https://www.prothomalony.com/
11109
bangladesh
কোটা সংস্কার আন্দোলনে শত শত মানুষের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ এবং প্রশ্ন স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অস্বাভাবিক এবং নিন্দনীয়। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং তদন্তসাপেক্ষ। বিক্ষোভ দমনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে 'অপ্রয়োজনীয়' ও 'মাত্রাতিরিক্ত' বলপ্রয়োগের গুরুতর ও বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে বলে জাতিসংঘের। ১৬ আগস্ট, 'United Nation Human Rights'-এর 'Preliminary Analysis of Recent Protests and Unrest in Bangladesh' অর্থাৎ 'বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও অস্থিরতা বিষয়ে প্রাথমিক বিশ্লেষণ' শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে আসে, পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এবং সহিংসতার ঘটনার ক্ষেত্রে নির্বিচার বল প্রয়োগ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ohchr) এর ১০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন ১৬ আগস্ট শুক্রবার জেনেভা থেকে প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, "১৬ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভ এবং পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত ৬৫০ জন বাংলাদেশি প্রাণ দিয়েছেন। সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে জুনের মাঝামাঝি বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরে সহিংসতা বাড়ে এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বেকারত্বের উচ্চ হার এ আন্দোলনে প্রভাব ফেলে। এই আন্দোলনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহিংসতা আর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে অন্তত ৩২ শিশুসহ কয়েক শ মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বিক্ষোভ আর বিক্ষোভের পর সংঘাত দমনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে 'অপ্রয়োজনীয়' ও 'মাত্রাতিরিক্ত' বলপ্রয়োগের গুরুতর ও বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে।পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এবং সহিংসতার ক্ষেত্রে নির্বিচার বল প্রয়োগ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডের পাশাপাশি পাখি শিকারে ব্যবহৃত অস্ত্র, বুলেটসহ নানা রকম প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কিছু ব্যক্তির লাঠি, ইট বা অপ্রচলিত অস্ত্র ব্যবহারের বিপরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাবার বুলেট এবং পিলেট শটগান, হ্যান্ডগান, রাইফেলসহ আগ্নেয়াস্ত্রের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এবং মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেছে।" জাতিসংঘ বলেছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার সহিংসতার মাত্রাকে তীব্রতর করেছে। কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমন যানবাহন এবং হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে, যেগুলোতে জাতিসংঘের লোগো ছিল; যা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি দলগুলোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল বলে প্রতীয়মান হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, "সেই সময় থেকে প্রতিশোধমূলক হামলায় নিহতদের সংখ্যা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। ৭ থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে বেশ কিছু প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যারা সহিংসতায় আহত হয়ে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পদত্যাগের পরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সদস্যদের ওপর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং হামলার পাশাপাশি প্রাক্তন ক্ষমতাসীন দল এবং পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ ও প্রতিশোধমূলক হত্যার খবরও পাওয়া গেছে, বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।" এ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রতি মানবাধিকার বিষয়ক নির্দেশনা মেনে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ২৫ জুলাই, amnesty.org-এ প্রকাশিত 'Bangladesh: Further video and photographic analysis confirm police unlawfully used lethal and less-lethal weapons against protesters' প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে যে, সারাদেশে কোটা-সংস্কারের প্রতিবাদ চলাকালীন ছয় দিনের যোগাযোগ বিধিনিষেধের মধ্যেও বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বেআইনি বলপ্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। তথ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, বিক্ষোভকারীদের উপর দমন-পীড়ন, সেনা মোতায়েন, কারফিউ, গুলি করার নির্দেশ এবং ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে ছয়দিনে দেশের তথ্য প্রকাশ সীমিত হয়ে যায়, যার কারণে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে, সংস্থাটি উপলব্ধ ভিডিও এবং ফটোগ্রাফিক প্রমাণ যাচাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমেই তখন ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানানো অব্যাহত রাখে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্রাইসিস এভিডেন্স ল্যাব বিক্ষোভ দমনের সময় ভিডিও এবং ফটোগ্রাফিক প্রমাণের মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার 'প্রাণঘাতী অস্ত্রের বেআইনি ব্যবহারের' তিনটি ঘটনার ভিডিও যাচাই করেছে। এ নিয়ে ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর ডিপ্রোস মুচেনা বলেছেন, 'যেসব ভিডিও ও ফটোগ্রাফিক প্রমাণ আসছে তা ভয়াবহ।' বাংলাদেশ সরকার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মানবাধিকার বিষয়ক অতীত রেকর্ড ভয়াবহ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে মুচেনা বলেছেন, "বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে র্যাবও মোতায়েন করা হয়েছে। এ অবস্থায় ইন্টারনেট ও সক্রিয় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অভাবে এবং যাতায়াতে বিধিনিষেধের কারণে আন্দোলনকারীদের অধিকার সুরক্ষিত হওয়ার নিশ্চয়তা খুব কম।" অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সরকার এবং তার সংস্থাগুলিকে প্রতিবাদের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে, এই নৃশংস দমন-পীড়নের অবসান ঘটাতে এবং অবিলম্বে যোগাযোগের সমস্ত বাধা অপসারণের পরামর্শ দিয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর তদন্তে উঠে আসে ভয়ানক প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার যা প্রয়োগের মাধ্যমে কারো দৃষ্টিশক্তি হারানো সহ মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। বিক্ষোভ দমনে এইসব প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত, নিয়মবহির্ভূত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে জানায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এই প্রাণঘাতী অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে, চাইনিজ অ্যাসল্ট রাইফেল- টাইপ ৫৬, যা সোভিয়েত AK-47 অ্যাসল্ট রাইফেলের অনুলিপি বলা হয়। টাইপ ৫৬ আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া এবং এশিয়ার অনেক সেনাবাহিনী এবং যুদ্ধক্ষেত্র দ্বারা ব্যবহৃত হয়। AK প্যাটার্নের অ্যাসল্ট রাইফেল হল ২০-রাউন্ড ম্যাগাজিন সমন্বিত, ৪১৫মিমি (১৬.৩ ইঞ্চি) লম্বা ব্যারেলের একটি রাইফেল, যেটি প্রতি মিনিটে ৭০০ রাউন্ড সাইকেল রেট ফায়ার করে। অ্যাসল্ট অস্ত্রগুলি শক্তিশালী আধা-স্বয়ংক্রিয় বন্দুক, যেগুলোর গতি সাধারণ হ্যান্ডগানের তুলনায় চার গুণ বেশি হতে পারে। তবে, ৩৭/৩৮ মিমি গ্রেনেড লঞ্চারগুলি দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হয় যা কম-প্রাণঘাতী গোলাবারুদের জন্য লঞ্চার হিসাবে ব্যবহার করা হয়। টার্গেট শুটিং, শিকার, মেলিটারি এপ্লিকেশন, আইন প্রয়োগকারী ব্যবহারের জন্য ১২-গেজের শটগানগুলিকে বাকশট এবং স্লাগ দিয়ে লোড করা যেতে পারে।
প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারঃ
২০ জুলাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, এক কর্মকর্তা বিক্ষোভ চলাকালীন AK সিরিজের একটি অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়ে গুলি করছেন। আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দ্বারা যাচাই করা সাত সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ঢাকার রামপুরা এলাকার ডিআইটি রোডে একটি ব্যাংকের সামনে ধারণ করা হয়েছিল। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশ পুলিশের অসংখ কর্মকর্তা ও বর্ডার গার্ড একটি সাঁজোয়া যান (APC)-এর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। এর মধ্যে একজন কর্মকর্তা চাইনিজ অ্যাসল্ট রাইফেল, টাইপ ৫৬-১ লক্ষ্যবস্তুর দিকে তাক করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার উপযুক্ত পন্থা নয়; এটি কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন মৃত্যুর সম্ভাবনা বা গুরুতর আঘাতের আসন্ন হুমকি থাকে।আরেকটি ভিডিওতে, যা ১৯ জুলাইয়ের আগের বা ওই সময়ে রামপুরা এলাকায় ধারণ করা হয়েছিল, এতে দেখা যায় সহিংসতা সময় পুলিশ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ রায়ট নিয়ন্ত্রণ পোশাকে সজ্জিত হয়ে একটি সাঁজোয়া যানের পাশ থেকে রাস্তায় নামছেন। তাদের হাতে ১২-গেজ শটগান ও ৩৭/৩৮ মিমি গ্রেনেড লঞ্চার ছিল। কিছু পুলিশ কর্মকর্তা শটগান দিয়ে একাধিকবার লক্ষ্যবস্তুতে গুলি ছোড়েন। এ নিয়ে ডেপ্রোস মুচেনা বলেন, "নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো, বিশেষ করে বিক্ষোভকারীদের উচ্চ মৃত্যুহারের ঘটনা, দ্রুত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি, এবং যারা এ ঘটনার জন্য দায়ী, তাদেরকে পুরোপুরি দায়বদ্ধ করতে হবে। বেআইনি পুলিশি শক্তির ব্যবহারের শিকার ব্যক্তিদের, যারা আহত হয়েছে এবং যারা নিহত হয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।"
বার্ডশট প্যালেটের ব্যবহারঃ চিকিৎসা সহায়তা প্রদানে ব্যর্থতা
১৮, জুলাই, প্রতিবাদকারীর যে ভিডিওগুলি সামাজিক মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে দেখা যায়, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একজন ছাত্র(পরে শেখ আশহাবুল ইয়ামিন নামে পরিচিত হন) রাজধানী ঢাকার সাভারে একটি বাস স্টেশনের কাছে বিক্ষোভে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে আহত হন এবং পরে নিহত হয়েছেন বলে জানা যায়। প্রথম ভিডিওতে দেখা গেছে একটি আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (APC-মিলিটারি যানবাহন) এর উপর ইয়ামিনের অচেতন শরীর নিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নামছে। দ্বিতীয় ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে একজন অফিসার ইয়ামিনের শরীরকে অস্ত্রের সাহায্যে তোলার চেষ্টা করছেন এবং অন্য একজন অফিসার তার পায়ে চেপে ধরেন এবং হিংস্রভাবে তার শরীরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন। যার ফলে তার শরীর পড়ে যাওয়ার সময় ইয়ামিনের মাথা ফুটপাথে আঘাত করে। চূড়ান্ত ভিডিওতে দেখা যায়, দুই অফিসার মিলিটারি গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তাদের সামনে মাটিতে পড়ে থাকা ইয়ামিনের দেহের দিকে তাকাতে থাকেন। অবশেষে অফিসাররা ইয়ামিনকে মাটি থেকে টেনে আনেন এবং রাস্তার মাঝামাঝি বাধের উপর দিয়ে তার দেহকে টেনে নিয়ে তাকে অন্য একদল অফিসারের পাশে ফেলে দেয়। পরে এপিসি ইয়ামিনের লাশ রাস্তায় ফেলে চলে যায়। সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে ইয়ামিন তার আঘাতের কারণে সেদিনই মারা যান। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দ্বারা যাচাই করা তিনটি ভিডিওতে দৃশ্যমান হয় যে, ১২ জন কর্মকর্তার মধ্যে কেউই সেদিন ইয়ামিনকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেননি। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের দ্বারা ফোর্স এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের উপর জাতিসংঘের মৌলিক নীতির ধারা 5(c) তে রয়েছে, আইন প্রয়োগকারী কর্মীরা যে কোনো আহত বা আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সহায়তা দিবে এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবে। ডেরিক পাউন্ডার, একজন ইনডিপেন্ডেন্ট ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট যিনি ইয়ামিনের বুকের ক্ষত দেখানো ফটোগুলি পরীক্ষা করেছিলেন, তিনি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে জানান যে, ইয়ামিনের শরীরের বামে সামনের বুকে বুলেটের ক্ষত স্পষ্ট ছিল যা সম্ভবত বার্ডশট প্যালেটের আঘাতের কারণে ঘটেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, আইন প্রয়োগে বার্ডশট প্যালেটের ব্যবহার সম্পূর্ণ অনুচিত, এবং কোনো প্রতিবাদে পুলিশ কখনোই এটি ব্যবহীর করতে পারেন না। ডেরিক পাউন্ডার, একজন ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট যিনি ইয়ামিনের বুকে ক্ষতের ফটোগ্রাফিক প্রমাণ পরীক্ষা করেছেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে বলেছেন যে তার মৃত্যুর কারণ যুক্তিসঙ্গতভাবে অনুমান করা যায় যে, তার শরীরের বামে সামনের বুকে 'বার্ডশট প্যালেট' এর আঘাতের কারণে হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, বার্ডশট এর ব্যবহারকে আইন প্রয়োগের জন্য একেবারে অনুপযুক্ত বলে মনে করেন এবং প্রতিবাদের পুলিশিংয়ে এটি কখনই ব্যবহার করা উচিত নয় বলে জানান। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নিশ্চিত করেছে যে, এই ভিডিওগুলিতে পুলিশ অফিসারের আচরণ স্পষ্টভাবে দেখায় যে তারা অতিরিক্ত এবং অবৈধ শক্তি ব্যবহার করছে।
বিপদজনক টিয়ার গ্যাসেপ ব্যবহার
১৮ জুলাই পোস্ট করা আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বন্ধ গেটের ভেতরে এক কর্মকর্তা টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করছেন, যেখানে পুলিশ ও ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে ধারণ করা আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্র প্রতিবাদকারীরা একটি বদ্ধ উঠোনের অপর প্রান্তে জড়ো হয়েছিল, এবং তখনই বাংলাদেশি পুলিশের একজন কর্মকর্তা গেটের ভেতর দিয়ে ভিড়ের দিকে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেন। আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দ্বারা যাচাই করা এই ভিডিওগুলোতে পুলিশের ওই কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড স্পষ্টতই বেআইনি এবং অপ্রয়োজনীয় শক্তি ব্যবহারের বলে উঠে এসেছে। আইন প্রয়োগকারী বাহিনী কখনোই এমন স্থানে(চারপাশ বন্ধ কোনো স্থান) টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করতে পারে না, যেখানে রাসায়নিক পদার্থের প্রভাব থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের ফলে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। জুলাই ১৬-তে আবু সাঈদ সহ ছয়জন নিহতের পর পরই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ নিয়ে নিন্দা জানান এবং বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন ও নিজেদের সংবিধানের আওতায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে সম্পূর্ণভাবে সম্মান করতে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করতে অনুরোধ জানায়। পরে জুলাই ১৭, 'amnesty.org' -এ এ নিয়ে আরো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, "বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ চলমান 'বাংলা-ব্লকেড' কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অবৈধ শক্তি ব্যবহার করেছে এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, আজ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ কথা জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, ভিডিও ও ফটোগ্রাফিক প্রমাণ যা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং তার ক্রাইসিস এভিডেন্স ল্যাব বিশ্লেষণ ও যাচাই করেছে, তা পুলিশ দ্বারা বিক্ষোভকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে অবৈধ শক্তি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও, প্রত্যক্ষদর্শীদের আরও সাক্ষ্যে উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল) নামে একটি সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের দ্বারা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বহু বছরের সহিংসতার ধারা অব্যাহত রয়েছে।" রংপুরে ২৫ বছর বয়সী ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনাটি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দুটি ভিডিওর মাধ্যমে যাচাই করেছে, যেখানে স্পষ্ট হয় যে, দুই পুলিশ কর্মকর্তা সড়কের ওপার থেকে ১২-গেজ শটগান দিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলি লাগার পর সায়েদ তার বুকে হাত দিয়ে ধরে রাখেন, এবং পুলিশ আরও দুটি গুলি ছোড়ে। স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে অ্যামনেস্টি নিশ্চিত করেছে যে, গুলির সময় সাঈদ এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ মিটার দূরত্ব ছিল এবং সায়েদ পুলিশের জন্য কোনো শারীরিক হুমকি সৃষ্টি করেননি। আন্দোলন মারাত্বক সহিংসতায় রূপ নেয়ার আগেই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করেছিল যে, বার্ডশটের ব্যবহার সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত এবং এটি কখনোই প্রতিবাদ দমনের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। বার্ডশট বা বাকশট ধাতব গুলি ত্বক ভেদ করে মারাত্মক আঘাত সৃষ্টি করতে পারে এবং এর ব্যবহারে অতীতেও মৃত্যু ও দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনা ঘটেছে মিশর, ভারত, ও ইরানে। এছাড়াও, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানতে পারে যে, ১৫ জুলাইয়ের আগে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু ছাত্রলীগের সদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুর্যসেন ও বিজয় একাত্তর হল থেকে বেরিয়ে লাঠি, রড ও বন্দুক নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার শিকার আন্দোলনকারী অমিত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে জানিয়েছেন যে, তাদের হাতে কিছুই ছিল না—শুধু প্ল্যাকার্ড আর পতাকা ছিল... কিন্তু ওরা তাদের দিকে ইট ছুঁড়তে শুরু করে, তারপর লোহার রড দিয়ে মারতে আসে... ওরা নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করেনি। তারা মহিলাদের বুক, পেট ও মাথায় লাথি মারে।" অ্যামনেস্টি ভিডিওতে এ হামলার প্রমাণও নিশ্চিত করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, "পুলিশের কাছে অহরহ যেসব অস্ত্র দেখা যায়, তা চায়নিজ রাইফেল। এ ধরনের অস্ত্র সাধারণত সামরিক বাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী বিজিবির কাছে থাকে। আর্মড পুলিশের কাছেও থাকতে পারে। তবে সাধারণ পুলিশের কাছে থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়া বিশ্বের কোথাও নিরস্ত্র মানুষের বিক্ষোভ দমনে এভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যায় না।" পুলিশের দলীয়করণ এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নৃশংসতা, মারণাস্ত্র ব্যবহার করা নিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট, নিরাপত্তা বিশ্লেষক আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেছেন, "শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশ পুলিশকে শুধু দলীয়করণই করেনি, বরং পুলিশকে তাদের দলের বাহিনীতে রূপান্তরিত করেছিল। শেখ হাসিনা তাঁর দলকে যেকোনো উপায়ে রাখার জন্য পুলিশকে সর্বাত্মকভাবে অপব্যবহার করার জন্য তৈরি করেছিল। যার ফলে আমরা দেখতে পাই যে আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে তারা সর্বাত্মকভাবে ছাত্র-জনতার ওপর নৃশংসভাবে আক্রমণ করে আন্দোলনকে দমন করার প্রচেষ্টা করেছিল। সেখানে শুধু মারণাস্ত্রই ব্যবহার করা হয়নি বরং অন্যান্য সব ধরনের হাতিয়ার, যেমন স্নাইপার রাইফেল, হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ, মৃতদের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলাসহ অনেক নৃশংস পন্থা তারা অবলম্বন করেছিল।" চব্বিশের অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক–অরাজনৈতিক আন্দোলন দমনে পুলিশের অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এসবি, সিনিয়র পুলিশ অ্যাডভাইজার, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শান্তি রক্ষা বিভাগে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার বাহারুল আলম বলেন, "পুলিশিং সমাজ–ঘনিষ্ঠ একটি কাজ। এ জন্য খুব বেশি অস্ত্রের ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। তবে যদি কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনীর মোকাবিলা করতে হয়, সে ক্ষেত্রে সশস্ত্র প্রতিরোধ করতে স্পেশাল আর্মড ফোর্স থাকতে পারে। তবে পুলিশের কাছে কী ধরনের অস্ত্র থাকবে, কোন পর্যায়ের সদস্যের কাছে বা কোন ইউনিটের সদস্যের কাছে কী ধরনের অস্ত্র থাকবে, সেটা নিয়েও নতুনভাবে ভাবতে হবে।পুলিশকে কেন আমরা চায়নিজ রাইফেল দিলাম, দাঙ্গা দমনে এটার প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। বিশেষ ইউনিট ছাড়া বাকিদের কাছে আধুনিক অস্ত্র দেওয়ার কোনো প্রয়োজনই নেই।" নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মন্তব্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পুলিশ সাধারণত যা যা ব্যবহার করে, তার মধ্যে লাঠি, গরম পানি, ঠান্ডা পানি, রঙিন পানি, কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং রাবার বুলেট অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে গুলি চালানোর ক্ষেত্রে খুবই কঠোর নিয়ম রয়েছে। সাধারণত গুলি কোমরের নিচে করা হয় এবং তা শুধুমাত্র আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত, যেখানে যথাযথ কারণ থাকতে হয়। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র থাকলেও, সেগুলো ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সাধারণত পরিস্থিতি যদি অত্যন্ত ভয়াবহ না হয়, তাহলে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয় না। এই নিয়মগুলি নিশ্চিত করে যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে যতগুলো মৃত্যু হয়েছে, প্রাণঘাতী অস্ত্রের কারণেই হয়েছে। বহু মানুষ অন্ধ হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে এবং এখনো তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের কারণেই। আরো বেদনাদায়ক বিষয়টি হল, চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখনো কেউ না কেউ মৃত্যুবরণ করছে। সাধারণ নাগরিকদের আন্দোলন দমনে এমন প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার সংবিধান ও মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন। যেখানে কোটা সংস্কার আন্দোলন দমন করতে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার নিয়মের বাইরে ছিল এবং শুরু থেকেই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, জাতিসংজ্ঞ এর ব্যবহারের মারাত্বক ক্ষতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল, তারপরও শিক্ষার্থীদের উপর কেন এই প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার করা হল? এই অন্যায় নির্দেশনা বা অনুমতি ওপরমহল থেকে দেয়া না হলে মাঠ পর্যায়ের সদস্য বা কর্মীদের সাহস হতো না এমন প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার করার। গত দেড় মাসে বাংলাদেশে যতগুলো হত্যা হয়েছে, সেগুলোর নির্দেশ কোথায় থেকে এসেছে, তা কারো অজানা নয়। বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় যেভাবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। প্রাণঘাতী অস্ত্র যেমন চাইনিজ অ্যাসল্ট রাইফেল টাইপ ৫৬, AK প্যাটার্নের অ্যাসল্ট রাইফেল, ৩৭/৩৮ মিমি গ্রেনেড লঞ্চার, এবং ১২-গেজ শটগান সাধারণত খুবই গুরুতর পরিস্থিতিতে ব্যবহার করার জন্য সংরক্ষিত থাকে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং সীমিত। এই ধরনের অস্ত্র শুধুমাত্র তখনই ব্যবহার করা যেতে পারে যখন পুলিশ বা সাধারণ মানুষের জীবন মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয় এবং স্বাভাবিকভাবে অন্য কোনো বিকল্প উপায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়। সব ধরনের অপ্রাণঘাতী বিকল্প ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করে, বিক্ষোভকারীরা সশস্ত্র বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালায় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জীবনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়, তখন এই অস্ত্রগুলি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। এবং সেই অস্ত্রের ব্যবহারও করতে হয় শরীরের নিচের অংশে, যেমন পা, যাতে আঘাত গুরুতর না হয় এবং মৃত্যু বা মারাত্মক ক্ষতি এড়ানো যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় নিরস্ত্র মানুষের প্রতি এই ধরনের প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও নিয়মবহির্ভূত ছিল, কারণ বিক্ষোভগুলো মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল এবং ছাত্রদের বিরুদ্ধে এমন সহিংসতার প্রয়োজন ছিল না। এটি মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে গণ্য হয়।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন