https://www.prothomalony.com/

11211

north-america

উত্তর আমেরিকা

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনঃ নিজস্ব ভোট ব্যাংকের লড়াই

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৪ ০৮:৩১

আগামী  ২৭ অক্টোবর রোববার অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন। প্রায় ১৯ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। এ নির্বাচনে সেলিম-আলী ও রুহুল-মিন্টু প্যানেল সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা, ছুটছেন ভোটারদের কাছে।  ভোটের প্রচারনায় টেলিফোন কল, ডোর টু ডোর নক চলছে সমান্তরালে। অবশ্য ফোন কল নিয়ে ভোটাররা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। একাধিক ভোটার সোশাল মিডিয়ায় বলেছেন, সোসাইটির নিবার্চন নিয়ে রোবো কল নিযে আমরা অতিষ্ঠ। তাদের সময় জ্ঞান নাই। মধ্যরাতে কল আসে ভোট চেয়ে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় প্রচারমূলক সভাতো আছেই।

বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ব্রুকলিনের চার্চ ম্যাকডোনাল্ডস, জামাইকা, ওজন পার্ক, জ্যাকসন হাইটস, ব্রংকসের পার্ক চেষ্টার এখন নির্বাচনী আমেজে সরগরম। সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও রুহুল আমিন সিদ্দিকী উভয়েই সংগঠনের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আতাউর রহমান
সেলিম সিলেটের সন্তান। তাকে নিয়ে প্রবাসী সিলেটবাসীর মধ্যে নির্বাচনী আবেগ কাজ করছে। সিলেটের ভোট সেলিমের বাক্সে যাবে তা অনেকেরই ধারনা। তা ঠেকাতে রুহুল-মিন্টু প্যানেল সিলেটের সন্তান ও সোসাইটির সাবেক সভাপতি মরহুম কামাল আহমেদের মেয়ে রুমানা আহমেদকে তাদের প্যানেলে সম্পাদকীয় পদে প্যানেলে দাঁড় করিয়েছেন। তাদের এই কৌশল কতটুকু কার্যকর হয় তা দেখার জন্য ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

অন্যদিকে রুহুল আমিন সিদ্দিকী বৃহত্তর ঢাকার বাসিন্দা (মুন্সীগঞ্জ)। এ অঞ্চলের মানুষের ভোট পেতে তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । তাকে সরাসরি সর্মথন করেছেন সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ। প্রায় ১ যুগ ধরে তিনি সোসাইটিকে নিয়ন্ত্রন করছেন। তার সর্মথন ছাড়া নাকি নেতৃত্ব নির্বাচিত হতে পারে না। তার ভূমিকা নিয়ে পক্ষ বিপক্ষ সমালোচনা রয়েছে। রুহুল-মিন্টু প্যানেলের বিপরীতে সেলিম—আলী পরিষদের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। কমিউনিটির পরিচিত মুখ। বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ। গত নির্বচনেও সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন। অল্পভোটের ব্যবধানে হেরে যান। অতীত অভিজ্ঞতার বিচারে তিনি একজন শক্তিশালী প্রার্থী। বৃহত্তর ঢাকার অধিবাসী (নারায়নগঞ্জ) হিসেবে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের ভোট টানতে তিনিও মরিয়া। এলাকার আবেগকে তিনি কাজে লাগাতে চান। মূলধারার রাজনীতির সাথে তিনি জড়িত। কমিউনিটি বোর্ড সদস্য। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

মোহাম্মদ আলীর বিপরীতে সাধারন সম্পাদক পদে লড়ছেন জাহিদ মিন্টু। বৃহত্তর নোয়াখালীর বাসিন্দাদের মধ্যে তিনি জনপ্রিয়। গত নির্বাচনে রব-রুহুল প্যানেলের বিজয়ে তিনি মূখ্য ভূমিকায় ছিলেন । ব্রুকলিন কেন্দ্রের ভোটের মাধ্যমে তিনি বিজয়ী হতে সাহায্য করেন রব-রুহুল প্যানেলকে।। নোয়খালী অঞ্চলের অধিকাংশ ভোটার কেন্দ্রে আনতে তার পরিশ্রম ছিল লক্ষ্যনীয়। এবার জাহিদ মিনটু নিজেই সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী। কমিউনিটিতে ব্যাপকহারে তার পরিচিতি নেই। কিন্তু ব্রুকলিন ও নোয়াখালীর ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহনযোগ্যতা ব্যাপক। ব্রংকস, জামাইকা ও জ্যাকসন হাইটস এলাকায় তিনি ব্যাপক প্রচারনা চালাচ্ছেন। তিনি নোয়াখালি সমিতির সাবেক সফল সাধারন সম্পাদক। তিনি বলেছেন, সোসাইটিতে নির্বাচিত হলে ৩ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবেন।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। ভোটারদের জল্পনা কল্পনায় রয়েছে সেলিম-আলী প্যানেলের বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে।  অন্যদিকে জরিপের ফলাফলে ওজন পার্ক , ব্রংকস ও জামাইকায় সেলিম-আলী  এবং ব্রুকলিন ও জ্যাকসন হাইটসে রুহুল-মিন্টু  প্যানেল এগিয়ে আছে। 
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন