https://www.prothomalony.com/
12436
bangladesh
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৪:০৩
চট্টগ্রাম জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২ হাজার ২২৯ টি। এরমধ্যে ৭৯২ টি স্কুল চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়া। এসব বিদ্যালয়ে ১৩ হাজার ৫৯৯ টি সহকারী শিক্ষকের পদে বর্তমানে পদশূন্য ১ হাজার ৩৬২ টি। ফলে শিক্ষক সংকটে কোনরকম টেনেটুনে পাঠদান করতে হচ্ছে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে।
একই চিত্র পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িরও। এই জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৫৯৩টি। যার মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদশূন্য ১৯২টি। এছাড়া ৬৫২টি সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে খালি রয়েছে ৬৬টি।
শুধু এই দুই জেলাই নয়, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার চিত্রও কমবেশি একই রকম। সহকারী শিক্ষকরা পাঠদানের বাইরে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে সংকটের মুখে পড়ছেন শিক্ষকরা। প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি শূন্য সংকট রয়েছে সহকারী শিক্ষক পদেরও। সাড়ে ছয় হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে বিদ্যালয়গুলোতে। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, একজন মানুষের শিক্ষার মূল ভিত গড়ে উঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই। প্রাথমিক পর্যায়ে একজন শিশুকে যেভাবে গড়ে তোলা হয়, সারাজীবন সে আলোকেই বড় হয়। শিক্ষক সংকট থাকায় দেশে প্রাথমিক স্তর পার হয়ে আসা শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রাথমিকের মান অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। এ কারণে মাধ্যমিকে প্রবেশের পর বহু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে, কেউ কেউ কোনো রকমে মাধ্যমিক স্তর অতিক্রম করে। এ শিক্ষার্থীরা বড় হয়ে যখন জনশক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে, তখন তারা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে কতটা সক্ষম হবে না, তা সহজেই বোঝা যায়। শিক্ষা খাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেতে হলে শিক্ষক সংকট দূর করতে হবে।
বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিভাগের মোট ১১টি জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১১ হাজার ৫৭৬টি। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪ হাজার ৪০৬টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। অর্থাৎ প্রায় ৩৮ দশমিক ৩০ শতাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। অন্যদিকে ৬৮ হাজার ৩৯৫টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ৬১ হাজার ৬৫৯ জন। পদ শূন্য রয়েছে ৬ হাজার ৫৫৯টি। এছাড়া বিভাগের ১১০টি উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮৬ জন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার ৪৮৯টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ২৫০ জন।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম জেলায় ২ হাজার ২৬৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৭৯২টি। সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৪ হাজার ২৭৪টি। এর মধ্যে শূন্য আছে ১ হাজার ৩৬২ টি। কক্সবাজারে ৬৫৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৫৯টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ৪ হাজার ১৬৪টি সহকারী শিক্ষকের মধ্যে ৪১২টি পদ শূন্য। রাঙ্গামাটিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৭০৭টি। এর মধ্যে ৩৫২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের ৩ হাজার ৩৩৪টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৬০২টি। বান্দরবানে বিদ্যালয়ে রয়েছে ৪৩৫টি। এর মধ্যে ১৬৬টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। ২ হাজার ৫৪টি সহকারী শিক্ষকের পদের বিপরীতে শূন্য ৪৩টি। খাগড়াছড়িতে ৫৯৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য ১৯২টি। এছাড়া ৬৫২টি সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে খালি রয়েছে ৬৬টি। চাঁদপুরে ১ হাজার ১৫৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৬১টিতে প্রধান শিক্ষক কর্মরত নেই। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে ৬ হাজার ৯৭৪টি। সেখানে পদ শূন্য রয়েছে ৬৩৩টি। লক্ষ্মীপুরে ৭৩২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২২৩টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। সহকারী শিক্ষকের ৪ হাজার ৩০৮ পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৪২৮টি। নোয়াখালীতে ১ হাজার ২৫৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৫৬টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের ৭ হাজার ১৭৬ পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৬৪৪টি। ফেনীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৫৫৯টি। এর মধ্যে ২২১টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের ৩ হাজার ২৬৯টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ২৭৩টি।
বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ হাজার ১০৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৫৫টিতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষক। এ জেলায় সহকারী শিক্ষক ৬ হাজার ৪৫১টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৬৯৬টি। কুমিল্লায় ২ হাজার ১০৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯০৭টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। ১৩ হাজার ৩৭৬ সহকারী শিক্ষকের পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ১ হাজার ৪২৪টি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আব্দুর রহমান প্রথম আলো উত্তর আমেরিকাকে বলেন, এতগুলো পদ খালি থাকার বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়েছি। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ড. আবু শাহীন মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলো উত্তর আমেরিকাকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন