। 

ফুলের ডালা কেনার চেয়ে নিজে বানানোর মধ্যে অপার আনন্দ পেতাম এবং ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধাও বেড়ে যেত। 

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর আগের শৈশব আর বর্তমান সময়ের শৈশবে ভিন্নতা রাত-দিন। এখন আর কেউ ফুল সংগ্রহ করে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানায় না। সবাই গ্রামের শহীদ মিনারে খালি পায়ে পুষ্পার্ঘ্য নিয়ে যায় না। যতদিন যাচ্ছে আমরা আধুনিক হচ্ছি ঠিক কিন্তু আমাদের ইতিহাসকে ভুলে যাচ্ছি। শহীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যাচ্ছে। তাই আজও সাধ জাগে আবারও যদি শৈশবে ফিরে যেতে পারতাম! 


লেখা: 

জি.বি.এম রুবেল আহম্মেদ

প্রাবন্ধিক

মাদারগঞ্জ, জামালপুর

মুঠোফোন: 01965473754

অনুসন্ধান থেকে আরো পড়ুন