https://www.prothomalony.com/

9628

opinion

অভিমত

বেকারত্ব এবং মাদকাসক্তির সমান্তরালে রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৪ ১৪:৪৫

আমি আমার পোলারে মাইরা ফালাইছি নেশার টাকা জোগাড় কইড়া দিতে না পারায়, আমারে জেল দেন ফাঁসি দেন, আমারে থানায় লইয়া যান!"

এই আকুতি একজন ৭৫ বছরের অসহায় বাবার যিনি নিজ হাতে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে সন্তানকে হত্যা করেছেন। বিষয়টা কেমন 'ফিলিং কনফিউসড্ ইন কনফ্লিক্ট' না? যে বাবা তার সন্তানকে হত্যা করেছেন, তিনি অসহায় কী করে হোন? আর এই মেকি কান্নারই বা মানে কি? 

গাজীপুরের কালীগঞ্জের জামালপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বাগমার (৭৫), তার মাদকাসক্ত পুত্র কাউসার বাগমার (২৫) কে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট  সূত্রে জানা গেছে, সৌদি ফেরত তরুণ এই ছেলে দেশে ফেরার পর বেকার হয়ে পড়ে এবং মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। কাউসার প্রায়ই মাদকের টাকার জন্য মা-বাবার সঙ্গে ঝগড়া করতো। বাড়িতে ভাঙচুর করতো, বাবা-মাকে অত্যাচার ও নির্যাতন করত। মাদকের টাকার জন্য জমি বিক্রি করতেও তার বাবাকে প্রায়ই চাপ দিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার রাতে মাদকের টাকার জন্য সে তার মাকে মারধর করায় ক্ষোভে বুধবার ভোরে কাউসারকে তার বাবা কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বিষয়টা নিয়ে ফেসবুকে হৃদয় বিদারক পোস্টগুলো অনেকের চোখে পানি এনেছে। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৩ এর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসেবে দেশে এখন বেকারের সংখ্যা ২৫ লাখ। এই বেকারদের মধ্যে ১৬ লাখ ৭০ হাজার পুরুষ আর আট লাখ ৩০ হাজার নারী। বেকারত্বের হার নিয়ে ডিডব্লিউ এর তথ্যসূত্রে জানা যায়, ২০২২ এর আগস্টে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ(টিআইবি) অনুযায়ী, দেশে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর শকতরা ৪৭ ভাগ বেকার। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) এক জরিপে বলা হয়, বাংলাদেশে যুবগোষ্ঠীর বড় অংশ আর্থসামাজিক ঝুঁকির মধ্যে আছে। বৈষম্য আর গুণগত শিক্ষার অভাবে ৭৮ শতাংশ তরুণ মনে করেন, পড়াশোনা করে তারা চাকরি পাবেন না, গরিব শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ হার ৯০ শতাংশ। চাকরি, পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণে নেই ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ তরুণ। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক জরিপে উঠে এসেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ৬৬ শতাংশ অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশই বেকার থাকছেন। ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরি পান। ২০২২ সালের জরিপে দেশে মোট বেকার ছিলেন ২৬ লাখ ৩০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ১৬ লাখ ৯০ হাজার এবং নারী ৯ লাখ ৪০ হাজার। সরকারি স্বায়ত্তশাসিত গবেষণা সংস্থা বিআইডিএস-এর গবেষণা বলছে, এসএসসি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী তরুণদের এক-তৃতীয়াংশ পুরোপুরি বেকার৷ 

বেকারত্বের সবচেযে ঝুঁকিপূর্ণ ফলাফলটি হলো, ব্যক্তির মানসিক অবস্থার পতন। কারণ বেকারত্ব ব্যক্তির আয়ের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, ব্যক্তিকে আর্থিক কষ্টে ফেলে যা পরিবার, সম্পর্ক এবং সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করে। একটি চাকরি বা উপার্জনের মাধ্যম অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি, যখন এটি হ্রাস পায় তখন ব্যক্তি বিষণ্নতায় পতিত হয় এবং এর ফলে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, অপরাধপ্রবণতা, মাদকাসক্ত, স্বাস্থ্য-মানসিক স্বাস্থ্যের দুরাবস্থা বিশেষ করে আত্মহত্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। 

সৌদি ফেরত ২৫ বছরের তরুণ কাউসার বাগমার ছিল বেকার। কেন সে নেশাগ্রস্থ হয়েছিল, এর উত্তর কিছুটা হলেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার নেশাগ্রস্থ হবার পিছনে বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা, মানসিক চাপ ছিল। 

বেকারত্ব এবং স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে কয়েক দশক ধরে তদন্ত করা হয়েছে। বেকারত্ব এবং স্বাস্থ্যের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা প্রথম গবেষণাটি ছিল, মেরিয়েনথাল স্টাডি, যা ১৯৩০-এর দশকে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি টেক্সটাইল কারখানার আশেপাশের  একটি ছোট অস্ট্রিয়ান গ্রামের তদন্ত করেছিল। প্রথমবারের মতো, মেরিয়েনথাল স্টাডি দেখায় যে, গণ বেকারত্ব স্বাস্থ্য সমস্যা এবং অতিরিক্ত মানসিকভাবে সমস্যাগুলোকে যুক্ত করে। এটি প্রচুর গবেষণা এবং পর্যালোচনার মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হয়েছে, সেইসাথে এ নিয়ে জার্মানিতে 'মেটা-এনালিসিস' অন্যরা বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট প্রদান করেছে। এর পরবর্তী বিশ্বের গবেষণাগুলি কার্যকারণ দিক নিয়ে আলোচনা করেছে: যেমন-বেকারত্ব কি কাউকে মানসিক ব্যাধির দিকে পরিচালিত করে নাকি মানসিক ব্যাধিগুলি ব্যক্তিকে বেকারত্বের দিকে পরিচালিত করে? যাইহোক, এই গবেষণায় কার্যকারণ উভয় দিকই সম্ভব বলে মনে হয়েছে গবেষকদের কাছে। অর্থাৎ, একজনের চাকরি হারানো এবং বেকার হয়ে যাওয়া মানে আয়ের ক্ষতি বা আয়ের উৎস হারানো যা ব্যক্তিকে মনোসামাজিক চাপে ফেলে। এবং এই কারণগুলো ব্যক্তির সুস্বাস্থ্যের পরামিতিগুলিকে আরও খারাপ করে দেয়, সেকারণেই হতে পারে এই সব চাপ থেকে স্বল্পমেয়াদী মুক্তি পেতে মাদক বা ড্রাগস্ এর ব্যবহার আসে। আবার, মানসিক ব্যাধি থাকার ফলেও ব্যক্তি অসুস্থ হতে পারে, কাজ থেকে ছুটি বেড়ে যায়, উৎপাদনশীলতা কমে যায় এবং সামগ্রিকভাবে মনোসামাজিক, শিক্ষাগত এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যায়। যার ফলে বেকার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

সেক্ষেত্রে বলা যায়, শুধু কাউসার বাগমারই নয়, বাংলাদেশের একটা বৃহৎ সংখ্যক জণগোষ্ঠী যারা বেকারত্বে আছে, বিশেষ করে তরুণরা ছোটো বড়ো নানা মানসিক সঙ্কটে আছে এবং এই চাপ মোকাবেলা করতে মাদকাসক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। 

নিজ সন্তানকে হত্যা করে বৃদ্ধ পিতা আব্দুর রশিদ বাগমার বলতে থাকেন, 'আমার বাবাডারে আমি অনেক ভালবাসি, আমার বাবাডারে ছাইড়া আমি কই যামু, অশান্তির সাগরে আছি, আমার আর বাইচা থাইকা লাভ নাই!' 

একটি তরুণ ছেলেকে হত্যা করে তার লাশের কাছে বসে বাবার এমন কান্না-আহাজারি কতটা হৃদয়বিদারক হতে পারে, ভাবা যায়? 

বাবা কে? বাবা হলো একটি বৃক্ষ, একটি ছাতা, একটি ছাদ। বাবা হলো দাঁড়ি, কমা, কোলন, সেমিকোলন, হাইফেন, ড্যাস, ঊর্ধ্বকমা, বিকল্প, জিজ্ঞাসাচিহ্ন, বিস্ময়চিহ্ন, হিসাবের মাত্রা ও যাত্রা। বাবা হলো বিশ্বকে সাহসের দৃষ্টিতে দেখার এক রঙিন চশমা। বাবা হলো পৃথিবীর রহস্যময়তা আর জটিলতার মাঝখানে নিঃশ্বাস নেবার সেই ডায়াফ্রাম, যা সংকুচিত হয়ে বুকের গহ্বরে স্থান বাড়িয়ে আমাদের ফুসফুসকে প্রসারিত করে। বাবা হলো ক্ষুধার রাজ্যে এক থালা ভাতের নিশ্চয়তা, বাজারের সমস্ত খেলনাগুলো হাতে পাবার আনন্দ। বাবা হলো অভাবের মাঝেও নতুন কাপড় পরার আশা, কলম-কাগজের বিস্তৃতকরণ, দিনশেষে অন্ধকারেও পৃথিবীকে স্বচ্ছ চোখে দেখার আলো। বাবা হলো জীবনকে ভোগ করার শক্তি, স্বপ্ন পূরণের বাতিঘর। বাবা হলো জটিল অঙ্কের সমাধান, সফলতা অর্জনের সমস্ত উপকরণ।

সেই বাবা কী করে নিজ সন্তানকে হত্যা করলেন? কেন করলেন? 

নিজ সন্তানকে হত্যা করা-ফিলিসাইড। ডাঃ ফিলিপ রেসনিক ১৯৬৯ সালে ফিলিসাইডের উপর গবেষণা প্রকাশ করেন এবং বলেন যে, ফিলিসাইডের পাঁচটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে। 

পরার্থপরায়ণ(altruistic), মারাত্মক অপব্যবহারকারী(fatal maltreatment) অবাঞ্ছিত শিশু(unwanted child), তীব্র মানসিক দুরাবস্থা(acutely psychotic) এবং জীবনসঙ্গীর প্রতি প্রতিশোধ(spousal revenge)। 

'পরার্থপরায়ণ' হত্যাকাণ্ড তখনই ঘটে যখন কোনো পিতামাতা বিশ্বাস করেন যে, এই বিশ্ব তার সন্তানের জন্য নিষ্ঠুর কিংবা তার সন্তানটি খুব কষ্ট সহ্য করছে, এর থেকে তার মুক্তি পাওয়া দরকার। 

আব্দুর রশিদ বাগমার তার সন্তানকে এই অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি দিতেই হত্যা করেছেন। নিজ সন্তানকে হত্যা করে পিতা আব্দুর রশিদ বাগমার কান্না করতে করতে বলেছেন, 'আমার পোলারে আমি কোপাইয়া মাইরা ফালাইছি! আমার ফাঁসি অইবো, আর তো কিছু না, হউক, আমি এখন শান্তি, আমারে আর কেও কিছু কইতো না, তাগাদা দিতো না, আমি শান্তি হইয়া গেলাম!'

নেশাগ্রস্থ ছেলেকে তিনি সঠিক পথে ফিরাতে পারেননি। তিনি আর্থিক অভাবের কারণে ছেলের উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা দিতে পারেননি। নেশার টাকাও যোগাতে পারেননি। শুধু যে ছেলে তাদের অত্যাচার করতো বলে ছেলেকে খুন করেছেন, তা যুক্তিযুক্ত নয়। বহু সন্তান তাদের পিতা মাতাকে অবহেলা করে, নির্যাতন করে। পিতামাতা সে কারণে সন্তানকে হত্যা তো দুরের কথা অভিশাপও দেন না। দু'একটা ব্যতিক্রম ঘটনা আছে তবে তা উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে না। এই যে ৭৫ বছর বয়সী পিতা তার সন্তানকে খুন করলেন, নিশ্চয় শখে করেননি। অসহায়ত্ব থেকে করেছেন। এই অসহায়ত্বের পিছনে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, সমাজ ব্যবস্থা, সরকারি ও সাংগঠনিক সহায়তার অভাব, লজ্জা, ক্ষোভ, সবই জড়িত। এবং এর পিছনের আরো একটি কারণ হলো, এই পিতা নিজেও সন্তানের এই ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন ও আচরণে  মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। কোনো সুস্থ চিন্তার মানুষ খুন করতে পারেন না; বিশেষ করে নিজ সন্তানকে। 

প্রথম আলের ২০১৮ সালের একটি রিপোর্ট 'দেশে ৩৬ লাখ মাদকাসক্ত'-তে বলা হয়, 'দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৬ লাখ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক, অর্থাৎ ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০। আর ৭ বছরের বেশি কিন্তু ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৫৬ হাজারের কিছু বেশি।'

প্রথম আলোর ২০২৩ জুন আরেকটি রিপোর্ট 'মাদকসেবীদের অর্ধেকের বেশি কিশোর–তরুণ' এতে বলা হয়, 'জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এর সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৬ লাখ।' 

কালেরকণ্ঠে ২০২৩, জুন এর একটি রিপোর্টে বলা হয়, 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৭৫ থেকে ৮০ লাখ যা ২০১৮ সালের ৪ মে পর্যন্ত ছিল ৩০ থেকে ৩৫ লাখ।' 

দেশে মাদকের ব্যবসা যেভাবে বাড়ছে, সে অর্থে কর্মসংস্থানের সুযেগ বাড়ছে না বরং বেকারত্বের হার বাড়ছে। এ মাদকের ব্যবসা সামাজিক বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদক কারবারি সবাই প্রভাবশালী, অনেকেই সরকারি রাজনীতির সাথে সংযোগ রেখেই এই ব্যবসা করছেন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে ডিজিটাল সিস্টেমেও চলছে এখন মাদকের ব্যবসা। এখন নির্দিষ্ট কোনো স্পট দরকার হয় না, ফোনকলে যে যার জায়গায় বসে শুধু লোকেশন জানিয়ে দিলেই পৌছে যাচ্ছে মাদক। শুধু ইয়াবা আর ফেনসিডিলই নয়, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস (মিথাইল অ্যাম্ফেটামিন), এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড), ডিওবি (ডাইমেথক্সিব্রোমো অ্যাম্ফেটামিন), খাট (ক্যাথিনোন ও ক্যাথিন), ম্যাজিক মাশরুম ও 'ক্র্যাটম প্ল্যান্টের' মতো মাদকের ব্যবহারও বাড়ছে। 

২০২৩ জুন, প্রথম আলোর আরেকটি রিপোর্ট 'মাদক ব্যবসার কারণে বছরে পাচার ৫ হাজার কোটি টাকা '-এতে বলা হয়, 'বাংলাদেশ থেকে মাদকের কারণে প্রতিবছর পাচার হয়ে যায় ৪৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। আর মাদক কেনাবেচা করে অর্থ পাচারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম।' 

বেকারত্ব এবং মাদকাসক্তির মধ্যে সম্পর্ক জটিল হলেও বিশ্বজুড়ে এই দুটি সমস্যার সম্পর্কে কিছু সাম্প্রতিক গবেষণা ও অবস্থান অনুযায়ী, এই সমস্যা দুটোর মধ্যে সমান্তরাল অবস্থায় আছে মানসিক স্বাস্থ্য। বেকারত্ব থেকে মাদকাসক্তি উৎপন্ন হতে পারে, এবং মাদকাসক্তি-বেকারত্বে প্রবৃদ্ধি করতে পারে। অধিকাংশ বেকাররা সহজেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে কারণ এদের জীবনের প্রতিটি দিন চাপের মধ্যে থাকে এবং মাদকাসক্তি এই চাপকে সামগ্রিক অনুভূতিতে একটি মূল সমাধান হিসেবে দেখায়। ব্যক্তি বেকারত্বের চাপ, দুর্বলতা, অস্থিরতা এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অসম্মানকরণের কারণে মাদকাসক্তির সহযোগিতা নিতে পারে। 

বিশ্বজুড়ে মাদক ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা। এই ব্যবসা অনেকের জীবনে আর্থিক উন্নতির একটি সহজ ও দ্রুত উপায়। তবে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্য এই ব্যবসা একটি অসুস্থ সমাধান, মানবতার বিরুদ্ধ একটি ক্ষতিকর ব্যবসা। বলা হচ্ছে, মাদক ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু তারপরও চোরকারবারিরা বিভিন্ন কৌশলে সীমান্ত দিয়ে মাদকের চালান নিযে আসে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর অভিজাত ও জনবহুল এলাকায় আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটগুলোতেও মাদক কারবার চলে। মাদক কারবারি ও সেবনকারীরা কৌশল পরিবর্তন করেই তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কি নতুন কৌশল, নতুন প্রযুক্তি ও সোর্স ব্যবহার করছে তাদেরকে আইনে আওতায় আনতে? মাদক ব্যবসা প্রথার কঠোর নিয়মাবলী তৈরি করে সরকারকেই এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী অর্থ ব্যয়ে তাদের পরিবারের মাদকাসক্ত সদস্যকে সেবা দিতে পারে। তাই মাদকাসক্তির প্রতিরোধে এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে বিভিন্ন সাহায্য প্রোগ্রাম চালু করা দরকার, যাতে বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা, বিশেষজ্ঞ পরামর্শক এবং স্বাস্থ্য সেবা পায় তারা। সেই সাথে মাদকাসক্তির ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক চেতনা বৃদ্ধি করা দরকার। মাদক যেন 

সহজলভ্য না হয়, সেজন্য সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি যেমন-পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরো কঠোর হতে হবে। 

সৌদি ফেরত তরুণ কাউসার বাগমারও বেকারত্বের চাপেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে এবং পিতার হাতে খুন হয়। একটি দেশে বেকারত্বের সঙ্কট মোকাবেলা করার দায়িত্ব কার? বেকারত্বের সঙ্কট মোকাবেলা করার দায়িত্ব সাধারণত সরকারের উপযুক্ত মন্ত্রণালয় বা যোগাযোগ বিভাগের হতে পারে। সরকারের নেতৃত্বে বেকারত্ব সম্পর্কে নীতি নির্ধারণ, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন প্রোগ্রাম, ব্যবসা ও নিজস্ব উদ্যোগের সুবিধা, আর্থিক উন্নতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক পলিসি গড়ে তোলাই এই বেকারত্ব বোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।এছাড়াও, সরকারের বাইরে বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাদার সংগঠনের মাধ্যমেও বেকারদের উন্নয়ন করা যায়, যা বাইরের দেশগুলিতে সম্ভব হলেও বাংলাদেশে কতটা সম্ভব বা কেউ এ নিয়ে কতটা ভাবছেন, তা এক প্রশ্ন। 

পড়াশোনা না করা তরুণ যুবকদের জন্য বাইরের দেশগুলিতে কাজের সুযোগ রয়েছে যা সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু তরুণ যুবক শিক্ষার অভাবের সম্মুখীন হয়েও তাদের জীবনের পরবর্তী ধাপে যাত্রা করতে পারে। বাংলাদেশেও সমাজের বিভিন্ন কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম, এবং অন্যান্য সুযোগের সাথে বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার দ্বারা বেকার বা শিক্ষা প্রাপ্ত না হওয়া তরুণ যুবকদের কাজের সুযোগ প্রদানের জন্য এটি একটি; ভাল বিকল্প কিছু হতে পারে। 

অভিমত থেকে আরো পড়ুন