https://www.prothomalony.com/
11111
bangladesh
দেশে বর্তমান পাঁচটি মোবাইল অপারেটর টেলিকম সেবা দিয়ে আসছে। এসব অপারটেরদের বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগের পাহাড় জমেছে। সর্বশেষ গত এক বছরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) শর্টকোর্ড (১০০) নাম্বারে সেবার মান নিয়ে ১১ হাজার ২২৫টি অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। এসব অভিযোগের কয়েকটি সমাধান হলেও অধিকাংশই অধরা রয়ে গেছে। বিটিআরসির সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক (জুলাই ২০২৩ থেকে জুন ২০২৪ পর্যন্ত) বছরে বিটিআরসির শর্টকোর্ড (১০০) নাম্বারে সেবার মান নিয়ে ১১ হাজার ২২৫টি অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ফোনে কথা বলার মধ্যে কলড্রপ, ইন্টারনেটের ধীরগতি, ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসের (ভাস) নামে অজান্তে গ্রাহকের ব্যালেন্স থেকে টাকা কেটে নেওয়া। এর মধ্যে শুধু কোয়ালিটি অব সার্ভিস বা সেবার মান সম্পর্কিত অভিযোগই পড়েছে ৪ হাজার ৫৭৯টি। এ ছাড়া ডাটা স্পিড সংক্রান্ত অভিযোগ ১ হাজার ১১টি, বিবিধ ৮৫১টি, ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস সংক্রান্ত ৭৯৩টি, ডাটা ভলিউম সংক্রান্ত ৬০৯টি, সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা কলড্রপ সংক্রান্ত ২১১টি, প্রতারণামূলক কার্যক্রম সংক্রান্ত ৯৩টি, ইনকামিং-আউটগোয়িং কল ও এসএমএস সংক্রান্ত ৫৮৫টি, লাইসেন্স সংক্রান্ত ৭২টি। এমএফএস ব্যাংকিং সংক্রান্ত ১০৪টি, এমএনপি সংক্রান্ত ৩৬৬টি, প্যাকেজ মাইগ্রেশন সংক্রান্ত ৪২৭টি, কুইজ প্রাইজ ইস্যু সংক্রান্ত ৪৬টি, রিচার্জ ও বিলিং সংক্রান্ত ৪৩২টি, সিমবার সংক্রান্ত ২৪৩টি, সিমের মালিকানা সম্পর্কিত ৬২টি, সিম নিবন্ধন সম্পর্কিত ৭৮টি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত ২২টি, ট্যারিফ সম্পর্কিত অভিযোগ ৩৪৪টি, পরীক্ষামূলক কল সম্পর্কিত ৫৯টি, অননুমোদিত হ্যান্ডসেট সম্পর্কিত ৪০টি, লাইসেন্সবিহীন আইএসপি সম্পর্কিত অভিযোগ ১৪১টি ও অযাচিত ফোনকল ও এসএমএস সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়েছে ৫৭টি। উল্লিখিত এসব অভিযোগের মধ্যে ৮ হাজার ৯২০টি বা ৭৬ দশমিক ২২ শতাংশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানান বিটিআরসি। এ ছাড়া পেন্ডিং রয়েছে আরও ২ হাজার ৩০৫টি অভিযোগ। বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা নিয়ে ১০ থেকে ৩০ হাজার বা তারও বেশি অভিযোগ করেন গ্রাহকরা। যেমন- সেবার মান নিয়ে ২০২১ সালে ২৩ হাজার ১৬টি অভিযোগ পড়ে বিটিআরসিতে। আর ২০২২ সালে অভিযোগ জমা পড়েছিল ১৫ হাজার ৭৪৯টি। আর ২০২৩ সালে দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের বিরুদ্ধে বিটিআরসিতে ১০ হাজার ৪৫৭টি অভিযোগ করেছিলেন গ্রাহকরা। আর ২০২৪ সালে এ অভিযোগের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ হাজার ২২৫টিতে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, দেশে সক্রিয় সিমধারীর সংখ্যা ১৯ কোটির বেশি। সবাই প্রতিনিয়ত কোনো না কোনোভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সে তুলনায় এই অভিযোগ অনেক কম। কারণ অনেকেই জানেন না কোন মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে হবে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া নিয়েও অনেক সংশয় রয়েছে। তাই প্রকৃত অভিযোগ আরও বেশি হবে। এই যে এত অভিযোগ জমা পড়ল কারণটা কী? এখানে এক বছরের অভিযোগ জমা পড়ে আছে, ছয় মাসের অভিযোগ আছে অথচ নিষ্পত্তির কোনো অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন কখনোই ত্রুটিমুক্ত নয়। যেহেতু আমরা ওয়্যারলেস মোবাইল অপারেটর, বিভিন্ন জায়গায় কাস্টমররা অভিযোগ দেন বা দেবেন এটিই স্বাভাবিক। সবসময় কিছু সমস্যা পাওয়া যায়। কখনোই মোবাইল নেটওয়ার্ক সার্ভিসে জিরো অভিযোগ হবে না। এটি হতে পারে না। কাস্টমাররা যখন অভিযোগ দেন তখন আমরা সমাধান করার চেষ্টা করি।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন