https://www.prothomalony.com/

9801

north-america

উত্তর আমেরিকা

ফি লি স্তি ন কে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিচ্ছে নরওয়ে, স্পেন ও আয়ারল্যান্ড

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪ ১০:০৮

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে ২২ মে বুধবার বলেছেন, তার দেশ ২৮ মে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেবে৷ স্পেন ও আয়ারল্যান্ডও একই ঘোষণা দিয়েছে৷

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে ইউরোপের তিন দেশ। দেশগুলো হলো-নরওয়ে, স্পেন ও আয়ারল্যান্ড। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ভাবছেন দেশগুলোর সরকারপ্রধান। চূড়ান্ত এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে আগামী ২৮ মে। 

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে প্রথমেই সামনে আসে ইউরোপের দেশ নরওয়ে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্তোর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান ইসরাইলের স্বার্থের জন্যই ভালো। এ সময় তিনি জানান, তার দেশ ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে ২৮ মে। তিনি বলেন, ‘যদি (ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে) স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে কখনোই শান্তি আসবে না।’ প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্তোর আরও বলেন, ‘যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ যখন হতাহত হচ্ছে, তখন আমাদের অবশ্যই এমন একটি বিষয়কে টিকিয়ে রাখতে হবে, যা ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য নিরাপদ ভূমি নিশ্চিত করতে পারবে। তা হলো দুই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। যেন তারা একে অপরের সঙ্গে শান্তিতে থাকতে পারে।’ নরওয়ের ঘোষণার একটু পরই আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিমন হ্যারিস এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তার দেশও শিগগির ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। তিনি বলেন, ‘আজ আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে ও স্পেন ঘোষণা দিচ্ছে যে, আমরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছি। এই দেশগুলো এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় জাতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে, অন্যান্য দেশও আমাদের পথ অনুসরণ করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’ এরপর একই দিনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তার দেশের মন্ত্রিপরিষদ আগামী ২৮ মে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেবে। এ বিষয়ে পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, ‘এই স্বীকৃতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে নয়, ইহুদিদের বিরুদ্ধেও নয়। আবার এটা হামাসের পক্ষেও নয়। এই স্বীকৃতি কারও বিরুদ্ধে নয়, এটি শান্তি ও সহাবস্থানের পক্ষে।’ 

তবে দেশগুলোর এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইল। তাদের এই পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসবাদের অর্জন’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কার্টজ। তিনি বলেন, ‘আজকের ঘোষণা ফিলিস্তিনি মানুষ ও বিশ্বকে একটি বার্তা দিয়েছে। সেটা হলো সন্ত্রাসবাদ দিয়ে অর্জন হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই বিকৃত পদক্ষেপ ৭ অক্টোবরের ভিকটিমদের স্মৃতির প্রতি অবিচার। ১২৮ জন জিম্মিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টার প্রতি একটি বড় আঘাত। একই সঙ্গে এটি হামাস ও ইরানি জিহাদিদের জন্য বড় সহায়তা, যা ইসরাইলিদের আত্মরক্ষার অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং শান্তির সুযোগ কমাবে।’ 

এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ড থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত উঠিয়ে নেয় ইসরাইল।

 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন