https://www.prothomalony.com/
9596
north-america
গাজায় হামলা বন্ধে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য কাজ করছেন যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। এই চুক্তির প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে হামাস। যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইয়ের প্রধান বিল বার্নস। তিনি সোমবারই কাতারের দোহা থেকে জেরুজালেমে পৌঁছেছেন।
ইসরাইল এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়নি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাস যে প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে তাতে ইসরাইলের দাবিগুলো পূরণ হয়নি। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য কায়রোয় মধ্যস্থতাকারীদের একটি দল পাঠানো হবে। ইসরাইলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা রাফায় অভিযান চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
হামাসের সম্মতি পাওয়া প্রস্তাবিত ওই চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে, সেগুলোও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে চুক্তির শর্তসমূহ তুলে ধরেছে।
হামাস জানিয়েছে, গাজা শান্তিপ্রস্তাব তিনটি পর্যায়ে রূপায়ণ করতে হবে। ইসরায়েলকে ফিলিস্তিন থেকে সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে।
হামাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামাস আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান মুজাহিদ ভাই ইসমাইল হানিয়েহ কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এবং মিসরীয় গোয়েন্দা মন্ত্রী আব্বাস কামেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। হামাসের অবস্থান সম্পর্কে তিনি তাঁদের অবহিত করেছেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তি সংক্রান্ত তাঁদের প্রস্তাবে হামাস সম্মত হয়েছে।
হামাস, নেতা খলিল-আল-হায়া জানিয়েছেন, ''প্রতিটি পর্যায় হবে ৪২ দিনের। ইসরায়েলের পণবন্দিদের ফেরত দেয়া হবে। বিনিময়ে ইসরায়েলও ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেবে। যে সব ফিলিস্তিনি লড়াইয়ের জন্য ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, তারা নিজেদের জায়গায় ফিরতে পারবেন। এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে হবে।''
ইসরায়েলের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত লড়াই থামানোর জন্য কোনো চুক্তি হয়নি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যে প্রস্তাবে হামাস রাজি হয়েছে, তা ইসরায়েলের পক্ষে মেনে নেয়া কঠিন। বার্তাসংস্থা এপি-কে ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইসরায়েল খতিয়ে দেখছে। তবে হামাস যে প্রস্তাবে রাজি হয়েছে, তার সঙ্গে ইসরায়েলের প্রস্তাবের অনেক ফারাক আছে।
যুক্তরাষ্ট্রও জানিয়েছে, তারা হামাসের প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা দক্ষিণ গাজার রাফা শহরে সামরিক অভিযানে সায় দিয়েছে। নেতানিয়াহুর অফিস বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ''মন্ত্রিসভা এই বিষয়ে একমত যে, রাফায় অভিযান চালানো হোক। এর ফলে হামাসের উপর সামরিক চাপ দেয়া সম্ভব হবে। এর ফলে তারা ইসরায়েলের পণবন্দিদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।" নেতানিয়াহুর অফিস জানিয়েছে, , ''যুদ্ধবিরতির চেষ্টাও চলবে। ইসরায়েলের একটি্ প্রতিনিধিদল আলোচনার জন্য যাবে এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে চুক্তির চেষ্টা করবে।''
ইসরায়েলের সেনার তরফে জানানো হয়েছে, তারা পূর্ব রাফায় হামাসের উপর আক্রমণ করছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন