https://www.prothomalony.com/

10191

new-york

নিউইয়র্ক

ঐতিহাসিক স্মারক’ ঘোষণা, বাঁচল মেরিলিনের লস এঞ্জেলসের বাড়ি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪ ১২:২৫

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে যে বাড়িতে প্রখ্যাত অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো মারা গিয়েছিলেন সেই বাড়িকে 'ঐতিহাসিক স্মারক' বা স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে বাড়িটিকে বর্তমান মালিকদের অবিকৃত অবস্থায় রাখতে হবে।

তখন কেরিয়ারের গতি ঊর্ধ্বমুখী। ৭৫ হাজার ডলার ব্যয়ে লস এঞ্জেলসে একটি বাড়ি কিনেছিলেন অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো। তার কয়েক মাস পর এই বাড়িতেই মৃত্যু হয় তাঁর। সম্প্রতি এই বাড়ির বর্তমান মালিকরা ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলেন অভিনেত্রীর স্মৃতি বিজরিত এই বাড়ি। তবে অনুরাগীদের লাগাতার লড়াইয়ের জেরে ভাঙা গেল না বাড়িটি। ‘ঐতিহাসিক স্মারক’ ঘোষণা করা হল বাড়িটিকে। পাশাপাশি এই বাড়ির বাইরে মনরোর ২৬ ফুট উচ্চতার একটি মূর্তি বসানোর উদ্যোগ   নেওয়া হল। মূর্তির নাম দেওয়া    হবে ‘ফরএভার মেরিলিন’।    ১৯৬২ সালের ৪ আগস্ট এই বাড়িতে প্রাণ হারান ‘দ্য মিসফিটস’ খ্যাত অভিনেত্রী।  দীর্ঘদিন পর      প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার খরচ করে বাড়িটি কেনেন বর্তমান মালিক ব্রিনাহ মিলস্টেন ও রয় ব্যাঙ্ক।  কয়েকদিন আগেই তাঁরা বাড়িটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, বছরের পর বছর ধরে বাড়িটির ক্ষয় হয়েছে। সেটি        মোটেই আর ঐতিহাসিক নেই।    তবে বাড়ি ভাঙার ঘোষণা হতেই  তীব্র বিতর্ক দেখা যায়। বাড়িটির বর্তমান মালিক ও লস অ্যাঞ্জেলসের শহর কর্তৃপক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিবাদ চলছিল। শহর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংগঠনগুলোও মালিকে এমন পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছিল। এই অবস্থায় মনরোর বসবাস করা বাড়িটি নিয়ে এক ভোটের আয়োজন করে শহর কাউন্সিল। ভোটে ১২ জন কাউন্সিলরের সবাই ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে বাড়িটি সংরক্ষণের পক্ষে রায় দেন।

বিরোধিতার মুখে পড়েন মালিকরা। তারপর থেকে শুরু হয় বাড়ি বাঁচানোর লড়াই। এ অবস্থায় মে মাসে ওই ভবনের মালিক দম্পতি লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ এবং অসাংবিধানিক আচরণের’ অভিযোগে মামলা করেন। তাঁরা পিটিশনে উল্লেখ করেন, মনরো মাত্র ছয় মাস এই বাড়িতে ছিলেন। তা-ও আবার মাঝে মাঝে এখানে থাকতেন। ১৯৬২ সালে তিনি মারা যাওয়ার পর বাড়িটি যাদের মালিকানায় ছিল, তাঁরা কোনো অনুমতি না নিয়েই বেশ কয়েকবার এটি সংস্কার করেছেন।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে  বাড়িটিকে ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে বাড়িটিকে বর্তমান মালিকদের অবিকৃত অবস্থায় রাখতে হবে।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন